প্রভাষক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদে পৌঁছে গেল মহাকাশচারীরা
নাসার আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মিশনের বর্তমান অবস্থা ও সময়সূচী
উৎক্ষেপণ: ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে 'স্পেস লঞ্চ সিস্টেম' (SLS) রকেটের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে ।
ফ্লাইবাই: ৬ এপ্রিল মহাকাশচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছে (প্রায় ৪,০৬৭ মাইল বা ৬,৫০০ কিমি উপরে) পৌঁছান এবং চাঁদের অন্ধকার দিক (Far Side) প্রদক্ষিণ করেন ।
ফিরে আসা: ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
২. নভোচারী দলের সদস্যদের ভূমিকা
এই মিশনে মোট চারজন নভোচারী অংশ নিয়েছেন:
রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার): অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন ।
ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের অভিযানে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ।
ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট): প্রথম নারী হিসেবে তিনি গভীর মহাকাশে যাত্রা করেছেন। মহাকাশযানে শৌচাগারের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তিনি তা সফলভাবে মেরামত করেন ।
জেরেমি হ্যানসেন
(মিশন স্পেশালিস্ট): কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির হয়ে প্রথমবার কোনো অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের অভিযানে যোগ দিয়েছেন ।
৩. অভিযানের মূল লক্ষ্য ও অর্জন
প্রযুক্তি পরীক্ষা: দীর্ঘ ১০ দিনের এই যাত্রায় ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনদায়ী ব্যবস্থা (Life Support System), যোগাযোগ এবং নেভিগেশন সিস্টেম মানুষের উপস্থিতিতে কেমন কাজ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে ।
নতুন রেকর্ড: এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এটি মানুষের জন্য পৃথিবী থেকে দূরতম মহাকাশ ভ্রমণের নতুন রেকর্ড ।
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ: চাঁদের উপরিভাগ পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি মহাকাশচারীরা সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা (Corona) নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং বেশ কিছু উল্কাপাত ক্যামেরাবন্দী করেছেন ।
৪. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আর্টেমিস ২-এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী মিশনগুলো সাজানো হয়েছে:
আর্টেমিস ৩ (২০২৭): মহাকাশে নতুন ল্যান্ডার ও ডকিং সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে ।
আর্টেমিস ৪ (২০২৮): এই মিশনেই নভোচারীরা সরাসরি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে ।
১৪
২৪ মন্তব্য