Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জুন, ২০২৬ ০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

হে আল্লাহ! অধমের ফরিয়াদ - মোঃ মুজিবুর রহমান

হে আল্লাহ! অধমের ফরিয়াদ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বন্ধু বলে বিশ্বাস করে দিলাম হৃদয় খুলে,
সৎ নিয়তে এগিয়ে গেলাম তারই ডাকে ভুলে।
প্রয়োজনের কথা বলে নিল সে আমার টাকা,
মুখে ছিল মিষ্টি ভাষা, অন্তরে ছিল ফাঁকা।

কাগজ লিখল, স্বাক্ষর নিল, দিল অনেক কথা,
ফিরিয়ে দেবে সময়মতোএই ছিল তার ব্যথা।
দিন গেল, মাসও গেল, বদলে গেল রূপ,
সত্যের মুখে পরল যেন মিথ্যার কালো ধূপ।

যখন চাই হকের টাকা, অজুহাতের ঢেউ,
আজ নয়, কালএই বলে সে কাটিয়ে দেয় ঢেউ।
ফোন দিলে ব্যস্ত থাকে, সামনে এলে দূরে,
সত্য কথার আলো যেন হারিয়ে যায় সুরে।

বিশ্বাস ভাঙার কষ্ট যে কত গভীর ক্ষত,
বুকের মাঝে জাগিয়ে তোলে নীরব দীর্ঘ রত।
টাকার চেয়ে বড় যে ছিল আস্থার সেই সেতু,
লোভের আগুন পুড়িয়ে দিল সম্পর্কেরই ক্ষেত্র।

রাতের নীরব অন্ধকারে উঠল মনের আর্তি,
চোখের জলে লিখে রাখি দুঃখভরা স্মৃতি।
মানুষ যদি না- শোনে মনের গোপন ব্যথা,
আসমানের মালিক আছেন, শুনেন সবই যথা।

হে আল্লাহ! তুমি তো জানো অন্তরের সব কথা,
কোথায় কত অন্যায় হলো, কত গভীর ব্যথা।
তুমি জানো কে নিয়েছে অন্যের হকের ধন,
তুমি জানো কার হৃদয়ে লুকিয়ে আছে ক্ষণ।

হে মহান রব! তুমি তো ন্যায়ের মালিক সবার,
তোমার কাছে গোপন নয় ক্ষুদ্র কোনো ভার।
যার কাছে আছে আমার হক, ফিরিয়ে দাও আজ,
তোমার ন্যায়ের আলোয় ভাঙুক অন্যায়ের সাজ।

আমি চাই না কারও ক্ষতি, চাই না কোনো শাপ,
চাই শুধু হকটা ফিরে আসুক মুছে যাক সব পাপ।
সত্য যদি থাকে সাথে, তুমি আছো রব,
অন্ধকারের শেষ প্রহরে ফুটবেই আলোর নব।

অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস ওঠে যখন ভেসে,
তোমার দরবারে পৌঁছে যায় কান্নার সুর মিশে।
মজলুম যদি হাত তোলে গভীর আকুতিতে,
তোমার রহম ঝরে পড়ে অশ্রুভেজা স্মৃতিতে।

হে দয়াময়! তুমি দাও ধৈর্যের মধুর শক্তি,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দাও সত্যের প্রতি ভক্তি।
যে নিয়েছে হকের টাকা, তার হৃদয় ফেরাও,
লোভের কালো পর্দা সরিয়ে সত্য পথে আনাও।

সে যেন বুঝতে পারে হকের কত দাম,
অন্যের সম্পদ গ্রাস করা কত বড় অবিশ্রাম।
তার বিবেকে জাগিয়ে দাও ন্যায়ের নির্মল আলো,
ফিরিয়ে দিক প্রাপ্য আমার, মুছে যাক সব কালো।

কাগজ আছে, স্বাক্ষর আছে, সাক্ষী আছে সাথে,
তবু কেন হকের দাবি পড়ে থাকে পথে?
মানুষের সব কৌশলের আছে সীমারেখা,
তোমার ন্যায়ের সামনে কিছুই থাকে না ঢাকা।

