প্রভাষক
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
গরমে চা খেলে কি গরম লাগে
গরমের দিনে গরম চা খাওয়ার বিষয়টি প্রথম শুনলে অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে শরীরবিদ্যার সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। বিস্তারিত প্রক্রিয়াটি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. থার্মো-সেন্সর এবং মস্তিষ্কের ভূমিকা
আমাদের জিভ এবং পাকস্থলীতে কিছু বিশেষ থার্মো-সেন্সর (তাপ সংবেদনশীল কোষ) থাকে। যখন আপনি গরম চা পান করেন, তখন এই সেন্সরগুলো মস্তিষ্কে দ্রুত বার্তা পাঠায় যে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্ক তখন শরীরকে শীতল করার জন্য "কুলিং মেকানিজম" বা শীতলীকরণ প্রক্রিয়া চালু করে দেয়।
২. ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবন
মস্তিষ্কের সংকেত পেয়ে ঘর্মগ্রন্থিগুলো প্রচুর ঘাম তৈরি করতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'ইভাপোরেটিভ কুলিং'। যখন এই ঘাম আপনার ত্বক থেকে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়, তখন এটি শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে সুপ্ত তাপ টেনে নেয়। এর ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের বাতাসের চেয়েও কমে যায় এবং আপনি বেশ আরাম অনুভব করেন।
৩. রক্তনালীর প্রসারণ (Vasodilation)
গরম পানীয় পানের ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো কিছুটা প্রসারিত হয়। এতে শরীরের গভীরে থাকা তাপ রক্তের মাধ্যমে ত্বকের কাছাকাছি চলে আসে এবং ত্বক থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে সেই তাপ পরিবেশে বেরিয়ে যেতে পারে। বিপরীতে, খুব ঠান্ডা পানীয় রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে, যা শরীরের ভেতরের তাপ ভেতরেই আটকে দেয়।
৪. হজম ও মেটাবলিজম
চায়ের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং গরম পানি পাচনতন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা পানি পানে হজমে গোলমাল হয়, কিন্তু লিকার চা বা ভেষজ চা শরীরকে হালকা ও সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. কখন এটি কাজ করবে না?
এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটি কাজ করার জন্য একটি শর্ত আছে— ঘাম শুকানোর সুযোগ থাকতে হবে।
যদি আবহাওয়া খুব বেশি আর্দ্র (Humid) হয় বা ভ্যাপসা গরম থাকে যেখানে ঘাম শুকায় না, তবে গরম চা খেলে শরীর আরও বেশি গরম লাগতে পারে।
শুষ্ক আবহাওয়ায় বা ফ্যান/বাতাস আছে এমন জায়গায় গরম চা শরীর ঠান্ডা করতে জাদুর মতো কাজ করে।
কিছু টিপস:
গরমে দুধ-চিনি চা এড়িয়ে লেবু চা, আদা চা বা গ্রিন টি পান করা ভালো।
চায়ের সাথে অবশ্যই পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান করবেন, কারণ চা শরীর থেকে পানি বের করে দেয়।
১
২ মন্তব্য