সহকারী অধ্যাপক
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
রহমানের বান্দা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
রহমানের বান্দা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নম্র পায়ে চলে যারা, ধুলোর পথে ধীরে,
অহংকারের ছায়া নেই তাদের অন্তরে ঘিরে।
কেউ যদি কটু কথা বলে, অজ্ঞতার ভাষায়,
তারা শুধু বলে “সালাম”, শান্তিরই আশায়।
নীরব রাতে জেগে থাকে, সিজদায় নত শির,
দাঁড়িয়ে থাকে দোয়ার মাঝে, চোখে অশ্রু নীর।
বলে, “হে প্রভু! জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও,
এই যে শাস্তি অন্তহীন—আমাদের দূরে রাখাও।”
তাদের ব্যয় মাঝামাঝি, নেই অপচয়ের ঢেউ,
কার্পণ্যও ছুঁতে পারে না, ভারসাম্যে তারা ঢেউ।
না ডাকে অন্য কোনো ইলাহ, এক আল্লাহই ভরসা,
নিষিদ্ধ প্রাণে আঘাত নয়, পবিত্রতারই ভাসা।
পাপের পথে যায় না তারা, রাখে নিজেকে দূরে,
ব্যভিচারের আঁধার হতে ফেরে আলো সুরে।
তবু যদি ভুলে পড়ে, পথভ্রষ্ট হয় মন,
তাওবা করে ফিরে আসে, জাগে ঈমান-ধ্বনন।
রহমতের দরিয়া তখন ভরে ওঠে প্রাণ,
পাপগুলো বদলে যায়—পুণ্যেরই দান।
ক্ষমাশীল সেই রব, দয়ার সীমা নাই,
ফিরে এলে আপন পথে, ফেরায় না যে তাই।
মিথ্যার পথে হাঁটে না তারা, দেয় না মিথ্যা সাক্ষ্য,
অর্থহীন কথার ভিড়ে রাখে না কোনো লক্ষ্য।
অযথা শব্দ পেরিয়ে যায় সম্মানেরই ছায়ায়,
নম্রতায় তারা উঁচু হয় সত্যের মহিমায়।
আয়াত যখন শোনানো হয়, জাগে তাদের প্রাণ,
অন্ধ-বধির হয়ে নয়, বুঝে নেয় সে জ্ঞান।
হৃদয়ে তাদের জ্বলে উঠে আলোর দীপ্ত শিখা,
হিদায়াতের পথে চলে, দূরে সরায় দীক্ষা।
তারা বলে, “হে আমাদের রব, দাও এমন পরিবার,
চোখের শীতল প্রশান্তি, সুখের অফুরান ধার।
স্ত্রী-সন্তান হোক এমন, যারা দেবে নূর,
আর আমাদের করো তুমি মুত্তাকীদের সুর।”
সবর করে যারা থাকে, কষ্টে ভেঙে না যায়,
তাদের জন্য জান্নাতে উচ্চ প্রাসাদ চায়।
সালামের শুভ অভ্যর্থনা, শান্তিরই দেশ,
চিরস্থায়ী সুখের ঘর—অতুলনীয় রেশ।
কতই না সুন্দর সেই আবাস, চির প্রশান্তির স্থান,
যেখানে নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের আহ্বান।
এই পথ যারা বেছে নেয়, নম্রতায় ভরা প্রাণ,
তারাই তো রহমানের বান্দা—সর্বশ্রেষ্ঠ মানব জান।
***
নম্রতায় নত তাদের পথচলার ঢং,
মাটির সাথে মিশে থাকে বিনয়েরই রং।
কাঁধে নেই অহংকার, চোখে নেই দম্ভ,
