সহকারী অধ্যাপক
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
হিদায়াতের আলো - মোঃ মুজিবুর রহমান
হিদায়াতের আলো
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ত্ব-সীন ধ্বনি ওঠে নূরের ভাষায়,
সুস্পষ্ট কিতাব সত্যের আশায়।
আয়াতে আয়াতে জ্বলে দিশার আলো,
মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ভালো।
যারা নামাজে দাঁড়ায় বিনম্র প্রাণে,
সিজদায় ঝরে পড়ে অশ্রু গোপনে,
যাকাত দিয়ে তারা করে হৃদয় পবিত্র,
দানে খুঁজে পায় রহমতের নীড়।
আখিরাত যাদের বিশ্বাসের শিখা,
তাদের পথ হয় আলোকের দিশা।
দুনিয়ার মোহে না পড়ে তারা,
চির শান্তির দিকে রাখে তারা ধারা।
কিন্তু যারা করে অস্বীকার সত্য,
তাদের চোখে দুনিয়া হয় মায়ার জ্যোতি।
আমলগুলো তাদের সাজে বিভ্রমে,
ভুল পথে ঘুরে ফেরে অন্ধ অরণ্যে।
তাদের জন্য আছে কঠিন পরিণাম,
অন্ধকারে ঢাকা তাদেরই অবসান।
আখিরাতে তারা হবে নিঃস্ব, হারা—
চির ক্ষতিতে ডুবে যাবে সারা।
***
বিভ্রান্তির পরিণতি ও মুক্তির পথ
ত্ব-সীন—ধ্বনি যেন রহস্যের ডাক,
কুরআনের বাণী সত্যের ফাঁক ফাঁক।
স্পষ্ট আয়াতে জাগে জীবনের গান,
হিদায়াত মেলে যারা করে ঈমান।
নামাজে যারা রাখে জীবন গাঁথা,
রাতে দিনে রবের স্মরণে ব্যথা,
যাকাত দিয়ে তারা করে আত্মা শুদ্ধ,
মানবতার পথে রাখে দৃঢ় বুদ্ধ।
আখিরাত তাদের চেতনার দীপ,
বিশ্বাসে দৃঢ়, নয় কোনো ক্ষীণ নীপ।
তারা জানে—শেষে হিসাবের দিন,
সত্যের পাল্লায় মাপা হবে ঋণ।
কিন্তু যারা অস্বীকারে অন্ধ,
তাদের হৃদয় হয় অহংকারে বন্দী।
তাদের কাজ যেন সোনার মোহ,
ভিতরে শূন্য—মিথ্যারই দোহ।
ভুলের পথে তারা ঘুরে নিরন্তর,
সত্যের আলো হয় তাদের অন্তরাত্মা পর।
অবশেষে তাদের জন্য শাস্তি কঠোর,
অন্ধকারে হারাবে সকল অহংকার।
আখিরাতে তারা সবচেয়ে হারা,
যা ছিল কাছে—সব হবে সারা।
তাই হে মানব, ফিরে এসো আলোয়,
সত্যের পথে চলো, নূরের ভালোয়।
***
ত্ব-সীন ধ্বনি জাগে রহস্যময় সুরে,
নূরের বারতা নামে মানবের অন্তরে।
এ কিতাব স্পষ্ট, সত্যের দিশারি,
অন্ধকার ভেদে জ্বলে আলোর কিরণধারী।
মুমিনের হৃদয়ে এর সুধা ঝরে,
প্রশান্তি নামে নীরব অশ্রুধারায় ভরে।
যারা দাঁড়ায় সালাতে ভক্তি ভরে প্রাণ,
রবের সামনে নত করে আপন সত্তার জ্ঞান।
সিজদার মাটিতে লুকায় সব অহংকার,
বান্দা হয়ে খোঁজে সে দয়ার অধিকার।
যাকাতের দানে তারা পবিত্র হয় মন,
অসহায়ের মুখে ফোটায় হাসির রঙিন ক্ষণ।
তাদের দান শুধু সম্পদের ক্ষয় নয়,
বরং রহমতের দরজা খোলারই পরিচয়।
আখিরাত তাদের অন্তরের আলো,
যেখানে চিরশান্তি, নেই কোনো কালো।
