সহকারী অধ্যাপক
১২ জুন, ২০২৬ ০৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
মজলুমের আর্তনাদ মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মজলুমের আর্তনাদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আল্লাহ, তুমি মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও,
জুলুমের অন্ধকার ভেঙে ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে দাও।
তার ক্রন্দনে ভেজা দুটি চোখের জল মুছে দাও,
ভাঙা হৃদয়ে সান্ত্বনার পরশ বুলিয়ে দাও।
তুমি তো মহান, সকল শক্তির একমাত্র অধিকারী,
তোমারই হাতে আসমান-জমিন, সাগর-পাহাড়ের ভারী।
রাজ্য তোমার, ক্ষমতা তোমার, ফয়সালাও তোমারই হয়,
তোমার হুকুম ছাড়া কোনো কিছুই অস্তিত্বে না রয়।
যখন মজলুম একাকী কাঁদে গভীর নিশীথ রাতে,
চারিদিকে নীরবতা নামে, দুঃখ জমে হৃদয়পাতে,
মানুষ যখন বুঝতে চায় না বুকের লুকানো ব্যথা,
তখন তুমি শুনে নাও তার নীরব কান্নার কথা।
হে পরম দয়ালু, তুমি তো অন্তর্যামী,
প্রকাশ্য-গোপন সবই জানো, তুমি সর্বজ্ঞ স্বামী।
কোনো দীর্ঘশ্বাস হারায় না তোমার জ্ঞানের বাইরে,
কোনো অশ্রুবিন্দু ঝরে না তোমার হিসাব ছাড়িয়ে।
রাসূলের পবিত্র বাণী জাগায় আশার দীপ,
মজলুমের দোয়া পৌঁছে যায় আরশের সন্নিকট নিকটতর রূপ।
তার আর্তনাদ আর তোমার মাঝে নেই কোনো দেয়াল,
তাই তো তার প্রার্থনায় জাগে মুক্তির সম্ভাবনাকাল।
কত নির্যাতিত প্রাণ আজ নীরবে কাঁদে,
কত অসহায় মানুষ অন্যায়ের শৃঙ্খলে বাঁধে।
কত শিশু হারিয়েছে মুখের মধুর হাসি,
কত মায়ের বুক ভেঙেছে বেদনার স্রোতে ভাসি।
কত শ্রমিক ঘামে ভিজে পায় না ন্যায্য দাম,
কত এতিম অপেক্ষা করে স্নেহের একটুখানি নাম।
কত দুর্বল মানুষের অধিকার হয়েছে লুণ্ঠিত,
কত সত্যবাদী হয়েছে মিথ্যার কাছে অপমানিত।
তবুও তারা হাল ছাড়ে না, রাখে তোমার ওপর ভরসা,
কারণ তুমি কখনো ভঙ্গ করো না প্রতিশ্রুতির ভাষা।
তুমি ধৈর্যশীলদের সাথে আছো প্রতিক্ষণ,
তোমার সাহায্য আসে সঠিক সময়ে, সঠিক কারণ।
ধৈর্যের পথ দীর্ঘ হলেও ফল হয় সুমধুর,
ঝড়ের শেষে যেমন দেখা দেয় নির্মল আকাশ ভরপুর।
দুঃখের পরে আসে সুখ, কষ্টের পরে স্বস্তি,
মুমিন তাই হারায় না কখনো ঈমানের দৃঢ় শক্তি।
অন্যায় যত প্রবল হোক, স্থায়ী নয় কখনো,
মিথ্যার দুর্গ টেকে না যুগের পর যুগ কোনো।
সত্যকে তুমি উন্নত করো, মিথ্যাকে করো ক্ষয়,
তোমার বিধানে শেষ পর্যন্ত ন্যায়েরই হয় জয়।
হে রব, যারা আজ জুলুমের শিকার,
তাদের হৃদয়ে দাও ঈমানের অটল অঙ্গীকার।
তাদের পা দৃঢ় রাখো সত্যের পথে,
তোমার রহমতের ছায়ায় রাখো জীবনরথে।
যারা অশ্রু লুকিয়ে রাখে মানুষের ভয়ে,
তাদের দুঃখ তুমি জানো হৃদয়ের গভীরতর স্তরে।
যারা হকের জন্য সহ্য করে অবহেলা আর তিরস্কার,
তাদের জন্য রেখো জান্নাতের সুসংবাদ অপরিসীম উপহার।
হে ন্যায়বিচারক, হে ইনসাফের মহান রব,
তোমার বিচারে কখনো হয় না কোনো ভুল কিংবা ক্ষোভ।
তুমি দেখো জালিমের অত্যাচার, মজলুমের কান্না,
তোমার আদালতে একদিন হবে সকল হিসাবের গণনা।