শান্তির আলো জ্বলে তাদের প্রতিটি রংমঞ্চ।
অজ্ঞ যদি ডাকে এসে কঠোর কোনো সুরে,
তারা শুধু “সালাম” বলে নরম ভাষার নূরে।
বিরোধে নয়, বিদ্বেষে নয়, জবাব দেয় শান্তি,
এই তো তাদের চরিত্র—স্নিগ্ধতার কান্তি।
রাত যখন নামে নীরব, ঘুমিয়ে পড়ে ধরায়,
তারা তখন দাঁড়িয়ে থাকে প্রভুরই দরবারায়।
সিজদায় নত কপাল, চোখে অশ্রুর রেখা,
দোয়ার মাঝে ডুবে থাকে, হৃদয় তাদের একা।
বলে— “হে আমাদের রব! বাঁচাও সেই আগুন,
যার শাস্তি অন্তহীন, দগ্ধ করে গুণ।
জাহান্নামের ভয়াল রূপ হতে রেখো দূরে,
তোমার রহমতের ছায়া রাখো আমাদের সুরে।”
তাদের দান মাঝামাঝি—না অতিরিক্ত ঢেউ,
না আবার কৃপণতার আঁধার জমাট নেউ।
ভারসাম্যের এই পথে তারা চলে নির্ভার,
অল্পে তুষ্ট, তবু দেয়—হৃদয় তাদের উদার।
এক আল্লাহই ভরসা তাদের, নেই অন্য কোনো নাম,
শিরক থেকে দূরে থাকে, রাখে ঈমানের দাম।
অন্যায়ভাবে প্রাণ নেয় না, জানে তার মূল্য কত,
পবিত্রতার পথে তারা অটল, অবিচল সত্য।
পাপের ছোঁয়া এড়িয়ে চলে, রক্ষা করে মন,
লজ্জার পর্দা আঁকড়ে ধরে, জাগায় পবিত্র ধ্বনন।
যদি ভুলে পথ হারায়, তবু থামে না যাত্রা,
তাওবার স্রোতে ভাসিয়ে দেয় পাপের সব মাত্রা।
ফিরে এসে কান্নায় ভেজা কণ্ঠে করে আর্তি,
রহমতের দরজা খুলে দেয় দয়াময় স্রষ্টা অতি।
পাপগুলো রূপ নেয় তখন পুণ্যেরই আলোয়,
ক্ষমার সাগর ডেকে নেয় আপন বুকে ভালোয়।
মিথ্যার সাক্ষ্য দেয় না তারা, রাখে সত্যের মান,
অযথা কথা এড়িয়ে চলে, সংযম তাদের প্রাণ।
অর্থহীন পথের ধারে থামে না তাদের গতি,
সম্মানের সাথে পেরিয়ে যায়, বজায় রাখে গতি।
যখন শোনে প্রভুর বাণী, জেগে ওঠে প্রাণ,
অন্ধ-বধির হয়ে নয়, বোঝে গভীর জ্ঞান।
আয়াতের আলোয় উদ্ভাসিত হৃদয়েরই দিগন্ত,
হিদায়াতের পথ ধরে তারা হয় অনন্ত।
তারা চায় এমন পরিবার—চোখের শীতল সুখ,
স্ত্রী-সন্তান হোক তাদের শান্তিরই মুখ।
যেন তারা হয় নেককার, আলোর পথের দিশা,
জীবনের প্রতিটি ধাপে জাগায় ঈমানের নিশা।
আর বলে— “হে আমাদের রব! করো এমন দান,
মুত্তাকীদের মাঝে যেন পাই নেতৃত্বের স্থান।”
না গর্বে, না অহমে—শুধু সৎ পথে ডাকে,
মানুষকে ভালোবাসায় সত্যের আলোয় রাখে।
ধৈর্যের বুকে আগলে রাখে কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ,
ঝড় এলে ভাঙে না তারা, থাকে দৃঢ় মন।
এই সবরের ফলস্বরূপ পাবে মহা পুরস্কার,
জান্নাতের উচ্চ প্রাসাদ—শান্তির অপার।
সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কষ্টের ছায়া,
সালামের অভ্যর্থনায় ভরে ওঠে মায়া।
চিরদিনের আবাস সে, শান্তিরই ঠিকানা,
যেখানে শেষ হয় না সুখ, মেটে না তৃষ্ণা।
কতই না সুন্দর সেই চিরস্থায়ী নিবাস,
যেখানে নেই দুঃখবেদনা, নেই কোনো হতাশ।
রহমানের সেই বান্দারা পায় সেরা সম্মান,
নম্রতায় জিতে নেয় তারা দুনিয়া আর জান্নাতের স্থান।
এসো তবে শিখি আমরা সেই পথের গান,
নম্রতা আর ধৈর্য গড়ি হৃদয়েরই প্রাণ।
সত্য আর পবিত্রতায় গড়ি জীবনখানি,
তবেই হবো আমরাও সেই রহমানের বাণী।
***
নম্র পায়ে হেঁটে চলে ধূলিরই পথ ধরে,
নেই তাদের অহংকার, নেই দম্ভ অন্তরে।
চোখে থাকে শান্তির দীপ, কথায় মাধুরী ঢেউ,
মানুষের ভিড়ের মাঝেও তারা আলাদা নেউ।
অজ্ঞ কেউ কটু বললে, তিরস্কারের সুরে,
তারা শুধু “সালাম” বলে নরম আলো ঝরে।
ঝগড়ার আগুন বাড়ায় না, বাড়ায় না কোনো ক্ষত,
শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেয়—এটাই তাদের রত।
রাতের নীরব আকাশ যখন তারায় ভরে যায়,
ঘুমে ঢেকে যায় ধরিত্রী, স্তব্ধ সবই হায়—
তখন তারা জেগে থাকে প্রভুরই ডাকে,
সিজদারত হৃদয় নিয়ে দাঁড়ায় নীরব ফাঁকে।
কখনো দাঁড়িয়ে দোয়া করে, কখনো কাঁদে চুপে,
চোখের জলে ভিজে যায় সিজদার মাটি রূপে।
বলে— “হে আমাদের রব! আগুন হতে বাঁচাও,
যে শাস্তি অন্তহীন—সেই দহন দূরে রাখাও।”
জাহান্নামের ভয়াল ছবি কাঁপিয়ে দেয় প্রাণ,
তাই তো তারা আশ্রয় খোঁজে রহমতেরই দান।
দয়াময়ের দরবারে তাদের বিনীত আর্তি,
ক্ষমার ছায়া চাই তারা, চায় করুণা অগণিতি।
দান করে তারা পরিমিত, নেই অপচয়ের ঢেউ,
আবার কৃপণতাও নয়—সমতায় বোনা নেউ।
মাঝামাঝি এই চলনেই জীবনের সৌন্দর্য,
সংযম আর উদারতায় গড়ে সোনার অর্চ্য।
এক আল্লাহই তাদের রব, একেই ডাকে প্রাণ,
শিরকের অন্ধকারে তারা রাখে না স্থান।
নিষ্পাপ প্রাণে আঘাত নয়, জানে তার মূল্য কত,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় তারা, সত্যে অটল যত।
অপবিত্রতার ছোঁয়া এড়িয়ে চলে নিরন্তর,
লজ্জার পর্দা আঁকড়ে ধরে রাখে অন্তর ভর।
যদি কখনো ভুলে যায়, পা পড়ে অন্য পথে,
তাওবার অশ্রু ঝরে পড়ে গভীর অনুতাপে।
ফিরে আসে সেই রবের কাছে কাঁদতে কাঁদতে,
ক্ষমার দরজা খুলে যায় ভালোবাসার সাথে।
পাপগুলো রূপ নেয় তখন পুণ্যেরই আলোয়,
দয়ার সাগর ঢেউ তোলে অন্তরেরই ঢালোয়।
মিথ্যার সাক্ষ্য দেয় না তারা, সত্য তাদের ঢাল,
