সহকারী অধ্যাপক
১২ জুন, ২০২৬ ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
মজলুমের আর্তনাদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মজলুমের আর্তনাদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে মহান আল্লাহ! তুমি ন্যায়ের মালিক, সর্বশক্তিমান,
তোমার দরবারে তুলে ধরি হৃদয়ের গোপন আর্তনাদ।
যে হক হারিয়ে গেছে জুলুমের অন্ধকার পথে,
তুমি তা ফিরিয়ে দাও, দয়া করে তোমার রহমতের রথে।
বন্ধুর বেশে কাছে এসে যারা দিয়েছে আঘাত,
হাসিমুখে লুকিয়ে রেখেছে প্রতারণার বিষাক্ত প্রভাত,
তাদের বিচার তোমার হাতে, তুমি সর্বজ্ঞ মহান,
অন্তরের সব গোপন কথা জানো তুমি অবিরাম।
মানুষ দেখে বাহ্যিক রূপ, বুঝে না মনের খবর,
তুমি জানো কার অন্তরে আছে সত্য, কার অন্তরে কবর।
কত বিশ্বাস ভেঙে গেছে আপনজনের ছলে,
কত অশ্রু ঝরেছে নীরবে, রাতের আঁধারতলে।
হে রব! তুমি মজলুমের কান্না কখনো ফেরাও না,
অত্যাচারীর শক্তি দেখে বিচার বিলম্বিত করো না।
তোমার কাছে দূরত্ব নেই, নেই কোনো অন্তরাল,
একটি আর্তনাদেই কেঁপে ওঠে আরশের বিশাল জাল।
যখন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, দেয় না কোনো সাড়া,
যখন সত্য চাপা পড়ে যায় মিথ্যার দম্ভে হারা,
তখন মজলুম ডাকে শুধু তোমারই পবিত্র নাম,
তোমার রহমতের ছায়াতলে খুঁজে পায় শান্তির ধাম।
হে আল্লাহ! তুমি ফিরিয়ে দাও হারানো সম্মান,
মুছে দাও হৃদয়ের যত কষ্ট, বেদনা আর অবসান।
যারা অন্যায় করে ভেবেছে পাবে না কোনো শাস্তি,
তাদের বুঝিয়ে দাও—তোমার বিচারেই চূড়ান্ত মুক্তি।
আমরা চাই না প্রতিশোধের অগ্নিশিখা জ্বলুক,
চাই শুধু সত্যের আলো চারদিকে ফুটুক।
চাই না কারো সর্বনাশ, চাই না কারো ক্ষতি,
চাই শুধু হকের প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ের বিজয়গাঁথা অমতি।
কত মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে কাঁদে,
কত নিরপরাধ দোষের বোঝা বয়ে চলে সাধে।
কত হৃদয় রক্তক্ষরণ করে নিভৃতে নিরবধি,
তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে, হে রব, দিবস-রজনী।
তুমি তো দয়াময়, তুমি তো বিচারক সেরা,
তোমার কাছে অসম্ভব বলে নেই কিছু ধরা।
এক মুহূর্তে বদলে দিতে পারো ভাগ্যের লিখন,
অন্ধকারের বুক চিরে আনতে পারো আলোর আগমন।
হে রব! ধৈর্য দাও যখন কষ্ট আসে জীবনে,
ঈমান দাও দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে প্রতিটি ক্ষণে।
ক্ষমার শক্তি দাও, যদি ক্ষমাই হয় উত্তম,
আর ন্যায়ের শক্তি দাও, যদি সত্য রাখা হয় ধর্ম।
যারা জুলুম করেছে, তাদের হেদায়েত দাও,
সত্যের পথে ফিরিয়ে এনে হৃদয়টা নরম করাও।
আর যদি তারা ফিরে না আসে অন্যায়ের পথ থেকে,
