সহকারী অধ্যাপক
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক মোঃ মুজিবুর রহমান
জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিস্তব্ধ আসমানের অন্তরালে এক দিব্য আলোড়ন,
দুই মহাশক্তির মাঝে শুরু হলো গভীর তর্কবচন।
জান্নাত বলে নীরব সুরে, শান্তির মধুর গান,
জাহান্নাম জ্বলে অগ্নিস্রোতে, গর্জে ওঠে মহাপ্রাণ।
জাহান্নাম বলল গর্বভরে অগ্নি-শিখার ভাষায়—
“আমার মাঝে স্থান পাবে শক্তিমান অহংকারের আশায়।
যারা ছিল দম্ভে ভরা, ক্ষমতার নেশায় মত্ত,
তাদের অহংকারের আগুনে আমি হবো জ্বলন্ত শক্ত।”
জান্নাত তখন মৃদু হেসে বলল নরম বাণী,
“আমার মাঝে থাকবে যারা বিনম্র, শান্ত প্রাণী।
যারা ছিল পৃথিবীতে দরিদ্র, দুর্বল, অখ্যাত,
তাদের হৃদয়ে ছিল ঈমান—পবিত্রতার প্রভাত।”
“যারা ছিল মানুষের মাঝে অবহেলিত নিরন্তর,
তবু রবের প্রেমে ছিল তাদের অন্তর অপরিসর।
নম্র কণ্ঠে তারা ডাকত প্রভুর করুণা দরবারে,
তাদের জন্যই আমার বাগান ফুলে-ফলে সুধাধারে।”
তখন মহিমাময় রব দিলেন চূড়ান্ত ফয়সালা,
দুই জগত স্তব্ধ হয়ে শুনল তাঁর বাণীমালা।
তিনি বললেন— “হে জান্নাত! তুমি আমার রহমত,
তোমার মাধ্যমে বর্ষে আমার অনুগ্রহের নূরস্রোত।”
“যাকে চাই আমি দান করি তোমার অমল সুখ,
তোমার বাগানে ফুটে ওঠে রহমতের অসীম মুখ।
তুমি হবে শান্তির ধারা, দয়ার মহা উপহার,
মুমিন হৃদয় সেখানে পাবে অনন্ত সুখের দ্বার।”
“আর তুমি হে জাহান্নাম! আমার কঠোর শাস্তি,
তোমার আগুনে জ্বলবে যারা করেছে সীমালঙ্ঘন অশ্রুপাতি।
যাদের অন্তরে ছিল অহংকার, বিদ্রোহ ও অন্ধকার,
তোমার আগুনে পুড়বে তারা, হবে তাদের পরিণাম ভার।”
আল্লাহ বললেন— “তোমাদের উভয়কে আমি পূর্ণ করব,
আমারই আদেশে তোমাদের অন্তর পরিপূর্ণ হবে সব।”
এ কথা শুনে থমকে গেল মহাকালের গম্ভীর স্রোত,
সৃষ্টির বুকে প্রতিধ্বনিত হলো রবের ন্যায়ের নোট।
জাহান্নাম তখনও চায় আরও অগ্নির খাদ্য,
লোভাতুর অগ্নির মতো চায় আরও পাপের বধ্য।
অবশেষে প্রভুর কুদরতের স্পর্শ যখন তাতে পড়ে,
সে বলে— “যথেষ্ট! যথেষ্ট!”—অগ্নি তখন স্তব্ধ ঘোরে।
আর জান্নাতের বুকে তখন শান্তির সবুজ আলো,
নূরের নদী বয়ে চলে, সুখের অপরূপ ঢল ঢালো।
দরিদ্র, দুর্বল মুমিনেরা সেখানে পায় সম্মান,
যাদের পৃথিবী চিনেনি—রব দিলেন মহিমান্বিত স্থান।
হে মানব! অহংকারের পথ ত্যাগ কর আজই,
ক্ষমতার গর্বে নয়—নম্রতায় খুঁজে নাও সাজই।
কারণ রবের দরবারে নয় ধন-সম্পদের মান,
ঈমানের দীপ্ত আলোতেই উজ্জ্বল হয় প্রাণ।
