সহকারী অধ্যাপক
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
তাহাজ্জুদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
তাহাজ্জুদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিশীথের নীরব নীলিমায়, তারার তসবিহ-ধ্বনি,
দাঁড়ান তিনি সিজদার পথে—উম্মতের শিরোমণি।
অশ্রুসিক্ত আঁখি তুলে কাঁপে প্রার্থনা-স্বর,
আরশ কাঁপে, দিগন্ত জাগে—বয়ে যায় নূরের ঝর।
“হে প্রভু! আপনারই তরে সকল প্রশংসা ধ্বনি,
আসমান-যমীন মাঝের যত—আপনারই অধীনি।
আপনি নূর, আপনি নূর—দিগন্ত দীপ্যমান,
আপনি মালিক, আপনি হাকিম—চিরসত্য মহান।
আপনার ওয়াদা সত্য চির, সাক্ষাৎ দিবস সত্য,
আপনার বাণী অমল অক্ষর—অমর অক্ষয় তত্ত্ব।
জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, সত্য সব নবী,
সত্য মহান মুহাম্মাদ—রহমতের আলোক-রবি।
আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ, ঈমানের অঙ্গীকার,
আপনার উপর তাওয়াক্কুলে হৃদয় করে অধিকার।
আপনার দিকেই রুজূ করি, আপনারই তরে দ্বন্দ্ব,
আপনাকেই মানি বিচারক—আপনাতেই সব বন্ধ।
গোপন-প্রকাশ্য অপরাধ যত, ক্ষমা করুন হে নাথ,
আপনি ব্যতীত ইলাহ নেই—আপনিই সত্য পথ।”
সে যুগে কেউ স্বপ্ন দেখিলে আনত তাঁর দুয়ারে,
হৃদয়ে বাসনা জাগে কারো—বলিবে স্বপ্ন তাঁর কাছে।
যুবক এক রাতের মসজিদে শয়ন করে একা,
স্বপ্নে দেখে ফেরেশতা দুই ধরেছে তাহার হাত।
কূপসম এক জাহান্নামের প্রাচীর-বাঁধানো দৃশ্য,
দুই খুঁটির মাঝে চিনে ফেলে কত মুখ পরিচিত।
ভয়ে কাঁপে প্রাণ, মুখে উঠে—“আল্লাহর কাছে চাই আশ্রয়!”
তখন তৃতীয় এক ফেরেশতা বলে—“ভয় কোরো না, হে ভাই।”
সকালে যখন বলা হলো নূরের নবীর কানে,
হাসি-মাখা বাণী ঝরে রহমতেরই টানে—
“কতই না ভালো আবদুল্লাহ্! যদি রাত্রে করত কিয়াম!”
সেই থেকে রাত হলো তার ইবাদতেরই ধাম।
অল্প ঘুমে জাগে সে প্রাণ, তাহাজ্জুদের সুর,
সিজদায় ডুবে থাকে যতক্ষণ—নেমে আসে নূর।
এক সিজদাতে এত সময়—পঞ্চাশ আয়াত পাঠ,
ভোরের আগে দু’রাক‘আত—প্রেমের নীরব প্রভাত।
ডান কাতে শয়ন করেন যতক্ষণ না আসে আজান,
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে জাগে ফজরের পবিত্র আহ্বান।
হে প্রিয় নবী, আপনার রাত ছিল রহমতের দীপ,
অশ্রু ছিল উম্মতের তরে প্রার্থনার সলিল-স্নিগ্ধ সীপ।
আপনার কিয়াম, আপনার সিজদা—আমাদের পথের দিশা,
তাহাজ্জুদের নূরে জাগুক প্রাণ—হোক অন্তর পরিশুদ্ধ পবিত্র নিশা।
***
নিশীথের নীরব নীলিমায়, তারার তসবিহ-ধ্বনি,
দাঁড়ান তিনি সিজদার পথে—উম্মতের শিরোমণি।
অশ্রুসিক্ত আঁখি তুলে কাঁপে প্রার্থনা-স্বর,
আরশ কাঁপে, দিগন্ত জাগে—বয়ে যায় নূরের ঝর।
“হে প্রভু! আপনারই তরে সকল প্রশংসা ধ্বনি,
আসমান-যমীন মাঝের যত—আপনারই অধীনি।
