সহকারী অধ্যাপক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২৪ অপরাহ্ণ
রিযিক দেবে কে ? - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
রিযিক দেবে কে ?
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কে দেবে রিযিক, বলো, যদি রব তা থামিয়ে দেন?
কোথায় যাবে মানুষ তখন, কারই বা কাছে যান?
তবুও কেন অহংকারে, বুকটা থাকে ভরা,
অনীহাতে ডুবে থেকে ভুলে যায় সে সরা।
একজন চলে মুখ থুবড়ে, আঁধার পথে হারা,
আরেকজন সোজা পথে, আলোর দিকে সারা—
বল তো কে বেশি পথ পায়, কে বা হিদায়াত পায়?
যে সোজা পথে হাঁটে নাকি, যে পড়ে পড়ে যায়?
তিনিই তোমায় গড়েছেন রে, দিয়েছেন দুই কান,
চোখ দিয়েছেন, অন্তরও—বোঝার জন্য জ্ঞান।
তবুও কেন শুকর কম, ভুলে যাও তার দান?
কৃতজ্ঞতা হারিয়ে ফেলে, ডুবে থাকো প্রাণ?
এই মাটিতে ছড়িয়ে আছ, তিনিই করলেন সৃষ্টি,
আবার একদিন তাঁর কাছেই হবে সবার গতি।
ফিরে যাবে সব মানুষ, জমা হবে একত্রে,
সেদিন আর লুকোবার পথ থাকবে না যে পিছুতে।
তারা বলে—“কবে তবে সে প্রতিশ্রুতি হবে?”
সত্য যদি হও তোমরা, দেখাও তবে তবে!”
বল—“সে জ্ঞান কেবলই তাঁর, আমিই শুধু বলি,
সতর্ক করি স্পষ্ট করে, এটাই আমার কাজই।”
যখন দেখবে কাছে এসে সেই ভয়ের দিন,
চেহারাতে ছায়া পড়বে, ভেঙে যাবে ঋণ।
বলবে তখন—“এই তো সেটা, যাকে করেছিলে তুচ্ছ,”
সত্য তখন স্পষ্ট হবে, মিথ্যা হবে নিঃশ্বাসহীন পুঞ্জ।
***
যদি রিযিক থেমে যায় রবের হুকুমে হঠাৎ,
কার দোরগোড়ায় যাবে তুমি, কারই বা সেই শক্তি?
তবু কেন হৃদয় ভরে অহংকারের আগুন,
অনীহাতে ঢেকে রাখো সত্যের সব দাগুণ?
একজন হামাগুড়ি দেয়, মুখ মাটিতে ঠেকা,
অন্ধকারে পথ হারায়, বুঝে না কিছু একা।
আরেকজন দৃপ্ত পায়ে চলে সোজা পথে,
আলোর রেখা দেখেই চলে, দৃঢ়তারই রথে।
বল—কে তবে হিদায়াতে, কে পায় সত্য আলো?
যে পড়ে পড়ে এগোয়, নাকি যে সোজা চলে ভালো?
তিনি তোমায় বানিয়েছেন, দিয়েছেন শ্রবণ, দৃষ্টি,
অন্তরে দিয়েছেন চিন্তা—বুঝবার সেই সৃষ্টি।
তবুও কেন কৃতজ্ঞতা আসে না হৃদয় ভরে?
শুকর কম, ভুলে যাও সব—কিসের নেশায় পড়ে?
মাটির বুকে ছড়িয়ে দিলে, জীবন দিলে দান,
আবার তোমায় ডাকবেন তিনি, হবে সবার জ্ঞান।
একত্র হবে মানবজাতি, লুকোবার নেই স্থান,
সেদিন শুধু সত্যটুকুই হবে অবিচল প্রাণ।
তারা বলে—“কবে হবে সে প্রতিশ্রুতির ক্ষণ?”
সত্যবাদী যদি হও, দাও না তারই প্রমাণ!”
