Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:২২ অপরাহ্ণ

প্রথম ওয়াহীর নূর - মোঃ মুজিবুর রহমান

  

প্রথম ওয়াহীর নূর

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

নিদ্রার দেশে নেমে এলো সত্যের প্রথম আলো,

প্রভাতের রোদ্দুর যেমন, তেমনি উজ্জ্বল ভালো।

স্বপ্নগুলো হতো সত্য—আলোকিত আকাশভোর,

হৃদয়ে বয়ে আনতো নূর, রহমতের অমৃতঘোর।

নির্জনতা হলো প্রিয়, নীরবতার ডাক,

হেরা গুহা’য় তিনি কাটান ধ্যানের পবিত্র অনুপম পাক।

দিনের পর দিন ইবাদাতে, মন ছিল ডুবানো,

খাদ্য নিয়ে ফিরে যেতেন, আবার যেতেন তপে প্রাণো।

হঠাৎ এলো সে মুহূর্ত—ফেরেশতার আগমন,

জিবরীল বললেন, “পাঠ করুন”—গভীর কম্পন।

উত্তর এলো বিনয়ে ভরা—“আমি পড়িতে জানি না,”

তিনবার আলিঙ্গনে জাগে বাণী—নূরের অমিয় ধ্বনা।

“পাঠ করুন আপনার রবের নামে”—ধ্বনি উঠিল আকাশে,

মানবজাতি জন্ম নিল নতুন আলোর আশে।

জমাট রক্তপিণ্ড হতে সৃষ্টি করিলেন যিনি,

করুণাময় রবের নামে শুরু হলো দীনই।

কাঁপিত হৃদয় নিয়ে ফিরে এলেন ঘরে,

চাদরে ঢাকো আমায়—ভয় মিশে অশ্রু ঝরে।

সান্ত্বনার সুধা দিলেন খাদীজাহ মহান,

বললেন—“না, প্রভু তোমায় করবেন না অপমান।

আপনি রাখেন আত্মীয়তার হক, করেন দান,

দুঃখী-দরিদ্রে বিলান সেবা, করেন মেহমান আপ্যায়ন।”

তাঁর হাত ধরে গেলেন তিনি জ্ঞানীর দুয়ারে,

ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল বসে আছেন প্রজ্ঞার আলোধারে।

সব শুনে বললেন তিনি—“এ সেই বার্তাবাহক,

যিনি এসেছিলেন আগে, সত্যের শুভ সাক্ষক।

আফসোস, যদি থাকতাম আমি সে দিনের পাশে,

যেদিন তোমার কওম তুলবে বৈরিতার ভাষে।”

ওহী এলো, থামলো কিছু—রহস্যের পর্দা টানে,

তবু আকাশে লেখা হলো কুরআনের মহাগানে।

“জিহ্বা নাড়িও না তাড়াহুড়া করে আয়ত্তে”—

কুরআন দিল আশ্বাস স্নিগ্ধ প্রভাতে।

সংরক্ষণ ও পাঠ করানো—রবের দায়িত্ব ভার,

শুনে যাও মনোযোগে, নীরব থাকো আর।

যখন পাঠ করি আমি, অনুসরণ কর তায়,

ব্যাখ্যার ভারও আমারই—প্রভু জানেন হায়।

এভাবেই নেমে এলো আলোর অবিরাম ধারা,

জাহেলিয়াতের রাত্রি ভেঙে জাগে নবযুগ সারা।

হেরা হতে মানবহৃদয় পেল যে মহাপাঠ—

সত্যের পথে অবিচল থাকাই জীবনের প্রভাত।

সালাম সেই নূরের নবী, রহমতের দূত মহান,

যাঁর উপর নাযিল হলো কিতাব—চিরজীবন প্রাণ।

 ***

  হেরা থেকে মানবতার প্রভাত

 