দুর্বল যে ছিল মানুষের চোখে অবহেলার ধূলি,
রবের কাছে সে-ই হয় আকাশের দীপ্ত ফুলই।
তাই বিনয় রাখ হৃদয়ে, রাখ ঈমানের দীপ,
তাহলেই খুলবে জান্নাতের অমল রহমতের নীড়।
***
রহমত ও আযাবের মহাবিচার
নিভৃত আসমান স্তব্ধ হলো, গম্ভীর নূরের তলে,
চিরন্তন দুই আবাস তখন বিতর্কে জ্বলে।
অগ্নিস্রোতে জাহান্নাম গর্জে তেজের গৌরবে,
বলল— “আমার অন্তর ভরে অহংকারের রবে।”
“যারা ছিল শক্তির নেশায় উদ্ধত ও দুর্দম,
তাদের দম্ভের পরিণাম আমি হবো নির্দয় দম।”
জান্নাত তখন নীরব হাসি ছড়ায় শান্ত আলো,
করুণার সুরে বলল ধীরে নূরের মধুর ভালো—
“আমার বুকে আশ্রয় পাবে নম্র হৃদয় প্রাণ,
দরিদ্র, ক্ষীণ, অখ্যাত যারা মানুষেরই জান।”
“যারা ছিল ধূলির মতো অবহেলায় ঢাকা,
রবের প্রেমে তাদের প্রাণ ছিল অটল রাখা।”
“রাত্রি জাগে প্রার্থনায় যাদের চোখের নূর,
তাদের তরে আমার বাগান সুগন্ধ ভরপুর।”
“দীন মুখে ঈমানের দীপ জ্বলেছে নিরবধি,
তাদের তরে আমার দ্বার খুলে দিব সদা সদী।”
এই সময়ে আরশ হতে এল মহাবাণী ধ্বনি,
সকল জগৎ স্তব্ধ শুনে রবের পবিত্র বাণী।
বলিলেন তিনি— “হে জান্নাত! তুমি মোর রহমত,
তোমার বুকে বর্ষে আমার অনন্ত অনুগ্রহস্রোত।”
“যার প্রতি চাই ঢালি আমি করুণার আলো,
তোমার বাগে সে-ই পাবে সুখের নূরের ভালো।”
“আর তুমি হে জাহান্নাম! তুমি মোর আযাব,
সীমালঙ্ঘী আত্মা তাতে পাবে শাস্তির জবাব।”
“অহংকারে যারা ছিল অন্ধকারে মত্ত,
তোমার আগুনে হবে তাদের অহংকার ক্ষত।”
“তোমাদের উভয়কেই আমি পূর্ণ করব শেষে,
আমার বিধান অটল থাকে সৃষ্টির সর্বদেশে।”
জাহান্নাম তখনও যেন ক্ষুধার্ত অগ্নি-শিখা,
আরও পাপী চায় সে যেন সীমাহীন দীক্ষা।
যতই আসে সীমালঙ্ঘী আগুনের অন্ধ ঘর,
তবু তার অন্তর বলে— “আরো দাও অবসর।”
শেষে যখন কুদরতের স্পর্শ পড়ে তাতে,
সে বলে— “যথেষ্ট! যথেষ্ট!” স্তব্ধ আগুন রাতে।
চাপা পড়ে অগ্নির ঢেউ নিজেরই উষ্ণ বুকে,
নিভে আসে গর্জনধ্বনি নীরব অন্ধ সুখে।
অন্যদিকে জান্নাত তখন নূরের বাগান খোলে,
সুধার নদী বহে যায় প্রশান্তির কলরোলে।
যাদের পৃথিবী চিনেনি সম্মানের আসনে,
তাদের তরে সোনার সিংহাসন নূরের আঙিনে।
দরিদ্র যারা ছিল ধরা অবহেলার ধূলি,
রবের রহমে তারাই আজ জান্নাতের ফুলই।
যারা ছিল ক্ষীণ কণ্ঠে প্রার্থনারই দাস,
তাদের তরে খোলে সুখের অমল সুবাস।
হে মানব! ত্যাগ কর অহংকারের মায়া,
ক্ষমতার গর্ব শেষে আগুনেরই ছায়া।
নম্র হৃদয়েই লুকায় রহমতের দান,
