Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০৫ অপরাহ্ণ

পঁচিশে মার্চ উনিশশো একাত্তরের ভয়াবহ সেই সময়

২৫শে মার্চ বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতীয় জীবনের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ওই দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ, বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক নির্মম হত্যাকান্ড চালায়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিম্বানি সেনারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যার অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে এ অপারেশন সংগঠিত হলেও মূলত এর প্রস্তুতি চলতে থাকে মার্চের প্রথম থেকে। ৩রা মার্চ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত অস্ত্র ও রসদ বোঝাই এম. ভি. সোয়াত জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৫ই সার্চ থেকে ২৪শে মার্চ ঢাকায় শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনার ভান করে আসলে অপারেশন সার্চলাইট চূড়ান্ত করেন। অপারেশন সার্চ লাইট' অনুযায়ী ঢাকা শহরে গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় পাকিস্তানি বাহিনীর মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমেই ঢাকা শহরের পিলখানার ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের নিয়ন্ত্রণভার পাকিস্তানি সেনাদের গ্রহণ করার কথা ছিল। পাকিস্তানি সেনাদের প্রাথমিক দায়িত্বের মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ, নেতাদের গ্রেফতার, স্টেট ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ। রাজশাহী, যশোর, খুলনা, রংপুর, সৈয়দপুর, কুমিল্লায় সেনাবাহিনী, ইপিআর, আনসার পুলিশের বাঙালি সদস্যদেরকে নিরস্ত্র করাও তাদের
পরিকল্পনা ছিল। তারা চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তাদের দখলে রাখতে চেয়েছিল।  গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান সার্বিকভাবে এ পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন।
পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫শে মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ঢাকার ফার্মগেইট এলাকায় রাস্তায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি। একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ পরিচালিত হয় গভীর রাতে। ইকবাল হল ও জগন্নাথ হল এবং
ঢাকা হলসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত হলে ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে ঘুমন্ত অনেক ছাত্রকে হত্যা করে। (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা এবং রোকেয়া হলেও তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২৫শে মার্চের এই গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক সহ ৩০০ জন হাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। তারা রেলওয়ে বস্তিতে আগুন লাগিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। শুধু ২৫শে মার্চ রাতেই ঢাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্য করা হয়।
ঢাকার বাইরে সারা দেশে সেনা নিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে। এভাবে শুরুতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দেশের পুলিশ ও ইপিআর ঘাঁটিগুলোর উপর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এসব এলাকায় বহু নিরীহ লোককে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