বল—“সে জ্ঞান আল্লাহরই, আমি শুধু বার্তা,
সতর্ক করি স্পষ্ট করে—এই আমারই কর্তব্যটা।”
যখন হঠাৎ সামনে আসবে সেই প্রতীক্ষিত দিন,
মলিন হবে মুখগুলো, থেমে যাবে ঋণ।
শুনবে তখন—“এই তো সেটা, যাকে মানোনি তুমি,”
সত্য তখন ছাপিয়ে উঠবে—নিভে যাবে সব ভ্রান্ত ভূমি।
***
রিযিক যদি থেমে যায় হঠাৎ রবের হুকুমে,
বল তো তখন কারই বা আছে দেওয়ার ক্ষমতা ভূমে?
আকাশ নীরব, জমিন স্তব্ধ, বাতাস থামে ক্ষণ,
মানুষ তখন খুঁজে ফেরে হারানো আশ্রয় বন।
তবুও সে বুক ফুলিয়ে চলে অহংকারের নেশায়,
সত্যকে সে দূরে ঠেলে মিথ্যার সুখের ভাষায়।
অনীহাতে ঢেকে রাখে অন্তরের সেই ডাক,
হিদায়াতের আলো জ্বলে—তবু সে করে ফাঁক।
একজন চলে মুখ থুবড়ে, আঁধারে ডুবে রয়,
প্রতিটি পা বিভ্রান্তিতে, পথটা তার ক্ষয়।
আরেকজন সোজা পথে, দৃঢ়তায় ভরা প্রাণ,
আলোর রেখা ধরে রেখে খুঁজে নেয় পরিত্রাণ।
বল তবে কে হিদায়াত পায়, কে পায় সত্য জ্যোতি?
যে পড়ে পড়ে হারায়, নাকি যে চলে সোজা গতি?
তিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন, মাটির বুকের ধূলি,
জীবন দিয়ে শিখিয়েছেন রহমতেরই বুলি।
শ্রবণ দিলে, দৃষ্টি দিলে, দিলে ভাবনার মন,
তবুও কেন শুকর কম—এ কেমন অবচেতন?
কানে আসে সত্যবাণী, চোখে দেখা নিদর্শন,
তবুও কেন অন্তর থাকে অন্ধকারে গোপন?
নিয়ামতের ভারে নত হয় না কেন প্রাণ?
কৃতজ্ঞতার ভাষা যেন হারিয়েছে জ্ঞান।
এই পৃথিবী বিস্তৃত পথে ছড়িয়ে দিলে তোমায়,
দিন-রাতের ঘূর্ণনে রেখেছো চলার ছায়ায়।
তবুও ভুলে যাও তুমি, কিসের মোহে পড়ে,
শেষে যে ফিরতে হবে এক অজানা ঘরে।
একদিন ডাক আসবে হঠাৎ—ফিরে যাওয়ার তরে,
কেউই তখন লুকোতে পারবে না কোনো কূলে ঘরে।
জমা হবে সব মানুষ এক বিশাল ময়দানে,
হিসাব হবে প্রতিটি কর্ম, লুকোনো নেই প্রাণে।
তারা বলে—“কবে তবে সে প্রতিশ্রুতির দিন?”
হাসি ঠাট্টায় উড়িয়ে দেয়, ভাঙে সত্যের ঋণ।
“যদি সত্যবাদী হও, আনো তার প্রমাণ!”
