Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:৪০ পূর্বাহ্ণ

মানবসেবায় রবের সন্ধান ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩২২, ইসলামিক সেন্টার ৬৩৭১) সহিহ মুসলিমের হাদিসে -মোঃ মুজিবুর রহমান

মানবসেবায় রবের সন্ধান

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩২২, ইসলামিক সেন্টার ৬৩৭১) সহিহ মুসলিমের হাদিসে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি করুণাময়ের পবিত্র নাম ধরে,
যাঁর দয়া ঝরে নিত্য বিশ্বচরাচরে।
যাঁর প্রেমে সূর্য ওঠে, চাঁদ বিলায় আলো,
যাঁর রহমতে শুষ্ক ধরা হয় শ্যামল ভালো।

মানুষ এলো ধরার বুকে ক্ষণিক দিনের তরে,
কেউবা হাসে সুখের ছোঁয়ায়, কেউ কান্দে অন্তরে।
কেউবা পায় অন্নের প্রাচুর্য, ভরা ভাণ্ডার ঘর,
কেউবা ক্ষুধায় কাটায় জীবন, চোখে অশ্রু ঝর।

কেউ অসুখে শয্যাশায়ী, দীর্ঘশ্বাসে রাত,
কেউ বা পাশে দাঁড়ায় না তার, শোনে না আর্তনাদ।
কেউ তৃষ্ণাতে শুকায় ওষ্ঠ, জ্বলে বুকের আগুন,
কেউ ফিরিয়ে নেয় মুখখানি, করে হৃদয় শূন্য।

তবু আকাশ হতে নেমে আসে এক মহাবাণী,
করুণারই আহ্বান যেন, প্রেমের অমৃতখানি।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় সেবার স্নেহছায়া,
সেই সেবাতেই লুকিয়ে থাকে রবের মহিমামায়া।

কিয়ামতের সেই ময়দানে, মহাসমাবেশ দিনে,
উঠবে যখন সকল মানুষ রবের ডাকে ঋণে।
কাঁপবে হৃদয়, থমকে যাবে অহংকারের শির,
সত্যের আলো উদ্ভাসিত হবে দিগন্তজুড়ি নীর।

বলবেন তখন সৃষ্টিকর্তা—
“
হে আদম সন্তান শোন,
আমি ছিলাম অসুস্থ একদিন,
তুমি করলে না যতন।

আমি ছিলাম ক্ষুধার্ত তখন,
পাইনি তোমার দান,
আমি ছিলাম তৃষ্ণার্ত খুব,
দাওনি এক ফোঁটা পান।”

বিস্ময়ে তখন মানুষ বলবে—
“
হে বিশ্বজগতের রব!
আপনি তো মহান প্রতিপালক,
আপনার কি অভাব কভু?”

করুণাধারার রব বলবেন—
“
ভেবে দেখো মন দিয়ে,
আমার এক বান্দা অসুস্থ ছিল,
ছিল কষ্টের নীড়ে।

তুমি যদি যেতে তার কাছে,
সেবার হাতটি বাড়াতে,
তাহলে আমাকেই পেতে তুমি
তারই ব্যথার প্রান্তে।

আমার এক বান্দা ক্ষুধার্ত ছিল,
দাঁড়িয়েছিল দ্বারে,
তুমি ফিরিয়েছ তাকে সেদিন
নিষ্ঠুর অবহেলায়।

যদি দিতে একটুকরো রুটি,
এক পেয়ালা ভাত,
আমার কাছে পেতে তা তুমি,
হতো না কোনো ঘাট।

আমার এক বান্দা তৃষ্ণার্ত ছিল,
শুকিয়ে গিয়েছিল ওষ্ঠ,
যদি দিতে এক পেয়ালা পানি,
মিটত তার দুঃখকষ্ট।

সেই পানির প্রতিদান তুমি
আমার কাছেই পেতে,
দয়ার সাগর উথলে উঠত
তোমার আমলখাতাতে।”

হে মানব, শুনো সেই বাণী,
জাগো বিবেক জাগো,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
মানবতার লাগো।

মসজিদেরই মিনার যত,
যত প্রার্থনার ধ্বনি,
মানুষ যদি কাঁদে পাশে,
অপূর্ণ থাকে গণি।

ইবাদতের মহিমা তখন
পূর্ণতা পায় কবে?
যখন দুঃখীর চোখের জলে
সান্ত্বনার হাত রবে।

যে হাত বাড়ায় রোগীর পানে
নিঃস্বার্থ ভালোবেসে,
সে হাত যেন আলোর শিখা
জ্বলে আকাশদেশে।