অর্থহীন সব কাজ থেকে রাখে নিজেকে কাল।
অযথা কথা এড়িয়ে চলে সম্মানেরই সাথে,
নম্রতার এই মহিমা জ্বলে তাদের প্রাতে।
আয়াত যখন শোনানো হয়, জাগে অন্তর প্রাণ,
অন্ধের মতো পড়ে না তারা, বোঝে গভীর জ্ঞান।
হৃদয়ের দরজা খুলে নেয় নূরেরই আলোয়,
হিদায়াতের স্রোতে ভাসে সৎপথের ভালোয়।
তারা বলে— “হে আমাদের রব! দাও এমন ঘর,
যেখানে শান্তি ঝরে, নেই কোনো কষ্টের পর।
স্ত্রী-সন্তান হোক এমন—চোখের শীতল সুখ,
নেককার পথে হাঁটবে তারা, হবে আলোর মুখ।”
আরও বলে— “হে প্রভু! দাও এমন সম্মান,
মুত্তাকীদের মাঝে যেন পাই নেতৃত্বের স্থান।”
না গর্বে, না অহমে—শুধু সত্যের ডাকে,
মানুষকে পথ দেখাই ভালোবাসার ফাঁকে।
ধৈর্যের আলো জ্বেলে রাখে দুঃখের অন্ধকারে,
ঝড় এলেও ভাঙে না তারা জীবনেরই দ্বারে।
কষ্টকে তারা সয়ে নেয়, রাখে ঈমান জাগ্রত,
এই সবরের বিনিময়ে পায় পুরস্কার অগণিত।
জান্নাতের উচ্চ প্রাসাদ তাদেরই জন্য রয়,
সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কোনো ক্ষয়।
সালামের অভ্যর্থনায় ভরে ওঠে চারিধার,
শান্তির সুর বাজে সেখানে অফুরান অপর।
চিরস্থায়ী সেই নিবাস—কতই না সুন্দর,
নেই কোনো দুঃখবেদনা, নেই কোনো ভয়ের ঘর।
রহমানের বান্দারা পায় সেরা সেই স্থান,
নম্রতার শক্তিতে জিতে নেয় দুই জাহান।
এসো আমরা শিখি আজ সেই পবিত্র পথ,
নম্রতায় গড়ি জীবন, মুছে ফেলি ক্ষত।
সত্য আর ধৈর্যের আলো জ্বালাই অন্তরে,
তবেই হবো আমরা সবাই প্রিয় বান্দার দলে।
***
ধুলোর বুকে নরম পায়ে হাঁটে যেই মানুষ,
নেই তার মাঝে অহংকার, নেই গর্বের আবেশ।
চোখে তার শান্তির ছায়া, কণ্ঠে মিষ্টি বাণী,
নম্রতায় সে জিতে নেয় পৃথিবীরই প্রাণী।
অজ্ঞ যদি ডাকে তাকে কঠোর কোনো ভাষায়,
ঝড় তোলে না অন্তরে, রাগ জমে না আশায়।
সে শুধু বলে “সালাম”—শান্তিরই আহ্বান,
নরম কথায় নিভিয়ে দেয় বিরোধেরই আগুন-ধান।
রাতের আঁধার নেমে এলে নিস্তব্ধ চারিধার,
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, থেমে যায় সংসার—
তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকে রবেরই দরজায়,
সিজদারত কপাল নিয়ে অশ্রু ঝরে স্রোতায়।
দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া করে, নত হয় বারবার,
হৃদয়ের সব ব্যথা ঢেলে দেয় প্রভুরই দ্বার।
বলে— “হে আমাদের রব! আগুন হতে রক্ষা দাও,
যে শাস্তি অন্তহীন—সেই দহন দূরে নাও।”