ক্ষমতার মোহে যারা মানুষকে করে অপমান,
দুর্বলদের হক কেড়ে নিয়ে করে অহংকারের গান,
তাদের অন্তরে দাও হিদায়াতের উজ্জ্বল আলো,
যেন তারা ফিরে আসে সত্যের পথে ভালো।
আর যদি তারা না ফেরে অন্যায়ের পথ থেকে,
তবে তুমি রক্ষা করো মজলুমকে জালিমের হাত থেকে।
তোমার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক সর্বত্র,
জুলুমের প্রাসাদ ভেঙে পড়ুক চিরতরে।
হে আল্লাহ, তুমি দাও এমন সমাজ,
যেখানে থাকবে না অত্যাচার কিংবা লাজ।
যেখানে দুর্বল পাবে সম্মান ও অধিকার,
যেখানে ন্যায়ের শাসনে উজ্জ্বল হবে সংসার।
যেখানে এতিমের মুখে ফুটবে হাসি,
বিধবার চোখে শুকাবে দুঃখের ভাসি।
যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে,
তোমার সন্তুষ্টির জন্য হাত বাড়াবে।
আমাদের অন্তরে দাও সত্যের আলো,
মিথ্যার পথে যেন না চলি কোনো কালো।
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দাও,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলার শক্তি দাও।
আমাদের চোখকে করো অশ্রুসিক্ত তোমার ভয়ে,
আমাদের হৃদয়কে রাখো বিনয়ী তোমার স্মরণে।
আমাদের জিহ্বায় দাও সত্যের ভাষণ,
আমাদের কাজে ফুটুক ন্যায়ের প্রকাশন।
হে রব, তুমি রহমতের অফুরন্ত সাগর,
তোমার দয়া ছাড়া মানুষ বড়ই অসহায় ও কাতর।
তোমার অনুগ্রহে পৃথিবী পায় শান্তির দিশা,
তোমার করুণায় দূর হয় হতাশার নিশা।
আজ আমরা হাত তুলে করি বিনম্র প্রার্থনা,
তুমি কবুল করো আমাদের সকল মিনতি ও কামনা।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও তোমার কুদরতে,
তাদের জীবন ভরিয়ে দাও শান্তি আর বরকতে।
তাদের ক্রন্দনের অশ্রু মুছে দাও করুণার ছোঁয়ায়,
তাদের হৃদয় ভরে দাও ঈমানের মহিমায়।
জালিমের হাত থেকে দাও নিরাপদ আশ্রয়,
আর সত্য ও ন্যায়ের পথে দাও চিরস্থায়ী বিজয়।
তোমার রহমত ছড়িয়ে পড়ুক দিগন্ত থেকে দিগন্তে,
তোমার ন্যায়ের সুবাস ভাসুক মানবতার প্রতিটি প্রান্তে।
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন,
তোমার দয়াই হোক আমাদের শেষ সম্বল ও রক্ষণ।
আমীন, ইয়া আরহামার রাহিমীন।
***
মজলুমের কান্না
আল্লাহ, তুমি মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও,
অত্যাচারের অন্ধকার ভেঙে ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে দাও।
তার ক্রন্দনে ঝরা অশ্রু করুণায় মুছে দাও,
ভাঙা হৃদয়ে ধৈর্যের ফুল আবার ফুটিয়ে দাও।
তুমি তো মহান, সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি,
তোমার ইশারায় ঘোরে গ্রহ-নক্ষত্র, চলে সৃষ্টি।
তুমি বললে হয়, তুমি বললে থেমে যায় সব,
তোমার কুদরতের সামনে নত হয় বিশ্বজগতের রব।
যখন মজলুম একাকী বসে চোখের জল ঝরায়,
দুঃখের ভারে বুক তার নীরবে ভেঙে যায়,
চারদিকে যখন সে পায় না কোনো সহায়,
তখনও তোমার রহমত তাকে ঘিরে রাখে নিরুপায়।
রাতের গভীর আঁধারে যখন সবাই ঘুমায়,
অশ্রুভেজা চোখে সে শুধু তোমাকেই ডাকায়।
কাঁপা কণ্ঠে বলে— হে রব, তুমি আছো তো?
