প্রভাষক
০৪ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৫ পূর্বাহ্ণ
ইফতারে জিলাপির ঐতিহ্য
ইফতারের দস্তরখানে জিলাপি কেবল একটি মিষ্টি পদ নয়, বরং এটি বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ইফতার সংস্কৃতিতে জিলাপির গুরুত্ব অপরিসীম।
নিচে জিলাপি দিয়ে ইফতারের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. ইফতারে জিলাপির ঐতিহ্য ও প্রকারভেদ
বাংলাদেশে ইফতারিতে সাধারণত কয়েক ধরনের জিলাপি দেখা যায়:
শাহি জিলাপি: পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই জিলাপি আকারে অনেক বড় এবং ওজনে কয়েক কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এটি ডাল দিয়ে তৈরি এবং স্বাদে অনন্য।
রেশমি জিলাপি: এটি খুবই চিকন ও রসে ভরপুর হয়।
বোম্বে জিলাপি: আকারে ছোট কিন্তু অত্যন্ত রসালো।
জাফরানি বা খোয়া জিলাপি: আভিজাত্য বাড়াতে জাফরান বা খোয়া ক্ষীর ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
২. খাওয়ার ধরণ: মুড়িমাখা-জিলাপি বিতর্ক
ইফতারিতে জিলাপি খাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত পদ্ধতি হলো মুড়িমাখায় জিলাপি মিশিয়ে খাওয়া।
ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি এবং মুড়ির মিশ্রণের সাথে জিলাপির টুকরো মিশিয়ে খেলে ঝাল ও মিষ্টির এক চমৎকার স্বাদ তৈরি হয়।
অনেকে আবার জিলাপি আলাদাভাবে মিষ্টি মুখ করতে পছন্দ করেন।
৩. স্বাস্থ্যগত দিক ও গুণাগুণ
রসালো জিলাপি শুধু মুখরোচকই নয়, এর কিছু উপকারিতাও রয়েছে বলে মনে করা হয়:
মানসিক চাপ দূর: সারাদিনের ক্লান্তির পর টাটকা জিলাপি মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
শক্তি যোগায়: জিলাপির চিনি বা গ্লুকোজ রোজা রাখার পর শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তির চাহিদা পূরণ করে।
অন্যান্য: প্রাচীন কিছু বিশ্বাস মতে, মাইগ্রেন বা জন্ডিস নিরাময়েও এটি সহায়তা করতে পারে।
৪. বাড়িতে তৈরির উপকরণ
খুব সহজেই ঘরে বসে ইফতারের জন্য জিলাপি বানানো সম্ভব। প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো:
ব্যাটারের জন্য: ময়দা, ঘি, ইনো (বা বেকিং পাউডার) এবং পানি।
সিরার জন্য: চিনি, পানি, লেবুর রস এবং জাফরান বা খাবার রং।
জিলাপি ইফতারের এমন এক অনুষঙ্গ যা ছাড়া অনেক বাঙালির ইফতার অসম্পূর্ণ মনে হয়।
১
২ মন্তব্য