Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

মহীয়সী কন্যা।যাঁর প্রতি আমরা আজোও সম্মান ও ভালোবাডায় দোয়া করি।

দুররাহ বিনতে আবু লাহাব (রা.) 🌸 ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর চাচাতো বোন। তার বাবা ছিলেন কুখ্যাত আবু লাহাব ❌ এবং মা ছিলেন ‘হাম্মালাতাল হাতাব’ খ্যাত উম্মে জামিল। যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সূরা লাহাব নাজিল করে তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা ঘোষণা করেছেন।


কিন্তু দেখুন আল্লাহর কী অপার মহিমা! ✨

এমন কট্টর কাফের পরিবারে জন্ম নিয়েও দুররাহ (রা.) ঈমানের আলো গ্রহণ করেছিলেন 🕊️ এবং আজ ১৪০০ বছর পরও আমরা শ্রদ্ধার সাথে বলি— “রাদিয়াল্লাহু আনহা” (আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হোন) 🤍


তিনি পরিবার, পরিবেশ এবং কুফরির অন্ধকার ছেড়ে ইসলামের পথে এগিয়ে আসেন 🌙। সাহসী সেই নারীদের একজন ছিলেন তিনি, যিনি সকল বাধা উপেক্ষা করে মদিনায় হিজরত করেছিলেন 🚶‍♀️➡️🏙️।


জাহেলি যুগে তার বিয়ে হয়েছিল হারিস বিন আমিরের সাথে, যে বদরের যুদ্ধে মুশরিক অবস্থায় নিহত হয় ⚔️। ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ তাকে এক উত্তম স্বামী দান করেন— বিখ্যাত সাহাবি দাহিয়াতুল কালবি (রা.) 🌟, যিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন এবং যার আকৃতিতে কখনো কখনো জিবরাঈল (আ.) ওহি নিয়ে আসতেন 📜✨।


একদিন মদিনার বনু রুজাইক গোত্রের কিছু নারী তাকে খোঁটা দিয়ে বলল 💬:

“তুমি তো সেই আবু লাহাবের মেয়ে, যার সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে— ‘আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক’। তোমার ইসলাম বা হিজরত তোমাকে কীভাবে বাঁচাবে?”


এই কথা শুনে দুররাহ (রা.) খুব কষ্ট পেলেন 😢। কাঁদতে কাঁদতে তিনি নবীজি ﷺ–এর কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেন 🤲।


জোহরের নামাজের পর নবীজি ﷺ মিম্বরে বসে খুতবায় বললেন 🕌:

“লোকদের কী হলো যে তারা আমাকে আমার বংশের কারণে কষ্ট দেয়? সাবধান! যে আমার আত্মীয়কে কষ্ট দিল, সে আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল।” ⚠️


তিনি আরও একটি মহান নীতি ঘোষণা করলেন 📢:

“কোনো জীবিত ব্যক্তিকে তার মৃত আত্মীয়ের (পাপের) কারণে কষ্ট দেওয়া যাবে না।”


দুররাহ (রা.) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)–এর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন 🤍 এবং তার কাছ থেকে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতেন 📚।

হযরত উমর (রা.)–এর খিলাফতকালে ২০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন 🕊️।


সত্যিই, বংশ নয়— ঈমানই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করে ✨🤍

মন্তব্য করুন