Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ণ

আলোর উপদেশ - মোঃ মুজিবুর রহমান



আলোর উপদেশ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

দুঃখ দিতে নয় অবতীর্ণ কুরআনের বাণী,

ভীত হৃদয়ে জাগায় শুধু সত্যের আলোখানি।

যে জন প্রভুর ভয় রাখে অন্তরের গভীরে,

তারই তরে এ উপদেশ ঝরে শান্তি নীরবে ধীরে।

যিনি গড়েন ধরার বুকে সবুজ জীবনধারা,

উচ্চ আসমান জুড়ে দেন অসীম নীলপাড়া।

তারই বাণী নেমে আসে আলোর মতন ধীরে,

হৃদয় জাগায় সত্যপথে শান্তির গভীর নীড়ে।

করুণাময় প্রভু তিনি, মহিমা যার ভার,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তারই শাসনধার।

আসমান জুড়ে যা কিছু আছে, ধরণীর সব রূপ,

মাঝখানের সব রহস্যও তাঁরই জানা রূপ।

মাটির তলে গোপন যত অজানা ইতিহাস,

সেসবও তাঁর জ্ঞানে ভরা অনন্ত আভাস।

উচ্চ স্বরে বলো যদি কিংবা বলো নীরব,

গোপন কথা জানেন তিনি অন্তরেতে স্থির।

অতি গোপন অন্ধকারে যে রহস্য রয়,

প্রভুর জ্ঞানে উন্মোচিত সেই লুকানো পরিচয়।

তাই তো কুরআন আলো হয়ে ডাকে মানব প্রাণ,

সত্যপথে চলার তরে জাগায় পবিত্র জ্ঞান।

***

 

নূরের উপদেশ

দুঃখ দিতে নয় নেমেছে কুরআনের বাণী,

মানবহৃদে জাগায় শুধু সত্যের আলোখানি।

ক্লান্ত প্রাণে শান্তির ছোঁয়া, নূরের স্নিগ্ধ ধারা,

ভীত হৃদয়কে পথ দেখায় প্রভুর মমতা সারা।

যে হৃদয়ে রবের ভয় নীরবে জাগে প্রাণে,

তাঁরই তরে উপদেশ এই বাণীর মধু গানে।

অন্ধকারের গহীন রাতে আলোর মতন এসে,

মানুষকে ডাকে সত্যপথে করুণার পরশে।

যিনি গড়েন এই ধরণী সবুজ জীবনের ঢেউ,

অসীম আকাশ বিস্তার করে মহিমার নীল ঢেউ।

তারই শক্তি পাহাড় গড়ে, নদী বয় অবিরাম,

তারই ইশারা সূর্য ওঠে আলোকিত প্রভাত ভোরবেলা।

অগণিত নক্ষত্র দীপ জ্বলে আকাশের অঙ্গনে,

সবই তাঁর সৃষ্টি চিহ্ন বিস্ময়ের অনুক্ষণে।

উচ্চ আসমান স্তরে স্তরে মহিমার আচ্ছাদন,

প্রতিটি স্তরে জ্বলজ্বলে স্রষ্টার গৌরবচিহ্ন।

এই বিশাল জগতজুড়ে তাঁরই রাজ্যধারা,

কোটি প্রাণে প্রতিফলিত তারই মহিমা সারা।

করুণাময় মহান প্রভু সীমাহীন যার দান,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই শাসন মান।

