Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ মার্চ, ২০২৬ ১১:২২ অপরাহ্ণ

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

অনেক সময় অজ্ঞতাবশত কিছু কাজকে রোজা ভঙ্গের কারণ মনে করা হয়। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে এগুলোর কারণে রোজা নষ্ট হয় না। এমন কিছু বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

১. ভুলে পানাহার করা

রোজার কথা ভুলে গিয়ে খাওয়া–পান করলে রোজা ভাঙবে না।

তবে স্মরণ হওয়া মাত্রই খাওয়া–পান বন্ধ করতে হবে।

২. চোখে সুরমা বা ওষুধ দেওয়া

চোখে ওষুধ/সুরমা ব্যবহার, মাথা বা শরীরে তেল লাগানো, আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার—এসবের কারণে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

৩. অনিচ্ছাকৃত বমি

নিজে থেকে বমি না করলে (মুখভর্তি হলেও) রোজা ভাঙবে না।

বমি মুখে এসে নিজে নিজে ভিতরে চলে গেলেও রোজা নষ্ট হবে না।

৪. ধুলো, ধোঁয়া বা পোকামাকড় অনিচ্ছাকৃত ঢুকে যাওয়া

মশা-মাছি বা ধুলোবালি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলা বা পেটে ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না।

৫. স্বপ্নদোষ

স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না।

৬. অল্প পানি মুখে ঢোকা

চোখের দু’এক ফোঁটা পানি মুখে গেলে ক্ষতি নেই।

তবে গলার ভেতর চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে।

৭. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

রোজার নিয়ত করার পর অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে গেলে রোজা নষ্ট হবে না।

৮. ইনসুলিন নেওয়া

রোজা অবস্থায় ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত বের হওয়া

শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত বের করলে রোজা ভাঙবে না।

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এত রক্ত বের করা মাকরূহ, যাতে রোজাদার দুর্বল হয়ে যায়।

১০. গোসল বিলম্বিত হওয়া

রাতে সহবাস বা স্বপ্নদোষ হলে সুবহে সাদিকের আগে গোসল করতে না পারলেও রোজার ক্ষতি হবে না।

তবে অযথা দীর্ঘ সময় অপবিত্র অবস্থায় থাকা অনুচিত।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

উপরোক্ত বিষয়গুলোর কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না।

অনেকেই না জেনে রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত খাওয়া–পান করে বসেন, যা মারাত্মক ভুল।

আবার কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় কষ্ট করেন, সেটিও অনুচিত।

আশা করি এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা ভুল ধারণা দূর করতে সহায়ক হবে, ইনশাআল্লাহ।

সংকলন:

মুসলিমস ডে অ্যাপের শরয়ী সম্পাদক

মাওলানা শিব্বীর আহমদ

উস্তাযুল হাদীস, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, ঢাকা (মোহাম্মদপুর)

মন্তব্য করুন

ব্লগ