তারা জানে—একদিন উঠতে হবে আবার,
কবরের নিঃশব্দতা ভেঙে হবে সমাহার।
হাশরের ময়দানে জমবে সব প্রাণ,
কেউ পাবে নূর, কেউ পাবে অবসান।
সূর্য হবে নিকট, ঘাম ঝরবে ঢাল,
পাপের ভারে কাঁপবে মানুষের কাল।
আমলনামা খুলবে প্রকাশ্য আলোয়,
কেউ হাসবে তাতে, কেউ ডুবে যাবে কালোয়।
যাদের বিশ্বাস ছিল দৃঢ় ও সত্য,
তাদের মুখে ফুটবে শান্তির জ্যোতি।
তারা পাবে জান্নাতের অনন্ত সুখ,
যেখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো দুখ।
নদী বইবে তলে, ফলের অফুরান,
রবের সন্তুষ্টিতে পূর্ণ হবে প্রাণ।
কিন্তু যারা ফিরেছিল সত্যের পথ হতে,
মিথ্যার মোহে হারিয়েছিল নিজেকে।
তাদের আমল শোভিত হয়েছিল চোখে,
কিন্তু ভিতরে ছিল শূন্যতার শোকে।
ভুল পথে তারা ঘুরেছে অন্ধ হয়ে,
সত্যের আলো থেকেছে দূরে সরে গিয়ে।
তাদের জন্য আছে কঠিন আযাব,
যেখানে জ্বলবে আগুন, নেই কোনো জবাব।
চিৎকার করবে তারা, মুক্তির আশায়,
কিন্তু ফিরার পথ হারাবে চিরকাল।
আখিরাতে তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত,
যারা দুনিয়ায় ছিল অহংকারে মত্ত।
তাদের সম্পদ, শক্তি—সব হবে শূন্য,
চির দুঃখে ডুবে যাবে হৃদয় পূর্ণ।
হে মানব, শোনো এই কিতাবের ডাক,
এখানে রয়েছে জীবনের আসল ফাঁক।
সালাতে দাঁড়াও, হৃদয় করো নত,
যাকাতে দাও—মুক্ত করো আত্মা যত।
আখিরাতকে করো জীবনের লক্ষ্য,
তবেই পাবে শান্তির অনন্ত রথ।
এই কুরআন নূর, অমল আলো,
যে ধরে রাখে, সে হারায় না ভালো।
এ পথেই মুক্তি, এ পথেই জয়,
রবের সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত পরিচয়।
ত্ব-সীন ধ্বনি আজও বাজে প্রাণে,
ডাকে সে মানুষকে আলোর টানে।
যে শোনে সে পায় চিরশান্তির ঠিকানা,
যে ফিরায় মুখ—হারায় সব মানা।
***
ত্ব-সীন ধ্বনি বাজে নীরব আকাশে,
রহস্যময় ডাকে মানবের প্রত্যাশে।
সুস্পষ্ট কিতাব—আলোর পথচিহ্ন,
যে ধরে সে পায় মুক্তির সুনিশ্চিত দিশা।
দুনিয়া ক্ষণিক, মায়ারই মেলা,
পরীক্ষার মাঠে মানুষ খেলে খেলা।
কেউ স্মরণ করে রবেরই নাম,
কেউ ডুবে থাকে গাফিলতির ঘোরে অবিরাম।
***
ধন, সন্তান, সম্মান—সবই এক ফাঁদ,
যে বুঝে সে পায় মুক্তির স্বাদ।
সালাতে দাঁড়ায় যে বিনম্র প্রাণে,
তার হৃদয় ভরে শান্তির গানে।
যাকাতে বিলায় সে আলোর দান,
অসহায়ের মুখে ফোটে হাসির প্রাণ।
আখিরাত যার বিশ্বাসের আলো,
তার জীবনে নামে প্রশান্তি ভালো।
হঠাৎ একদিন থেমে যায় শ্বাস,
দুনিয়ার গল্প হয় নিঃশব্দ উদাস।
কবরের অন্ধকার ঘিরে ধরে প্রাণ,
শুরু হয় তখন নতুন এক জ্ঞান।
সৎজনের কবর হয় জান্নাতের বাগান,
