Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

প্রতিবেশীর হক - মোঃ মুজিবুর রহমান

প্রতিবেশীর হক

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

মানুষ একা নয়, সমাজ তার আপন ঠিকানা,

সহযোগিতার বাঁধনে গাঁথা জীবনের গাথা-গান।

আদি থেকে শুরু হলো পথের এ আয়োজন,

হজরত আদম ও হজরত হাওয়া—সামাজিক সেই প্রমাণ।

ধীরে ধীরে বাড়ল বৃত্ত, বিস্তৃত হলো ধারা,

মানুষ মানুষের পাশে থাকে সুখ-দুঃখ সারা।

হক আদায়ে কঠোর বাণী দিলেন প্রিয় নবী,

হজরত জিবরাঈল তাগিদ দিতেন—প্রতিবেশীর মর্যাদা রবে নবি।

বলেছেন তিনি বিস্ময়ে, হৃদয় ভরা স্বরে—

“উত্তরাধিকারী হবে কি?” ভাব উঠিল অন্তরে।

এ বাণী লিপিবদ্ধ আছে সহীহ বুখারীর পাতায়,

প্রতিবেশীর হক যে কত—জাগে তাতে হৃদয় মাতায়।

শুভাশুভের স্রোতধারা আসে পাশের ঘর থেকে,

শান্তি কিংবা অশান্তি জাগে নীরব আচরণে ঢেকে।

তাওরাতে ছিল সতর্ক বাণী—অন্যায় কভু নয়,

আর হজরত ঈসা বলেছিলেন, ভালোবাসো—নিজের মতো হয়।

পবিত্র আল-কুরআন দিলো সুমহান নির্দেশ,

সুরা নিসার আয়াতে জাগে সৌহার্দ্যের পরিবেশ।

আত্মীয়-অনাত্মীয় সবাই পায় সেই স্থান,

সাময়িক সাথীও পায় তাতে সমমর্যাদার মান।

ডানে-বামে, সামনে-পিছে চল্লিশ ঘর অবধি,

হাদীসে এল সে সীমারেখা—স্নেহের রশি বাঁধি।

বলেছেন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত বাণীখানি,

প্রতিবেশীর অধিকার তাই বিস্তৃত আকাশ-পানি।

যদি সে হয় অভাবগ্রস্ত—দাও সহায়তার হাত,

যদি পীড়ায় কাতর হয়—সেবায় হও প্রভাত।

নিজে খেয়ে ভরপেট, পাশের জন ক্ষুধিত—

তবে কেমন সেই ঈমান, কেমন তার পরিচিত?

নবীর শপথ উচ্চারণে কাঁপে অন্তর-মর্ম,

যার অনিষ্টে নিরাপদ নয় প্রতিবেশীর ধর্ম—

সে কি করে মুমিন হয়? প্রশ্ন জাগে প্রাণে,

মানবতার এ শিক্ষাটি লিখা স্বর্ণবাণে।

উপঢৌকন ছোট হলেও তুচ্ছ কোরো না,

বকরির খুরা হলেও দাও ভালোবাসা সনা।

হজরত আয়শা (রা.) জিজ্ঞেস করলে কাকে দেবে দান—

নিকটতম যে প্রতিবেশী, সে-ই পাবে সম্মান।

ধর্ম-বর্ণ বাধা নয় এ মহৎ আচরণে,

ইহুদি হোক, মুসলিম হোক—সবাই সম গরিমায় সনে।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর দিতেন হাদিয়া পাঠিয়ে,