বিনয়ে জ্বলে ঈমানের চিরন্তন জ্ঞান।
ধন নয়, পদ নয়, খ্যাতি নয় মান,
রবের কাছে মূল্য শুধু ঈমানেরই প্রাণ।
যে ছিল দীন মানুষের চোখে অবহেলিত,
রবের দরবারে সে-ই হয় মহিমায় পূজিত।
তাই রাখ হৃদয়ে বিনয়, রাখ তাকওয়ার দীপ,
তাহলেই খুলবে জান্নাতের অনন্ত সুখ-নীড়।
রহমতের বাগান ডাকে নীরব আলোর তরে,
অহংকারের আগুন নিভে বিনয়েরই ঘরে।
যে শুনে এ বাণী আজ হৃদয়ে রাখে ঠিক,
তার পথ খুলে যায় নূরের অনন্ত দিক।
***
রহমত ও আযাবের মহাসংলাপ
নীরব নভে জাগে হঠাৎ গম্ভীর মহা ধ্বনি,
অদৃশ্য জগৎ কাঁপে শুনি রহস্যময় বাণী।
দুই অনন্ত আবাস তখন মুখোমুখি দাঁড়ায়,
রহমতের বাগান এক, এক অগ্নিসাগর জ্বালায়।
জাহান্নাম জ্বলে উঠে দম্ভের আগুন নিয়ে,
অহংকারের ভাষা বয়ে তপ্ত শিখা বেয়ে।
বলিল সে গর্বভরে অগ্নি-নৃত্যতালে—
“শক্তিমান উদ্ধতেরা আসবে আমার কলে।”
“যারা ছিল দুনিয়াতে ক্ষমতারই মত্ত,
তাদের দম্ভের পরিণাম হবে আগুনরক্ত।”
“রাজ্য, ধন আর শক্তির অহংকারের গান,
সবই হবে ছাই শেষে আমারই অগ্নিপ্রাণ।”
তখন জান্নাত শান্তস্বরে নূরের হাসি হেসে,
বলিল বাণী সুধাধারা বিনয়ী আবেশে—
“আমার বুকে আশ্রয় পায় নম্র হৃদয় প্রাণ,
দরিদ্র, ক্ষীণ, অখ্যাত যারা মানুষেরই জান।”
“যারা ছিল পৃথিবীতে অবহেলার ধূলি,
রবের প্রেমে তাদের প্রাণ ছিল সুগন্ধ ফুলই।”
“রাত্রি জেগে প্রার্থনাতে কাঁদত যারা নীর,
তাদের তরে আমার বাগে ঝরে নূরের নীর।”
“যাদের বুকে তাকওয়ার দীপ জ্বলে নিরবধি,
তাদের তরে সুখের দ্বার খুলে থাকে সদী।”
এই সময়ে আরশ হতে এল মহাবাণী,
স্তব্ধ হলো নভোমণ্ডল শুনে পবিত্র বাণী।
বলিলেন রব— “হে জান্নাত! তুমি মোর রহমত,
তোমার বুকে বর্ষে মোর অনন্ত অনুগ্রহস্রোত।”
“যার প্রতি চাই ঢালি আমি করুণার আলো,
তোমার বাগে সে-ই পাবে শান্তির অমল ভালো।”
“আর তুমি হে জাহান্নাম! তুমি মোর আযাব,
সীমালঙ্ঘী আত্মার তরে তুমি কঠোর জবাব।”
“অহংকারে যারা ছিল অন্ধকারে মত্ত,
তোমার আগুনে পুড়বে তাদের গর্বের রথ।”
“তোমাদের উভয়কে আমি পূর্ণ করব শেষে,
আমার বিধান অটল থাকে সৃষ্টির সর্বদেশে।”
জাহান্নাম তখনও যেন ক্ষুধার্ত অগ্নিধারা,
আরও চায় সীমালঙ্ঘী পাপের অন্ধকারা।
যতই আসে দুষ্কৃতিকারী আগুনের ঘরে,
তবু তার অন্তর বলে— “আরো দাও অবসরে।”
গর্জে ওঠে অগ্নিস্রোত সীমাহীন দাবানল,
দম্ভের ছাই ভাসে তাতে অহংকারের ফল।
শেষে যখন কুদরতের স্পর্শ পড়ে তাতে,
অগ্নির বুকে নেমে আসে স্তব্ধতা রাতেতে।
সে বলে— “যথেষ্ট! যথেষ্ট!” নীরব হয় শিখা,