তখন তোমার রহমত নামে নীরবতারই মতো।
হাদিসের বাণী দেয় আশার অফুরন্ত আলো,
মজলুমের দোয়া পৌঁছে যায় আসমানেরও ভালো।
তার ফরিয়াদ আর তোমার মাঝে নেই কোনো পর্দা,
তাই তো সে বাঁচিয়ে রাখে হৃদয়ে আশার প্রদীপটা।
কত মানুষের অধিকার হয়েছে বলপূর্বক হরণ,
কত নিরীহ প্রাণ সহ্য করেছে অপমান আর নিপীড়ন।
কত শ্রমিক পায়নি তার ঘামের ন্যায্য দাম,
কত এতিমের মুখে জোটেনি একমুঠো আহার-গ্রাম।
কত মা অপেক্ষায় থেকেছে সন্তানের ফিরে আসার,
কত পিতা কেঁদেছে ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের ভার।
কত শিশু দেখেছে অন্যায়ের নির্মম রূপ,
তবুও তারা খুঁজে ফেরে তোমার রহমতের ধূপ।
হে আল্লাহ, তুমি তো অন্তরের খবর জানো,
গোপন দীর্ঘশ্বাস, অশ্রুবিন্দুর ভাষা চিনো।
কেউ না বুঝলেও তুমি বোঝো হৃদয়ের আর্তনাদ,
তোমার কাছেই জমা থাকে সব দুঃখের ফারিয়াদ।
ধৈর্যশীলদের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি তোমার,
বিপদের মাঝেও তাই জাগে আশার অঙ্গার।
ঝড় যতই তীব্র হোক, রাত যতই দীর্ঘ হয়,
তোমার সাহায্য এলে মুহূর্তেই বদলে যায় সময়।
মুমিন জানে, কষ্ট কখনো বৃথা যায় না,
ধৈর্যের প্রতিদান তুমি কখনো হারিয়ে দাও না।
চোখের জলও একদিন সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে,
তোমার ন্যায়বিচারের কথা বিশ্ববাসীকে জানাবে।
অন্যায়ের প্রাসাদ যত উঁচু হোক না কেন,
সত্যের সূর্যের সামনে টিকতে পারে না সে যেন।
জালিমের শক্তি ক্ষণিক, অহংকার ক্ষয়মান,
তোমার ফয়সালাই চিরন্তন, ন্যায়েরই সম্মান।
হে ইনসাফের মালিক, হে বিচার দিবসের রব,
তোমার আদালতে লুকানো থাকবে না কোনো সব।
যে কেড়েছে হক, সে দেখবে তার কর্মফল,
যে সহ্য করেছে ধৈর্যে, সে পাবে শান্তির ফল।
মজলুমের অশ্রু তুমি মুক্তো করে রাখো,
তার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস তোমার কাছে লিখে রাখো।
তার হারানো অধিকার ফিরিয়ে দাও সম্মানে,
তাকে বিজয়ী করো সত্য ও ঈমানের ময়দানে।
যারা জুলুম করে ক্ষমতার অহংকারে,
তাদের হৃদয় ফিরিয়ে দাও সত্যের দ্বারে।
যদি তারা তওবা করে, দাও হিদায়াতের নূর,
আর না ফিরলে রক্ষা করো মজলুমকে সুমহান সুর।
হে দয়াময়, এমন সমাজ আমাদের দান করো,
যেখানে ন্যায়ের পতাকা সর্বদা উড্ডীন রাখো।
যেখানে দুর্বল পাবে সম্মান, এতিম পাবে স্থান,
যেখানে মানুষ চিনবে মানুষকে, হবে না অপমান।
যেখানে সত্যের কথা বললে কেউ ভয় না পায়,
যেখানে ন্যায়ের পথে চলতে বাধা না আসে হায়।
যেখানে শাসক ও প্রজা সমান আইনের তলে,
যেখানে মানবতা বিকশিত হয় ঈমানের ফলে।
আমাদের অন্তরে দাও হকের প্রতি ভালোবাসা,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাও দৃঢ় প্রতিবাদের ভাষা।
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দাও,
জালিমের পথ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখো।
আমাদের চোখে দাও বিনয়ের অশ্রু,
আমাদের হৃদয়ে দাও তাকওয়ার সুবাস ভরপুর।