নিদ্রার গহীনে ভাসে সত্যের শুভ আভা,

প্রভাতের আলোর মতো স্বপ্নে জাগে দাবা।

যা দেখেন তিনি রাতে, তা ভোরে হয় স্পষ্ট,

নূরের রেখা টানে যেন আঁধারেরে করে ক্ষত।

নির্জনতার ডাকে মন হয় উদাসী ধীর,

হেরা গুহা’য় জ্বলে ধ্যানের তপসীর।

দিনের পর দিন ইবাদাতে নিবিড় মনোযোগ,

খাদ্য নিয়ে ঘরে ফেরেন—আবার তপে যোগ।

হঠাৎ নেমে এলো ক্ষণ—গভীর মহা-ডাক,

জিবরীল বলেন, “পাঠ করুন”—কম্পে দিগন্ত-আকাশপাক।

নবী বলেন বিনয়ে ভরা—“আমি পড়িতে জানি না,”

তিন আলিঙ্গনে জাগে বাণী—রহমতের রত্নখানা।

“পাঠ করুন আপনার রবের নামে”—আদেশ উচ্চারিত,

সৃষ্টি-সূত্রে মানুষ হলো করুণায় আলোকিত।

জমাট রক্তপিণ্ড হতে যিনি দিলেন প্রাণ,

দয়াময় রবের নামে শুরু কুরআনের গান।

কাঁপা হৃদয়, কাঁপে শরীর, ফিরে এলেন ঘরে,

“চাদর দিয়ে ঢেকে দাও”—ভয় মিশে অশ্রু ঝরে।

সান্ত্বনার দীপ জ্বালেন খাদীজাহ প্রিয়া,

“আল্লাহ আপনাকে অপমান করবেন না”—এই তো নিয়া।

আপনি রাখেন আত্মীয়তার হক, বহন করেন ভার,

দুঃখী-দরিদ্রের পাশে দাঁড়ান, খোলেন দয়ার দ্বার।

মেহমান এলে আপ্যায়নে প্রসারিত হয় হাত,

সত্যপথে দুঃখীজন পান আপনারই সাথ।

তাঁর হাত ধরে গেলেন তিনি জ্ঞানের দ্বারে,

ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল বসে আছেন নীরবতার ভারে।

সব শুনে বললেন তিনি—“এ সেই রূহুল-আমীন,

যিনি এসেছিলেন আগে মূসার কাছে প্রাচীন।

হায়! যদি থাকতাম আমি সে দিনের কালে,

যেদিন তোমার কওম তুলবে বিরোধের জ্বালে।

যে আনেছে সত্যের বাণী, পেয়েছে সে বাধা—

তবু আলোর যাত্রাপথে থামে না কোনো সাধা।”

কিছুদিন পর থামলো ওহী—নিভে না তবু শিখা,

আকাশ জুড়ে লেখা হলো রহমতের দীক্ষা।

“তাড়াহুড়া করে জিহ্বা নাড়িও না আয়ত্তে”—

কুরআন দিল আশ্বাস হৃদয়-মহত্ত্বে।

সংরক্ষণ তার রবের ভার, পাঠও তাঁর দায়,

মনোযোগে শুনে যাও—নীরবতায় চাও।

যখন পাঠ করি আমি, অনুসরণ কর তায়,

ব্যাখ্যার দ্বারও খুলবো আমি—সন্দেহ যেন নাহি রয়।

এভাবেই হেরা হতে উঠল প্রভাত-সূর্য,

জাহেলিয়াতের রাত্রি ভাঙে, মুছে আঁধার দুর্জয়।

মানবতার নতুন যুগে শুরু হলো গান—

রবের নামে পড়ার শপথ, নূরের মহাযান।

সালাম সেই মহান নবী, রহমতের অমল ধারা,

যাঁর তিলাওয়াতে জেগে ওঠে মৃত হৃদয় সারা।

হেরা থেকে কিয়ামত অবধি ধ্বনি যায়—

“পাঠ কর রবের নামে”—আলো ছড়িয়ে যায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