প্রভাষক
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নদী (River) ও সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents)
নদী হলো ঝরনা, বরফ বা বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট মিষ্টি জলের প্রাকৃতিক ধারা যা ভূমিরূপের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পতিত হয়, আর সমুদ্রস্রোত হলো বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন, ও ঘনত্বের পার্থক্যে সৃষ্ট মহাসাগরের পানির নির্দিষ্ট দিকের অবিরাম চলাচল। নদী স্থলভাগের পানি নিষ্কাশন করে, অন্যদিকে সমুদ্রস্রোত বৈশ্বিক জলবায়ু ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
নদী (River):
সংজ্ঞা ও উৎপত্তি: নদী সাধারণত উঁচু পার্বত্য অঞ্চল বা হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে অন্য কোনো জলাশয় বা সমুদ্রে পতিত হয়।
গঠন: উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদী উপনদী ও শাখানদীসহ একটি অববাহিকা তৈরি করে।
প্রকৃতি: নদীর পানি মিষ্টি এবং এর গতিপথ ভূমির ঢাল দ্বারা নির্ধারিত হয়।
উদাহরণ: বাংলাদেশে প্রায় ১,০০৮টি নদ-নদী রয়েছে, যেমন- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।
সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents):
সমুদ্রের পানির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিত প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে।
সৃষ্টির কারণ:
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: বাতাসের টানে সমুদ্রের ওপরের পানি প্রবাহিত হয়।
তাপমাত্রা ও ঘনত্বের পার্থক্য: মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা ও ঘন পানি নিচে নেমে যায় এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা পানি ওপরে ভেসে ওঠে, যা স্রোতের সৃষ্টি করে।
পৃথিবীর আহ্নিক গতি (কোরিওলিস বল): পৃথিবীর আবর্তনের কারণে স্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
শ্রেণিবিভাগ:
পৃষ্ঠস্রোত (Surface Currents): সমুদ্রের উপরের প্রায় ৪০০ মিটার পর্যন্ত বায়ুপ্রবাহ দ্বারা চালিত স্রোত।
গভীর সমুদ্রস্রোত (Deep Ocean Currents): ঘনত্ব ও তাপমাত্রার পার্থক্যে সৃষ্ট গভীর পানির চলাচল, যা তাপ সঞ্চালনে কাজ করে।
প্রভাব: উষ্ণ স্রোত উপকূলকে উষ্ণ রাখে (যেমন- গলফ স্ট্রিম) এবং শীতল স্রোত উপকূলকে শীতল রাখে।
পার্থক্য:
নদী একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, অন্যদিকে সমুদ্রস্রোত সম্পূর্ণ মহাসাগর জুড়ে একটি বিশ্বব্যাপী সঞ্চালন ব্যবস্থা। নদী মিষ্টি পানি সরবরাহ করে, আর সমুদ্রস্রোত সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
১
২ মন্তব্য