চাপা পড়ে অগ্নির ঢেউ নিজের বুকে দীক্ষা।
অন্যদিকে জান্নাত তখন নূরের বাগান খোলে,
সুধার নদী বয়ে চলে প্রশান্তির কলরোলে।
মুক্তার পথে সুবাস ভাসে রহমতেরই ধারা,
অমল সুখে জাগে তাতে ঈমানের উষারা।
যাদের পৃথিবী চিনেনি সম্মানের আসনে,
তাদের তরে সিংহাসন নূরেরই আঙিনে।
দরিদ্র যারা ছিল ধরা অবহেলার ধূলি,
রবের রহমে তারাই আজ জান্নাতের ফুলই।
যারা ছিল ক্ষীণ কণ্ঠে প্রার্থনারই দাস,
তাদের তরে খুলে যায় সুখের সুবাস।
বিনয় যাদের অলংকার, তাকওয়া যাদের ঢাল,
তাদের তরে জান্নাতের খুলে নূরের দ্বার।
হে মানব! ত্যাগ কর অহংকারের পথ,
ক্ষমতার গর্ব শেষে আগুনেরই রথ।
ধন নয়, পদ নয়, খ্যাতি নয় মান,
রবের কাছে মূল্য শুধু ঈমানেরই প্রাণ।
নম্র হৃদয়েই লুকায় রহমতের ধারা,
বিনয়ে জ্বলে নূরের দীপ সীমাহীন সারা।
যে ছিল দীন মানুষের চোখে অবহেলিত,
রবের দরবারে সে-ই মহিমায় পূজিত।
তাই রাখ হৃদয়ে বিনয়, রাখ তাকওয়ার দীপ,
তাহলেই খুলবে জান্নাতের অনন্ত সুখ-নীড়।
রহমতের বাগান ডাকে শান্তির আলো ঘিরে,
অহংকারের আগুন নেভে বিনয়েরই নীড়ে।
যে শুনে এ বাণী আজ হৃদয়ে রাখে ঠিক,
তার সামনে খুলে যায় নূরের অনন্ত দিক।
নিভৃত কালের বুক জুড়ে প্রতিধ্বনি রয়—
রহমতের পথে চলাই মানব জীবনের জয়।
***
রহমত ও আযাবের মহাবিচার
নিস্তব্ধ নভের বুকে জাগে রহস্যময় ধ্বনি,
অদৃশ্য জগত শোনে স্রষ্টার গম্ভীর বাণী।
সময়ের গভীর স্রোতে কাঁপে আসমানের পথ,
দুই অনন্ত আবাস তখন দাঁড়ায় মুখোমুখি রথ।
একদিকে নূরের বাগান শান্তির সুধাধারা,
অন্যদিকে আগুনসাগর তপ্ত অগ্নিধারা।
জাহান্নাম জ্বলে উঠে দম্ভের গর্জনে,
অগ্নির ঢেউ নাচে তাতে ভয়াল উচ্ছ্বাসনে।
সে বলে— “আমার বুকে আসবে শক্তিমান,
অহংকারে ভরা যারা দম্ভিত দুর্দমন।”
“যারা ছিল দুনিয়াতে ক্ষমতারই মত্ত,
অহংকারের মুকুট পরে চলেছে অন্ধরথ।”
“রাজ্য, ধন আর ক্ষমতার গর্বে যারা ভাসে,
তাদের শেষ ঠিকানা আমারই আগুনবাসে।”
জান্নাত তখন নীরব সুরে মৃদু হাসি হেসে,
নূরের ভাষায় কথা কয় বিনয়ের আবেশে—
“আমার বুকে আশ্রয় পায় নম্র হৃদয় প্রাণ,
দরিদ্র, ক্ষীণ, অখ্যাত যারা মানুষেরই জান।”
“যারা ছিল পৃথিবীতে অবহেলার ধূলি,
রবের প্রেমে তাদের প্রাণ ছিল সুগন্ধ ফুলই।”
“রাত্রি জাগে প্রার্থনাতে যাদের চোখের নীর,
তাদের তরে আমার বাগে ঝরে নূরের নীর।”
“দীন মুখে ঈমানের দীপ জ্বালিয়ে রাখে যারা,
তাদের তরে সুখের দ্বার খোলা থাকে সারা।”
“যারা ধনহীন তবু ছিল তাকওয়ারই ধনী,
