Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষকদের কিছু চাওয়া পাওয়া।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। “ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব” প্রজেক্টটা দেখতে আধুনিক শোনালেও বাস্তবে এটা লস প্রজেক্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কেবল ডিভাইস কিনে দিলে দক্ষতা তৈরি হবে না, আউটপুট আসবে না, শিক্ষার মানও বদলাবে না। এটা হবে শিক্ষকদের সন্তানদের গেমিং ডিভাইস। এই ট্যাব কয়েক মাসের মধ্যে নষ্ট হবে, আপডেট লাগবে, রিপ্লেসমেন্ট লাগবে, মনিটরিং লাগবে— কিন্তু শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত হবে কীভাবে?


বরং শিক্ষক উন্নয়নকে কাঠামোগতভাবে ধরতে হবে। সব প্রশিক্ষণ মডিউল বিভিন্ন কোর্স আকারে অনলাইনে আপলোড করা হোক। শিক্ষকরা নিজের সময়, নিজের ডিভাইস—মোবাইল বা ল্যাপটপ—ব্যবহার করে কোর্স সম্পন্ন করবে। অনলাইনে পরীক্ষা হবে, সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, আর সেই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি হবে। দক্ষতা বাড়লে আয় বাড়বে— এই সরাসরি প্রণোদনাই আসল পরিবর্তন আনবে। যোগ্যতা নির্ভর বেতন কাঠামো না থাকলে কোনো প্রশিক্ষণই টেকসই হয় না।


ডিভাইস দিতে হলে “ওয়ান স্কুল ওয়ান পিসি” মডেলে যাওয়া অনেক বেশি অর্থসাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত। প্রতিটি স্কুলে একটি শক্তিশালী ডেস্কটপ, প্রজেক্টর ও স্থায়ী ইন্টারনেট সংযোগ থাকুক। শিক্ষকরা সেখান থেকেই কনটেন্ট ডাউনলোড করবে, ক্লাসে ব্যবহার করবে, প্রয়োজনে অনলাইন ট্রেনিং নেবে। এতে খরচ কমবে, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে, জবাবদিহিতা থাকবে।


আমাদের বাস্তবতা ভুললে চলবে না। বহু স্কুলে এখনো পর্যাপ্ত ক্লাসরুম নেই, শিক্ষক সংকট আছে, দীর্ঘদিন পে-স্কেল সমন্বয় হয়নি। এটি নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আগে ঠিক করতে হবে। এগুলো অগ্রাধিকার না দিয়ে ট্যাব বিতরণ করলে সেটি হবে দৃশ্যমান প্রকল্প, কিন্তু অদৃশ্য ফলাফল। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ মানে ভবন, শিক্ষক, প্রশিক্ষণ, জবাবদিহিতা— এই চার স্তম্ভকে শক্ত করা।


মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে কার্যকর অর্থে, কাগজে-কলমে নয়। শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধ না করলে বাধ্যতামূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একজন শিশুও যেন স্কুলের বাইরে না থাকে— না কাজের জন্য, না অবহেলার জন্য। যারা চরম আর্থিক চাপে কাজ করতে বাধ্য হয়, তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক স্কুল, ওপেন স্কুলিং, নমনীয় সময়সূচি, ভর্তুকিভিত্তিক শিক্ষা ও পারিবারিক সহায়তা কর্মসূচি নিতে হবে। শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা একসাথে না ভাবলে ড্রপআউট বন্ধ হবে না।


এর সাথে শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা দরকার। শুধু পরীক্ষার ফল নয়— উপস্থিতি, শেখার দক্ষতা, ডিজিটাল লিটারেসি, ভাষা দক্ষতা— সবকিছুর ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ হতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে, প্রদর্শনীতে নয়।


প্রকল্প নয়, সিস্টেম বদলাতে হবে। শিক্ষককে ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বেতন কাঠামো সংস্কার, এবং শিশুশ্রম নির্মূল— এই চার দিক একসাথে ধরলে শিক্ষা খাতে বাস্তব পরিবর্তন আসবে। অন্যথায় ট্যাব থাকবে, ছবি থাকবে, কিন্তু ফল থাকবে না।

কপি পেষ্ট



মন্তব্য করুন

ব্লগ