অজ্ঞতায় ঢেকে রাখে নিজেরই অবমান।
বল—সে জ্ঞান কেবল তাঁর, যিনি সব জানেন,
আমি শুধু সতর্ক করি, সত্যের পথে টানেন।
আমার কাজ পৌঁছে দেওয়া সেই স্পষ্ট বাণী,
মানুষ যেন ফিরে আসে, ভাঙে মিথ্যার টানি।
হঠাৎ একদিন কাছে এসে দাঁড়াবে সেই ক্ষণ,
ভয়াবহ সেই দৃশ্য দেখে কাঁপবে মানবজন।
চেহারাতে ছায়া পড়বে, চোখে ভয়ের রেখা,
তখন আর অস্বীকারে মিলবে না কোনো দেখা।
বলা হবে—“এই তো সেটা, যাকে তুচ্ছ করলে,
যে সত্যকে অস্বীকারে হাসির খেলায় ঢেললে।”
আজ আর কোনো পথ নেই, সত্য দাঁড়ায় স্পষ্ট,
মিথ্যার সব প্রাসাদ তখন ভেঙে যায় নষ্ট।
হৃদয় কাঁপে, দৃষ্টি নত, থেমে যায় সব শব্দ,
নিজের কাজের ভারে তখন ভেঙে পড়ে গর্ব।
জীবন জুড়ে যা করেছিলে, সবই সামনে আজ,
নেই আর কোনো অজুহাত, নেই কোনো লাজ।
যে চলেছিল সোজা পথে, আলোর দীপ্তি ধরে,
তার জন্য শান্তির বাণী নেমে আসে ঘরে।
তার অন্তর প্রশান্তিতে ভরে ওঠে ধীরে,
রবের দয়া ছায়া হয়ে রাখে তাকে ঘিরে।
আর যে ডুবে ছিল শুধু অহংকারের জ্বালে,
অনীহাতে ফিরিয়ে দিয়েছে সত্যের সব ডাকে—
তার জন্য অপেক্ষা করে কঠিন সেই পরিণাম,
অস্বীকারের প্রতিফলন দেয় নির্মম অবধাম।
তবুও এ কাহিনি শুধু ভয় দেখানোর তরে নয়,
এতে আছে হিদায়াতের আলো, পথের পরিচয়।
যে শুনে, যে বুঝে, যে ফিরে আসে অন্তরে,
তার জন্য দরজা খোলা দয়ার অপরিমেয় ঘরে।
আজও সময় আছে ফিরে আসার সেই পথে,
যেখানে নেই বিভ্রান্তি, নেই মিথ্যার রথে।
সোজা পথে দাঁড়িয়ে বল—“হে রব, তুমি পথ দাও,”
অহংকার ভেঙে দিয়ে হৃদয়টা তোমার কাছে দাও।
কারণ শেষটা নিশ্চিত, আসবেই সেই দিন,
যেখানে সত্য ছাড়া কিছু থাকবে না আর ঋণ।
সেই দিনের আগেই যদি জেগে ওঠে প্রাণ,
তবে এই জীবনই হবে মুক্তির সম্মান।
***
রিযিক যদি থেমে যায় রবের এক ইশারায়,
বল তো তখন কে আছে দেবে তোমায় ধারায়?
আকাশ চুপ, বাতাস স্তব্ধ, শুকিয়ে যায় প্রাণ,
মানুষ তখন বুঝতে শেখে—কত ক্ষুদ্র তার জ্ঞান।
তবুও সে বুক ফুলিয়ে অহংকারে হাঁটে,
নিজের ছায়াকেই ভাবে শক্তির মূল কাঠে।
অনীহাতে ঢেকে রাখে সত্যের দীপ্তি আলো,
হৃদয়ের দরজায় তবু কড়া নাড়ে ভালো।
একজন পড়ে মুখ থুবড়ে অন্ধকারের পথে,
প্রতিটি পা বিভ্রান্তিতে, ভয় জমে অন্তরে।
আরেকজন সোজা পথে দৃঢ়তায় অটল,
তার চোখে আলো জ্বলে, হৃদয় থাকে সফল।
বল তবে কে হিদায়াতে, কে পায় সত্যের দিশা?
যে পড়ে পড়ে হারিয়ে যায়, নাকি যে চলে দিশা?
তিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন মাটির কণার মাঝে,
শূন্য থেকে এনেছেন তিনি জীবনেরই সাজে।
দিয়েছেন শ্রবণ, দৃষ্টি, অন্তরেরই আলো,
তবুও কেন শুকর কম, কেন ভুলে যাও ভালো?