তুমি তো দেখো নিরবে সব দিনের পর দিন,
কে বা সত্য, কে বা মিথ্যাজানো তুমি ঋণ।
তোমার হাতে সোপর্দ করি জীবনের বিচার,
তোমার চেয়ে উত্তম আর নেই কোনো অধিকার।

আজ যে শক্তির গর্ব করে অন্যায়ের পথ ধরে,
কাল সে- দাঁড়াবে একা হিসাবেরই ঘরে।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব কিছুই রবে না,
সত্যের সামনে মিথ্যার দুর্গ টিকবে কভু না।

তাই তো রবের দরবারে রাখি মাথা নত,
তোমার উপর ভরসা রেখে করি প্রার্থনা শত।
হে আল্লাহ! অধম বান্দার আর্তনাদ শোনো,
হারানো হকের আলো আবার জীবনে আনো।

যে টাকা ছিল পরিশ্রমে উপার্জিত ধন,
ফিরিয়ে দাও সে প্রাপ্য আমার তোমারই অনুগ্রহণ।
অন্যায়ের সব জটিলতা সহজ করে দাও,
হকের পথে বিজয়ের দ্বার খুলে দিয়ে যাও।

চোখের জলের প্রতিটি ফোঁটা তুমি জানো রব,
অন্তরের সব দীর্ঘশ্বাস তোমার কাছেই সব।
তাই তো আজও আশার প্রদীপ জ্বলে বুকের মাঝে,
তোমার ন্যায়ের প্রতীক্ষাতে জীবন এগোয় সাজে।

হে ন্যায়পরায়ণ আল্লাহ! শুনো অধমের ডাক,
অন্যায়ের এই অন্ধকারে জ্বালাও ন্যায়ের ফাঁক।
বন্ধুর কাছে আটকে থাকা হকটা ফিরিয়ে দাও,
তোমার অসীম কুদরতে আমার প্রাপ্য পাইয়ে দাও।

আমীন, হে রব্বুল আলামীন।
তোমার ন্যায়ের আলোয় পূর্ণ হোক প্রতিটি দিন।
মজলুমের অশ্রু মুছে যাক তোমার রহমতে,
হক ফিরে পাক অধম বান্দা তোমারই হিকমতে।



হে আল্লাহ! অধমের ফরিয়াদ

বন্ধু বলে বিশ্বাস করে খুলেছিলাম মন,
ভাবিনি সে একদিন হবে কষ্টের কারণ।
সুখ-দুঃখের সাথী বলে রেখেছিলাম পাশে,
আজ সে কেন মিথ্যার জালে সত্যটাকে বাঁশে?

প্রয়োজনের কথা বলে নিল আমার ধন,
বলল, "ভাই, ফিরিয়ে দেব"দিল অনেক আশ্বাস-বাণী তখন।
কাগজ লিখল, স্বাক্ষর নিল, সাক্ষীও ছিল সাথে,
তবুও কেন হকের টাকা হারায় মিথ্যার পথে?

দিনের পরে দিন যে গেল, মাসের পরে মাস,
প্রতিশ্রুতির রঙ মুছে যায়, ফুরিয়ে আসে শ্বাস।
আজকে দেবে, কালকে দেবেএই তো তার বাণী,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে যায় বুকের ভেতর প্রাণই।

ফোন দিলে সে ব্যস্ত থাকে, দেয় না কোনো জবাব,
সামনে গেলে এড়িয়ে চলে, দেখায় নতুন খোয়াব।
কথার মাঝে কৌশল ভরে বদলে ফেলে রূপ,
সত্য যেন মেঘে ঢাকা, মিথ্যা যেন ধূপ।

টাকার কষ্ট শুধু নয়, কষ্ট আরও বড়,
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা যেন হৃদয় করে ঝড়।
যাকে ভেবেছি আপনজন, দুঃখসুখের সাথী,
সে- আজকে হকের পথে জ্বালায় অন্যায় বাতি।

