Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ মার্চ, ২০২৬ ০২:৩৯ অপরাহ্ণ

তাওহীদের তাজমহল - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

তাওহীদের তাজমহল

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

আসমান–যমীনের রাজ্যভারে একমাত্র তাঁরই শাসন,

ক্ষমতার সিংহাসনে তিনি—অতুল, অশেষ, অনুপম।

রাতের কালো চাদর বদলায় দিনের স্বর্ণালী রঙে,

সৃষ্টির পটে লিখে যান তিনি নিদর্শন জ্ঞানের ঢঙে।

তারার মেলা, চাঁদের হাসি, সূর্যের জ্যোতির নাচন,

সবই যেন বলে উঠে—“এক রবেরই এ আয়োজন।”

যে হৃদয়ে জাগে বিবেক, সে দেখে চিহ্ন স্পষ্ট,

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে খুঁজে পায় প্রভুর মহিমা অদৃষ্ট।

দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে স্মরণ করে যে প্রাণ,

ভাবনায় ডুবে সৃষ্টির মাঝে খোঁজে রহমত-জ্ঞান—

বলে, “হে আমাদের রব! বৃথা নয় এ সৃষ্টি-রেখা,

তুমি পবিত্র, মহান সত্তা—নাই ত্রুটি, নাই দেখা।

আগুনের কঠিন আযাব হতে করো আমাদের রক্ষা,

অপমানের অন্ধকারে দিও না কোন দুঃসহ শিক্ষা।

যাকে তুমি দাও জাহান্নাম, সে হয় লাঞ্ছিত চির,

যালিমদের পাশে থাকে না কোনো সাহায্য-নির।”

শুনেছিলাম আহ্বান এক—ঈমানের পবিত্র ডাক,

“রবের পথে ফিরে এসো”—জাগ্রত হলো হৃদয়-ফাঁক।

তাই তো আমরা মানলাম সে ডাকে সত্য-প্রাণে,

ক্ষমা করো গুনাহ আমাদের, ত্রুটি মুছে দাও টানে।

নেককারদের দলে রেখো শেষ নিঃশ্বাসের ক্ষণে,

রাসূলদের প্রতিশ্রুত দান দিও কিয়ামত দিনে।

লাঞ্ছিত কোরো না সেদিন, রাখো মান অটুট,

তোমার ওয়াদা সত্য চির, হয় না কখনো ভ্রষ্ট।

তখন রব দিলেন জবাব—স্নিগ্ধ করুণা-ভাষ,

“নারী-পুরুষ কারও আমল হবে না বিফল আশ।

তোমরা পরস্পরের অংশ, একে অপরের প্রাণ,

যারা হিজরতে ছেড়েছে ঘর, সহ্য করেছে অপমান,

আমার পথে কষ্ট পেয়েছে, লড়েছে সত্যের তরে,

শহীদ হয়ে ঢলে পড়েছে ঈমানের অমর ঘোরে—

তাদের সকল ত্রুটি আমি মুছে দেব স্নেহ-হাতে,

প্রবেশ দেব জান্নাতে আমি নহর-ঝরা প্রভাতে।

সেখানে শান্তি অনন্ত, রহমতের অফুরান দান,

আমার পক্ষ হতে সে হবে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।”

হে প্রভু! তব রাজ্য জুড়ে জ্বলে তাওহীদের দীপ,

চিন্তার পথে যে চলে সে-ই পায় সত্য-সিপ।

স্মরণ, ধ্যান আর অশ্রু-মাখা বিনম্র প্রার্থনা—

এ জীবন হোক তব রঙ্গে ভরা, হোক মুক্তি-গাথা।

 ***

আসমান–যমীনের রাজ্যভারে একমাত্র তাঁরই শাসন,

ক্ষমতার সিংহাসনে তিনি—অতুল, অশেষ, অনুপম।

রাতের কালো চাদর বদলায় দিনের স্বর্ণালী রঙে,

সৃষ্টির পটে লিখে যান তিনি নিদর্শন জ্ঞানের ঢঙে।

তারার মেলা, চাঁদের হাসি, সূর্যের জ্যোতির নাচন,

সবই যেন বলে উঠে—“এক রবেরই এ আয়োজন।”

যে হৃদয়ে জাগে বিবেক, সে দেখে চিহ্ন স্পষ্ট,

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে খুঁজে পায় প্রভুর মহিমা অদৃষ্ট।

দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে স্মরণ করে যে প্রাণ,

ভাবনায় ডুবে সৃষ্টির মাঝে খোঁজে রহমত-জ্ঞান—

বলে, “হে আমাদের রব! বৃথা নয় এ সৃষ্টি-রেখা,

তুমি পবিত্র, মহান সত্তা—নাই ত্রুটি, নাই দেখা।

আগুনের কঠিন আযাব হতে করো আমাদের রক্ষা,

অপমানের অন্ধকারে দিও না কোন দুঃসহ শিক্ষা।

যাকে তুমি দাও জাহান্নাম, সে হয় লাঞ্ছিত চির,

যালিমদের পাশে থাকে না কোনো সাহায্য-নির।”