তাদের তরে সেজে আছে আমার চিরভূবনি।”
এই সময়ে আরশ হতে এল মহা বাণী,
স্তব্ধ হলো নভোমণ্ডল শুনে পবিত্র বাণী।
বলিলেন রব— “হে জান্নাত! তুমি মোর রহমত,
তোমার বুকে বর্ষে মোর অনন্ত অনুগ্রহস্রোত।”
“যার প্রতি চাই ঢালি আমি করুণার আলো,
তোমার বাগে সে-ই পাবে শান্তির অমল ভালো।”
“আর তুমি হে জাহান্নাম! তুমি মোর আযাব,
সীমালঙ্ঘী আত্মার তরে তুমি কঠোর জবাব।”
“অহংকারে যারা ছিল অন্ধকারে মত্ত,
তোমার আগুনে পুড়বে তাদের গর্বের রথ।”
“তোমাদের উভয়কেই আমি পূর্ণ করব শেষে,
আমার বিধান অটল থাকে সৃষ্টির সর্বদেশে।”
জাহান্নাম তখনও যেন ক্ষুধার্ত অগ্নিধারা,
আরও চায় সীমালঙ্ঘী পাপের অন্ধকারা।
যতই আসে দুষ্কৃতিকারী আগুনের ঘরে,
তবু তার অন্তর বলে— “আরো দাও অবসরে।”
গর্জে ওঠে অগ্নিস্রোত সীমাহীন দাবানল,
দম্ভের ছাই ভাসে তাতে অহংকারের ফল।
শেষে যখন কুদরতের স্পর্শ পড়ে তাতে,
অগ্নির বুকে নেমে আসে স্তব্ধতা রাতেতে।
সে বলে— “যথেষ্ট! যথেষ্ট!” নীরব হয় শিখা,
চাপা পড়ে অগ্নির ঢেউ নিজের বুকে দীক্ষা।
অন্যদিকে জান্নাত তখন নূরের বাগান খোলে,
সুধার নদী বয়ে চলে প্রশান্তির কলরোলে।
মুক্তার পথে সুবাস ভাসে রহমতেরই ধারা,
অমল সুখে জাগে তাতে ঈমানের উষারা।
যাদের পৃথিবী চিনেনি সম্মানের আসনে,
তাদের তরে সিংহাসন নূরেরই আঙিনে।
দরিদ্র যারা ছিল ধরা অবহেলার ধূলি,
রবের রহমে তারাই আজ জান্নাতের ফুলই।
যারা ক্ষুধার কষ্টে থেকেও হারায়নি ঈমান,
তাদের তরে ফুটে ওঠে অনন্ত সুখবন।
যারা মানুষের তিরস্কারে ছিল নতশির,
রবের দরবারে তারাই সম্মানে অধীর।
যারা ছিল নিঃস্ব তবু ধৈর্যেরই আলো,
তাদের তরে জান্নাতে সুখের সুধা ঢালো।
হে মানব! ত্যাগ কর অহংকারের পথ,
ক্ষমতার গর্ব শেষে আগুনেরই রথ।
ধন নয়, পদ নয়, খ্যাতি নয় মান,
রবের কাছে মূল্য শুধু ঈমানেরই প্রাণ।
বিনয় যার হৃদয়ে থাকে দীপ্ত শিখা হয়ে,
রহমতের দ্বার খোলে তারই জীবনে বয়ে।
তাকওয়ার আলো জ্বালে যে হৃদয় নিরন্তর,
জান্নাতের পথ খুলে যায় তারই অন্তর।
যে ছিল দীন মানুষের চোখে অবহেলিত,
রবের দরবারে সে-ই মহিমায় পূজিত।
তাই রাখ হৃদয়ে বিনয়, রাখ তাকওয়ার দীপ,
তাহলেই খুলবে জান্নাতের অনন্ত সুখ-নীড়।
রহমতের বাগান ডাকে নীরব আলোর তরে,
অহংকারের আগুন নেভে বিনয়েরই ঘরে।
যে শুনে এ বাণী আজ হৃদয়ে রাখে ঠিক,
তার সামনে খুলে যায় নূরের অনন্ত দিক।
নিস্তব্ধ আকাশ আজও সে শিক্ষা কয়—
রহমতের পথেই মানব জীবনের জয়।
১৪
২৪ মন্তব্য