Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ মার্চ, ২০২৬ ০৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা জিএনএইচ

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ যখন তাদের সাফল্য পরিমাপ করে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি-র রৈখিক পরিসংখ্যানে, তখন হিমালয়ের কোলের এক ছোট রাজ্য, ভুটান, এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং গভীরতর দর্শন দিয়ে পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক প্রথম এই ধারণাটির অবতারণা করেন যে, একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ তার অর্থনৈতিক উৎপাদনে নয়, বরং তার জনগণের সামগ্রিক সুখ এবং কল্যাণের মধ্যে নিহিত। এই দর্শন থেকেই জন্ম নেয় ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা জিএনএইচ, যা আজ ভুটানের রাষ্ট্রীয় নীতি এবং উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।


জিএনএইচ কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, এটি একটি সুসংগঠিত এবং পরিমাপযোগ্য সূচক, যা নয়টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে দেশের অগ্রগতিকে মূল্যায়ন করে। এই ক্ষেত্রগুলো হলো মানসিক সুস্থতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সময় ব্যবহার, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সহনশীলতা, সুশাসন, সামাজিক প্রাণশক্তি, পরিবেশগত বৈচিত্র্য ও সহনশীলতা এবং জীবনযাত্রার মান। ভুটানে কোনো নতুন নীতি বা আইন প্রণয়ন করার আগে, তাকে অবশ্যই ‘জিএনএইচ স্ক্রিনিং’ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, যেখানে মূল্যায়ন করা হয় যে এই নীতিটি দেশের মানুষের সামগ্রিক সুখের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না। অর্থাৎ, একটি নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের অর্থনৈতিক লাভের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তার পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাবকে।


জিডিপি যেখানে কেবল একটি সংখ্যা, জিএনএইচ সেখানে মানুষের জীবনের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিককে স্পর্শ করে। এই বিপ্লবী ধারণাটি এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে। নিউজিল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের মতো দেশগুলোও তাদের নিজস্ব ‘ওয়েলবিইং ফ্রেমওয়ার্ক’ বা কল্যাণমূলক কাঠামো তৈরি করেছে, যার মূল ভিত্তি ভুটানের এই দর্শন। ভুটান প্রমাণ করেছে যে, যখন একটি দেশের লক্ষ্য হয় তার জনগণের সুখ, তখন জাতীয় বাজেট আর কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকে না, তা পরিণত হয় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের এক মানবিক দলিলে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