সেই আরশে তাঁর মহিমা অম্লান দীপ্তিময়,

অসীম ক্ষমার স্রোত বয়ে অনন্ত করুণাময়।

আসমানের সব রহস্য তাঁরই জ্ঞানের আলো,

ধরণীর প্রতিটি কণা তাঁরই বিধান ভালো।

যা আছে এ দুইয়ের মাঝে বাতাসের নীরবতায়,

সেসবও তাঁর জ্ঞানে লেখা অনন্ত মহিমায়।

পাহাড়, নদী, বনের ছায়া, মরুর নীরব বালু,

সবই যেন বলে ওঠে—প্রভুই সর্বকালু।

মাটির নিচে লুকানো যত রহস্যের ইতিহাস,

সবই তাঁর জ্ঞানের মাঝে উজ্জ্বল অনুপম আভাস।

গভীর তলে বীজের মাঝে জীবনের যে সুর,

তারও খবর জানেন তিনি সর্বজ্ঞ প্রভু নূর।

মানুষ যদি উচ্চ স্বরে কথা বলে কোনোদিন,

সেই ধ্বনিও পৌঁছে যায় তাঁরই জ্ঞানের ঋণ।

নীরব যদি থাকে কেহ অন্তরের গভীরে,

সেই কথাও জানেন তিনি অদেখা নীরব নীড়ে।

গোপন যত ইচ্ছা থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,

সবই প্রকাশ তাঁর জ্ঞানে অনন্ত আলোকজ্বালে।

অতি গোপন অন্ধকারে যে চিন্তার জন্ম হয়,

তারও খবর রাখেন তিনি সর্বজ্ঞ প্রভু সয়।

রাতের গহীন নিস্তব্ধতায় হৃদয় যখন কাঁদে,

প্রভুর করুণ দৃষ্টি তখন নীরব সান্ত্বনা দানে।

দিনের আলো ব্যস্ততায় মানুষ যত ভুলে,

তবু প্রভুর দয়া থাকে তারই পাশে কূলে।

এই কুরআন তাই এসেছে পথ দেখানোর তরে,

ভ্রান্ত পথিক জাগুক আবার সত্যের আলো ঘরে।

এ বাণীতে জেগে ওঠে মানবতার ডাক,

সত্যপথে চলার তরে খুলে দেয় সব ফাঁক।

যে হৃদয়ে ভয় আছে রবের নীরব সম্মান,

তারই মাঝে ফুটে ওঠে ঈমানের পবিত্র গান।

সেই হৃদয়েই শান্তি নামে নূরের ধারা হয়ে,

দুঃখগুলো মুছে যায় প্রভুর স্মরণ লয়ে।

আসমান-ধরা সাক্ষী হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,

স্রষ্টার দিকে ফিরুক আবার মানুষের মন।

কুরআনের এই বাণী তাই আলোর মশাল হাতে,

মানবতাকে ডেকে বলে—চলো সত্যপথে।

ভয় নয় এতে, আছে শুধু করুণার আহ্বান,

মানুষ যেন বুঝে নেয় প্রভুর দয়ার মান।

হে মানবজাতি, শুনো তবে এ নূরের উপদেশ,

প্রভুর পথে চললেই মিলবে শান্তি অবশেষ।

যিনি গড়েছেন আসমান আর ধরণীর বিস্তার,

তাঁরই দিকে ফিরলে খুলে যাবে মুক্তিদ্বার।

তাই কুরআনের নূরধারা জাগাক প্রাণের গান,

প্রভুর পথে চলুক মানুষ—এটাই চির আহ্বান

***

নূরের উপদেশ

দুঃখ দিতে নয় নেমেছে কুরআনের বাণী,

নূরের সুধায় ভরে তোলে ক্লান্ত মানব প্রাণী।

অশ্রুভেজা হৃদয়গুলো সান্ত্বনার ডাক পায়,

প্রভুর পথে ফেরার তরে আলোর দিশা চায়।

যে হৃদয়ে প্রভুর ভয় নীরব শ্রদ্ধা হয়ে,

তারই তরে এ উপদেশ ঝরে নূরের স্রোতে বয়ে।

অন্ধকারের গভীর রাতে আলোর মতন এসে,

মানুষকে ডাকে সত্যপথে করুণার পরশে।

যিনি গড়েন ধরণীর বুক সবুজ জীবনের ঢেউ,

অসীম আকাশ জুড়ে দেন নীল মহিমার ঢেউ।

তারই শক্তি পাহাড় তোলে দৃঢ় অটল শিখর,

তারই হুকুম নদী বয় অবিরাম বহমান ঘর।

সূর্য ওঠে রাঙা আলোয় তাঁরই ইশারাতে,

চাঁদ জ্বলে নীরব নূরে শান্ত রজনীতে।

অগণিত তারা জ্বলে আকাশের বিস্তারে,

স্রষ্টার মহিমা যেন দীপ্তি হয়ে ঝরে।

উচ্চ আসমান স্তরে স্তরে বিস্ময়ের পর্দা,

প্রতিটি স্তরে জ্বলজ্বলে তাঁরই ক্ষমার ধ্বজা।

এই মহাজগত জুড়ে তাঁরই রাজ্যধারা,

প্রতিটি কণা সাক্ষ্য দেয় তাঁরই মহিমা সারা।

পরম করুণাময় তিনি সীমাহীন যার দান,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই শাসন মান।