শুনেছিলাম আহ্বান এক—ঈমানের পবিত্র ডাক,

“রবের পথে ফিরে এসো”—জাগ্রত হলো হৃদয়-ফাঁক।

তাই তো আমরা মানলাম সে ডাকে সত্য-প্রাণে,

ক্ষমা করো গুনাহ আমাদের, ত্রুটি মুছে দাও টানে।

নেককারদের দলে রেখো শেষ নিঃশ্বাসের ক্ষণে,

রাসূলদের প্রতিশ্রুত দান দিও কিয়ামত দিনে।

লাঞ্ছিত কোরো না সেদিন, রাখো মান অটুট,

তোমার ওয়াদা সত্য চির, হয় না কখনো ভ্রষ্ট।

তখন রব দিলেন জবাব—স্নিগ্ধ করুণা-ভাষ,

“নারী-পুরুষ কারও আমল হবে না বিফল আশ।

তোমরা পরস্পরের অংশ, একে অপরের প্রাণ,

যারা হিজরতে ছেড়েছে ঘর, সহ্য করেছে অপমান,

আমার পথে কষ্ট পেয়েছে, লড়েছে সত্যের তরে,

শহীদ হয়ে ঢলে পড়েছে ঈমানের অমর ঘোরে—

তাদের সকল ত্রুটি আমি মুছে দেব স্নেহ-হাতে,

প্রবেশ দেব জান্নাতে আমি নহর-ঝরা প্রভাতে।

সেখানে শান্তি অনন্ত, রহমতের অফুরান দান,

আমার পক্ষ হতে সে হবে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।”

হে প্রভু! তব রাজ্য জুড়ে জ্বলে তাওহীদের দীপ,

চিন্তার পথে যে চলে সে-ই পায় সত্য-সিপ।

স্মরণ, ধ্যান আর অশ্রু-মাখা বিনম্র প্রার্থনা—

এ জীবন হোক তব রঙ্গে ভরা, হোক মুক্তি-গাথা।

***

*** সৃষ্টির মহিমায় মুমিনের প্রার্থনা ***

আসমান–যমীনের সার্বভৌম একমাত্র তুমি রব,

সিংহাসনে ক্ষমতার তব অনন্ত মহারব।

তারার দীপ, সূর্যের তেজ, চাঁদের নরম হাসি—

সবাই যেন ঘোষণা করে—তুমি চির-অবিনাশী।

রাতের পরে দিনের আগমন, দিনের পরে রাত,

সময়ের এই চক্র ঘুরে দেয় জ্ঞানেরই বারাত।

সৃষ্টির মাঝে অগণিত চিহ্ন, প্রজ্ঞার আলোক-রেখা,

যে হৃদয়ে বিবেক জাগে সে-ই পারে তা দেখা।

দাঁড়িয়ে তোমায় স্মরণ করে, বসে কিংবা শয়ে,

কাতর প্রাণে ডাকে তারা অশ্রু-মিশ্রিত বয়ে।

আসমানের বিস্ময় দেখে, যমীনের শোভা-পট,

ভাবনায় ডুবে বলে উঠে—হে রব, কী অপরূপ রত্ন!

“বৃথা নয় এ বিশ্বসৃষ্টি, নয় অনর্থক কাজ,

তুমি পবিত্র, তুমি মহান, সীমাহীন তব সাজ।

আগুনের কঠিন আযাব হতে রক্ষা করো আমায়,

লাঞ্ছনার সে অন্ধকারে ফেলো না গো হায়।

যাকে তুমি দাও জাহান্নাম, অপমান তার সাথী,

যালিমের নেই কোনো বন্ধু, নেই কোনো রক্ষাকাঠি।

হে আমাদের প্রিয় পালনকর্তা! শুনেছিলাম ডাক—

ঈমানের পথে আহ্বান এক, জাগালো অন্তর-ফাঁক।

‘রবের প্রতি ঈমান আনো’—ছিল সে আহ্বান,

তাই তো আমরা মেনে নিলাম সত্যেরই ফরমান।

ক্ষমা করো সব গুনাহ আমাদের, ঢেকে দাও ত্রুটি,

নেককারদের সাথে রেখো মৃত্যু-শেষের স্রুতি।

রাসূলদের মুখে যে ওয়াদা দিয়েছ তুমি হে রব,

কিয়ামতের মহাদিবসে দিও না কোনো লজ্জা-শব।

তোমার অঙ্গীকার অটুট, চির-সত্য তব বাণী,

মিথ্যা তারে স্পর্শ করে না, বদলায় না সে জানি।”