আপনি নূর, আপনি নূর—দিগন্ত দীপ্যমান,
আপনি মালিক, আপনি হাকিম—চিরসত্য মহান।
আপনার ওয়াদা সত্য চির, সাক্ষাৎ দিবস সত্য,
আপনার বাণী অমল অক্ষর—অমর অক্ষয় তত্ত্ব।
জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, সত্য সব নবী,
সত্য মহান মুহাম্মাদ—রহমতের আলোক-রবি।
আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ, ঈমানের অঙ্গীকার,
আপনার উপর তাওয়াক্কুলে হৃদয় করে অধিকার।
আপনার দিকেই রুজূ করি, আপনারই তরে দ্বন্দ্ব,
আপনাকেই মানি বিচারক—আপনাতেই সব বন্ধ।
গোপন-প্রকাশ্য অপরাধ যত, ক্ষমা করুন হে নাথ,
আপনি ব্যতীত ইলাহ নেই—আপনিই সত্য পথ।”
সে যুগে কেউ স্বপ্ন দেখিলে আনত তাঁর দুয়ারে,
হৃদয়ে বাসনা জাগে কারো—বলিবে স্বপ্ন তাঁর কাছে।
যুবক এক রাতের মসজিদে শয়ন করে একা,
স্বপ্নে দেখে ফেরেশতা দুই ধরেছে তাহার হাত।
কূপসম এক জাহান্নামের প্রাচীর-বাঁধানো দৃশ্য,
দুই খুঁটির মাঝে চিনে ফেলে কত মুখ পরিচিত।
ভয়ে কাঁপে প্রাণ, মুখে উঠে—“আল্লাহর কাছে চাই আশ্রয়!”
তখন তৃতীয় এক ফেরেশতা বলে—“ভয় কোরো না, হে ভাই।”
সকালে যখন বলা হলো নূরের নবীর কানে,
হাসি-মাখা বাণী ঝরে রহমতেরই টানে—
“কতই না ভালো আবদুল্লাহ্! যদি রাত্রে করত কিয়াম!”
সেই থেকে রাত হলো তার ইবাদতেরই ধাম।
অল্প ঘুমে জাগে সে প্রাণ, তাহাজ্জুদের সুর,
সিজদায় ডুবে থাকে যতক্ষণ—নেমে আসে নূর।
এক সিজদাতে এত সময়—পঞ্চাশ আয়াত পাঠ,
ভোরের আগে দু’রাক‘আত—প্রেমের নীরব প্রভাত।
ডান কাতে শয়ন করেন যতক্ষণ না আসে আজান,
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে জাগে ফজরের পবিত্র আহ্বান।
হে প্রিয় নবী, আপনার রাত ছিল রহমতের দীপ,
অশ্রু ছিল উম্মতের তরে প্রার্থনার সলিল-স্নিগ্ধ সীপ।
আপনার কিয়াম, আপনার সিজদা—আমাদের পথের দিশা,
তাহাজ্জুদের নূরে জাগুক প্রাণ—হোক অন্তর পরিশুদ্ধ পবিত্র নিশা।
***
নিশীথ নীরব নীল আকাশে তারার তসবিহ ধ্বনি,
তাহাজ্জুদের কিয়াম ধরে দাঁড়ান প্রিয় নবী।
“হে আল্লাহ! আপনার তরে সব প্রশংসা হোক,
আসমান-যমীন মাঝের যত আপনার অধিকার লোক।
আপনি নূর আসমান-ভূমি দীপ্ত অনন্ত আলো,
আপনি মালিক চিরসত্যে সত্যেরই ভালো।
আপনার ওয়াদা চিরসত্য সাক্ষাৎ দিবস সত্য,
জান্নাত জাহান্নাম সত্য নবীগণের বাণী সত্য।
সত্য মহান মুহাম্মাদ সত্য কিয়ামত ক্ষণ,
আপনারি কাছে আত্মসমর্পণ ঈমান অর্পণ।
আপনার উপর তাওয়াক্কুল রুজূ আপনার পানে,
আপনাকেই মানি বিচারক অন্তর প্রাণে।
গোপন প্রকাশ অপরাধ সব করুন মোরে ক্ষমা,
আপনি ছাড়া ইলাহ নাই সত্য মা‘বূদ সমা।”
মসজিদে শয়ন যুবক দেখে স্বপ্ন এক রাত,
দুই ফেরেশতা ধরে তাকে জাহান্নামের পথ।
কূপসম প্রাচীর ঘেরা ভয়াল আগুন ধাম,
চিনে ফেলে কত পরিচিত মানুষেরই নাম।