সেই আরশে মহিমা তাঁর দীপ্তির অনল,

করুণা তাঁর ছায়া হয়ে ঢাকে বিশ্বতল।

আসমানের যত রহস্য তাঁরই জ্ঞানের আলো,

ধরণীর প্রতিটি কণা তাঁরই বিধান ভালো।

যা আছে এ দুইয়ের মাঝে বাতাসের গোপন গান,

সেসবও তাঁর জ্ঞানে লেখা অনন্ত অবদান।

পাহাড় নদী বনভূমি মরুর নীরব বালু,

সবই যেন বলে ওঠে—প্রভুই সর্বকালু।

মাটির নিচে লুকানো যত অজানা ইতিহাস,

সবই তাঁর জ্ঞানের মাঝে উজ্জ্বল অনুপম আভাস।

বীজের মাঝে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের প্রাণ,

সেই রহস্য জানেন তিনি—সর্বজ্ঞ মহান।

সমুদ্রতলে অন্ধকারে যে জীবন লুকায়,

প্রভুর জ্ঞানের আলো সেথা নীরবে জ্বলে যায়।

মানুষ যদি উচ্চ স্বরে কথা বলে কোনোদিন,

সেই ধ্বনিও পৌঁছে যায় তাঁরই জ্ঞানের ঋণ।

নীরব যদি থাকে কেহ অন্তরের গভীরে,

সেই কথাও জানেন তিনি অদেখা নীরব নীড়ে।

গোপন যত ইচ্ছা থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,

সবই প্রকাশ তাঁর জ্ঞানে অনন্ত আলোকজ্বালে।

অতি গোপন অন্ধকারে যে চিন্তার জন্ম হয়,

তারও খবর রাখেন তিনি সর্বজ্ঞ প্রভু সয়।

রাতের গহীন নিস্তব্ধতায় হৃদয় যখন কাঁদে,

প্রভুর দয়া নীরব সুরে সান্ত্বনা হয়ে বাঁধে।

দিনের ব্যস্ত প্রান্তরে মানুষ যত ভোলে,

তবু প্রভুর দৃষ্টি থাকে তারই পাশে কূলে।

এই কুরআন তাই এসেছে পথ দেখানোর তরে,

ভ্রান্ত পথিক ফিরুক আবার সত্যের আলোর ঘরে।

এ বাণীতে জেগে ওঠে মানবতার ডাক,

সত্যপথে চলার তরে খুলে দেয় সব ফাঁক।

যে হৃদয়ে ভয় আছে রবের নীরব সম্মান,

তারই মাঝে ফুটে ওঠে ঈমানের পবিত্র গান।

সেই হৃদয়েই শান্তি নামে নূরের ধারা হয়ে,

দুঃখগুলো মুছে যায় প্রভুর স্মরণ লয়ে।

আসমান-ধরা সাক্ষী হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,

স্রষ্টার দিকে ফিরুক আবার মানুষের মন।

কুরআনের এই বাণী তাই আলোর মশাল হাতে,

মানবতাকে ডেকে বলে—চলো সত্যপথে।

ভয় নয় এতে, আছে শুধু করুণার আহ্বান,

মানুষ যেন বুঝে নেয় প্রভুর দয়ার মান।

যিনি গড়েছেন আসমান আর ধরণীর বিস্তার,

তাঁরই দিকে ফিরলে খুলে যাবে মুক্তিদ্বার।

বাতাসে যে সুর ভেসে যায় অজানা প্রান্তরে,

সেটাও যেন তাসবিহ পড়ে নীরব অন্তরে।

পাখির কূজন, পাতার নড়া, নদীর কলতান,

সবই যেন বলে ওঠে—আল্লাহ মহান।

প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্য শিক্ষা দিয়ে যায়,

স্রষ্টার পথে ফেরার তরে আহ্বান শোনায়।

মানুষ যদি ভুলে যায় প্রভুর সেই ডাক,

কুরআনের আলো তখন খুলে দেয় সব ফাঁক।

এই নূরের কিতাব তাই হৃদয়ের আয়না,

যেখানে মানুষ দেখে নিজের পথচিহ্ন জানা।

ভুলে গেলে স্মরণ করায় নীরব উপদেশ,

অন্ধকারে পথ দেখায় আলোর আবেশ।

করুণাময় প্রভুর দয়া সাগরের সমান,

তাঁরই পথে চললে মেলে মুক্তির দান।