নিদর্শনে ভরা পৃথিবী, আকাশ নক্ষত্রখানি,
দিনের পর রাত নামে—এও তাঁরই বাণী।
তবুও মানুষ চোখ মেলে না, হৃদয় রাখে বন্ধ,
মিথ্যার মোহে ডুবে থেকে করে নিজেই ছন্দ।
তারপর শুরু হয় ইতিহাস—মানবতার পথ,
নবীদের কণ্ঠে ভেসে আসে হিদায়াতের রথ।
আদম (আ.) কাঁদেন তাওবায়, ভুলের পরে জেগে,
রবের দয়া নেমে আসে ক্ষমার সুধা মেখে।
নূহ (আ.) ডাকেন যুগের পর যুগ, তবুও কম সাড়া,
প্লাবনের জলে ডুবে যায় অহংকারের ধারা।
ইবরাহিম (আ.) আগুনে দাঁড়ান তাওহীদেরই বলে,
আগুন তখন শীতল হয়ে শান্তির কোলে ঢলে।
মূসা (আ.) ফেরাউন সামনে সত্যের বাণী তোলেন,
সমুদ্রও পথ করে দেয়—আল্লাহরই কলেম।
ঈসা (আ.) ভালোবাসায় ডাকেন মানবতার তরে,
রোগ সারান, হৃদয় জাগান আলোরই অন্তরে।
শেষে আসে মুহাম্মদ (সা.), রহমতেরই নূর,
অন্ধকারে ডুবে থাকা দুনিয়ায় দেন সুর।
এই ধারারই শিক্ষা বয়ে আসে যুগে যুগে,
হিদায়াতের পথ খুলে দেয় অন্তরেরই দুয়ারে।
তবুও মানুষ প্রশ্ন তোলে—“কবে আসবে সে দিন?”
হাসি ঠাট্টায় ঢেকে রাখে সত্যের কঠিন ঋণ।
বল—সে জ্ঞান কেবল তাঁর, যিনি সবই জানেন,
আমি শুধু সতর্ক করি, সত্যের পথে টানেন।
হঠাৎ একদিন কাঁপবে ধরণি, ভেঙে যাবে গগন,
শিঙ্গায় ফুঁক, থেমে যাবে পৃথিবীরই স্পন্দন।
পাহাড় উড়ে ধূলি হবে, সাগর হবে আগুন,
সূর্য নিভে অন্ধকারে ঢেকে যাবে গগন।
মানুষ তখন ছুটে বেড়ায় দিশেহারা প্রাণে,
কোথাও নেই আশ্রয় আর, ভয়েরই সমুদ্রে।
মা ভুলে যায় সন্তানেরে, বন্ধু হারায় সাথ,
প্রতিটি প্রাণ নিজেকেই বাঁচাতে করে প্রার্থ।
তারপর আবার ডাকা হবে—উঠে দাঁড়াও সবাই,
মাটির নিচে ঘুম ভেঙে ফিরবে জীবনেরই রই।
হাশরের ময়দানে জমা হবে সব জাতি,
রাজা-প্রজা এক সারিতে—নেই কোনো ভেদাভেদ গাঁথি।
আমলনামা খুলে যাবে, লেখা প্রতিটি কাজ,
ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সবই আসবে সামনে আজ।
কারো মুখে আলো জ্বলে, কারো চোখে ভয়,
ন্যায়ের পাল্লা মাপবে তখন জীবনেরই জয়।
সিরাত সেতু সামনে তখন সূক্ষ্ম ধারার চেয়েও,
কারো পা উড়ে যায় দ্রুত, কারো পড়ে যায় নীচেও।
যে ছিল সত্যপথে দৃঢ়, সে পেরোয় সহজে,
যে ছিল অন্ধকারে ডুবে, সে পড়ে যায় খোঁজে।
তারপর খুলে যায় দ্বার—দুটি ভিন্ন পথ,
একদিকে শান্তির বাগান, অন্যদিকে কঠোর রথ।
জান্নাতের বুকে বয়ে যায় শান্তিরই হাওয়া,
নদী বয়ে সুধার মতো, নেই কোনো ব্যথা-কাঁদা।
ছায়াময় বৃক্ষতলে বিশ্রামেরই দিন,
মুখে হাসি, মনে প্রশান্তি—শেষ হয়নি ঋণ।
সেখানে নেই ভয় কোনো, নেই দুঃখের ছোঁয়া,
প্রিয়জনেরা মিলিত হয় ভালোবাসার ছোঁয়া।
রবের সন্তুষ্টি সেখানে সর্বোচ্চই দান,
চিরশান্তির আবাস সেটি—অমলিন সম্মান।
অন্যদিকে জাহান্নামের আগুন জ্বলে ভয়ংকর,
দুঃখ আর অনুশোচনায় ভরে ওঠে অন্তর।
যারা ফিরিয়ে দিয়েছিল সত্যের আহ্বান,
তাদের জন্য অপেক্ষা করে কঠিন পরিণাম।
চিৎকার ভেসে আসে সেখানে অনুতাপের সুরে,
“হায়! যদি ফিরতে পারতাম দুনিয়ারই নূরে!”
কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে, বন্ধ সবই দ্বার,
সত্য তখন স্পষ্ট হয়ে দেয় চূড়ান্ত আঘাত ভার।
তবুও এই কাব্য শুধু ভয়ের কথা নয়,
এতে আছে ফিরে আসার কোমল এক আহ্বয়।
আজও খোলা রয়েছে পথ, আজও সময় আছে,
অন্তর যদি জেগে ওঠে, সত্য আসবে কাছে।
অহংকার ভেঙে ফেলো, ফিরে এসো ত্বরা,
যে পথ সোজা, যে পথ আলো—সেই পথেই ধরা।
রিযিক, জীবন, মৃত্যু সব তাঁরই হাতে,
তাঁর দিকেই ফিরতে হবে শেষের প্রভাতে।
যে আজ বুঝে, সে-ই সফল, সে-ই পায় শান্তি,
যে আজও ঘুমে ডুবে থাকে, তারই সর্বনাশান্তি।
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া, পথিক তুমি মাত্র,
আখিরাতই চিরবাস—সত্যেরই কেন্দ্র।
তাই শোনো হৃদয়ের ডাক, জাগো সত্য জ্ঞানে,
হিদায়াতের আলো জ্বালো নিজের অন্তঃস্থানে।
একদিন যখন দাঁড়াবে তুমি সেই মহান প্রান্তে,
চাও যেন মুখ উজ্জ্বল থাকে রবেরই কৃপান্তে।
***
শূন্য ছিল চারদিক, নীরব আকাশ ভরা,
হুকুমে হলো সৃষ্টি, জাগল জীবনের ধারা।
মাটির কণায় গড়া মানুষ, প্রাণের আলো পেল,
রবের দয়ায় প্রথম শ্বাস, পৃথিবীতে এলো।
দিলেন তাকে জ্ঞানবোধ, চিন্তার এক দিশা,
শ্রবণ, দৃষ্টি, অন্তর দিয়ে খুললেন সত্যপথ দিশা।
তবুও ভুলে যায় সে দ্রুত, কিসের মোহে পড়ে,
নিজের স্রষ্টা ভুলে গিয়ে ডুবে মিথ্যার ঘোরে।
আদম কাঁদেন ভুলের পরে, তাওবার অশ্রুধারায়,
রবের দয়া ঢেকে দেয় সব, ক্ষমার সুধার ছায়ায়।
শিক্ষা দিলেন—ভুল হলে ফিরে এসো তাড়াতাড়ি,
দয়ার দরজা খোলা থাকে, নেই কোনো বাধা ভারী।
নূহ ডাকেন শতাব্দী ধরে, “ফিরে এসো পথ,”
তবুও মানুষ হাসে তাকে, অস্বীকারে রত।
প্লাবনের জলে মুছে যায় অহংকারের ঘর,
সত্য তখন দাঁড়িয়ে থাকে, নিঃসঙ্গ অথচ পর।
ইবরাহিম আগুনে বলেন—“একই রব মহান,”
আগুনও ঠান্ডা হয়ে দেয় শান্তিরই দান।
মূসা দাঁড়ান জালিম সামনে, সত্যের বজ্র হাতে,
সমুদ্র ফেটে পথ বানায় আল্লাহরই সাথে।
ঈসা ডাকেন ভালোবেসে—“পথে ফিরে চলো,”
অন্ধ হৃদয় খুলে দিয়ে সত্যকে চিনো বলো।
শেষে এলো নূরের ধারা, দয়ার শেষ রাসূল,
অন্ধকারে ডুবে থাকা বিশ্ব পেল মূল।
দুনিয়ার জীবন : পরীক্ষা ও প্রলোভন
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া, পরীক্ষা প্রতিক্ষণ,
সুখের মাঝে লুকিয়ে থাকে দুঃখেরই কারণ।
রিযিক যদি থেমে যায় রবের এক ইশারায়,
কে আছে দেবে তোমায় শক্তি সেই ধারায়?
