সহকারী অধ্যাপক
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:২৪ অপরাহ্ণ
মানবতার দীপশিখা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মানবতার দীপশিখা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ মানুষে গড়া এই পৃথিবীর পথ,
ভালোবাসা ছাড়া সবই যেন শূন্য রথ।
রাসূলের বাণী আলো, পথের দিশারী—
সেই আলোয় গড়ি হৃদয়, হই আমরা ভারী।
সে-ই মুসলিম, যার মুখে নেই কটু কথা,
তার জিহ্বা যেন ফুল—সুগন্ধময় ব্যথা।
হাত তার নিরাপদ, কারো ক্ষতি করে না,
মানবতার বুকে সে আঘাত কখনো দেয় না।
তার চোখে নেই ঘৃণা, নেই হিংসার ছায়া,
তার অন্তরে জ্বলে নূরেরই মায়া।
মানুষ দেখে তারে—শান্তির এক রূপ,
সে যেন জীবন্ত এক জান্নাতের কূপ।
হিজরত শুধু ঘর ছেড়ে দূরে যাওয়া নয়,
নিজের নফস ত্যাগে যে—সত্যিকারের জয়।
যা নিষেধ আল্লাহর, তা থেকে ফিরে থাকা,
এই তো আসল পথ, এই তো মুক্তির রেখা।
লোভ, হিংসা, ক্রোধ—সব ত্যাগের গান,
নিজেকে বদলানোই সবচেয়ে বড় দান।
যে নিজেকে জিতে নেয়, সে-ই বীর মহান,
তার হৃদয়ে জ্বলে আল্লাহরই সম্মান।
উত্তম ইসলাম কিসে?—প্রশ্ন এল ধ্বনি,
উত্তর এল মধুর, নবীর কণ্ঠধ্বনি—
“যার মুখ ও হাতে নিরাপদ সব প্রাণ,
সেই তো উত্তম পথে, সেই প্রকৃত ঈমান।”
না কষ্ট দেয় কারো, না করে অপমান,
তার জীবনের রঙ—শান্তির অবিরাম।
সে যেখানে থাকে, সেখানেই আলো,
তার ছোঁয়ায় দুঃখও হয়ে ওঠে ভালো।
খাদ্য দাও অভাবে, ক্ষুধার্তের তরে,
মানবতার সেতু গড়ো ভালোবাসার ঘরে।
চেনা বা অচেনা—সবাইকে দাও সালাম,
এই সহজ আমলে লুকায় বড়ই সম্মান।
একটি হাসি, একটি সালাম—
ভেঙে দেয় হাজারো অন্ধকারের গ্রাম।
হৃদয় হতে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে নূর,
এই তো ইসলামের সৌন্দর্যের সুর।
প্রকৃত মু’মিন সে—যার হৃদয় বিশাল,
নিজের মতো চায় সে অন্যেরও কল্যাণকাল।
যা নিজের জন্য ভালো—অন্যের জন্যও তাই,
এই ভালোবাসাতেই ঈমান পূর্ণ হয় ভাই।
নিজে খাবে, অন্যকে দেবে না—
এমন হৃদয় কখনো জান্নাত পাবে না।
ভাগ করে খাওয়া, ভাগ করে সুখ,
এই তো জীবনের সবচেয়ে বড় মুখ।
এসো গড়ি সমাজ—ভালোবাসার ঘর,
যেখানে নেই হিংসা, নেই কোনো পর।
সবাই হবে ভাই, সবাই হবে আপন,
এই বন্ধনে জুড়াবে হৃদয়ের স্পন্দন।
রাসূলের শিক্ষা হোক জীবনের আলো,
এই পথেই মিলবে শান্তির ভালো।
মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে যেদিন,
সেদিনই পৃথিবী হবে জান্নাতের ঋণ।
হে মানুষ! শোনো সেই অমর বাণী,
ভালোবাসায় গড়ো তোমার জীবনের পানি।
নিরাপদ করো জিহ্বা, সংযত রাখো হাত,
এই পথেই মিলবে সফলতার প্রভাত।
খাদ্য দাও, সালাম দাও, ভালোবাসো প্রাণ,
নিজের মতো চাও সবার কল্যাণ।
এই শিক্ষাই চিরন্তন, এই পথেই মুক্তি—
এ পথেই লুকায় জীবনের সার্থক যুক্তি।
মানবতা, সহমর্মিতা, ও ভালোবাসার এই মহাকাব্য—
শুধু কবিতা নয়, জীবন গড়ার এক অনন্ত আহ্বান।
***
এ আহ্বান হৃদয়ে জাগে নীরব দীপ্ত শিখায়,
অন্ধকারে পথ দেখায়, আলোর দিশা দেয় মায়ায়।
যেখানে ঘৃণা থামে, শুরু হয় ক্ষমার গান,
সেখানে মানুষ খুঁজে পায় তার সত্য পরিচয়-জ্ঞান।
যে হাত ছিল আঘাতে, সে হাত হোক আশ্রয়,
যে মুখে ছিল কঠোরতা, সে মুখ হোক মধুময়।
যে হৃদয় ছিল সংকীর্ণ, হোক তা আকাশসম,
সবাইকে জড়িয়ে রাখুক ভালোবাসার অনুক্ষণ।
সহমর্মিতার স্পর্শে গলে যায় কঠিন মন,
এক ফোঁটা দয়ায় বদলে যায় শত শত জীবন।
একটি সালাম, একটি হাসি, একটি আন্তরিক ডাক—
এগুলোই গড়ে তোলে মানবতার পবিত্র ফাঁক।
এসো তবে আমরা গড়ি সেই স্বপ্নের সমাজ,
যেখানে নেই বিভেদ, নেই কোনো লাজ।
ভাইয়ের দুঃখে কাঁদি, সুখে হই আনন্দিত,
এই বন্ধনেই মানুষ হয় সত্যিকারের উন্নত।
এই আহ্বান থামবে না—যতদিন আছে প্রাণ,
ভালোবাসার এই পথেই জাগবে নতুন জ্ঞান।
মানবতা হবে শক্তি, সহমর্মিতা হবে ঢাল,
এই আদর্শেই গড়বে পৃথিবী—শান্তির অবিচল জাল।
***
এই জীবন শুধু নয় নিজের সুখের তরে,
মানুষ হয়ে মানুষকে রাখি বুকের ঘরে।
ভালোবাসা, দয়া, আর সহমর্মিতার ডাক—
এই তিনেই গড়ে ওঠে জীবনের আসল পথচাক।
রাসূলের বাণী যেন আলোয় ভরা দিশা,
অন্ধকারে পথ দেখায়, মুছে দেয় সব দিশাহারা বিষা।
এসো আজ গড়ি আমরা নতুন এক মানবধর্ম,
যেখানে ভালোবাসাই হবে সবচেয়ে বড় কর্ম।
সে-ই তো মুসলিম, যার কথা কোমল ফুল,
তার মুখে নেই তিরস্কার, নেই কোনো ভুল।
তার হাতের ছোঁয়ায় কেউ পায় না ব্যথা,
বরং সে দেয় শান্তি—ভালোবাসার কথা।
কত মানুষ কষ্ট পায় কঠোর বাক্যের ঘায়ে,
একটি কথায় ভেঙে পড়ে হৃদয়ের প্রাসাদ ছায়ে।
তাই বলি, কথা বলো মধুর, কোমল সুরে,
মানুষ যেন শান্তি পায় তোমার প্রতিটা নূরে।
ঘর ছেড়ে যাওয়া শুধু হিজরত নয়,
পাপ ছেড়ে আসাই আসল জয়ের পরিচয়।
নিজের ভেতর বদল আনাই বড় কাজ,