সেই মুক্তির আহ্বান আজ কুরআনের বাণী,

মানুষকে ডাকে ফিরে সত্যের পানে জানি।

যত রহস্য আসমানে, যত গোপন ধরা,

সবই তাঁর ক্ষমতায় অনন্ত ধারা।

মাটির নিচে, হৃদয়ের মাঝে, ভাবনার আড়ালে,

সবই প্রকাশ তাঁর কাছে আলোর জোয়ারে।

সেই প্রভুর ডাকে সাড়া দাও হে মানব প্রাণ,

সত্যপথে চলাই হোক জীবনের সম্মান।

কুরআনের নূরধারা জাগুক অন্তরে,

সত্যের দীপ জ্বলুক মানবতার ঘরে।

ভয় নয় এতে, আছে শুধু প্রজ্ঞার আহ্বান,

প্রভুর পথে চললেই মিলবে শান্তি দান।

তাই এসো শুনি এ নূরের মহিমান্বিত গান,

যেখানে জেগে ওঠে ঈমানের সম্মান।

এই বাণী যুগে যুগে আলোর পথ দেখায়,

মানুষকে ডাকে আবার সত্যের মিছিলে যায়।

আসমান ধরা একসাথে সাক্ষ্য দিয়ে কয়—

সর্বজ্ঞ প্রভুর জ্ঞানে কিছুই লুকায় নয়।

গোপন কথা, নিঃশব্দ ব্যথা, অন্তরের আর্তি,

সবই শোনেন তিনি—করুণাময় সত্তা।

তাই কুরআনের নূরধারা জাগাক প্রাণের গান,

প্রভুর পথে চলুক মানুষ—এই চির আহ্বান।

****

**কুরআনের উপদেশ**

ত্বা-হা—নূরের রহস্য ভেসে আসে আসমানে,

করুণার ডাক জাগে মানব হৃদয়ের গানে।

দুঃখ দিতে নয় নেমেছে কুরআনের বাণী,

আলোর সুধায় ভরে তোলে ক্লান্ত মানব প্রাণী।

অশ্রুভেজা হৃদয়গুলো সান্ত্বনার ছায়া পায়,

প্রভুর পথে ফেরার তরে নতুন আশা জাগায়।

যে হৃদয়ে প্রভুর ভয় নীরব শ্রদ্ধা হয়ে রয়,

তারই তরে উপদেশ এই নূরের আলো সয়।

অন্ধকারের গভীর রাতে দীপশিখা হয়ে,

কুরআনের বাণী জ্বলে মানব প্রাণে বয়ে।

হৃদয়ের অন্তরালে জাগে এক পবিত্র গান,

সত্যপথে ডাকে মানুষে অনন্ত দয়াময় মহান।

সৃ**ষ্টির মহিমা**

যিনি গড়েন ধরণীর বুক সবুজ জীবনের ঢেউ,

অসীম আকাশ বিস্তার করেন নীল মহিমার ঢেউ।

পাহাড় তুলে অটল করেন পৃথিবীরই বুক,

নদী বয় তাঁর হুকুমে স্নিগ্ধ জলের সুখ।

সূর্য ওঠে রাঙা আলোয় তাঁরই ইশারাতে,

চাঁদ জ্বলে নীরব নূরে শান্ত রজনীতে।

অগণিত তারা জ্বলে নীল আকাশের পারে,

প্রতিটি দীপ বলে ওঠে স্রষ্টার মহিমা ধারে।

বাতাস বয়ে নেয় তাঁর রহমতের বারতা,

বৃষ্টিধারা আনে ধরণীর উর্বরতা।

সবুজ পাতায় শিশিরবিন্দু দীপ্ত মুক্তার মতো,

স্রষ্টার দয়া যেন ঝরে নিঃশব্দ নীরব রত্ন।

সমুদ্রের ঢেউ গর্জে ওঠে অনন্ত শক্তির গান,

তারই শক্তিতে সৃষ্টি জাগে প্রতিক্ষণ প্রাণ।

পাখির ডানায় ভেসে ওঠে নীল আকাশের স্বপ্ন,

প্রভুর নামেই জাগে তাদের নিঃশব্দ গীতধ্বনি।

বনের গভীর নীরবতায় পাতার মৃদু নড়া,

স্রষ্টার তাসবিহ যেন গোপনে ধ্বনিত ধরা।

প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্য শিক্ষা দিয়ে যায়,

স্রষ্টার পথে ফিরতে মানুষকে আহ্বান জানায়।

আরশের মহিমা**

পরম করুণাময় প্রভু সীমাহীন যার দান,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই শাসন মান।