তবুও মানুষ গর্বে ভরে, ভুলে যায় সে রব,
নিজের শক্তি ভেবে নেয় জীবনেরই সব।
একজন চলে মুখ থুবড়ে অন্ধকারের পথে,
আরেকজন সোজা চলে সত্যেরই রথে।
বল তবে কে সফল হয়, কে পায় মুক্তি দিশা?
যে আলোর পথে অটল থাকে, সে-ই পায় দিশা।
মানুষ ছুটে দিশেহারা, নেই কোনো আশ্রয়,
মা ভুলে যায় সন্তানকে, বন্ধু হারায় সয়।
প্রতিটি প্রাণ নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়,
সেদিন কারো পাশে কেউ দাঁড়াতে না রয়।
মৃতেরা সব জেগে উঠে দাঁড়ায় এক সারি,
রাজা-ভিখারি একই কাতার—নেই ভেদাভেদ ভারী।
আমলনামা খুলে যায়, লেখা প্রতিটি কাজ,
গোপন কিছু থাকে না আর, প্রকাশ পায় আজ।
পাল্লায় মাপে ন্যায়ের ভার, সত্য হয় প্রকাশ,
কারো মুখে আলো ঝরে, কারো তীব্র হতাশ।
সিরাত সেতু সূক্ষ্ম পথে ঝুলে আগুনধার,
কেউ উড়ে যায় বিদ্যুতের মতো, কেউ পড়ে অন্ধকার।
জান্নাত : চিরশান্তির নিবাস***
সবুজ বাগান, নদীর ধারা, শান্তির আবাস,
দুঃখহীন এক জীবন, নেই কোনো সর্বনাশ।
ছায়াঘেরা বৃক্ষতলে বিশ্রামেরই দিন,
প্রিয়জনের মিলন ঘটে, মুছে যায় সব ঋণ।
হাসি ভরা মুখগুলোতে প্রশান্তিরই ছোঁয়া,
রবের সন্তুষ্টি পেয়ে পূর্ণ হয় সব চাওয়া।
চিরকাল সেই শান্তি থাকে, শেষ নেই কোনো দিন,
এটাই সাফল্য চূড়ান্ত, এটাই সত্য ঋণ।
জাহান্নাম : সতর্কতার পরিণাম**
অন্য পাশে জ্বলে ওঠে আগুন ভয়ংকর,
অনুশোচনায় কাঁদে প্রাণ, জ্বলে অন্তর।
যারা ফিরিয়ে দিয়েছিল সত্যের আহ্বান,
তাদের জন্য কঠিন শাস্তি—নেই কোনো অবসান।
চিৎকারে ভরে ওঠে সেই অন্ধকার স্থান,
“ফিরে যেতে চাই আবার”—ব্যর্থ সে আর্তনাদ।
সময় পেরিয়ে গেছে, বন্ধ সবই দ্বার,
সত্য তখন স্পষ্ট হয়ে দেয় চূড়ান্ত ভার।
এই কাব্য শুধু ভয় নয়, এতে আছে দিশা,
ফিরে আসার খোলা পথ, সত্যেরই নিশা।
আজও সময় আছে, জাগো অন্তর মাঝে,
অহংকার ভেঙে ফেলো, দাঁড়াও সত্য কাজে।
রিযিক, জীবন, মৃত্যু সব তাঁরই নিয়ন্ত্রণ,
তাঁর দিকেই ফিরতে হবে—এটাই চূড়ান্ত জ্ঞান।
যে আজ বুঝে, সে-ই সফল, পায় শান্তির ঠিকানা,
যে আজও ঘুমে পড়ে থাকে, হারায় তারই মানা।
-সূরাঃ আল-মুলক আয়াতঃ২১-২৫ মাক্কী
১৪
২৪ মন্তব্য