তবে তোমার ন্যায়বিচার প্রকাশ করো যথাসময়ে থেকে।
বন্ধু বেশি দুশমনের বিচার হে মহান আল্লাহ! তুমি কর,
হারানো হক ফিরিয়ে দাও, দূর করো অন্তরের ঝড়।
মজলুমের চোখের জল তুমি বৃথা যেতে দিও না,
সত্যের পতাকা কখনো মিথ্যার কাছে নত করো না।
আমাদের হৃদয় রাখো কুরআনের নূরে আলোকিত,
সুন্নাহর পথে করো জীবন সুন্দর ও সুশোভিত।
দাও এমন ঈমান, যা ঝড়ে পড়ে না কখনো,
দাও এমন তাওয়াক্কুল, যা হার মানে না কোনো ক্ষণও।
শেষ রাতে যখন বান্দা তুলে ধরে দুই হাত,
অশ্রুভেজা কণ্ঠে করে তোমার কাছে মোনাজাত,
তখন তুমি শুনে নাও তার নীরব হৃদয়ের ভাষা,
তোমার রহমতেই ফুটে ওঠে আশার নতুন আশা।
হে পরম দয়ালু আল্লাহ! তুমি হকের মালিক মহান,
তোমারই বিচারে শান্তি পায় প্রতিটি মজলুম প্রাণ।
হারানো হক ফিরিয়ে দাও, মুছে দাও সব ব্যথা,
তোমার রহমতের ছায়ায় কাটুক জীবনের পথটা।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার
শুরু করি আল্লাহ নামে, যিনি দয়াময় মহান,
তাঁরই হাতে ন্যায়ের পাল্লা, তাঁরই বিধান অম্লান।
হে মহান আল্লাহ! তুমি কর বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার,
হক্বটা ফিরিয়ে দাও তুমি, দূর কর হৃদয়ের ভার।
যাদের ভেবেছি আপনজন, ছিল যারা প্রাণের সাথী,
তাদের মাঝেই লুকিয়ে ছিল বিশ্বাসঘাতকতার বাতি।
হাসিমুখে কাছে এসে দিয়েছে দুঃখের দাগ,
বন্ধুত্বের আবরণ পরে করেছে হৃদয় ফাঁক।
কত কথা, কত প্রতিশ্রুতি, কত স্মৃতির বাঁধন,
সবই যেন মিথ্যে হলো স্বার্থের ক্ষণিক সাধন।
যাদের হাতে দিয়েছিলাম বিশ্বাসের অমূল্য ধন,
তারাই আজ আঘাত হেনে করেছে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত মন।
হে রব! তুমি সবই জানো, গোপন কিছু নয়,
কার অন্তরে কী উদ্দেশ্য, তোমার কাছে প্রকাশময়।
মানুষ দেখে বাহ্যিক রূপ, বুঝে না অন্তর,
তুমি জানো কে সত্যবাদী, কে প্রতারণার ঘর।
কত মজলুম নীরবে কাঁদে, বলে না মনের কথা,
চোখের জলে ভিজে যায় তার দুঃখভরা ব্যথা।
চারপাশে মানুষ থাকে, তবু থাকে একা,
তোমার রহমতের আশায় চেয়ে থাকে নিরন্তর দেখা।
হে আল্লাহ! তুমি তো বলেছ, জুলুম তুমি পছন্দ করো না,
মজলুমের আর্তনাদ কখনো অগ্রাহ্য করো না।
অত্যাচারী যতই শক্তিশালী হোক পৃথিবীর বুকে,
তোমার বিচারের সামনে দাঁড়াবে কাঁপতে কাঁপতে।
যারা হক মেরে খায়, করে অন্যায় অবিরাম,
তারা ভাবে বুঝি পাবে না শাস্তি কোনোদিনও একদম।
কিন্তু তুমি তো বিচারক, তুমি সর্বশক্তিমান,
তোমার কাছে সবাই হবে একদিন জবাবদিহিমান।
হে রব! ফিরিয়ে দাও হারানো সম্মান,
ফিরিয়ে দাও মজলুমের অধিকার ও মান।
যে হক অন্যায়ভাবে গেছে কারো হাতে,
তুমি তা ফিরিয়ে দাও রহমতের প্রভাতে।