সেই আরশ মহিমায় ভরা আলোর রাজপ্রাসাদ,

যেখানে জ্বলে করুণার দীপ্তিময় আবাদ।

অগণিত ফেরেশতা সেথা তাসবিহে মগ্ন,

প্রভুর গৌরবগান জাগে অনন্ত স্বর্গধ্বনি।

সেই আরশের ছায়ায় ঢাকে সৃষ্টির মহাবিশ্ব,

তাঁরই হুকুমে চলে সব সময়ের স্রোতনিষ্ঠ।

আসমানের স্তর স্তর তাঁরই ক্ষমতার চিহ্ন,

প্রতিটি স্তরে জ্বলজ্বলে দয়ার সোনালি দিন।

সেই আরশে মহিমা তাঁর অনন্ত দীপ্তিময়,

বিশ্বজগৎ জুড়ে তাঁর করুণা নিত্য স্রোত সয়।

আল্লাহর সর্বজ্ঞতা**

আসমানে যা কিছু আছে সবই তাঁর জানা,

ধরণীর প্রতিটি কণা তাঁরই বিধান মানা।

যা আছে এ দুইয়ের মাঝে বাতাসের গোপন গান,

সবই লেখা তাঁর জ্ঞানে অনন্ত অবদান।

মাটির নিচে লুকানো যত অজানা ইতিহাস,

সবই তাঁর জ্ঞানে ভরা অনুপম আভাস।

বীজের মাঝে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের প্রাণ,

তারও খবর জানেন তিনি সর্বজ্ঞ মহান।

সমুদ্রতলে অন্ধকারে যে জীবন লুকায়,

প্রভুর জ্ঞানের আলো সেথা নীরবে জ্বলে যায়।

মানুষ যদি উচ্চ স্বরে কথা বলে কোনোদিন,

সেই ধ্বনিও পৌঁছে যায় তাঁরই জ্ঞানের ঋণ।

নীরব যদি থাকে কেহ অন্তরের গভীরে,

সেই কথাও জানেন তিনি অদেখা নীরব নীড়ে।

গোপন যত ইচ্ছা থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,

সবই প্রকাশ তাঁর জ্ঞানে আলোর জোয়ারে।

অতি গোপন অন্ধকারে যে চিন্তার জন্ম হয়,

তারও খবর রাখেন তিনি সর্বজ্ঞ প্রভু সয়।

রাতের গহীন নিস্তব্ধতায় হৃদয় যখন কাঁদে,

প্রভুর দয়া নীরব সুরে সান্ত্বনা হয়ে বাঁধে।

***

কুরআনের উপদেশ***

এই কুরআন তাই এসেছে পথ দেখানোর তরে,

ভ্রান্ত পথিক ফিরুক আবার সত্যের আলোর ঘরে।

এ বাণীতে জেগে ওঠে মানবতার ডাক,

সত্যপথে চলার তরে খুলে দেয় সব ফাঁক।

যে হৃদয়ে ভয় আছে রবের নীরব সম্মান,

তারই মাঝে ফুটে ওঠে ঈমানের পবিত্র গান।

সেই হৃদয়েই শান্তি নামে নূরের ধারা হয়ে,

দুঃখগুলো মুছে যায় প্রভুর স্মরণ লয়ে।

কুরআনের এই বাণী তাই আলোর মশাল হাতে,

মানবতাকে ডেকে বলে—চলো সত্যপথে।

ভয় নয় এতে, আছে শুধু করুণার আহ্বান,

মানুষ যেন বুঝে নেয় প্রভুর দয়ার মান।

যিনি গড়েছেন আসমান আর ধরণীর বিস্তার,

তাঁরই দিকে ফিরলে খুলে যাবে মুক্তিদ্বার।

আসমান-ধরা সাক্ষী হয়ে ডাকে প্রতিক্ষণ,

স্রষ্টার দিকে ফিরুক আবার মানুষের মন।

**মানবতার জাগরণ**

বাতাসে যে সুর ভেসে যায় অজানা প্রান্তরে,

সেটাও যেন তাসবিহ পড়ে নীরব অন্তরে।

পাখির কূজন নদীর সুর পাতার মৃদু গান,

সবই যেন বলে ওঠে—প্রভুই মহামান।

প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্য শিক্ষা দিয়ে যায়,

স্রষ্টার পথে ফেরার তরে আহ্বান শোনায়।

মানুষ যদি ভুলে যায় প্রভুর সেই ডাক,

কুরআনের আলো তখন খুলে দেয় সব ফাঁক।

এই নূরের কিতাব তাই হৃদয়ের আয়না,

যেখানে মানুষ দেখে নিজের পথচিহ্ন জানা।

ভুলে গেলে স্মরণ করায় নীরব উপদেশ,

অন্ধকারে পথ দেখায় আলোর আবেশ।

করুণাময় প্রভুর দয়া সাগরের সমান,

তাঁরই পথে চললে মেলে মুক্তির দান।

সেই মুক্তির আহ্বান আজ কুরআনের বাণী,

মানুষকে ডাকে ফিরে সত্যের পানে জানি।

 

যত রহস্য আসমানে যত গোপন ধরা,

সবই তাঁর ক্ষমতায় অনন্ত ধারা।

মাটির নিচে হৃদয়ের মাঝে ভাবনার আড়ালে,

সবই প্রকাশ তাঁর কাছে আলোর জোয়ারে।

গোপন কথা নিঃশব্দ ব্যথা অন্তরের আর্তি,

সবই শোনেন তিনি—করুণাময় সত্তা।

তাই কুরআনের নূরধারা জাগাক প্রাণের গান,

প্রভুর পথে চলুক মানুষ—এই চির আহ্বান।

***

তূর পাহাড়ের আহ্বান

ফি(রআউনের অত্যাচার ও ঈমানের সংগ্রাম)

 

ত্বা-হা—নূরের রহস্য জাগে আকাশের তলে,

করুণার বাণী নামে মানব হৃদয় দোলে।

দুঃখ দিতে নয় অবতীর্ণ কুরআনের আহ্বান,

অন্ধকারে পথ দেখানো দয়াময়ের দান।

ভীত হৃদয়ে উপদেশের নীরব আলো ঝরে,

হারানো প্রাণ ফিরে আসে সত্যের আলোক ঘরে।

ক্লান্ত পথিক শুনে তখন নূরের স্নিগ্ধ ডাক,

দিগন্তজোড়া অন্ধকারে খুলে যায় সব ফাঁক।

প্রভুর বাণী শান্ত সুরে হৃদয় ছুঁয়ে কয়—

সত্যপথেই মুক্তি আছে, অন্য কোথাও নয়।

যে হৃদয়ে রবের ভয় বিনম্র শ্রদ্ধা হয়ে রয়,

সেই হৃদয়ে জাগে তখন ঈমানের অমল জয়।

 

সৃষ্টির মহিমা**

যিনি গড়েন ধরণীর বুক সবুজ জীবনের ঢেউ,

অসীম আকাশ বিস্তার করেন নীল মহিমার ঢেউ।

পাহাড় তুলে অটল করেন পৃথিবীরই বুক,

নদী বয় তাঁর হুকুমে স্নিগ্ধ জলের সুখ।

সূর্য ওঠে তাঁর ইশারায় সোনালি ভোরের গান,

চাঁদ জ্বলে নীরব আলোয় শান্ত রাত্রি প্রাণ।

অগণিত তারা জ্বলে নীল আকাশের পারে,

প্রতিটি দীপ বলে ওঠে স্রষ্টার মহিমা ধারে।

বাতাস বয়ে আনে ধরণীতে রহমতের বারতা,

বৃষ্টিধারা আনে আবার জীবনের উর্বরতা।

শিশিরবিন্দু ঝরে পড়ে পাতার বুকে নীরব,

যেন দয়ার মুক্তাধারা স্রষ্টার অনুপম রব।

সমুদ্রের ঢেউ গর্জে ওঠে শক্তির জাগরণ,

তারই হুকুমে চলে জগত সময়ের স্পন্দন।

পাখির কূজন আকাশজুড়ে সুর তোলে অবিরাম,

তাদের গানেও প্রতিধ্বনি—আল্লাহ মহান।

 