এতেই খুঁজে পাবে জীবনের নতুন সাজ।
লোভ-হিংসা-ক্রোধ—সব করো ত্যাগ,
নিজেকে শুদ্ধ করাই সবচেয়ে বড় ভাগ।
যে নিজের নফসকে করে নিয়ন্ত্রণ,
সে-ই তো পায় জীবনের প্রকৃত অর্জন।
কিসে উত্তম ইসলাম?—প্রশ্ন জাগে মনে,
উত্তর আসে নবীর স্নিগ্ধ বাণী সনে—
“যার জিহ্বা আর হাতে নিরাপদ সব প্রাণ,
সেই তো উত্তম পথে, সেই শ্রেষ্ঠ মুসলমান।”
সে কষ্ট দেয় না কাউকে, রাখে সবার মান,
তার জীবনে নেই কোনো অন্যায় অবমান।
তার ছোঁয়ায় পৃথিবী হয় শান্তিময় স্থান,
তার জীবনই হয়ে ওঠে এক জীবন্ত কুরআন।
ক্ষুধার্তকে খাওয়াও, দাও ভালোবাসা,
এই দানেই লুকায় জীবনের আসল ভাষা।
চেনা-অচেনা সবাইকে দাও সালাম,
এই ছোট আমলেই রয়েছে বড় সম্মান।
একটি সালাম ভাঙে অচেনা দেয়াল,
একটি হাসি মুছে দেয় হৃদয়ের জঞ্জাল।
এভাবেই গড়ে ওঠে সম্পর্কের সেতু,
ভালোবাসার বন্ধন হয় অটুট, অবিচ্ছেদ্য।
প্রকৃত মু’মিন সে—যার হৃদয় উদার,
নিজের সুখের সাথে চায় অন্যেরও অধিকার।
যা নিজের জন্য ভালো, চায় সবার তরে,
এই নীতিতেই মানুষ ওঠে শ্রেষ্ঠ ঘরে।
নিজে খেয়ে অন্যকে না দিলে কী লাভ?
এমন হৃদয়ে জাগে না দয়ার আলোকছায়া স্বভাব।
ভাগ করে নাও সুখ, ভাগ করে নাও দুঃখ,
এই ভালোবাসাতেই মুছে যায় সব শূন্যতা-শোক।
এসো গড়ি সমাজ—ভালোবাসার ভিত্তি,
যেখানে নেই ঘৃণা, নেই কোনো কৃত্রিম ভীতি।
সবাই হবে ভাই, সবাই হবে আপন,
এই বন্ধনে জাগবে নতুন জীবনের স্পন্দন।
ধনী-গরিব ভেদ ভুলে হাতে হাত ধরি,
একই ছায়ায় বসে সুখ-দুঃখ ভাগ করি।
এই সমাজেই ফুটবে শান্তির ফুল,
মানবতার গান হবে পৃথিবীর মূল।
এই পথ কঠিন নয়—শুধু দরকার মন,
একটু দয়া, একটু ভালোবাসা, একটু স্নেহবরণ।
তুমি বদলাও নিজেকে, বদলাবে এই দুনিয়া,
এই শিক্ষাতেই লুকিয়ে জীবনের প্রকৃত সুনিয়া।
মানুষের মাঝে ছড়াও শান্তির বারতা,
এই কাজেই লুকিয়ে জীবনের সত্যতা।
একটি ভালো কাজ, একটি সত্য কথা—
এই দিয়েই বদলাবে দুনিয়ার ব্যথা।
মানবতা, সহমর্মিতা, ভালোবাসার গান,
এই তিনেই গড়ে ওঠে জীবনের সম্মান।
এ মহাকাব্য শুধু শব্দের সাজ নয়—
এ এক জীবন্ত পথ, চিরন্তন জয়।
এসো তবে চলি আমরা সেই আলোর পথে,
যেখানে নেই অন্ধকার, নেই কোনো ক্ষতে।
রাসূলের শিক্ষা হোক জীবনের প্রাণ—
এই পথেই মিলবে মুক্তি, শান্তির সম্মান।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
Top of Form
Bottom of Form
১
১ মন্তব্য