আমরা চাই না প্রতিশোধের আগুন জ্বলুক প্রাণে,
চাই না ঘৃণার বিষ ছড়িয়ে পড়ুক মানবগণে।
চাই শুধু ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক সত্যের আলোয়,
মিথ্যার দুর্গ ভেঙে যাক তোমারই হুকুমে নির্ভয়ে।
বন্ধুর ছদ্মবেশে যারা শত্রুতার বীজ বোনে,
তাদের চক্রান্ত ভেঙে দাও তোমার কুদরতের সনে।
সত্যকে দাও বিজয়, মিথ্যাকে কর পরাজিত,
তোমার নূরের সামনে হোক অন্ধকার বিলুপ্ত।
হে পরওয়ারদিগার! ধৈর্য দাও দুঃখের ক্ষণে,
সবর দাও প্রতিটি পরীক্ষা ও বিপদের দিনে।
দাও এমন ঈমান, যা ঝড়ে নড়ে না কখনো,
দাও এমন তাওয়াক্কুল, যা ভেঙে পড়ে না কোনো ক্ষণও।
যখন রাতের গভীরে নীরব হয় চারিধার,
মজলুম তখন তুলে ধরে ফরিয়াদের হাত দু'বার।
অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে—হে দয়াময় রব,
তুমি ছাড়া নেই তো আমার আর কোনো অবলম্বন সব।
তখন তুমি শুনে নাও হৃদয়ের গোপন ভাষা,
নিভে যাওয়া প্রদীপে জ্বালাও আশার নতুন আশা।
ভাঙা হৃদয় জুড়ে দাও রহমতের পরশে,
কষ্টের কালো মেঘ সরাও দয়ার আলোকবর্ষে।
হে মহান আল্লাহ! তুমি ন্যায়ের অধিপতি,
তোমার বিচারে শেষ হবে সব জুলুম ও ক্ষতি।
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার তুমি করো আজ,
হক্বটা ফিরিয়ে দাও, দূর কর অন্যায়ের লাজ।
মজলুমের চোখের জল বৃথা যেতে দিও না,
সত্যের পতাকাকে কখনো নত হতে দিও না।
তোমারই দরবারে রাখি অন্তরের সব ব্যথা,
হে রব! ফিরিয়ে দাও হারানো হক্বটা।
তুমি দয়াময়, তুমি করুণাময়, তুমি ন্যায়ের আলো,
তোমার রহমতে দূর হোক সব অন্ধকার কালো।
তোমারই বিচারে শান্তি পাক প্রতিটি নির্যাতিত প্রাণ,
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার
হে মহান আল্লাহ! তুমি করো ন্যায়ের সঠিক বিচার,
বন্ধু বেশী দুশমনের হাতে আজ হৃদয় হয়েছে ভার।
হক্বটা ফিরিয়ে দাও প্রভু, মুছে দাও সব ক্ষত,
তোমার দয়ার ছায়াতলে খুঁজি শান্তির পথ।
যাদেরকে ভেবেছি আপন, ছিল হৃদয়ের কাছাকাছি,
তাদের মাঝেই লুকিয়ে ছিল স্বার্থপরতার ফাঁসি।
মুখে ছিল মিষ্টি বাণী, অন্তরে ছিল বিষ,
বন্ধুত্বের নামে তারা করেছে সর্বনাশ নিঃশেষ।
বিশ্বাসের যে প্রাসাদ গড়েছিলাম যতনে,
ভেঙে দিল তারা এসে প্রতারণার আঘাতে ক্ষণে।
হাসিমুখে কাছে এসে করেছে হৃদয় ক্ষত,
বন্ধুর বেশে শত্রু ছিল—আজ বুঝি সেই সত্য।
হে রব! তুমি তো জানো বুকের গভীর ব্যথা,
কত রাত অশ্রু ঝরেছে, কেউ জানেনি সে কথা।
নিঃশব্দে কেঁদেছি আমি, তোমারই দরবারে,
মানুষ যখন দূরে সরে যায় স্বার্থের অন্ধকারে।
তুমি বলেছ কুরআনে—মজলুমের ডাকে সাড়া দাও,
অত্যাচারীর অন্যায়ের প্রতিফল অবশ্যই দাও।
তাই তো আজ দুই হাত তুলে তোমাকেই ডাকি,