আমাদের জীবন হোক সত্যের সাক্ষ্যদান,
আমাদের মৃত্যু হোক ঈমানের পরিপূর্ণ সম্মান।
হে রব, তুমি রহমতের অফুরন্ত মহাসাগর,
তোমার অনুগ্রহ ছাড়া মানুষ বড়ই কাতর।
তুমি চাইলে শুষ্ক মরুভূমিও ফুলে ভরে যায়,
তুমি চাইলে ভাঙা হৃদয়ও শান্তির ঠিকানা পায়।
তাই আজ আমরা দুই হাত তুলে করি মিনতি,
কবুল করো আমাদের দোয়া, আমাদের আকুতি।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও তোমার মহিমায়,
তাদের চোখের জল মুছে দাও রহমতের ছায়ায়।
তাদের জীবনে দাও শান্তি, নিরাপত্তা আর নূর,
দুঃখের রাত শেষে এনে দাও সুখের ভোর।
সত্যকে বিজয়ী করো, মিথ্যাকে করো পরাজিত,
পৃথিবী ভরে উঠুক ন্যায়ে, হোক মানবতা প্রতিষ্ঠিত।
তোমার রহমত বর্ষিত হোক আকাশ হতে ধরায়,
তোমার ইনসাফের সুবাস ছড়াক মানবতার পরায়।
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ কামনা,
তোমার দয়াই হোক আমাদের শেষ ঠিকানা।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
*****
মজলুমের আর্তনাদ,
আল্লাহ, তুমি মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও,
জুলুমের কালো রাত পেরিয়ে সুবিচারের ভোর দেখাও।
তার ক্রন্দনে ঝরা অশ্রু করুণায় মুছে দাও,
ভাঙা হৃদয়ে ঈমান, সবর আর শান্তি ভরে দাও।
তুমি মহান, তুমি দয়াময়, তুমি সকল শক্তির অধিকারী,
তোমারই হাতে আসমান-জমিন, সাগর-পাহাড়ের ভারী।
তুমি চাইলে শুষ্ক ভূমি ফুলে ফলে ভরে যায়,
তুমি চাইলে হতাশ হৃদয় আশার আলো পায়।
কত মানুষ অন্যায়ের বোঝা বুকে নিয়ে বাঁচে,
কত দীর্ঘশ্বাস রাতের আঁধারে নীরবে হারিয়ে যায় যে।
কত অসহায় প্রাণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে,
তবু সান্ত্বনা খুঁজে পায় না পৃথিবীর কোলাহলে।
কিন্তু হে রব, তুমি তো সবই দেখো,
চোখের জলের ভাষাও তুমি নীরবে লেখো।
যে ব্যথা মানুষ বুঝতে পারে না অন্তরে,
সেই ব্যথার সংবাদ পৌঁছে যায় তোমারই দরবারে।
যখন মজলুম একাকী সিজদায় মাথা রাখে,
কান্নাভেজা চোখে শুধু তোমাকেই ডাকে,
তখন আসমানের ফেরেশতারাও যেন শোনে,
এক নির্যাতিত হৃদয়ের ব্যথাভরা রোদনে।
হাদিসের বাণী দেয় হৃদয়ে দৃঢ় আশা,
মজলুমের দোয়া কখনো ফেরে না নিরাশা।
তার আর্তনাদ আর তোমার মাঝে নেই কোনো পর্দা,
তাই তো সে বুকে রাখে বিশ্বাসের প্রদীপটা।
হে রব, কত এতিম হারিয়েছে মাথার ছায়া,
কত বিধবা বয়ে বেড়ায় নিঃসঙ্গতার মায়া।
কত শ্রমিকের ঘাম শুকায় অন্যায়ের রোদে,
কত সত্যবাদী লাঞ্ছিত হয় মিথ্যার প্রতিবাদে।
কত শিশুর হাসি হারায় যুদ্ধের বিভীষিকায়,
কত মায়ের বুক কাঁপে সন্তানের চিন্তায়।
কত পিতা দুঃখ লুকায় পরিবারের তরে,
কত স্বপ্ন ভেঙে যায় অশ্রুর সাগরে।
তবু তারা জানে, তুমি আছো কাছে,
তোমার রহমতের দরজা কখনো বন্ধ না যে।
তুমি ধৈর্যশীলদের সাথে থাকার অঙ্গীকার করেছো,
তাদের দুঃখের পরে স্বস্তির সংবাদ দিয়েছো।
সবরের পথ দীর্ঘ, তবুও তা সোনার পথ,
যে পথে চলে সে পায় জান্নাতের রথ।