ভয়ে বলে আল্লাহর কাছে চাই আশ্রয়,
তৃতীয় ফেরেশতা বলে—ভয় পেয়ো না হে প্রিয়।
শুনে নবী বলেন স্নিগ্ধ রহমতের বাণী,
“আবদুল্লাহ ভালো যদি রাত জাগে প্রাণে।”
তারপর হতে অল্প ঘুমে কাটে তারি রাত,
তাহাজ্জুদের সিজদায় ডোবে প্রেমভরা প্রভাত।
এক সিজদাতে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত হয়,
ফজরের আগে দু’রাকআত শান্ত হৃদয়ময়।
ডান কাতে শয়ন করেন আজান না আসা ক্ষণ,
মুয়াজ্জিন ডাকে জাগে ফজর পবিত্র সে লগ্ন।
***
নিশীথের নীরব নীল আকাশে তারারা তসবিহ গায়,
ঘুমন্ত ধরা স্তব্ধ হয়ে আরশ-পানে চায়।
সে ক্ষণে জাগেন নূরের নবী সিজদার অভিসারে,
অশ্রুভেজা দো‘আর ধ্বনি ওঠে গভীর আঁধারে।
“হে আল্লাহ! আপনার তরে সকল প্রশংসা রবে,
আসমান-যমীন মাঝের যত আপনারই হাতে সব।
আপনি নূর এ বিশ্বমাঝে দীপ্ত অনন্ত আলো,
আপনি মালিক, আপনি হাকিম, সত্যেরই শুভ ভালো।
আপনার ওয়াদা চিরসত্য, সাক্ষাৎ দিবস সত্য,
আপনার বাণী অমল-ধ্রুব, অবিনাশী তত্ত্ব।
জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, সত্য সকল নবী,
সত্য মহান মুহাম্মাদ—রহমতের চাঁদ-রবি।
আপনার কাছে আত্মসমর্পণ, আপনার প্রতি ঈমান,
আপনার উপর তাওয়াক্কুলে স্থির করি প্রাণ।
আপনার দিকেই রুজূ করি, আপনার তরে দ্বন্দ্ব,
আপনাকেই মানি বিচারক—আপনাতেই সব বন্ধ।
গোপন-প্রকাশ অপরাধ যত ঢেকে দিন করুণায়,
আপনি ছাড়া ইলাহ নেই—হৃদয় জানে হায়।”
সেই যুগে কেউ স্বপ্ন দেখিলে আনত তাঁর দরবারে,
শোনাত কথা শ্রদ্ধা ভরে প্রিয় নবীর সান্নিধ্যে।
এক তরুণ ছিল মসজিদে রাতের নীরব বাস,
স্বপ্নে দেখে দুই ফেরেশতা ধরেছে তার হাত।
নিয়ে চলে জাহান্নামের দিকে—কূপের মত ঘেরা,
দুই খুঁটির মাঝে চিনে ফেলে চেনা মুখের ভিড়া।
ভয়ে কাঁপে হৃদয় তার, কণ্ঠে আকুল ধ্বনি—
“জাহান্নাম হতে আশ্রয় চাই আল্লাহর শরণে আমি!”
তৃতীয় এক ফেরেশতা তখন সান্ত্বনা দেয় হেসে—
“ভয় কোরো না, প্রিয় তুমি নিরাপদ রয়েছ।”
প্রভাতে সে বর্ণনা করে নূরের নবীর কাছে,
করুণাময় বাণী ঝরে রহমতেরই সুরে—
“কতই না ভালো আবদুল্লাহ! যদি রাত জেগে সালাত পড়ে।”
সে বাণী যেন বজ্র হয়ে বাজল তার অন্তরে।
সেই হতে তার রাতের ঘুম অল্প হয়ে যায়,
তাহাজ্জুদের সিজদায় সে অশ্রু ঢেলে চায়।
এক সিজদাতে দীর্ঘ সময়—পঞ্চাশ আয়াত পাঠ,
ভোরের আগে দু’রাকআত—শান্ত প্রেমের প্রভাত।
ডান কাতে শয়ন করেন আজান না ধ্বনি তোলে,
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ফজর জাগে আলো ভোরের কোলে।
হে প্রিয় নবী, আপনার রাত ছিল রহমতের দীপ,
উম্মতের তরে অশ্রুধারা ছিল প্রেমের স্রোত-সীপ।
আপনার কিয়াম, আপনার সিজদা পথের দিশারী,
তাহাজ্জুদের নূরে জাগুক প্রাণ—হোক অন্তর আলোকভরি।
১৫
২৫ মন্তব্য