Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

সিয়াম ও বিজ্ঞান,একটি আলোচনা।

                        সিয়াম ও বিজ্ঞান

সামিউল ইসলাম

অধ্যক্ষ

সিধুচী হিযবুল্লাহ মহিলা আলিম মাদ্রাসা

লালমাই, কুমিল্লা

সিয়াম বা রোযা ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। আল কুরআন-এ বলা হয়েছে: “হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে… যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার” (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩)। অর্থাৎ সিয়ামের মূল লক্ষ্য আত্মসংযম ও নৈতিক শুদ্ধতা। তবে আধুনিক বিজ্ঞানও দেখাচ্ছে, সঠিকভাবে রোযা পালন করলে এর শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা রয়েছে।

প্রথমত, সিয়াম দেহের বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ সময় না খেলে শরীর গ্লুকোজের পরিবর্তে সঞ্চিত চর্বি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এটিকে বলা হয় “কেটোসিস”। গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে নিয়ন্ত্রিত উপবাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

দ্বিতীয়ত, উপবাস কোষের পুনর্গঠনে সহায়তা করে। বিজ্ঞানীরা “অটোফেজি” নামে একটি প্রক্রিয়ার কথা বলেন, যেখানে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে। ২০১৬ সালে জাপানের বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি অটোফেজি বিষয়ক গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের উপবাস কোষীয় পরিশোধন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে পারে।

তৃতীয়ত, সিয়াম মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোযা মানুষকে ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত উপবাস মানসিক চাপ কমাতে ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে। রমজানে অনেকেই আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করেন, যা মনোবিজ্ঞানের ভাষায় “আধ্যাত্মিক সুস্থতা”র অংশ।

চতুর্থত, পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায়। সারাবছর নিয়মিত খাবার গ্রহণের ফলে পরিপাকতন্ত্র অবিরাম কাজ করে। রোযার সময় নির্দিষ্ট বিরতিতে খাদ্য গ্রহণের কারণে পাকস্থলী ও অন্ত্র কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পায়, যা হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সিয়ামের উপকারিতা পেতে হলে ইফতার ও সেহরিতে পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার গ্রহণ করলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, সিয়াম শুধু আধ্যাত্মিক ইবাদত নয়; এটি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উন্নয়নেরও একটি সমন্বিত পদ্ধতি। ইসলাম যে বিধান দিয়েছে, আধুনিক বিজ্ঞান তার অনেক দিকই আজ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

মন্তব্য করুন