রাতের শেষে নিরবতায় যখন ঘুম না আসে,
অশ্রু হয়ে ব্যথার নদী বুকের মাঝে ভাসে।
মানুষ যদি না- বোঝে হৃদয়ের আর্তনাদ,
আল্লাহ তুমি শুনে রেখো মজলুমের ফরিয়াদ।

হে আল্লাহ! তুমি জানো অন্তরের সব ক্ষত,
তুমি জানো কতটা কষ্ট, কত গভীর ব্যথা শত।
তুমি জানো কার হাতে আজ আটকে আছে হক,
তুমি জানো কার বিবেকে জমেছে অন্ধ লোক।

হে রহমান! হে রহীম! হে ন্যায়ের অধিপতি!
তোমার বিচার অমোঘ সত্য, নেই তাতে কোনো ক্ষতি।
আমি চাই না প্রতিশোধ, চাই না কারো হার,
চাই শুধু হকটা ফিরে আসুক, মুছে যাক অন্ধকার।

যে টাকা ছিল ঘামের ফোঁটা, শ্রমের ফলের দান,
যে টাকাতে জড়িয়ে আছে জীবনের সম্মান।
সেই টাকার ন্যায্য দাবি ফিরিয়ে দাও রব,
তোমার দয়ার সাগর হতে বর্ষিত হোক সব।

কাগজ আছে, স্বাক্ষর আছে, প্রমাণ আছে হাতে,
তবুও কেন ন্যায়ের দাবি পড়ে থাকে পথে?
মানুষ যত চালাক হোক, যতই করুক ছল,
তোমার জ্ঞানের সামনে সবই ক্ষুদ্র, দুর্বল।

তুমি দেখো নিরবে বসে দিনের পর দিন,
কে করেছে অন্যায়, কে করেছে ঋণ।
তোমার কাছে গোপন কিছু নেই তো কোনো কাল,
তুমি জানো প্রতিটি কথা, প্রতিটি হালচাল।

হে দয়াময়! ধৈর্য দাও, ভেঙে যেও না মন,
সত্যের পথে অটল রাখো আমার প্রতিক্ষণ।
অন্যায়ের এই কণ্টকপথ করো সহজ আজ,
তোমার কুদরতে দূর হোক সব জটিলতার সাজ।

যে নিয়েছে হকের টাকা, তারে হিদায়াত দাও,
লোভের কালো আবরণটা হৃদয় থেকে নাও।
সে যেন বুঝে অন্যের হক আত্মসাৎ করা,
দুনিয়া আখিরাতে কত বড় ক্ষতি ধরা।

তার হৃদয়ে জাগুক আবার সত্যের নির্মল আলো,
বিবেক জেগে ফিরিয়ে দিক যা নিয়েছে ভালো।
অন্যায়ের বোঝা নামিয়ে আসুক ন্যায়ের পথে,
শান্তির ফুল ফুটুক আবার মানবতার রথে।

অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস আকাশ পানে যায়,
মজলুমের চোখের পানি বৃথা কখনো নয়।
তোমার আরশ কেঁপে ওঠে বান্দার আকুতিতে,
রহমতের দরজা খোলো তুমি স্নেহের স্মৃতিতে।

আজ যে ব্যক্তি শক্তি নিয়ে করে অহংকার,
কাল সে- হবে হিসাবের দিনে অসহায় একাকার।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, পদ কিছুই যাবে না সাথে,
শুধু আমল আর কর্মফল দাঁড়াবে তার পাশে।

তাই তো রবের দরবারে করি মাথা নত,
তোমার উপর ভরসা রেখে বলি কথা শত।
তুমি ছাড়া আর কে আছে মনের ব্যথা শোনার?
তুমি ছাড়া আর কে আছে হারানো হক আনার?