অসৎজনের কবর—আযাবের স্থান।
হঠাৎ ধ্বনি উঠবে শিঙ্গার তানে,
কেঁপে উঠবে ধরিত্রী ভয়াবহ টানে।
পর্বতগুলো হবে ধূলির মতো হালকা,
সাগর উথলে উঠবে সীমা ভেঙে চলা।
আকাশ ছিঁড়ে যাবে, তারারা ঝরে,
বিশ্বজগৎ কাঁপবে চরম আতঙ্ক ঘোরে।
দ্বিতীয় শিঙ্গায় উঠবে সব প্রাণ,
কবর ফেটে জেগে উঠবে নিদ্রিত মানবগণ।
নগ্ন পায়ে ছুটবে সবাই বিস্ময়ে ভরা,
“আজ কী দিন!”—প্রশ্ন ভাসে সবার ধারা।
এক ময়দানে জমবে সব জাতি,
রাজা-গরিব—সবাই হবে সমান সাথী।
সূর্য নেমে আসবে মাথার উপরে,
ঘামে ভিজবে মানুষ পাপের ভারে।
কেউ পাবে ছায়া আরশের নিচে,
যারা দুনিয়ায় ছিল রবের পিছে।
খুলে যাবে আমলনামা প্রকাশ্যে,
সব কাজ ফুটে উঠবে স্পষ্ট ভাষ্যে।
ডান হাতে যারা পাবে তাদের খাতা,
আনন্দে ভরবে তাদের জীবনের গাঁথা।
বাম হাতে যারা পাবে সে দল,
হাহাকারে ভাসবে তাদেরই মন।
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে কাজ,
ক্ষুদ্র আমলও পাবে তারই সাজ।
যার সৎকর্ম হবে ভারী বেশি,
সফলতার পথে সে হবে দিশি।
জাহান্নামের উপর টানা সরু পথ,
বিদ্যুতের মতো পার হবে সৎজন যথা।
পাপীরা হোঁচট খেয়ে পড়বে নিচে,
আগুনের জ্বালায় জ্বলবে পিছে পিছে।
আগুন জ্বলবে ভয়ংকর রূপে,
চিৎকার উঠবে সীমাহীন কূপে।
তারা বলবে—“ফিরে যাই দুনিয়ায়!”
কিন্তু পথ বন্ধ—শেষ সব ছায়ায়।
সবুজ বাগান, নদী বয়ে যায়,
শান্তির হাওয়া প্রাণ জুড়ায়।
রবের সন্তুষ্টি—সর্বোচ্চ দান,
এটাই মুমিনের চূড়ান্ত সম্মান।
যারা ঈমান এনেছিল দৃঢ় বিশ্বাসে,
তারা থাকবে চিরশান্তির আশ্বাসে।
আর যারা ফিরেছিল সত্যের পথ হতে,
চির ক্ষতিতে ডুবে যাবে দুঃখের রাতে।
হে মানব, শোনো এ মহাসত্য বাণী,
দুনিয়া ক্ষণিক—আখিরাত চিরস্থায়ী জানি।
সালাত, যাকাত, ঈমানের পথ ধরো,
তবেই চিরশান্তির জান্নাতে ঘর করো।
***
আদি অন্ধকারে নীরবতার দেশ,
রবের ইশারায় জাগে সৃষ্টির রেশ।
মাটি হতে গড়া প্রথম মানব প্রাণ,
রূহ ফুঁকে দিলেন দয়াময় রহমান।
ফেরেশতারা নত হলো সম্মানে,
শুধু অহংকারে এক ফিরল বিরোধে।
সেই অবাধ্যতা শুরু করল পথ,
মানবের জীবনে পরীক্ষার রথ।
এলো নবী নূহ, ধৈর্যের আলো হাতে,
ডাকলেন মানুষকে তাওহীদের পথে।
অস্বীকারে ডুবে গেল বহু জন,
প্লাবনে ডুবে গেল তাদের জীবন।
ইবরাহীম ভাঙলেন মিথ্যার দেয়াল,
আগুনও হলো তার জন্য শীতল কাল।
মূসা দাঁড়ালেন ফেরাউনের সামনে,
সত্যের বজ্র ধ্বনি উঠল তার বাণীতে।
সাগর চিরে দিল রবেরই আদেশে,
মুমিনরা পার হলো নিরাপদ বেশে।
ঈসা দিলেন করুণা আর হিকমাহর ডাক,
মৃত হৃদয় জাগে তার নূরের ফাঁক।
শেষে এলো মুহাম্মদ—রহমতের নূর,