জাহান্নামের ভয়াল ছবি কাঁপিয়ে তোলে প্রাণ,
তাই তো তারা খোঁজে শুধু রহমতেরই দান।
করুণার সেই ছায়াতলে আশ্রয় নিতে চায়,
ক্ষমার সাগরে ডুবিয়ে দাও—এই মিনতি গায়।
ব্যয়ে তারা সংযমী, নয় অপচয়ের ঢেউ,
আবার কৃপণতাও নয়—সমতায় গড়া নেউ।
মাঝামাঝি চলার মাঝে সৌন্দর্যের ছোঁয়া,
এই পথেই লুকিয়ে থাকে জীবনেরই মোহা।
এক আল্লাহই তাদের ডাকে, একেই ভালোবাসে,
শিরকের অন্ধকার থেকে দূরে থাকে ভাসে।
অন্যায় করে প্রাণ নেয় না, রাখে জীবনের মান,
ন্যায়ের পথে অবিচল—এটাই তাদের জ্ঞান।
পাপের ডাকে সাড়া দেয় না, লজ্জা রাখে ঢাল,
অপবিত্রতার ছোঁয়া থেকে রাখে নিজেকে কাল।
যদি কখনো ভুলে যায়, পড়ে অন্ধকারে,
তাওবার অশ্রু ঝরে পড়ে অন্তরেরই দ্বারে।
ফিরে আসে সে প্রভুর কাছে অনুতাপের সুরে,
ক্ষমার দুয়ার খুলে যায় ভালোবাসার নূরে।
পাপগুলোও রূপ নেয় তখন পুণ্যেরই আলোয়,
রহমতের ঢেউ ভাসিয়ে দেয় অন্তরেরই ঢালোয়।
মিথ্যার পথে হাঁটে না তারা, সত্য তাদের ঢাল,
অযথা কথা এড়িয়ে চলে রাখে নিজেকে কাল।
অর্থহীন সব কাজ পেরিয়ে সম্মানেরই ছায়ায়,
নম্রতারই মহিমাতে জীবন তাদের গায়।
আয়াত যখন শোনানো হয়, জেগে ওঠে প্রাণ,
অন্ধ-বধির হয়ে নয়, বুঝে নেয় সে জ্ঞান।
হৃদয়ের দ্বার খুলে নেয় নূরেরই আলোয়,
হিদায়াতের পথে চলে শান্তিরই ভালোয়।
তারা বলে— “হে আমাদের রব! দাও এমন সংসার,
চোখের শীতল শান্তি মেলে যেখানে বারংবার।
স্ত্রী-সন্তান হোক এমন—নেককারের দল,
তাদের মাঝে ফুটে উঠুক ঈমানেরই ফল।”
আরও বলে— “হে প্রভু! দাও এমনই মান,
মুত্তাকীদের সারিতে পাই নেতৃত্বের স্থান।”
না অহংকার, না গর্ব—শুধু সত্যের আলো,
মানুষকে পথ দেখাক আমাদেরই ভালো।
ধৈর্যের বুকে আগলে রাখে কষ্টের প্রতিটি ক্ষণ,
ঝড় এলে ভাঙে না তারা, দৃঢ় তাদের মন।
সবরের এই দীপ্তিতে জ্বলে আশার প্রদীপ,
এই সবরের বিনিময়ে পায় জান্নাতের নীড়।
উচ্চ কক্ষে স্থান পায় তারা শান্তিরই ঘরে,
সালামের অভ্যর্থনায় ভরে ওঠে দ্বারে।
চিরদিনের আবাস সে—নেই কোনো অবসান,
সুখের ধারা বয়ে চলে অফুরন্ত দান।
কতই না সুন্দর সেই চিরস্থায়ী নিবাস,
যেখানে নেই কোনো ভয়, নেই কোনো হতাশ।
রহমানের প্রিয় বান্দারা পায় সেরা সম্মান,
নম্রতা আর সবরের পথে জিতে নেয় দুই জাহান।
***
ধুলোমাখা পৃথিবীর বুকে নরম পায়ে হেঁটে চলে কিছু মানুষ,
তাদের চোখে নেই অহংকারের আগুন, নেই গর্বের অন্ধ ঝড়,
বরং বিনয়ের শিশিরে ভেজা তাদের প্রতিটি পদচারণা,