তোমার ন্যায়ের আশায় হৃদয়ের প্রদীপ রাখি।
হে আল্লাহ! তুমি ফিরিয়ে দাও আমার হারানো হক্ব,
যে অধিকার কেড়ে নিয়েছে অন্যায়ের শক্তি।
তুমি ছাড়া আর কেউ নেই বিচার করার মতো,
তোমার আদালতেই হবে সব হিসাবের যত।
বন্ধুর নামে যারা করে শত্রুতার আয়োজন,
তাদের অন্তরের গোপন তুমি জানো প্রতিক্ষণ।
যারা মিথ্যার জাল বুনে সত্যকে দেয় আঘাত,
তোমার ন্যায়ের সামনে একদিন হবে পরাজিত।
আমার নয়নের অশ্রু তুমি বৃথা যেতে দিও না,
জুলুমের কালো মেঘে সত্যকে ঢাকতে দিও না।
যে কষ্ট জমেছে বুকে বছরের পর বছর,
তোমার রহমতের বৃষ্টিতে করো তা দূর।
হে পরওয়ারদিগার! দাও আমাকে ধৈর্যের শক্তি,
যেন কষ্টের মাঝেও হারাই না ঈমানের ভক্তি।
দাও এমন তাওয়াক্কুল, ঝড়েও যা টলে না,
তোমার ফয়সালার উপর ভরসা যেন কমে না।
মানুষের আদালতে হয়তো ন্যায় মিলবে না সবখানে,
কিন্তু তোমার বিচারে কেউ বাঁচবে না কোনো অজুহাতে।
এক কণাও জুলুম যদি করে থাকে কেউ,
তোমার মীযানের পাল্লায় তার হিসাব হবে ঢেউ।
হে মহান রব! তুমি হৃদয়ের খবর জানো,
কে মিথ্যাবাদী, কে সত্যবাদী—সবই তুমি মানো।
তাই তো আজ তোমার কাছেই বিচার চেয়ে বলি,
অন্যায়ের অন্ধকারে ন্যায় যেন না হয় ঢলি।
যদি আমার মাঝে থাকে কোনো ভুল বা অপরাধ,
ক্ষমা করে শুদ্ধ করো, দাও হেদায়াতের সাধ।
আর যদি কেউ করে থাকে জুলুম সীমাহীন,
তবে তোমার ন্যায়বিচারে প্রকাশ হোক সত্য ঋণ।
শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নীরব অশ্রুধারায়,
তোমারই নাম ডাকি আমি হৃদয়ের মিনারায়।
“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল”—এই ভরসা রাখি,
তোমার সাহায্য ছাড়া আর কারো দ্বারে না যাই।
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার হে মহান আল্লাহ! তুমি করো,
হক্বটা ফিরিয়ে দিয়ে হৃদয়ের ব্যথা দূর করো।
সত্যকে দাও বিজয়, মিথ্যাকে করো লাঞ্ছিত,
মজলুমের চোখের জল করো না কখনো বিফলিত।
তোমার রহমতের আলোয় আলোকিত হোক প্রাণ,
তোমার ন্যায়ের ছায়ায় শান্তি পাক অবসন্ন মন।
দুনিয়া ও আখিরাতে দাও কল্যাণের ঠিকানা,
তোমারই সন্তুষ্টি হোক জীবনের শেষ কামনা।
হে আল্লাহ! তুমি ন্যায়ের মালিক, তুমি সর্বশক্তিমান,
মজলুমের হক্ব ফিরিয়ে দাও—আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার
হে মহান আল্লাহ! তুমি করো ন্যায়ের মহাবিচার,
বন্ধু বেশী দুশমনের হাতে আজ হৃদয় যে ভার।
হক্বটা ফিরিয়ে দাও প্রভু, ফিরিয়ে দাও সম্মান,
তোমারই রহমতে খুঁজে পাই জীবনের অবসান।
যাদেরকে ভেবেছি আপন, হৃদয়ের ছিল স্থান,
যাদের সাথে ভাগ করেছি সুখ-দুঃখের গান।
তাদের মাঝেই লুকিয়ে ছিল স্বার্থের কালো ছায়া,
হাসিমুখে কাছে এসে দিয়েছে দুঃখের মায়া।