হে আল্লাহ! অধম বান্দার কান্না শুনে নাও,
বন্ধুর কাছে আটকে থাকা প্রাপ্য ফিরিয়ে দাও।
যে হক আমার ন্যায্য ছিল, ফিরুক আমার ঘরে,
ন্যায়ের সূর্য উদয় হোক জীবনেরই ভোরে।

চোখের জলের প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষী হয়ে রয়,
তুমি জানো মনের ব্যথা, তুমি জানো ক্ষয়।
তোমার রহম, তোমার কৃপা, তোমার ন্যায়ের দান,
ফিরিয়ে আনুক হারানো সুখ, জুড়াক প্রাণের প্রাণ।

হে রব্বুল আলামীন! তুমি নও কারো ঋণী,
তোমার বিচার নিখুঁত, মহান, চিরসত্য ধ্বনি।
অধমের এই ফরিয়াদ আজ উঠুক আরশ পানে,
হক ফিরুক, সত্য জিতুকতোমারই বিধানে।

আমীন।
হে মহান আল্লাহ! মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও,
অন্যায়ের অন্ধকার ভেঙে ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে দাও।
বন্ধুর হাতে আটকে থাকা প্রাপ্য করো আদায়,
তোমার দয়া হিকমতে অধমের হৃদয় জুড়ায়।

***

হে আল্লাহ! অধমের ফরিয়াদ

বন্ধু বলে বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম হাত,
ভাবিনি সে একদিন করবে এমন ঘাত।
হাসিমুখে নিল সে আমার কষ্টার্জিত ধন,
মিষ্টি কথার আড়ালেতে লুকিয়ে ছিল মন।

প্রয়োজনের কথা বলে করল কত শপথ,
বলল, "ভাই, ফিরিয়ে দেব"দিল আশ্বাস শত।
কাগজ লিখল, স্বাক্ষর নিল, সাক্ষীও ছিল সাথে,
তবু কেন হকের টাকা হারাল মিথ্যার পথে?

দিনের পরে মাস যে গেল, মাসের পরে বছর,
প্রতিশ্রুতির ফুল শুকিয়ে হলো মরুভূমির প্রহর।
আজকে দেবে, কালকে দেবেশুধুই কথার মালা,
অপেক্ষারই দীর্ঘ পথে জ্বলল দুঃখজ্বালা।

ফোন করলে ব্যস্ত সে হয়, দেয় না কোনো সাড়া,
সামনে গেলে দূরে সরে, বাড়ায় শুধু কারা।
কথার জালে জড়িয়ে রাখে সত্যের সরল পথ,
মিথ্যার রঙে ঢেকে ফেলে বিবেকেরই রথ।

হায়! টাকার কষ্ট যত, তার চেয়ে বড় ক্ষতি,
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা বয়ে কাঁদে অন্তরগতি।
যাকে ভেবেছি আপনজন, দুঃসময়ের সাথী,
সে- আজকে হকের পথে জ্বালায় অন্যায় বাতি।

নিঃশব্দ রাতে ঘুম ভাঙে, বুকটা কেঁপে ওঠে,
দীর্ঘশ্বাসের ভারী সুর বেদনার গান ছোটে।
চোখের জলে লিখি তখন হৃদয়ের ইতিহাস,
নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে জাগে নীরব নিশ্বাস।

মানুষ যদি না- শোনে মনের গভীর ব্যথা,
আসমানের মালিক আছেন, শুনেন সকল কথা।
তাঁরই দরবার খোলা থাকে দিন-রাতের শেষে,
মজলুমের আর্তনাদ যায় রহমতেরই দেশে।

হে আল্লাহ! তুমি জানো অন্তরের সব ক্ষত,
তুমি জানো কতটা কষ্ট, কত গভীর ব্যথা শত।
তুমি জানো কার হাতে আজ আটকে আছে হক,
তুমি জানো কার বিবেকে জমেছে অন্ধ লোক।

হে রহমান! হে রহীম! হে ন্যায়ের অধিপতি!
তোমার বিচারে নেই কখনো অন্যায়ের গতি।
আমি চাই না কারো ক্ষতি, চাই না অভিশাপ,
চাই শুধু প্রাপ্য ফিরুক, মুছে যাক সব পাপ।