কুরআন হলো চিরন্তন সুর।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা—সবই এক ফাঁদ,
সত্যকে চিনলে তবেই মুক্তির স্বাদ।
কেউ সালাতে পায় শান্তির ঠিকানা,
কেউ হারায় নিজেকে গাফিলতির গহ্বরে জানা।
যাকাতের দানে হৃদয় হয় পবিত্র,
মানবতায় জাগে আলোর চিত্র।
হঠাৎ থেমে যায় জীবনের গান,
নীরব কবরেই শুরু নতুন জ্ঞান।
সৎজন পায় শান্তির বাগান,
অসৎজন পায় আযাবের স্থান।
শিঙ্গার ধ্বনি কাঁপাবে আকাশ-ধরা,
পর্বত উড়বে ধূলির মতো সরা।
তারারা ঝরে পড়বে একে একে,
বিশ্বজগৎ ভেঙে পড়বে আতঙ্কে।
দ্বিতীয় ধ্বনিতে উঠবে সব প্রাণ,
কবর ফেটে জাগবে নিদ্রিত মানবগণ।
হাশরের মাঠে জমবে সবাই,
রাজা-গরিব—সবাই সমান তাই।
খুলে যাবে আমলনামা সত্যের আলোয়,
সব গোপন কাজ ফুটে উঠবে প্রকাশে ঢালায়।
ডান হাতে যারা পাবে তাদের খাতা,
তাদের মুখে ফুটবে হাসির ব্যঞ্জনা।
বাম হাতে যারা পাবে সে দল,
হাহাকারে কাঁপবে তাদেরই মন।
ন্যায়ের পাল্লায় মাপা হবে কাজ,
অতি ক্ষুদ্র সৎকর্মও পাবে তার সাজ।
সিরাতের সেতু সূক্ষ্ম ধারাল পথ,
মুমিন পার হবে বিদ্যুতের রথ।
পাপীরা পড়ে যাবে আগুনের নিচে,
চিৎকার ভাসবে সীমাহীন পিছে।
আগুন জ্বলবে সীমাহীন জ্বালা,
পাপীদের হবে চিরকালের জ্বালা।
তারা চাইবে ফিরে যেতে দুনিয়ায়,
কিন্তু সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
সবুজ বাগান, নদী বহে নিরন্তর,
শান্তির হাওয়া ছুঁয়ে যায় অন্তর।
রবের সন্তুষ্টি—সর্বোচ্চ পুরস্কার,
চির সুখে ভরে ওঠে তাদের সংসার।
যারা ঈমান এনেছে দৃঢ় বিশ্বাসে,
তারা থাকবে শান্তিরই আশ্বাসে।
যারা ফিরেছে সত্যের পথ হতে,
চির ক্ষতিতে ডুবে যাবে দুঃখের রাতে।
হে মানব, ফিরে এসো নূরের ডাকে,
কুরআনের পথে জীবন গড়ে রাখে।
দুনিয়া ক্ষণিক—আখিরাত চিরকাল,
সত্যের পথেই মুক্তির জ্যোতির জাল।
***
নিভৃত শূন্যে ছিল না কোনো চিহ্ন,
রবের হুকুমে জাগে সৃষ্টির বীজবিন্দু।
মাটি হতে গড়া আদমের অবয়ব,
রূহের স্পর্শে জাগে জীবনের রূপ।
ফেরেশতা নত হলো প্রভুর আদেশে,
অহংকারে ইবলিস ফিরল অবশেষে।
সেই অবাধ্যতা শুরু করল দ্বন্দ্ব,
মানবজীবনে এলো পরীক্ষার বন্ধন।
জান্নাতের বাগানে শান্তির ঠিকানা,
ভুলের ছোঁয়ায় এলো বিচ্ছেদের গাথা।
তাওবার অশ্রুতে খুলল রহমতের দ্বার,
শেখালো মানুষকে ফিরে আসার পথবার্তা।
নূহের কণ্ঠে তাওহীদের ডাক,
শত বর্ষে ক্লান্ত হয়নি তার ফাঁক।
অস্বীকারে ডুবে গেল জাতির মন,
প্লাবনে শেষ হলো তাদের জীবন।
মূর্তির দেয়াল ভেঙে দিলেন তিনি,
সত্যের আহ্বানে জ্বলে উঠল ধ্বনি।
আগুনও হলো শীতল তার তরে,
রবের কুদরতে রক্ষা পেল অন্তরে।