কষ্টের পরেই আসে স্বস্তির সুবাস,
অন্ধকারের পরেই উদিত হয় আলোর আভাস।
অন্যায় যতই শক্তিশালী দেখাক বাহিরে,
তার ভিতর থাকে পতনের বীজ গোপনে।
মিথ্যার প্রাসাদ যত উঁচুই হোক না কেন,
সত্যের ঝড়ে একদিন ভেঙে পড়ে সে যেন।
হে ইনসাফের মালিক, হে বিচার দিবসের রব,
তোমার আদালতে গোপন থাকবে না কোনো সব।
যে কেড়েছে মানুষের হক অন্যায় শক্তিতে,
সে দাঁড়াবে একদিন তোমারই বিচারের নীতিতে।
যে মজলুম আজ ধৈর্যের সাথে সহ্য করে,
তুমি তাকে মর্যাদা দাও আখিরাতের ঘরে।
তার অশ্রুবিন্দু হবে নূরের মুক্তাখানি,
তার ধৈর্যের প্রতিদান হবে অফুরন্ত দানই।
হে আল্লাহ, যারা ক্ষমতার মোহে জুলুম করে,
তাদের অন্তরে হিদায়াত দাও সত্যের নূরে।
যদি তারা ফিরে আসে অনুতপ্ত হৃদয়ে,
তবে ক্ষমা করো তোমার সীমাহীন দয়ায়।
আর যদি তারা না ফেরে অন্যায়ের পথ ছেড়ে,
তবে মজলুমকে রক্ষা করো তোমার রহমত ঘিরে।
জালিমের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দাও,
হকের পতাকাকে বিজয়ের শিখরে উঠাও।
হে রব, এমন সমাজ দাও আমাদের মাঝে,
যেখানে ন্যায়ের সুবাস ছড়াবে প্রতিটি কাজে।
যেখানে ধনী-গরিব সমান মর্যাদা পায়,
যেখানে সত্য বললে কেউ ভয় না পায়।
যেখানে এতিমের মুখে ফুটবে হাসির ফুল,
যেখানে বিধবার হৃদয় হবে না ব্যথায় আকুল।
যেখানে দুর্বল মানুষ পাবে নিরাপদ স্থান,
যেখানে মানবতা হবে ঈমানের পরিচয়দান।
আমাদের অন্তরকে করো সত্যের প্রেমিক,
অন্যায় দেখলে যেন না থাকি নীরব দর্শক।
মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দাও,
হকের পথে চলার তাওফিক দাও।
আমাদের জিহ্বায় দাও সত্যের ভাষা,
আমাদের অন্তরে দাও তাকওয়ার আশা।
আমাদের চোখে দাও বিনয়ের অশ্রুধারা,
আমাদের জীবন হোক দ্বীনের জন্য সারা।
হে পরম করুণাময়, হে আরশের মহান রব,
তোমার রহমতের তুলনা নেই কোনো সব।
তুমি চাইলে দুঃখ আনন্দে রূপ নেয়,
তুমি চাইলে অন্ধকার আলোয় মিলিয়ে যায়।
আজ আমরা হাত তুলে করি নিবেদন,
কবুল করো আমাদের সকল প্রার্থনা ও আকুল আহ্বান।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও তোমার ইনসাফে,
তাদের জীবন ভরিয়ে দাও রহমতের আলোকচ্ছটায়।
তাদের চোখের জল মুছে দাও স্নেহের পরশে,
তাদের হৃদয় ভরে দাও ঈমানের সুবাসে।
দুঃখের রাত শেষে দাও সুখের প্রভাত,
শান্তিতে ভরে উঠুক তাদের জীবনসাথ।
সত্যকে করো বিজয়ী, মিথ্যাকে করো ক্ষয়,
তোমার বিধানেই হোক ন্যায়ের চূড়ান্ত জয়।
পৃথিবী ভরে উঠুক হক, ইনসাফ আর কল্যাণে,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক তোমার সন্তুষ্টির টানে।
তোমার রহমত বর্ষিত হোক দিগন্ত থেকে দিগন্তে,
তোমার ন্যায়ের সুবাস ছড়াক বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে।
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ কামনা,
তোমার দয়াই হোক আমাদের শেষ ঠিকানা।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
৫
৫ মন্তব্য