যেন মাটিও তাদের ভালোবাসে, আকাশও দেয় নীরব সাড়া।
মানুষের ভিড়ে তারা থাকে, তবু আলাদা এক আলো হয়ে,
কথার ভঙ্গিতে মাধুর্য, আচরণে প্রশান্তির ঢেউ বয়ে যায়,
অজ্ঞতার তীর এসে যদি বিদ্ধ করে তাদের অন্তর,
তারা প্রতিশোধে জ্বলে না—বরং বলে “সালাম”, শান্তির আশীর্বাদ ছড়ায়।
এই “সালাম” শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক প্রশান্ত হৃদয়ের ভাষা,
এতে নেই ক্রোধের আগুন, নেই প্রতিহিংসার বিষাক্ত ছোঁয়া,
এ যেন উত্তাল সাগরের মাঝে হঠাৎ নেমে আসা নিস্তব্ধতা,
যেখানে রাগ ভেঙে পড়ে, আর ভালোবাসা নেয় নীরব দোলা।
রাত নামে—নক্ষত্রেরা জ্বলে ওঠে আকাশের নীল পটে,
সবাই যখন ক্লান্ত হয়ে ডুবে যায় ঘুমের গভীর স্রোতে,
তখন কিছু হৃদয় জেগে ওঠে অদৃশ্য এক ডাকে,
সিজদারত কপাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে প্রভুর দরবারে।
নীরবতার বুক চিরে ভেসে আসে কান্নাভেজা মিনতি,
হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসে আত্মসমর্পণের গান,
“হে আমাদের রব! তুমি আমাদের বাঁচাও সেই আগুন থেকে,
যার শাস্তি অন্তহীন, যার দহন সীমাহীন, ভয়ংকর ও অবিরাম।”
এই প্রার্থনা শুধু ভয় নয়—এ এক উপলব্ধির আর্তনাদ,
জীবনের ক্ষণস্থায়ী সুখের আড়ালে লুকানো চিরন্তন সত্যের ডাক,
তারা জানে—এই দুনিয়া এক ক্ষণিকের পরীক্ষা,
আর পরকাল—চিরস্থায়ী এক প্রতিদানের পথচিহ্ন আঁকা।
তাদের ব্যয়ের পথও ভিন্ন—না অপচয়ের উন্মাদনা, না কৃপণতার আঁধার,
বরং সংযমের আলোয় গড়া এক ভারসাম্যের জীবন,
অল্পতে তুষ্ট, তবু প্রয়োজনে উদার—
তাদের হাত দেয়, কিন্তু অহংকার কখনো নেয় না জন্ম।
তাদের হৃদয় এক আল্লাহর প্রেমে বাঁধা, একমাত্র তাঁরই ডাকে সাড়া দেয়,
শিরকের অন্ধকারে তারা হারিয়ে যায় না, পথভ্রষ্ট হয় না,
প্রাণের মর্যাদা তাদের কাছে পবিত্র আমানত,
অন্যায় রক্তপাত তাদের অন্তরকে কাঁপিয়ে তোলে গভীর বেদনায়।
পাপের আহ্বান যখন ছায়ার মতো কাছে আসে,
তারা চোখ ফিরিয়ে নেয়, লজ্জার পর্দায় ঢেকে রাখে অন্তর,
তবু মানুষ বলেই কখনো ভুলের আঁধারে পড়ে গেলে,
তারা ভেঙে পড়ে না—বরং ফিরে আসে কান্নার স্রোত ধরে।
তাওবার দরজায় কড়া নাড়ে এক ভাঙা হৃদয়,
অনুতাপের অশ্রু ঝরে পড়ে রাতের নীরবতায়,
আর তখনই দয়ার সাগর উথলে ওঠে—
পাপগুলো রূপ নেয় পুণ্যের উজ্জ্বল আলোয়।
কী অপার সেই করুণা! কী অসীম সেই ক্ষমা!