যে টাকাতে জড়িয়ে আছে শ্রমের ঘামের দাগ,
যে টাকাতে বেঁচে থাকে সন্তানেরই ভাগ।
যে টাকাতে সংসারের স্বপ্ন বুনেছিলাম আমি,
সেই টাকারই হক ফিরিয়ে দাও, হে দয়াময় স্বামী।

কাগজ আছে, স্বাক্ষর আছে, সাক্ষী আছে বহু,
তবুও কেন ন্যায়ের পথে বাড়ে শুধু রুহু?
মানুষ যত চালাক হোক, যতই করুক ছল,
তোমার সামনে ভেঙে পড়ে সব অহংকার বল।

তুমি দেখো নিরবে বসে দিনের পর দিন,
কে করেছে অন্যায়, কে করেছে ঋণ।
তোমার জ্ঞানে ঢাকা পড়ে না কোনো আয়োজন,
তুমি জানো প্রতিটি কথা, প্রতিটি স্পন্দন।

হে দয়াময়! ধৈর্য দাও, দৃঢ় করো প্রাণ,
সত্যের পথে অটল রাখো আমার ঈমান।
অন্যায়ের এই কণ্টকপথ সহজ করে দাও,
ন্যায়ের শীতল ছায়ায় আমায় আশ্রয় দাও।

যে নিয়েছে হকের টাকা, তারে হিদায়াত দাও,
লোভের কালো পর্দাখানি হৃদয় থেকে নাও।
তার বিবেকে জাগিয়ে দাও ন্যায়ের নির্মল আলো,
ফিরিয়ে দিক প্রাপ্য আমার, মুছে যাক সব কালো।

সে যেন বুঝে অন্যের হক আত্মসাৎ করা,
দুনিয়া আখিরাতে কত বড় ক্ষতি ধরা।
সম্পদের গর্ব একদিন মিশে যাবে ধুলায়,
ন্যায়ের বিচার অটল থাকে কালেরই কুলায়।

অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস আকাশ ছুঁয়ে যায়,
মজলুমের চোখের পানি বৃথা কখনো নয়।
তোমার রহম বর্ষে নেমে আর্ত হৃদয় জুড়ে,
দুঃখের কালো মেঘ সরিয়ে শান্তির আলো ঘুরে।

আজ যে ব্যক্তি শক্তি নিয়ে করে অহংকার,
কাল সে- হবে হিসাবের দিনে নিঃসহায় একাকার।
ধন-সম্পদ, প্রভাব, ক্ষমতা থাকবে না তো সাথে,
শুধু কর্ম আর আমল যাবে বিচার দিনের পথে।

তাই তো আজ তোমার কাছে করি মাথা নত,
তোমার উপর ভরসা রেখে বলি কথা শত।
তুমি ছাড়া আর কে আছে মনের ব্যথা শোনার?
তুমি ছাড়া আর কে আছে হারানো হক আনার?

হে আল্লাহ! অধম বান্দার কান্না শুনে নাও,
বন্ধুর কাছে আটকে থাকা প্রাপ্য ফিরিয়ে দাও।
যে হক আমার ন্যায্য ছিল ফিরুক আমার ঘরে,
ন্যায়ের সূর্য উদয় হোক জীবনেরই ভোরে।

চোখের জলের প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষী হয়ে রয়,
তুমি জানো মনের কষ্ট, তুমি জানো ক্ষয়।
তোমার কৃপা, তোমার রহম, তোমার ন্যায়ের দান,
ফিরিয়ে আনুক হারানো সুখ, জুড়াক প্রাণের প্রাণ।

হে রব্বুল আলামীন! তুমি মহান, চিরসত্য ধ্বনি,
তোমার বিচার নিখুঁত, তুমি কারো নও ঋণী।
অধমের এই ফরিয়াদ আজ উঠুক আরশ পানে,
হক ফিরুক, সত্য জিতুকতোমারই বিধানে।