তখন করুণাময় রব দিলেন সান্ত্বনার জবাব—

“নারী হোক বা পুরুষ, বিফল নয় কারো হিসাব।

তোমরা সবাই পরস্পরের অঙ্গ, একই প্রাণের ধারা,

যারা ঘর ছেড়ে হিজরত করে সহ্য করেছে জ্বালা-ধারা,

আমার পথে কষ্ট সহে লড়েছে সত্যযুদ্ধ,

রক্তে লিখে গেছে ঈমান, করেছে জীবন শুদ্ধ—

তাদের সব ত্রুটি আমি মুছে দেব আপন হাতে,

প্রবেশ দেব জান্নাতে আমি নহর-প্রবাহ তাতে।

সেখানে শান্তি চিরস্থায়ী, দুঃখের হবে অবসান,

আমার নিকট আছে তাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।”

হে রব! দাও এমন হৃদয়—চিন্তায় হোক উদ্ভাস,

স্মরণে থাকি সারাক্ষণ, হোক জীবন তব আশ।

সৃষ্টির মাঝে খুঁজে নেব তাওহীদেরই সুর,

তোমার পথে কাটুক জীবন, তোমার প্রেমে ভরপুর।

***

 ** তাওহীদের জ্যোতিতে মুমিনের মুনাজাত **

আসমান আর যমীনের সার্বভৌম এক অধিপতি—

তুমি আল্লাহ, মহাশক্তিমান, অশেষ মহিমাময় সত্তা অদ্বিতীয় অখণ্ড জ্যোতি।

নক্ষত্র-নিভৃত রাতের বুকে তোমার ক্ষমতার দীপ জ্বলে,

প্রভাত-সূর্য রাঙা আলোয় তব কুদরতের ঘোষণা তোলে।

দিন বদলে যায় রাতের মাঝে, রাত মেশে দিনের রঙ্গে,

সময়ের এই ঘূর্ণিচক্রে তব হিকমতের ছন্দ ঢঙ্গে।

অগণিত নিদর্শন ছড়িয়ে আছে নভোমণ্ডল-ধরা জুড়ে,

বিবেকী প্রাণ সে চিহ্ন দেখে বিস্ময়ে নত শির নতূড়ে।

দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে যে তোমায় স্মরণ করে সদা,

হৃদয়-গভীর চিন্তায় মগ্ন, তব সৃষ্টির মহাকাব্য-পদা—

সে বলে, “হে আমাদের রব! বৃথা নয় এ বিশ্ব-গাথা,

অর্থহীন নয় কণা-কণা, নেই অনর্থের ব্যথা।

তুমি পবিত্র, তুমি মহান, ত্রুটিহীন তব রচনা,

আগুনের কঠিন আযাব হতে দাও আমাদের রক্ষা-শরণা।

যাকে তুমি জাহান্নামে দাও, সে হয় লাঞ্ছিত চিরদিন,

যালিমের তরে থাকে না কোনো সাহায্যকারী সঙ্গীন।

হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা শুনেছি এক আহ্বান—

ঈমানের পানে ডেকেছে যে, সত্যের দীপ্তি-সমান।

‘রবের প্রতি ঈমান আনো’—ছিল তার জাগ্রত বাণী,

তাই তো আমরা সাড়া দিয়েছি, মেনেছি তব বিধান জানি।

ক্ষমা করো আমাদের গুনাহ, ঢেকে দাও সব ত্রুটি,

নেককারদের সাথে রেখো মৃত্যু-শেষের সুরভি-স্মৃতি।

রাসূলদের মাধ্যমে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তুমি,

কিয়ামতের মহাদিবসে তা দাও—হোক না লজ্জার ভূমি।

নিশ্চয় তুমি অঙ্গীকারভঙ্গ করো না কোনো কালে,

তোমার বাণী সত্য-শাশ্বত, অটল চিরজ্যোতিঝালে।”

তখন রহমতের সাগর-রব দিলেন স্নিগ্ধ জবাব—

“নারী-পুরুষ কারো আমল হবে না বিফল-অবাব।

তোমরা একে অপরের অংশ, একই সূত্রে গাঁথা,

যারা হিজরতে ছেড়েছে ঘর, সহ্য করেছে কাঁটা-পাথা,

আমার পথে নির্যাতন সয়ে করেছে জিহাদের সংগ্রাম,

সত্যের তরে প্রাণ বিলিয়ে লিখেছে অমর নাম—

তাদের সব পাপ আমি মুছে দেব দয়ার জলে,

প্রবেশ দেব জান্নাতে আমি, নহর বইবে তলে।

সেখানে শান্তি চিরসবুজ, নেই বেদনার রেখা,

আমার পক্ষ হতে সে হবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেখা।”

হে প্রভু! দাও এমন হৃদয়—স্মরণে থাকি সদা,

চিন্তার সাগরে ডুব দিয়ে বুঝি তব মহা-ইবাদা।

আসমান-যমীনের প্রতিটি কণা হোক ঈমানের দিশা,

তোমার প্রেমে কাটুক জীবন—এ হোক চির প্রার্থনা-দিশা।

মন্তব্য করুন