যে ফিরে আসে, তাকে ফিরিয়ে দেয় না দয়াময় প্রভু,
বরং তাকে নতুন করে গড়ে তোলেন নূরের স্পর্শে,
তার অতীতকে ঢেকে দেন ভবিষ্যতের আশার রঙে।
মিথ্যার পথে তারা হাঁটে না, সত্য তাদের দৃঢ় আশ্রয়,
অর্থহীন কথার ভিড়ে তারা হারিয়ে যায় না কখনো,
সম্মানের সাথে পেরিয়ে যায় শূন্যতার সব প্রান্তর,
কারণ তারা জানে—প্রতিটি শব্দেরও আছে জবাবদিহি একদিন।
যখন তাদের সামনে তুলে ধরা হয় প্রভুর বাণী,
তারা অন্ধের মতো পড়ে থাকে না, বধিরের মতো শোনে না,
বরং হৃদয়ের দরজা খুলে দেয় আলোর জন্য,
হিদায়াতের সেই আলোয় তারা নতুন জীবন খুঁজে পায়।
তাদের স্বপ্নও পবিত্র—
তারা চায় এমন এক পরিবার, যেখানে ভালোবাসা হবে ইবাদত,
স্ত্রী-সন্তান হবে চোখের শীতল প্রশান্তি,
যারা একে অপরকে স্মরণ করাবে সত্যের পথে, আলোর দিকে।
তারা প্রার্থনা করে—
“হে আমাদের রব! আমাদেরকে করো মুত্তাকীদের পথপ্রদর্শক,
আমাদের জীবন হোক এমন এক উদাহরণ,
যেখানে মানুষ সত্যকে দেখে, আর মিথ্যা থেকে ফিরে আসে।”
এই চাওয়া কোনো গর্ব নয়, এটি এক দায়িত্বের আহ্বান,
মানবতার মাঝে আলোর প্রদীপ জ্বালানোর আকাঙ্ক্ষা,
নিজে ভালো হয়ে অন্যকে ভালোতে ডাকার অঙ্গীকার,
এ যেন এক নীরব বিপ্লব—অন্তরের পরিবর্তনের মহাযাত্রা।
ধৈর্য তাদের শক্তি—
ঝড় এলেও তারা ভেঙে পড়ে না, বরং আরও দৃঢ় হয়,
কষ্ট তাদের নত করে না, বরং আরও নিকট করে প্রভুর কাছে,
অন্ধকারের মাঝেই তারা খুঁজে পায় আলোর দিশা।
এই সবরের বিনিময়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করে এক অনন্ত পুরস্কার,
জান্নাতের উচ্চ কক্ষ, শান্তির অপার নিবাস,
যেখানে প্রবেশের সময় শোনা যাবে “সালাম”,
আর সেই সালাম হবে চিরন্তন আনন্দের প্রথম সুর।
সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের ছায়া,
নেই বিচ্ছেদ, নেই কষ্টের কোনো স্মৃতি,
শুধু শান্তি, শুধু আনন্দ, শুধু প্রভুর সন্তুষ্টি—
যা পৃথিবীর সব সুখকে ম্লান করে দেয়।
কতই না সুন্দর সেই চিরস্থায়ী আবাস!
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত প্রশান্তির, প্রতিটি নিঃশ্বাস সুখের,
যেখানে শেষ নেই, ক্ষয় নেই, ভয় নেই—
শুধু ভালোবাসা আর শান্তির অফুরন্ত ধারা।
এই তো তারা—রহমানের প্রিয় বান্দারা,
নম্রতায় মহিমান্বিত, ধৈর্যে অটল, সত্যে উজ্জ্বল,
তাদের জীবন এক কাব্য, এক শিক্ষা, এক আলোর পথ,
যে পথে হাঁটলে মানুষ খুঁজে পায় দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।
এসো, আমরাও সেই পথে হাঁটি—
অহংকার ছেড়ে বিনয়ের আলো জ্বালাই হৃদয়ে,
সত্যকে আঁকড়ে ধরি, পাপ থেকে ফিরে আসি,
তাহলেই একদিন আমরাও হবো সেই প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত—
যাদের জন্য অপেক্ষা করছে শান্তির চিরন্তন ঠিকানা।
সূরাঃ আল-ফুরকান আয়াতঃ৬৩-৭৬ মাক্কী
১
২ মন্তব্য