যদি মানুষ ভুলে যায় ন্যায়ের সোজা পথ,
তোমার দরবারে থাকে বিচার অটুট রথ।
যদি প্রাপ্য আটকে রাখে প্রতারণার দেয়াল,
তোমার হুকুমে ভেঙে যাবে অন্যায়েরই জাল।

তাই আজও আশার প্রদীপ জ্বলে বুকের মাঝে,
তোমার ন্যায়ের প্রতীক্ষাতে জীবন এগোয় সাজে।
হে মহান আল্লাহ! শুনো মজলুমের আকুলতা,
ফিরিয়ে দাও হক, মুছে দাও হৃদয়ের ব্যাকুলতা।

আমীন, হে রব্বুল আলামীন।
তোমার ন্যায়ের আলোয় উজ্জ্বল হোক প্রতিদিন।
মজলুমের অশ্রু মুছে যাক তোমার রহমতে,
হক ফিরে পাক অধম বান্দা তোমারই হিকমতে।

***

হে আল্লাহ! হক ফিরিয়ে দাও

বন্ধু বলে বিশ্বাস করে খুলেছিলাম প্রাণ,
ভাবিনি সে একদিন হবে দুঃখের কারণ।
হাসিমুখে কাছে এসে বলেছিল যে কথা,
আজ সে- কেন ভুলে গেল প্রতিশ্রুতির ব্যথা?

প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে নিল আমার ধন,
বলেছিল ফিরিয়ে দেবে, রাখবে আমার মান।
কাগজ লিখল, স্বাক্ষর নিল, সাক্ষী ছিল সাথে,
তবু কেন হকের দাবি পড়ে রইল পথে?

দিন পেরিয়ে মাস চলে যায়, মাস পেরিয়ে বছর,
অপেক্ষাতে শুকিয়ে গেল আশার সব প্রহর।
আজকে নয়, কালকে দেবেশুধুই কথার ফুল,
সত্যটাকে আড়াল করে মিথ্যার শত কূল।

যখন চাই প্রাপ্য টাকা, বাড়ে অজুহাত,
কথার ভাঁজে লুকিয়ে রাখে প্রতারণার রাত।
ফোন করলে সাড়া মেলে না, সামনে গেলে দূর,
বন্ধুত্বের সেই আকাশে জমে কালো সুর।

হায়! টাকার চেয়ে বড় যে বিশ্বাসেরই দাম,
সেই বিশ্বাস ভেঙে গেলে কাঁদে অবিরাম।
যাকে ভেবেছি আপনজন, সুখ-দুঃখের সাথী,
সে- কেন অন্যায়ের পথে জ্বালায় মিথ্যার বাতি?

রাতের শেষে নিঃসঙ্গতায় যখন জাগে মন,
চোখের জলে ভেসে ওঠে হারানো স্বপ্নগণ।
নীরবতার বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস যায়,
হৃদয়ের গভীর ব্যথা আকাশ ছুঁয়ে ধায়।

মানুষ যদি না- শোনে মজলুমের আর্তনাদ,
তোমার দরবারে ওঠে সেই কান্নারই সুরসাধ।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো বুকের সবই ক্ষত,
তুমি জানো কতটা কষ্ট, কত গভীর ব্যথা শত।

তুমি জানো কার হাতে আজ আটকে আছে হক,
তুমি জানো কার বিবেকে নেমেছে অন্ধ লোক।
তুমি জানো কার কথাতে ছিল ছলনার জাল,
তুমি জানো কার অন্তরে জমেছে মিথ্যার কাল।

হে রহমান! হে রহীম! হে বিচার দিনের মালিক,
তোমার সামনে একদিন হবে সবাই সালিক।
ক্ষমতা আর অর্থের গর্ব থাকবে না তো সেদিন,
সত্য ছাড়া কোনো কিছু হবে না সঙ্গী বিন্দুমাত্র দিন।