আরশের গৌরব***

পরম করুণাময় প্রভু সীমাহীন যার দান,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই শাসন মান।

সেই আরশ আলোর সিংহাসন মহিমায় অপরূপ,

সেখানে জাগে করুণার অনন্ত সুধারূপ।

অগণিত ফেরেশতা সেথা তাসবিহে মগ্ন,

প্রভুর গৌরব ধ্বনিতে আকাশ করে স্পন্দন।

সেই আরশের ছায়া পড়ে বিশ্বজগত জুড়ে,

তারই হুকুমে সময় চলে যুগের পর যুগ ঘুরে।

আসমানের স্তর স্তর তাঁরই ক্ষমতার চিহ্ন,

প্রতিটি স্তরে জ্বলজ্বলে রহমতের দীপ্ত দিন।

 

আল্লাহর সর্বজ্ঞতা**

আসমানে যা কিছু আছে সবই তাঁর জানা,

ধরণীর প্রতিটি কণা তাঁরই বিধান মানা।

যা আছে এ দুইয়ের মাঝে বাতাসের গোপন গান,

সবই লেখা তাঁর জ্ঞানে অনন্ত অবদান।

মাটির নিচে লুকানো যত অজানা ইতিহাস,

সবই তাঁর জ্ঞানে ভরা অনুপম আভাস।

মানুষ যদি উচ্চ স্বরে কথা বলে কোনোদিন,

সেই ধ্বনিও পৌঁছে যায় তাঁরই জ্ঞানের ঋণ।

নীরব যদি থাকে কেহ অন্তরের গভীরে,

সেই কথাও জানেন তিনি অদেখা নীরব নীড়ে।

গোপন যত ইচ্ছা থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,

সবই প্রকাশ তাঁর জ্ঞানে আলোর জোয়ারে।

 

নবী মূসার পথচলা**

মিসরের বুকে তখন জুলুমের কালো ছায়া,

ক্ষমতার মুকুট পরে বসে নিষ্ঠুর মায়া।

সেই রাজা ছিল অহংকারী নিষ্ঠুর অবিরাম,

মানুষ তাকে চিনত তখন ফিরআউন নাম।

তার রাজ্যে কাঁদত মানুষ অত্যাচারের তরে,

দাসত্বের শৃঙ্খল ছিল জীবনেরই ঘরে।

সেই অন্ধকার যুগে জন্ম নেন আলোর এক প্রাণ—

নবী , প্রভুর প্রিয় দান।

শৈশবে তিনি ভেসে গেলেন নদীর স্রোতধারায়,

প্রভুর রহমত রক্ষা দিল বিস্ময়ের ছায়ায়।

শত্রুর প্রাসাদেই তিনি বড় হলেন শেষে,

অদৃশ্য করুণার হাত ছিল তাঁকে ঘিরে।

যুগ পেরিয়ে সত্যের ডাক জাগল অন্তরে,

মানুষকে মুক্তি দেবেন জুলুমের অন্ধকারে।

একদিন তিনি চলছিলেন মরুর পথের ধারে,

হঠাৎ নূরের আলো জ্বলে দূর পাহাড়ের পারে।

সেই ছিল —তূর পাহাড়ের চূড়া,

যেখানে নেমে আসে ওহির পবিত্র ধারা।

নূরের আগুন ডেকে বলে—হে মূসা শুনো কথা,

আমি তোমার প্রভু মহান, করুণার বারতা।

জুতা খুলে দাঁড়াও তুমি পবিত্র ভূমির মাঝে,

এখানে ওহির আলো ঝরে নীরব সুধার সাজে।

মূসার হৃদয় কেঁপে ওঠে ভক্তির বিস্ময়ে,

সত্যের বাণী নেমে আসে আলোর ধ্বনিময়ে।

ফিরআউনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম***

প্রভু বললেন—যাও এবার জুলুমের রাজদ্বারে,

সত্যের বাণী শোনাও সেই অহংকারী দ্বারে।

মূসা বললেন—হে প্রভু আমার কণ্ঠে ভয়,

মানুষ কি শুনবে আমার সত্যের আহ্বান সয়?

প্রভু দিলেন সাহস তখন রহমতের আলো,

ভাই হারুন হবে সাথে—ভয় করো না ভালো।

তারা গেলেন ফিরআউনের প্রাসাদের দুয়ারে,

সত্যের বাণী উচ্চারিলেন সাহসী আহ্বানে।

কিন্তু সে রাজা হাসল তাচ্ছিল্যের তরে,

অহংকারে বলল—আমি রাজা এ ধরণী ঘরে।

তবু সত্যের আলো নিভে না মিথ্যার ঝড়ে,

ঈমানের সংগ্রাম তখন জাগে মানব অন্তরে।

প্রভুর নিদর্শন এল নদীর ঢেউয়ের মাঝে,

মিথ্যার দুর্গ ভেঙে পড়ল সত্যের বজ্র সাজে।

 

ঈমানের বিজয়**

অত্যাচারের অন্ধকার শেষ হলো একদিন,

প্রভুর দয়া জাগাল মুক্তির নতুন রঙিন দিন।

মানুষ পেল স্বাধীনতার আলো ভোরের মত,

জুলুমের রাত মিলিয়ে গেল ইতিহাসের পথ।

সত্যের পথে চলার শিক্ষা দিল সেই কাহিনি,

ঈমান থাকলে জাগে শক্তি অমর অম্লানিনী।

 