প্রতিবেশীর হৃদয় জিততেন ভালোবাসা ছড়িয়ে।

স্থায়ী হোক, সাময়িক হোক—সবাই আমাদেরজন,

পথের সাথী, গাড়ির পাশের সিটও পায় আপন।

রোহিঙ্গা অসহায় যারা, দুঃখে ভরা প্রাণ,

তাদের সেবায় রচিত হোক মানবতার গান।

এসো তবে হক আদায়ে জাগাই নতুন শপথ,

প্রতিবেশীর হাসি হোক জীবনের সর্বস্ব রত্ন।

আল্লাহ দিন তাওফিক আমাদের, সৎপথে অবিচল—

মানবতার এ মহাগানে উঠুক প্রেমের কলকল।

 ***

🌺 প্রতিবেশীর হক : ঈমানের আলোকধারা 🌺

মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণ, একা নয় তার জীবন,

সহযোগিতার বন্ধনে গড়ে ওঠে আপন ভুবন।

আদি প্রভাতে শুরু হলো মানব-সমাজের গান,

হজরত আদম আর হজরত হাওয়া—প্রথম মিলন-প্রাণ।

সেখান থেকে বিস্তৃত হলো সম্পর্কেরই ডাল,

ভাইয়ের পাশে ভাই দাঁড়ায়, জাগে মমতার জাল।

হক আদায়ে তাই ইসলামে উচ্চারিত আহ্বান—

অবহেলা নয়, আদায় করো প্রতিবেশীর সম্মান।

হজরত জিবরাঈল আনতেন তাগিদ নিয়ে আসমানি পত্র,

নবীজীর হৃদয়ে জাগত চিন্তার পবিত্র স্তবকত্র।

বলতেন তিনি আবেগভরা বিস্ময়েরই সুরে—

“উত্তরাধিকারী হবে কি?” ভাব জাগত অন্তঃপুরে।

এ বাণী রইল অম্লান হয়ে সহীহ বুখারীর পাতায়,

প্রতিবেশীর হক যে কত—জাগ্রত তার প্রভায়।

আল-কুরআন দিলো স্পষ্ট নির্দেশ—সদাচার করো সবাই,

আত্মীয়-অনাত্মীয়, মিসকিন, পথিক—কেউ নয় পর কেউ ভাই।

সুরা নিসার বাণী গেয়ে শেখায় মহান রব,

সাময়িক সাথীও তোমার—তারো আছে হক সব।

ডানে-বামে, সামনে-পিছে চল্লিশ ঘর অবধি,

ভালোবাসার পরিধিটা ততদূরেই বদ্ধই।

বর্ণনা করেন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) অকুণ্ঠ কণ্ঠে ধ্বনি—

প্রতিবেশীর অধিকার তাই বিস্তৃত জ্যোতিষ্মাণী।

যদি সে হয় অভাবী, দাও সহায়তার হাত,

রোগে হলে কাতর তার, হও সেবার প্রভাত।

নিজে খেয়ে ভরপেট, পাশের জন ক্ষুধিত—

কেমন তবে সে ঈমান, কেমন তার পরিচিত?

শপথ করে নবী বললেন দৃপ্ত কণ্ঠ তানে—

যার অনিষ্টে নিরাপদ নয় প্রতিবেশী প্রাণে,

সে মুমিন নয়—এই বাণী বজ্রের মতো নেমে,

জাগায় বিবেক, জাগায় চেতনা ঈমানেরই প্রেমে।

উপহার যদি ক্ষুদ্র হয়, তুচ্ছ কোরো না তা,

বকরির খুরা হলেও তাতে ভালোবাসা পা।

হজরত আয়শা (রা.) জিজ্ঞেসিলে কাকে দান—

নিকটতম যে প্রতিবেশী, তারই আগে সম্মান।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর দিতেন হাদিয়া পাঠায়ে,

প্রতিবেশীর হৃদয় জিততেন মমতার মালা গাঁথায়ে।

স্থায়ী কিংবা সাময়িক, পথের সাথীজন,

গাড়ির পাশে বসা মানুষ—তাকেও দাও সম্মান।

অসহায় যে শরণার্থী, দুঃখভরা প্রাণ,

তার সেবাতেই ফুটুক তবে ইসলামের পরিচয় মহান।

এসো আজ শপথ করি হৃদয়েরই মাঝে,

প্রতিবেশীর হক আদায়ে থাকবো সদা সাজে।

আল্লাহ দিন তাওফিক আমাদের সৎপথে অবিচল,

মানবতার এ কাব্য হোক জান্নাতেরই সম্বল।

মন্তব্য করুন