আমি চাই না কারো ক্ষতি, চাই না অভিশাপ,
চাই শুধু হকটা ফিরুক, দূর হোক সব পাপ।
যে টাকা ছিল ঘামের ফোঁটা, পরিশ্রমের ফল,
সেই টাকারই ন্যায্য দাবি ফিরিয়ে দাও চল।

যে টাকাতে সংসারের স্বপ্ন বুনেছিলাম আমি,
যে টাকাতে ছিল জড়িয়ে সন্তানেরই নামি।
যে টাকাতে ছিল আশা, ছিল আগামীকাল,
সেই টাকারই অপেক্ষাতে হৃদয় বেদনায় জ্বল।

কাগজ আছে, স্বাক্ষর আছে, সাক্ষী আছে বহু,
তবুও কেন ন্যায়ের পথে জমে শুধু রুহু?
মানুষ যত কৌশল করুক, যতই করুক ছল,
তোমার বিচারে এক নিমিষে ভেঙে যাবে বল।

হে দয়াময়! ধৈর্য দাও, শক্তি দাও প্রাণে,
সত্যের পথে অবিচল রাখো জীবনের টানে।
অন্যায়ের এই অন্ধকারে জ্বালাও নূরের দীপ,
হতাশার এই মরুভূমি করো শান্ত স্নিগ্ধ সীপ।

যে নিয়েছে হকের টাকা, তারে হিদায়াত দাও,
লোভের কালো পর্দাখানি হৃদয় থেকে নাও।
তার বিবেকে জাগুক আবার সত্যের নির্মল রং,
ফিরিয়ে দিক প্রাপ্য আমার, মুছে যাক সব জং।

সে যেন বুঝে অন্যের হক আত্মসাৎ করা,
কত বড় অপরাধ আর ক্ষতিরই ধারা।
দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী অর্থ-সম্পদ সব,
চিরদিনের জন্য কারো থাকে না তো রব।

আজ যে ব্যক্তি অন্যায়ের পথে করে গর্ব,
কাল সে- হবে নিঃস্ব হয়ে বিচার দিনের সর্ব।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব যাবে না তো সাথে,
শুধু আমল দাঁড়িয়ে থাকবে হিসাবেরই রাতে।

অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস আকাশ পানে যায়,
মজলুমের চোখের পানি বৃথা কখনো নয়।
তোমার রহম নেমে আসে ভাঙা হৃদয় ঘিরে,
অন্ধকারের রাত ভেঙে আলো আসে ফিরে।

তাই তো আজ তোমার কাছে রাখি মাথা নত,
তোমার উপর ভরসা রেখে বলি কথা শত।
তুমি ছাড়া আর কে আছে মনের ব্যথা শোনার?
তুমি ছাড়া আর কে আছে হারানো হক আনার?

হে আল্লাহ! অধম বান্দার ফরিয়াদ শুনে নাও,
বন্ধুর কাছে আটকে থাকা প্রাপ্য ফিরিয়ে দাও।
যে হক আমার ন্যায্য ছিল ফিরুক আমার ঘরে,
ন্যায়ের সূর্য উদয় হোক জীবনেরই ভোরে।

চোখের জলের প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষী হয়ে রয়,
তুমি জানো মনের কষ্ট, তুমি জানো ক্ষয়।
তোমার কৃপা, তোমার রহম, তোমার ন্যায়ের দান,
ফিরিয়ে আনুক হারানো সুখ, জুড়াক আমার প্রাণ।

আমীন, হে রব্বুল আলামীন! শুনো অধমের ডাক,
অন্যায়ের এই অন্ধকারে জ্বালাও ন্যায়ের ফাঁক।
মজলুমের হক ফিরিয়ে দাও তোমার হিকমতে,
শান্তি নেমে আসুক আবার হৃদয়েরই জমিতে।

হক ফিরুক, সত্য জিতুক, মিথ্যা হোক পরাজয়,
তোমার ন্যায়ের আলোতেই জীবনের বিজয়।


মন্তব্য করুন