ফেরাউনের সামনে সত্যের ঘোষণা,
লাঠির আঘাতে ভাঙল মিথ্যার রচনা।
সাগর চিরে দিল আল্লাহর আদেশ,
মুমিনরা পার হলো নিরাপদ পরিবেশ।
অহংকারী ডুবল পানির গহ্বরে,
শিক্ষা রেখে গেল মানবের অন্তরে।
মৃত হৃদয়ে দিলেন জীবনের ডাক,
রোগমুক্তিতে ফুটল আশার ফাঁক।
কিন্তু অস্বীকারে ঢাকল অনেক মন,
সত্যের আলো থেকেও হলো বঞ্চন।
মক্কার বুকে উঠল নূরের আহ্বান,
কুরআন হলো চিরন্তন দিশারী জ্ঞান।
অন্ধকার ভেঙে দিল আলোর জ্যোতি,
মানবতার পথ পেল নতুন গতি।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা—পরীক্ষার ঢেউ,
যে টিকে থাকে, সে পায় সত্য নৌ।
সালাতে দাঁড়ায় যে বিনম্র প্রাণে,
তার হৃদয় ভরে শান্তির গানে।
যাকাতের দানে পবিত্র হয় মন,
মানবতায় জাগে আলোর স্পন্দন।
হঠাৎ থেমে যায় জীবনের গান,
কবরেই শুরু হয় নতুন এক জ্ঞান।
সৎজন পায় শান্তির ঠিকানা,
অসৎজন পায় আযাবের কারাগারখানা।
শিঙ্গার ধ্বনি কাঁপাবে ধরা,
পর্বত উড়বে ধূলির মতো সরা।
আকাশ ছিঁড়ে পড়বে নিচে,
তারারা নিভে যাবে অন্ধকার পিছে।
দ্বিতীয় ধ্বনিতে উঠবে সব প্রাণ,
কবর ফেটে জাগবে নিদ্রিত মানবগণ।
একত্র হবে সব জাতি-গোষ্ঠী,
রাজা-গরিব—সবাই সমান রূপে স্থিতি।
সূর্য নেমে আসবে মাথার উপর,
ঘামে ডুববে মানুষ অপরিসীম ভয়ে ভর।
মানুষ খুঁজবে সুপারিশের পথ,
নবীদের কাছে যাবে দলে দলে যথা।
শেষে দয়া বর্ষাবে প্রিয় নবীর দর,
শাফাআতে খুলবে রহমতের ঘর।
খুলে যাবে আমলনামা স্পষ্ট আলোয়,
লুকানো সব কাজ প্রকাশ পাবে ঢালায়।
ডান হাতে যারা পাবে তাদের খাতা,
হাসিতে ভরে উঠবে তাদেরই ব্যথা।
বাম হাতে যারা পাবে সে দল,
আক্ষেপে কাঁদবে তাদেরই মন।
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে কাজ,
ক্ষুদ্র সৎকর্মও পাবে তার সাজ।
সিরাতের সেতু সূক্ষ্ম ধারাল,
মুমিন পার হবে দ্রুত অবিচল।
পাপীরা পড়বে আগুনের নিচে,
চিৎকার উঠবে সীমাহীন পিছে।
আগুন জ্বলবে ভয়ংকর রূপে,
পাপীরা কাঁদবে অন্তহীন কূপে।
তারা চাইবে ফিরে যেতে দুনিয়ায়,
কিন্তু পথ বন্ধ চিরতরে যায়।
সবুজ বাগান, নদীর কলতান,
শান্তির ছোঁয়ায় জুড়ায় প্রতিটা প্রাণ।
রবের সন্তুষ্টি—সর্বোচ্চ দান,
এটাই মুমিনের চূড়ান্ত সম্মান।
যারা ঈমান এনেছে দৃঢ় বিশ্বাসে,
তারা থাকবে চিরশান্তির আশ্বাসে।
যারা ফিরেছে সত্যের পথ হতে,
চির ক্ষতিতে ডুবে যাবে দুঃখের রাতে।
হে মানব, শোনো এ মহাসত্য বাণী,
দুনিয়া ক্ষণিক—আখিরাত চিরস্থায়ী জানি।
নবীদের পথেই মুক্তির দিশা,
এই পথেই আছে শান্তির নিশা।
কুরআনের আলো ধরো জীবনের সুরে,
তবেই পৌঁছাবে চির শান্তির নূরে।
১
১ মন্তব্য