Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ

জয়নুল আবেদিন আর মজার গল্প!

জয়নুল আবেদিন আর মজার গল্প!


একবার শিল্পী জয়নুল আবেদিন স্পেনে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বেশ বিপাকে পড়লেন। হোটেলে বসে তিনি কী খাবেন, তা কিছুতেই বোঝাতে পারছিলেন না। হোটেলের বয় স্প্যানিশ ভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষা জানত না। আর শিল্পী স্প্যানিশ তো জানেনই না; তিনি কেবল ইংরেজি এবং সামান্য ফরাসি বলতে পারেন।

ভাঙা-ভাঙা ফরাসি, ইংরেজি এমনকি নানারকম ইশারা-ইঙ্গিত করে তিনি হোটেল বয়কে খাবারের মেনু বোঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোনো ফল হলো না। হোটেলে এমন কাউকে পাওয়া গেল না যে ফরাসি বা ইংরেজি বোঝে। এদিকে তাঁর খিদে পেট চো চো করছে। শেষমেশ হোটেলের বয় তাঁকে রান্নাঘরে নিয়ে গেল। বাবুর্চি একে একে নানা খাবার দেখাতে লাগলেন—কোনটি তিনি খেতে চান। অনেকক্ষণ পরেও ঠিক বোঝাপড়া হলো না। সামান্য চিংড়ি মাছ আর ভাত খেতেই চান তিনি, কিন্তু তা বোঝাতে গিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল।

শিল্পী মনে মনে ভাবলেন, “স্পেনে থাকলে তাহলে তো আমাকে অনেক কষ্টই পোহাতে হবে! এখানে ইংরেজি বা ফরাসি জানা লোক খুবই কম। কী করা যায়?”

হঠাৎ তাঁর মাথায় বুদ্ধি এলো। ঠিক করলেন, রাতে আবার হোটেলে খেতে আসবেন এবং নতুন কৌশল প্রয়োগ করবেন। তাঁর থাকার জায়গা থেকে হোটেলটি খুব বেশি দূরে ছিল না।

রাতে তিনি আবার হোটেলে এলেন। দুপুরের ঘটনার কথা মনে করে কর্মচারীরা একটু হাসাহাসি করছিল, কিন্তু শিল্পী ভ্রুক্ষেপ করলেন না। তিনি চুপচাপ স্কেচ খাতা ও পেন্সিল বের করে ঝটপট একটি ছবি আঁকলেন। তারপর খাতাটি সবার সামনে ধরলেন।

দেখে সবাই অবাক! কাগজে তিনি এঁকেছেন,একটি হাঁড়ি, পাশে একটি গরু, তীরচিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়েছে গরুর মাংস হাঁড়িতে যাচ্ছে। আবার একটি ডিম, কিছু সবজি, দুধ—সবকিছুর পাশে তীরচিহ্ন দিয়ে রান্নার ইঙ্গিত। এমনকি তিনি মদ্যপান করবেন না—তাও ছবিতে বোঝানো হয়েছে।

মুহূর্তেই সবাই বুঝে গেলেন তিনি কী খেতে চান। আনন্দে কর্মচারীরা হাততালি দিতে লাগল।

এরপর থেকে বিদেশে আর তাঁর তেমন অসুবিধা হয়নি। কারণ তাঁর সঙ্গে থাকত স্কেচখাতা আর পেন্সিল। যেকোনো ভাষাভাষীর মানুষের সঙ্গে তিনি ছবির মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান করে নিতেন। ভাষা না জানলেও ছবি তাঁর হয়ে কথা বলত।

মন্তব্য করুন

ব্লগ