সিনিয়র শিক্ষক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:২৭ অপরাহ্ণ
সচ্ছলতা ও বিপদে মানুষের প্রকৃত স্বভাব
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৩
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ اِذَاۤ اَنۡعَمۡنَا عَلَی الۡاِنۡسَانِ اَعۡرَضَ وَ نَاٰ بِجَانِبِهٖ ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ یَــُٔوۡسًا ﴿۸۳﴾
সরল অনুবাদ
(৮৩) যখন আমি মানুষকে সম্পদ দান করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে যায়। আর তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করলে সে একেবারে হতাশ হয়ে পড়ে।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা বনি ইসরাঈলের আলোচ্য আয়াতটিতে মহান আল্লাহ মানুষের একটি সাধারণ স্বভাব তুলে ধরেছেন। সচ্ছলতা পেলে সে আল্লাহকে ভুলে যায়, আর বিপদে পড়লে হতাশ হয়ে পড়ে।
১. সম্পদ বা অনুগ্রহ পেলে মানুষের উদাসীনতা
আয়াতে বলা হয়েছে: “যখন আমি মানুষকে সম্পদ দান করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে যায়।” এর অর্থ হলো— যখন মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে ধন-সম্পদ, স্বাস্থ্য, সম্মান, সুযোগ বা স্বাচ্ছন্দ্য পায়, তখন অনেক সময় সে মনে করে এগুলো তার নিজের যোগ্যতার ফল। ফলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা কমে যায়, ইবাদত ও আনুগত্যে শৈথিল্য আসে, সে অহংকারে অন্যদের তুচ্ছ ভাবতে শুরু করে।
তাফসিরকারীরা বলেন, এখানে “মুখ ফিরিয়ে নেওয়া” বলতে বোঝানো হয়েছে আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য থেকে উদাসীন হয়ে যাওয়া।
২. বিপদে পড়লে চরম হতাশা
আয়াতের দ্বিতীয় অংশ: “আর তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করলে সে একেবারে হতাশ হয়ে পড়ে।” অর্থাৎ যখন মানুষ দারিদ্র্য, অসুস্থতা, ক্ষতি, বিপদ বা ব্যর্থতা এসবের মধ্যে পড়ে, তখন সে মনে করে যেন সব শেষ হয়ে গেছে। তার মনে আশা কমে যায় এবং ধৈর্য হারিয়ে ফেলে।
তাফসিরে বলা হয়, এটা সেই মানুষের অবস্থা যার ঈমান দুর্বল এবং আল্লাহর রহমতের উপর দৃঢ় ভরসা নেই।
৩. আয়াতের মূল শিক্ষা
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন—
এক. নিয়ামত পেলে কৃতজ্ঞ হতে হবে। ধন-সম্পদ বা সুখ আসলে অহংকার নয়, বরং আল্লাহর শুকরিয়া করা উচিত।
দুই. বিপদে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ আল্লাহর রহমত সীমাহীন, এবং বিপদও একটি পরীক্ষা।
এই আয়াত মানুষকে সতর্ক করছে যেন সে আল্লাহর নিয়ামত পেয়ে অহংকারী না হয় এবং বিপদে পড়ে হতাশ না হয়।
বরং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ও আশা বজায় রাখাই একজন মুমিনের প্রকৃত গুণ।
১
২ মন্তব্য