সহকারী শিক্ষক
২৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:২২ অপরাহ্ণ
ব্যবসায়িক প্রসারে ফ্রাঞ্চাইজিং: আধুনিক বিপণনের এক শক্তিশালী মাধ্যম
বর্তমান সময়ে ব্যবসা শুরু করার এবং তা সফলভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ফ্রাঞ্চাইজিং পদ্ধতিটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যখন কোনো উদ্যোক্তা একটি সুপরিচিত বা খ্যাতিমান কোম্পানির নাম ব্যবহার করে সেই কোম্পানির নির্দিষ্ট পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণের আইনগত অধিকার লাভ করেন, তখন সেই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ফ্রাঞ্চাইজিং বলা হয়। এটি মূলত একটি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থা যেখানে একজন সফল ব্যবসায়ীর ব্র্যান্ড ভ্যালু বা সুনামকে কাজে লাগিয়ে অন্য একজন উদ্যোক্তা নিজের ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত ব্র্যান্ড যেমন পিজ্জাহাট, কেএফসি, উইম্পি বা ব্যান্ড বক্স কোম্পানিগুলো এই ফ্রাঞ্চাইজিং পদ্ধতির চমৎকার উদাহরণ।
এই বিশেষ ব্যবসায়িক মডেলে মূলত দুটি পক্ষ জড়িত থাকে যাদের একটিকে বলা হয় ফ্রাঞ্চাইজর এবং অন্যটিকে ফ্রাঞ্চাইজি। ফ্রাঞ্চাইজর হলো সেই মূল কোম্পানি যারা তাদের ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয় এবং ফ্রাঞ্চাইজি হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সেই ব্র্যান্ডটি পরিচালনা করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যখন আমরা বাংলাদেশে কেএফসি দেখি, তখন আমেরিকার মূল কেএফসি কোম্পানিটি হলো ফ্রাঞ্চাইজর এবং বাংলাদেশের ট্রান্সকম লিমিটেড হলো ফ্রাঞ্চাইজি। এই পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো স্থানীয় বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
ফ্রাঞ্চাইজিং ব্যবসার মূল ভিত্তি টিকে থাকে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিনামার ওপর। এই চুক্তিতে ব্যবসার নিয়মকানুন ও অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। শুধু নাম ব্যবহার করলেই হয় না, বরং ব্র্যান্ডের মান ধরে রাখতে ফ্রাঞ্চাইজিকে সবসময় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য বা সেবা প্রদান করতে হয়। ব্র্যান্ডের এই মান বজায় থাকছে কি না এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব কাজ চলছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য ফ্রাঞ্চাইজর নিয়মিত তদারকি বা মনিটরিং করে থাকে। মূলত কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থার ওপর ভিত্তি করেই ফ্রাঞ্চাইজিং পদ্ধতিটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
১
১ মন্তব্য