সহকারী শিক্ষক
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
রেন্টাল পারসন হু ডাজ নাথিং”
টোকিওর এক মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছেন, সব কাজেই ঘাম ঝরাতে হয় না। কখনও কখনও শুধু চুপচাপ পাশে থাকাও কাজ হতে পারে।
শোজি মরিমোতো নামের এই জাপানি তরুণের পেশা শুনলে প্রথমে মনে হবে মজা করছেন। তার সার্ভিসের নামই এমন— “রেন্টাল পারসন হু ডাজ নাথিং”। অর্থাৎ তিনি কিছুই করেন না। সত্যি সত্যিই না।
কেউ একা রেস্টুরেন্টে খেতে অস্বস্তি বোধ করছেন? তিনি গিয়ে পাশে বসবেন।
কেউ হাসপাতালে রিপোর্ট নিতে যাচ্ছেন, কিন্তু একা যেতে চাইছেন না? তিনি চুপচাপ সঙ্গ দেবেন।
কেউ জীবনের কঠিন একটা কথা কাউকে বলতে চান, শুধু একজন নীরব শ্রোতা দরকার? তিনি থাকবেন, কিন্তু উপদেশ দেবেন না।
তিনি বিচার করেন না। জ্ঞান দেন না। অনাহূত প্রশ্ন করেন না। শুধু উপস্থিত থাকেন।
২০১৮ সালে এই যাত্রা শুরু। তার আগের অফিসে নাকি তাকে বলা হতো, তিনি “কিছুই করেন না”। বেশিরভাগ মানুষ এতে অপমান বোধ করতেন। তিনি করলেন উল্টোটা। ভাবলেন, যদি কিছু না করাই আমার দক্ষতা হয়, তাহলে সেটাই বিক্রি করি।
ধীরে ধীরে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার সেশন সম্পন্ন করেছেন। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরে তার আয় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। শুধু উপস্থিত থাকার জন্য।
অবশ্য সীমারেখা আছে। কোনো অনৈতিক, কষ্টকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নয়। তিনি ভাড়াটে বন্ধু নন, থেরাপিস্টও নন। তিনি শুধু একজন মানুষ, যাকে পাশে পাওয়া যায়।
সবচেয়ে মজার বিষয়টা জানেন? এই ব্যস্ত পৃথিবীতে যেখানে সবাই কথা বলতে চায়, উপদেশ দিতে চায়, নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করতে চায়, সেখানে একজন মানুষ জনপ্রিয় হয়েছেন কিছুই না করে।
হয়তো আমাদের সময়ের সবচেয়ে অদ্ভুত সত্য এটাই— কখনও কখনও “না করা”ই সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কাজ।
১৫
২৫ মন্তব্য