কুরআনের চির উপদেশ**

এই কুরআন তাই এসেছে পথ দেখানোর তরে,

ভ্রান্ত পথিক ফিরুক আবার সত্যের আলোর ঘরে।

এ বাণীতে জাগে আশা মানবতার প্রাণে,

সত্যের দীপ জ্বলে ওঠে দিগন্তজোড়া গানে।

যে হৃদয়ে ভয় আছে রবের নীরব সম্মান,

তারই মাঝে ফুটে ওঠে ঈমানের পবিত্র গান।

সেই হৃদয়েই শান্তি নামে নূরের ধারা হয়ে,

দুঃখগুলো মুছে যায় প্রভুর স্মরণ লয়ে।

তাই হে মানব শোনো আজ কুরআনের ডাক,

অন্ধকারে পথ দেখানো আলোর মহা ফাঁক।

স্রষ্টার দিকে ফিরলে খুলবে মুক্তির দ্বার,

ঈমানের আলো জ্বলবে জীবন ভরবার।

আসমান ধরা সাক্ষ্য দেয় প্রতিক্ষণ সুরে—

প্রভুই মহান, করুণাময় বিশ্বজগত জুড়ে।

***

বনী ইসরাঈলের মুক্তিযাত্রা

ত্বা-হা—রহস্যময় ধ্বনি জাগে আকাশের তলে,

নূরের ঢেউ দোলা দেয় মানব হৃদয় দোলে।

দুঃখ দিতে নয় নেমেছে কুরআনের বাণী,

অন্ধকারে পথ দেখানো দয়াময়ের দানই।

ভীত হৃদয়ে উপদেশের নীরব আলো ঝরে,

হারানো প্রাণ ফিরে আসে সত্যের আলোক ঘরে।

ক্লান্ত পথিক শুনে তখন করুণার সে ডাক,

রাত্রির শেষে ভোরের মতো খুলে যায় সব ফাঁক।

প্রভুর বাণী বলে নীরব—ফিরে এসো প্রাণ,

সত্যপথেই শান্তি আছে, সেখানেই কল্যাণ।

সৃষ্টির মহিমা*

যিনি গড়েন ধরণীর বুক সবুজ জীবনের ঢেউ,

অসীম আকাশ বিস্তার করেন নীল মহিমার ঢেউ।

পাহাড় তোলে দৃঢ় শিখর পৃথিবীর বুক ভরে,

নদী বয় স্নিগ্ধ সুরে তাঁরই হুকুম ধরে।

সূর্য ওঠে সোনালি আলো প্রভাতের গান গেয়ে,

চাঁদ জ্বলে নীরব নূরে রাতের আকাশ বেয়ে।

অগণিত তারা জ্বলে নীল গগনের পারে,

প্রতিটি দীপ বলে ওঠে—প্রভু মহান ধারে।

বৃষ্টি নামে ধরণীতে দয়ার সুধাধারা,

শুকনো মাঠে জন্ম নেয় জীবনেরই কারা।

পাখির কূজন জাগে আকাশ সুরের মধুর টানে,

তাদের গানেও প্রতিধ্বনি—প্রভুর গৌরব গানে।

 

আরশের মহিমা*

পরম করুণাময় প্রভু সীমাহীন যার দান,

আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁরই শাসন মান।

সেই আরশ আলোর সিংহাসন মহিমায় অপার,

সেখান থেকে জগত জুড়ে রহমতের বিস্তার।

অগণিত ফেরেশতা সেথা তাসবিহে মগ্ন রয়,

প্রভুর নামে অনন্ত ধ্বনি নীরব নূরে সয়।

আসমানের স্তর স্তর তাঁরই শক্তির চিহ্ন,

প্রতিটি স্তরে জ্বলজ্বলে রহমতের দীপ্ত দিন।

 

নবী মূসার আহ্বান**

মিসরের দেশে তখন জুলুমের ঘন রাত,

ক্ষমতার মুকুট পরে ফিরআউনেরই প্রভাত।

মানুষ কাঁদে দাসত্বে দিনরাত অবিরাম,

অত্যাচারের রাজদণ্ডে শাসন করে দাম।

সেই অন্ধকার যুগে জন্ম নিল আলোর প্রাণ—

শিশুকালে নদীর বুকে ভাসলেন রহস্যে,

প্রভুর দয়া রাখল তাঁকে অলৌকিক আবেশে।

শত্রুর প্রাসাদেই বড় হলেন দিনের পর দিন,

অদৃশ্য রহমত তাঁকে রাখল অটল ঋণ।

 

