Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ

পহেলা বৈশাখ: বাঙালির প্রাণের উৎসব

​★★ভূমিকা
​পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এটি বাঙালির জাতীয় উৎসব। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই দিনটি সমগ্র বাংলাভাষী মানুষের হৃদয়ে এক নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসে। অতীতের সব দুঃখ-গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরে সুন্দর ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় বাঙালি জাতি এই দিনটি উদ্‌যাপন করে।
★★​ঐতিহাসিক পটভূমি
​বাংলা সন প্রবর্তনের ইতিহাস মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে হিজরি চন্দ্রসন অনুযায়ী কর বা খাজনা আদায় করা হতো, যা কৃষকদের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। তাই সম্রাট আকবর ফসলি সনের প্রবর্তন করেন, যা পরে ‘বাংলা সন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ বা ৯৬৩ হিজরি থেকে এই সনের গণনা শুরু হয়।
★★​উৎসবের প্রস্তুতি ও আয়োজন
​পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে এবং নতুন পোশাক পরে। ব্যবসায়ীদের জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ; তারা পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন, যাকে বলা হয় ‘হালখাতা’। ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো এই সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
★★​সংস্কৃতি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা
​পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ভোরের আলো ফুটতেই রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে নতুন বছরকে আবাহন জানানো হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হয় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’।
★★​খাদ্য ও গ্রামীণ মেলা
​পহেলা বৈশাখ মানেই গ্রামগঞ্জে ও শহরে মেলা। মেলায় মাটির পুতুল, নাগরদোলা, মণ্ডা-মিঠাই আর কুটির শিল্পের পসরা বসে। খাবারের তালিকায় স্থান পায় পান্তা-ইলিশ, নানা পদের ভর্তা এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি। গ্রামীণ জনপদে সার্কাস, জারি-সারি, পালাগান এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
★★​উপসংহার
​পহেলা বৈশাখ বাঙালির ঐক্যের প্রতীক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা বাঙালি। আধুনিকতার ভিড়েও পহেলা বৈশাখ তার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। বৈষম্য আর সংকীর্ণতা দূর করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় সমাজ গড়ার শপথ নেওয়ার দিনই হলো পহেলা বৈশাখ।

মন্তব্য করুন