প্রভাষক
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
“ব্যবসায় শিক্ষা শাখা: দিন দিন কি গুরুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে?”
“ব্যবসায় শিক্ষা শাখা: দিন দিন কি গুরুত্ব হারিয়ে যাচ্ছে?”
মোহাম্মদ মনির হোসেন
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, মেহের ডিগ্রি কলেজ, শাহরাস্তি, চাঁদপুর। +8801811656353, [email protected]
একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত। আর এই খাতের যথাযথ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, যা সরবরাহ করে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। বিশ্বায়নের এই যুগে যখন অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তখন ব্যবসায় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু চাকরিমুখী জ্ঞান দেয় না, বরং একজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলে এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করে। তবে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিভাগটির গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি বর্তমানে কেন পিছিয়ে পড়ছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কেমন এবং কীভাবে এটিকে আরও যুগোপযোগী করা যায়—এই লেখায় সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হলো।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের গুরুত্ব
উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়িক জ্ঞান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, আর্থিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা তৈরি করে। ফলে তারা চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এটি দেশের বেকারত্ব হ্রাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দক্ষ ব্যবস্থাপক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা: হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং এবং ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো একজন শিক্ষার্থীকে একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক লেনদেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জ্ঞান দেয়। যা প্রতিষ্ঠানকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
আর্থিক সাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতা: অর্থ, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, বীমা ইত্যাদি সম্পর্কিত জ্ঞান থাকায় ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও অর্থ-সম্পর্কিত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মানুষের জীবন মানেই হিসাব-নিকাশ, আর এই শিক্ষা সেই হিসাব-নিকাশে মানুষকে পারদর্শী করে তোলে।
বাহ্যিক জ্ঞান ও উপস্থাপন দক্ষতা বৃদ্ধি: এই বিভাগে বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও আউট-অফ-দ্য-বক্স চিন্তা করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যা যেকোনো পেশায় সফল হওয়ার জন্য জরুরি।
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দ্রুত শিল্পায়ন ও ব্যবসায় উন্নয়নের মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও মজবুত করার জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপক ও শিল্প উদ্যোক্তার প্রয়োজন। ব্যবসায় শিক্ষা এই প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ পিছিয়ে পড়ার কারণ
বর্তমানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, বিশেষত সরকারি চাকরির বাজারে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
পুরোনো ও গতানুগতিক পাঠ্যসূচি: তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের ব্যবসায় শিক্ষার পাঠ্যসূচি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে না। এখনো অনেক ক্ষেত্রে ১০০ বছর আগের থিওরি পড়ানো হচ্ছে, যা বাজারের বর্তমান চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ব্যবসা পদ্ধতি (যেমন: ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স, ফিনটেক ইত্যাদি) সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান লাভ করতে পারছে না।
চাকরির পরীক্ষার সিলেবাসে বৈষম্য: সরকারি চাকরির পরীক্ষা, বিশেষ করে বিসিএস-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের সাধারণ বিষয়াবলি থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রশ্ন আসে। পিএসসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিসিএস পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশি হারে সুপারিশপ্রাপ্ত হচ্ছেন, যেখানে ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। এটি মূলত সিলেবাসে ব্যবসায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্বল্প সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়ে থাকে।
প্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব: বর্তমানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলো প্রযুক্তিনির্ভর ও অনলাইনভিত্তিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু ব্যবসায় শিক্ষার কারিকুলামে প্রযুক্তির বিষয়টি সেভাবে যুক্ত করা হয়নি। ফলে ব্যবসায়িক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তির জ্ঞান কম থাকায় তারা চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন।
ব্যবহারিক শিক্ষার স্বল্পতা: হাতে-কলমে শিক্ষা বা প্রায়োগিক দক্ষতার (Practical Skills) অভাব এই বিভাগের দুর্বলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেস স্টাডি, ফিল্ড ভিজিট, ইন্টার্নশিপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত।
বাংলাদেশের বাস্তবতার সাথে ব্যবসায় শিক্ষার মিল ও চাকুরি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্টতা
বাংলাদেশের বাস্তবতার সাথে মিল:
বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে শিল্পায়ন ও ব্যবসায়ের দিকে এগোচ্ছে। তৈরি পোশাক, ঔষধ, আইটি, ফিনটেক, ই-কমার্স, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এই সব খাতে হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সাপ্লাই চেইন, ফিন্যান্স এবং মার্কেটিং-এ দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হয়। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এই লোকবল তৈরির জন্যই নিবেদিত। অর্থাৎ, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে এই শিক্ষার গভীর সংযোগ রয়েছে। দেশের বেসরকারি খাত, যা অর্থনীতির মেরুদণ্ড, সম্পূর্ণরূপে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভরশীল।
চাকুরি পরীক্ষায় এ বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা (প্রশ্ন আসার হার):
সরকারি চাকুরি, বিশেষ করে নন-ক্যাডার ও ক্যাডার উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসায় শিক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে কম আসে। বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত উভয় পরীক্ষাতেই সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো থেকে বেশি প্রশ্ন থাকে। ব্যবসায় শিক্ষা বা অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসে বটে, তবে তা অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, ৪৩তম বিসিএস-এ চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষার অংশ ছিল মাত্র ৮.১৮ শতাংশ। এর প্রধান কারণ, নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাসে সকল বিভাগকে সমানভাবে গুরুত্ব না দিয়ে সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, হিসাবরক্ষক, নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং স্ব স্ব খাতের বিশেষায়িত সরকারি চাকরিতে এই বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি এবং প্রশ্ন আসার হারও যথেষ্ট।
বর্হিবিশ্বে এই বিষয়ের গুরুত্ব
বিশ্বজুড়ে ব্যবসায় শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চাহিদাসম্পন্ন একটি ক্ষেত্র। উন্নত দেশগুলোতে, যেমন আমেরিকা, ইউরোপ বা সিঙ্গাপুরে, বিজনেস স্কুলগুলো সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। এর কারণ:
বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজার: বহুজাতিক কোম্পানি, বিনিয়োগ ব্যাংক, পরামর্শক সংস্থা (Consultancy Firms) এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষার ডিগ্রিধারীদের ব্যাপক চাহিদা।
প্রযুক্তির সাথে সংযোগ: বহির্বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষাকে তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালেটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাথে সমন্বয় করে পড়ানো হয়, যা শিক্ষার্থীদেরকে ভবিষ্যতের বাজারের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
উদ্যোক্তা সংস্কৃতি: উন্নত দেশগুলোর বিজনেস স্কুলগুলো নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য পর্যাপ্ত মেন্টরশিপ ও ইনকিউবেশন সুবিধা দিয়ে থাকে, যা বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরিকে উৎসাহিত করে।
এ বিভাগকে যুগোপযোগী করণে সুপারিশ
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগকে দেশের অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে এবং এর পিছিয়ে পড়া অবস্থা দূর করতে নিম্নলিখিত সুপারিশগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:
কারিকুলাম আধুনিকীকরণ:
প্রযুক্তি একীভূতকরণ: প্রতিটি কোর্সে (হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা) তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালেটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও এআই-এর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ফিনটেক, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স ব্যবস্থাপনা ও সাপ্লাই চেইন অ্যানালেটিক্স -এর মতো আধুনিক বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করা।
ব্যবহারিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা: পাঠ্যসূচিতে বাস্তব কেস স্টাডি, শিল্প-সংস্থার সাথে ইন্টার্নশিপ এবং ফিল্ড প্রজেক্টকে আবশ্যিক অংশে পরিণত করা।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়ন: শিক্ষকদের জন্য বাজার অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির উপর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। অভিজ্ঞ পেশাদারদের (Corporate Professionals) খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ব্যবহারিক জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করা।
চাকরির পরীক্ষার সিলেবাস সংস্কার: সরকারি চাকরির পরীক্ষা, বিশেষত বিসিএস-এর সিলেবাসে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন: ১০-১৫%) প্রশ্ন ব্যবসায় শিক্ষা ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে রাখার বিধান করা, যাতে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পায়।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সহায়তা: ব্যবসায়িক ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা এবং শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের ব্যবসা শুরু করার জন্য মেন্টরশিপ ও সিড-ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত সেমিনার ও নেটওয়ার্কিং-এর সুযোগ তৈরি করা।
গবেষণায় বিনিয়োগ: বাংলাদেশের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চতর গবেষণায় সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, যা নীতি নির্ধারণ ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে সহায়তা করবে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ একটি দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সংযোগের জন্য এই বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগকে পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে বের করে আনতে হলে প্রয়োজন সময়োপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির বাজারে সকল বিভাগের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যদি এই বিভাগের গুরুত্ব অনুধাবন করা হয় এবং উল্লিখিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এটি দ্রুতই একটি কর্মমুখী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারবে।
১
২ মন্তব্য