সহকারী শিক্ষক
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:১৮ অপরাহ্ণ
সময়ের সাথে বইয়ের পাতা হলুদ হয়ে যায় কেন?
আমরা প্রায় সবাই পুরোনো বই খুললেই একটা বিষয় লক্ষ্য করি—পাতাগুলো আর আগের মতো সাদা নেই, ধীরে ধীরে হলদেটে হয়ে গেছে। এর পেছনে লুকিয়ে আছে দারুণ এক রসায়নের গল্প। বেশিরভাগ বইয়ের কাগজ তৈরি হয় কাঠ থেকে পাওয়া সেলুলোজ তন্তু দিয়ে। কাঠের মধ্যে সেলুলোজের পাশাপাশি থাকে লিগনিন নামের আরেকটি জৈব উপাদান, যা আসলে গাছের শক্ত কাঠামো গঠনে সাহায্য করে। কাগজ তৈরির সময় এই লিগনিন পুরোপুরি সরানো যায় না। সময়ের সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেন, আলো আর আর্দ্রতার প্রভাবে লিগনিন ভেঙে ছোট ছোট যৌগে পরিণত হয়, যেগুলোর রং স্বাভাবিকভাবেই হলুদ বা বাদামি। এ কারণেই ধীরে ধীরে সাদা কাগজ তার উজ্জ্বলতা হারায়।
এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় কাজ করে—কাগজে থাকা অ্যাসিড। আগের যুগে কাগজ বানাতে অ্যাসিডিক রাসায়নিক উপাদান বেশি ব্যবহার করা হতো। এই অ্যাসিড সেলুলোজ তন্তুকে ভেঙে দুর্বল করে এবং রং পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। তাই অনেক পুরোনো বই শুধু হলুদই হয় না, পাতাগুলো ভঙ্গুরও হয়ে যায়। আধুনিক প্রকাশনায় এখন “acid-free paper” ব্যবহার করা হয় যাতে এই সমস্যা অনেক কম হয়।
তাপমাত্রা আর সূর্যের আলোও বড় ভূমিকা রাখে। সরাসরি রোদে রাখলে বা খুব গরম ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রাখলে কাগজ দ্রুত পুরাতন হয়ে পড়ে। এজন্য গ্রন্থাগারগুলোতে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখা হয়। ভাবতে ভালো লাগে, একটা সাধারণ হলুদ দাগের পেছনেও কত সূক্ষ্ম বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে! বই শুধু জ্ঞান ধরে রাখে না, সময়ের ছাপও নিজের শরীরে বয়ে নিয়ে চলে।
১
২ মন্তব্য