বিশ্বাসের যে প্রদীপ জ্বালিয়েছিলাম প্রাণে,
নিভিয়ে দিল তারা এসে প্রতারণার টানে।
বন্ধুত্বের নামে তারা করেছে ছলনার খেলা,
ভাঙা হৃদয় নিয়ে আজ কাটে আমার বেলা।
হে রব! তুমি তো জানো বুকের নীরব কান্না,
কত রাত কেটেছে শুধু অশ্রুর সাগর গুননা।
মানুষ দেখে বাহিরটা, বোঝে না অন্তর,
তুমি জানো কার হৃদয়ে সত্য, কার অন্তরে বিষধর।
যখন সবাই দূরে সরে স্বার্থের মোহে পড়ে,
তখন আমি তোমাকেই ডাকি রাতের অন্ধকার ঘরে।
তোমার দরবার ছাড়া আর কোথাও নেই ঠাঁই,
তুমি ছাড়া আমার কথা শোনার কেউ নাই।
হে আল্লাহ! মজলুমের ফরিয়াদ তুমি ফিরাও না,
অত্যাচারীর অন্যায় তুমি কখনো ভুলে যাও না।
আজ তাই তোমার কাছেই বিচার চেয়ে বলি,
সত্য যেন বিজয়ী হয়, মিথ্যা না দেয় গলি।
যে হক্ব অন্যায়ভাবে কেড়ে নিয়েছে কেউ,
তোমার ন্যায়ের পাল্লাতে তার হিসাব হবে ঢেউ।
এক বিন্দু জুলুমও তোমার চোখে গোপন নয়,
তোমার বিচারে শেষ হবে অন্যায়ের পরিচয়।
বন্ধুর বেশে যারা শত্রুতার বীজ বোনে,
তাদের চক্রান্ত ভেঙে দাও তোমার কুদরতের সনে।
মিথ্যার দেয়াল ধ্বংস হোক সত্যের আলোয়,
ন্যায়ের সূর্য উদিত হোক মানবতার ঢালোয়।
হে পরওয়ারদিগার! দাও আমাকে ধৈর্যের শক্তি,
যেন বিপদে না হারাই ঈমানের ভক্তি।
দাও এমন তাওয়াক্কুল, যা ঝড়ে ভাঙে না,
দাও এমন সবর, যা কষ্টে হার মানে না।
যদি আমার মাঝে থাকে কোনো ভুলের চিহ্ন,
ক্ষমা করে শুদ্ধ করো, করো হৃদয় সুগন্ধ।
আর যদি কেউ করে থাকে সীমাহীন জুলুম,
তোমার বিচারে হোক তার অন্যায়ের অবসান পূর্ণ।
শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নীরব অশ্রুধারায়,
তোমারই নাম জপি আমি হৃদয়ের মিনারায়।
“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল”—এই ভরসা প্রাণে,
তোমার সাহায্যই যথেষ্ট দুনিয়া ও আখিরাতে।
হে মহান আল্লাহ! তুমি ন্যায়ের উজ্জ্বল আলো,
তোমার রহমতে দূর হোক সব অন্ধকার কালো।
বন্ধু বেশী দুশমনের বিচার তুমি করো আজ,
হক্বটা ফিরিয়ে দিয়ে দূর করো সকল লাজ।
মজলুমের চোখের জল বৃথা যেতে দিও না,
সত্যের পতাকা কখনো নত হতে দিও না।
তোমারই দরবারে রাখি অন্তরের সব ব্যথা,
হে রব! ফিরিয়ে দাও আমার হারানো হক্বটা।
তোমার নূরে আলোকিত হোক হৃদয়ের প্রাঙ্গণ,
তোমার রহমতে ভরে উঠুক জীবনের অঙ্গন।
দুনিয়া ও আখিরাতে দাও কল্যাণের ঠিকানা,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ কামনা।
হে দয়াময়, হে করুণাময়, হে বিচারক মহান,
তোমারই বিচারে শান্তি পাক প্রতিটি মজলুম প্রাণ।
হক্ব ফিরিয়ে দাও, দূর করো সব বেদনা ও মলিনতা,
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন—এটাই হৃদয়ের প্রার্থনা।
১০
১২ মন্তব্য