সহকারী শিক্ষক
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:১০ অপরাহ্ণ
শূন্য অভিকর্ষে ২ মি.মি. বিচ্যুতি: মহাকাশে মানব মস্তিষ্কের জ্যামিতিক রূপান্তর !
মহাকাশভ্রমণ মানুষের শরীরের ওপর যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে সমসাময়িক বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্ত নেই। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার একদল গবেষক মহাকাশচারীদের মস্তিষ্কের ওপর একটি চমকপ্রদ গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষক ওয়াং এবং তার সহযোগীদের এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলে মানব মস্তিষ্ক তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিচ্যুত হয়। পৃথিবীর অভিকর্ষ বল যখন কাজ করে না তখন মস্তিষ্ক মাথার খুলির ভেতর অনেকটা ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং ধীরে ধীরে ওপরের ও পেছনের দিকে সরে যায়।
এই গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পদ্ধতি। গবেষক দল ২৬ জন নভোচারীর মহাকাশে যাওয়ার আগের এবং পরের এমআরআই স্ক্যান পরীক্ষা করেছেন। তারা মস্তিষ্ককে কেবল একটি একক বস্তু হিসেবে না দেখে বরং একশটিরও বেশি ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রায় এক বছর কাটানো নভোচারীদের মস্তিষ্কের ওপরের দিকের অংশগুলো প্রায় ২ মিলিমিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে গিয়েছে। বিশেষ করে শরীরের নড়াচড়া এবং অনুভূতি নিয়ন্ত্রণকারী অঞ্চলগুলোতে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট।
মস্তিষ্কের এই জ্যামিতিক রূপান্তরের আরেকটি অদ্ভুত দিক হলো এর সংকোচন পদ্ধতি। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, মস্তিষ্কের দুই পাশের অংশগুলো একে অপরের দিকে বা মাঝখানের দিকে চেপে আসে। এই পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের গড় আয়তন প্রায় একই মনে হয় বলে আগের অনেক গবেষণায় বিষয়টি ধরা পড়েনি।
পৃথিবীতে ফিরে আসার ছয় মাসের মধ্যে বেশিরভাগ পরিবর্তন স্বাভাবিক হয়ে গেলেও মস্তিষ্কের পেছনের দিকে সরে যাওয়ার প্রবণতাটি আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যেহেতু পৃথিবীর অভিকর্ষ বল আমাদের নিচের দিকে টানে কিন্তু সামনের দিকে টানে না তাই মস্তিষ্কের এই নির্দিষ্ট বিচ্যুতিটি দ্রুত সেরে ওঠে না। মহাকাশ পর্যটন এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহের দীর্ঘ অভিযানের কথা মাথায় রাখলে মস্তিষ্কের এই কাঠামোগত পরিবর্তন বোঝা এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নয় বরং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক অপরিহার্য অংশ।
৪
৪ মন্তব্য