তূর পাহাড়ের আহ্বান*

একদিন মরুপথে হাঁটেন পরিবার সাথে,

হঠাৎ দেখেন আগুন জ্বলে দূর পাহাড়ের রাতে।

সেই ছিল —তূর পাহাড়ের দীপ,

যেখানে নেমে আসে ওহির নূরের স্নিগ্ধ স্রোতসীপ।

নূরের আগুন ডেকে বলে—হে মূসা শুনো কথা,

আমি তোমার প্রভু মহান, করুণার বারতা।

জুতা খুলে দাঁড়াও তুমি পবিত্র ভূমির মাঝে,

এখানে নেমে আসে ওহি নূরের সুধার সাজে।

মূসার হৃদয় কেঁপে ওঠে ভক্তির বিস্ময়ে,

সত্যের বাণী নেমে আসে আলোর ধ্বনিময়ে।

ফিরআউনের বিরুদ্ধে আহ্বান**

প্রভু বললেন—যাও এবার জুলুমের রাজদ্বারে,

সত্যের বাণী শোনাও সেই অহংকারী দ্বারে।

মূসা বললেন—হে প্রভু আমার কণ্ঠে ভয়,

মানুষ কি শুনবে আমার সত্যের আহ্বান সয়?

প্রভু দিলেন সাহস তখন রহমতের আলো,

ভাই হারুন হবে সাথে—ভয় করো না ভালো।

তারা গেলেন ফিরআউনের প্রাসাদের দুয়ারে,

সত্যের বাণী উচ্চারিলেন সাহসী আহ্বানে।

কিন্তু সে রাজা হাসল তাচ্ছিল্যের তরে,

অহংকারে বলল—আমি রাজা এ ধরণী ঘরে।

তবু সত্যের আলো নিভে না মিথ্যার ঝড়ে,

ঈমানের সংগ্রাম তখন জাগে মানব অন্তরে।

 

জাদুকরদের ঈমান গ্রহণ**

ফিরআউন ডাকল জাদুকর রাজ্যের নানা স্থান,

বলল—হারাও মূসাকে আজ জাদুর মহাযজ্ঞে প্রাণ।

মাঠে জড়ো হলো জনতা বিস্ময়ের সে দিনে,

জাদুর লাঠি নড়ল যেন সাপের বিষধর ঋণে।

মূসা ফেললেন লাঠি তাঁর প্রভুর নির্দেশে,

সত্যের শক্তি গ্রাস করল মিথ্যার ছলনাতে শেষে।

জাদুকররা দেখে তখন বিস্ময়ে কাঁপে প্রাণ,

বলল—এ জাদু নয়, এ প্রভুরই মহিমান।

তারা সবাই সেজদা দিয়ে ঘোষণা করে জয়—

আমরা মানি মূসার প্রভু, সত্য ছাড়া নয়।

ক্রুদ্ধ হয়ে ফিরআউন দিল শাস্তির ভয়াল রায়,

তবু ঈমানের শক্তিতে তারা অটল রয়।

 

বনী ইসরাঈলের মুক্তিযাত্রা***

রাত্রির আঁধারে মূসা নিলেন মুক্তির যাত্রা,

বনী ইসরাঈল চলল তাঁরই পথে পাত্রা।

সামনে ছিল সাগরের ঢেউ ভয়াল অন্ধকার,

পিছনে আসে ফিরআউনের সেনার গর্জনধার।

প্রভুর হুকুম এল তখন মূসার লাঠির টানে,

সমুদ্র ভাগ হয়ে গেল বিস্ময়ের গানে।

শুকনো পথে পার হলো তারা মুক্তির আশায়,

পেছনে এলো ফিরআউনের সেনা অহংকারে ভাসায়।

কিন্তু ঢেউ ফিরে এসে ঢেকে দিল সে পথ,

অত্যাচারের রাজ্য তখন হারাল শেষ রথ।

মূসা গেলেন পাহাড় চূড়ায় ওহির বাণী পেতে,

মানুষ রইল নিচে অপেক্ষা করতে।

কিন্তু কেউ বানাল তখন সোনার বাছুর মূর্তি,

ভুলে গেল তারা প্রভুর দেয়া পবিত্র স্মৃতি।

মানুষ পড়ে বিভ্রান্তির অন্ধকারের ফাঁদে,

ভুলে যায় সত্যপথ মুহূর্তের অবসাদে।

ফিরে এসে মূসা দেখেন সেই ভয়াল ভুল,

তবু প্রভুর দয়া শেখায় ক্ষমার মহামূল।

এই কুরআন তাই এসেছে পথ দেখানোর তরে,

ভ্রান্ত পথিক ফিরুক আবার সত্যের আলোর ঘরে।

এ বাণীতে জাগে আশা মানবতার প্রাণে,

ঈমানের দীপ জ্বলে ওঠে দিগন্তজোড়া গানে।

যে হৃদয়ে রবের ভয় নীরব সম্মান রয়,

তারই মাঝে ফুটে ওঠে শান্তির অমল জয়।

সেই হৃদয়েই শান্তি নামে নূরের ধারা হয়ে,

দুঃখগুলো মুছে যায় প্রভুর স্মরণ লয়ে।

তাই হে মানব শোনো আজ কুরআনের ডাক,

অন্ধকারে পথ দেখানো আলোর মহা ফাঁক।

স্রষ্টার দিকে ফিরলে খুলবে মুক্তির দ্বার,

ঈমানের আলো জ্বলবে জীবন ভরবার।

আসমান ধরা সাক্ষ্য দেয় প্রতিক্ষণ সুরে—

প্রভুই মহান, করুণাময় বিশ্বজগত জুড়ে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