Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:১৬ অপরাহ্ণ

চারণ কবি মুকুন্দ - সম্পর্কে জেনে নেই

চারণ কবি মুকুন্দ - 

প্রকৃত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর দে - ডাক নাম যজ্ঞা। যিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। জেল-জুলুমের সমস্ত বেদনা হার মেনেছিল তার সংগ্রামী চেতনার কাছে,স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে জাগরণী গান শুনিয়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তিনি।


 

স্বদেশী যাত্রার প্রবর্তক মুকুন্দ দাস ,

বাবা গুরুদয়াল দে, 

মা  শ্যামাসুন্দরী দেবী।  

জন্মের পর  বানরী গ্রাম পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে তাঁরা বরিশাল শহরে চলে আসেন। 


বরিশালে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী রামানন্দ তাঁর  সঙ্গীত শুনে মুগ্ধ নাম রাখেন মুকুন্দদাস। 

আসামের এক প্রতিষ্ঠান তাকে 'চারণসম্রাট' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। 


জীবনানন্দ দাশের আগে মানুষ একটা সময়  বরিশাল কে চিনত দেশব্রতী অশ্বিনীকুমার দত্ত আর চারণ কবি  মুকুন্দ দাসকে দিয়ে।


 

 অশ্বিনীকুমার দত্তের সংস্পর্শে রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন মুকুন্দ দাস। বরিশালে ইংরেজবিরোধী বিক্ষোভে

 তিনি অংশ নিয়ে  একের পর এক গান, কবিতা , নাটক রচনা করে বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে নূতন উদ্দীপনার সঞ্চার করেন।  সুঅভিনেতা মুকুন্দ নিজেই  নানা জায়গায় পালা অভিনয় করে বেড়াতে থাকেন। 


"ছিল ধান গােলা ভরা , 

শ্বেত ইদুরে করল সারা । ”    গানটিতে 

জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার অভিযোগে ইংরেজ সরকার  মুকুন্দ দাসকে প্রেপ্তার করে।  বিচারে  তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়।  বরিশাল জেলে রাখার পর মুকুন্দ দাসকে দিল্লি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়।  কারাবাসে থাকাকালীন তাঁর স্ত্রী সুভাষিণী দেবীর মৃত্যু ঘটে।


তিন বছর পর জেল থেকে মুক্তিলাভের পর মুকুন্দ দাস বরিশালে ফিরে আসেন। এ সময় চিত্তরঞ্জন দাশ ও সুভাষচন্দ্র বসুর অনুপ্রেরণায় নতুন করে যাত্রার দল ও পালা রচনায়  মন দেন।

মুকুন্দ দাসের  যাত্রাপালাকে বাংলা নাট্যসাহিত্যে সংগ্রামী সংযোজনরূপে গণ্য করা হয়।  পল্লী অঞ্চলের তৃণমূল মানুষের সুখ দুঃখের কাহিনীর গান ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তাঁর অবদান অপরিসীম। 


 ১৯১৬ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আমন্ত্রণে মুকুন্দ দাস যাত্রার দল নিয়ে কলকাতা যান। কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে তাঁর দলের অভিনয় হয়। 


 মুকুন্দ দাস কলকাতা থাকাকালে  কাজী নজরুল ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করেন।তিনি তাকে গান গেয়ে শোনান ও তার লেখা কয়েকটি বই উপহার দেন।

 নজরুল ইসলাম মুকুন্দ দাসকে

 "বাংলা মায়ের দামাল ছেলে "  উপাধিতে ভূষিত করেন।


"রাম রহিম না যুদা করো ভাই, 

মনটা খাঁটি রাখোজি। 

দেশের কথা ভাবো ভাইরে , দেশ আমাদের মাতাজি। হিন্দু-মুসলমান এক মায়ের সন্তান, 

তফাত কেন করো জী, 

দু ভাইতে দুই ঘর বেঁধে করি একই দেশে বসতি।’ 

এটাও তাঁর একটি বিখ্যাত গান 


তবে 


"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।

হাসি হাসি পরবো ফাঁসী

দেখবে জগৎ বাসী..."


ক্ষুদিরামের ফাঁসী উপলক্ষে রচিত এই অমর গানের স্রস্টা  বলে অনেকে মনে করেন মুকুন্দ দাসকে ।

গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে   গান একদিন ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এই চারণ কবি।

দেশপ্রেম জাগাতে,  পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণা জোগাতে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না - আজও নেই !


মুকুন্দ দাস ১৮৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি  জন্মগ্রহণ করেন।

সংগৃহীত 

মন্তব্য করুন

ব্লগ