প্রভাষক
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে"—এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এর বাস্তব সত্যতা অপরিসীম। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান (৬০% শ্রমশক্তি) এবং সামগ্রিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেন কৃষকরা। কৃষক ভালো থাকলে, অর্থাৎ সঠিক মূল্য ও উপকরণ পেলে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে।
কৃষক ও দেশের সম্পর্কের মূল দিকগুলো:
খাদ্য নিরাপত্তা: কৃষকের উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দেশের অস্তিত্ব নির্ভরশীল।
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের অর্থনীতির ভিত্তি।
উন্নয়নের চাবিকাঠি: কৃষক সঠিক উপকরণ (বীজ, সার) ও ন্যায্য মূল্য পেলে কৃষির উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়।
নতুন উদ্যোগ: কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে, যা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের কাঁচামাল নিশ্চিত করে।
"কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে"—এটি কেবল একটি আবেগপূর্ণ বাক্য নয়, বরং বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশের অস্তিত্ব রক্ষার মূল ভিত্তি। এদেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং মানুষের জীবনযাত্রা আষ্টেপৃষ্ঠে কৃষির সাথে জড়িত। নিচে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জিডিপি
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ যেখানে শ্রমশক্তির প্রায় ৪০.৬২% সরাসরি কৃষিতে নিয়োজিত।
জিডিপিতে অবদান: বর্তমানে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে (GDP) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১২% থেকে ১৪% ।
শিল্পের কাঁচামাল: পাট, চা এবং বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল কৃষকদের হাত থেকেই আসে। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই বিশাল শিল্প খাতও মুখ থুবড়ে পড়বে।
২. খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা
দেশের ১৭ কোটির বেশি মানুষের তিন বেলার খাবারের যোগানদাতা হলেন কৃষকরা।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয়। এছাড়া সবজি, আলু ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনেও শীর্ষ তালিকায় রয়েছে।
আমদানি নির্ভরতা হ্রাস: কৃষক পর্যাপ্ত ফসল ফলালে সরকারকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে খাদ্য আমদানি করতে হয় না।
৩. দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়ন
বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের ৮৭ শতাংশ মানুষের আয়ের উৎস সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষি।
কর্মসংস্থান: কৃষিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে ওঠে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
দারিদ্র্য হ্রাস: ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য হ্রাসের ৯০ শতাংশই সম্ভব হয়েছে কৃষি খাতের অগ্রগতির কারণে।
৪. বর্তমান চ্যলেঞ্জ ও প্রয়োজনীয়তা
কৃষক বর্তমানে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে:
জলবায়ু পরিবর্তন: অতিবৃষ্টি, বন্যা ও লোনা পানির কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে।
ন্যায্য মূল্য: উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা প্রায়ই ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না, যা তাদের পেশা পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আধুনিকায়ন: স্মার্ট কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ হিসেবে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
কৃষক যদি লোকসানের মুখে পড়ে বা চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তাই দেশকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাখতে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা অপরিহার্য।
১
২ মন্তব্য