যে মানুষটি ক্ষুধার্ত মুখে
তুলে দেয় অন্নখানি,
তার দানের সুবাস ভেসে
পৌঁছে যায় আরশপানে।

যে মানুষটি তৃষ্ণার্ত জনে
দেয় এক পেয়ালা জল,
তার জন্যে রহমতের দ্বার
হয় অবারিত চল।

মানুষ শুধু মাংসের গড়া
একটি দেহ নয়,
মানুষ মানে অনুভূতির
অন্তহীন পরিচয়।

মানুষ মানে ভাগ করে নেওয়া
অপরের ব্যথাবেদনা,
মানুষ মানে হাত বাড়ানো
ক্লান্ত জীবনের সীমানা।

যে শিশুটি পথে বসে
চেয়ে থাকে নিরাশ চোখে,
যে বৃদ্ধটি নিঃসঙ্গ বসে
দিন গোনে দুঃখশোকে,

যে মায়ের ঘরে অন্ন নেই আর,
চুলা থাকে নিভে,
যে শ্রমিকটি ক্ষুধা বুকে
ঘুমিয়ে পড়ে নীরবে,

যে রোগীটি হাসপাতালের
শয্যায় কাঁদে রাত,
যে অসহায় ওষুধহীন
হারায় বাঁচার স্বাদ—

তাদের মাঝে খুঁজে নাও আজ
রবের দয়ার রূপ,
তাদের সেবায় ফুটিয়ে তোলো
মানবতার কুসুমরূপ।

ধন যদি থাকে, দাও উদার হয়ে,
জ্ঞান থাকিলে শেখাও,
শক্তি থাকিলে দুর্বলের পাশে
ঢাল হয়ে দাঁড়াও।

মিষ্টি কথারও আছে দান,
হাসিরও আছে মূল্য,
একটি সান্ত্বনার বাক্য পারে
ভাঙা মন করতে পূর্ণ।

মানবসেবার প্রতিটি ক্ষণ
লিখে রাখেন রব,
কোনো কল্যাণ বিন্দুমাত্র
হয় না কখনো লোপ।

এক ফোঁটা জল, এক মুঠো ভাত,
একটি স্নেহের হাত,
কিয়ামতের দিনে হতে পারে
মুক্তির উজ্জ্বল প্রভাত।

তাই এসো সবাই প্রতিজ্ঞা করি
মানবতার পথে,
কাউকে যেন ফিরাই না আর
নিষ্ঠুর অবহেতে।

রোগীর শিয়রে বসব গিয়ে,
ধরব কাঁপা হাত,
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে
করব জীবন ধন্যতাত।

তৃষ্ণার্ত জনে জল বিলাব,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াব,
রবের সন্তোষ লাভের আশায়
মানবসেবায় যাব।

কারণ মানুষকে ভালোবাসা
নয় কেবল কাজ,
এ যে রবের নৈকট্য পাওয়ার
অতুল পুণ্য সাজ।

যেদিন হবে হিসাবের দিন,
খুলবে আমলনামা,
সেদিন যেন বলতে পারি—
“
রব! করিনি অবহেলা।

আপনার বান্দার চোখের জলে
মুছিয়েছি যত পারি,
আপনার দেওয়া নিয়ামত হতে
বিলিয়েছি বারি বারি।”

তখন হয়তো করুণাময়
হেসে বলবেন ধীরে—
“
এসো আমার প্রিয় বান্দা,
এসো রহমতের নীড়ে।

মানুষের মাঝে আমায় খুঁজেছ,
সেবায় কাটিয়েছ কাল,
আজ তোমার জন্য উন্মুক্ত
চিরশান্তির মহামহল।”

তখন ভেসে উঠবে হৃদয়ে
অমর সত্যবাণী—
মানুষ সেবার পথেই লুকায়
রবের সন্তুষ্টিখানি।

মানবপ্রেমের দীপ জ্বালিয়ে
চলো জীবনের পথে,
মানুষের মাঝে রবের সান্নিধ্য
খুঁজে নাও প্রতিক্ষণে।
দুঃখীর মুখে হাসি ফোটানোই
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান—
মানবসেবায় রবের সন্ধান,
মানবসেবায় রবের সন্ধান।

***

মানবতার আদালত

সেদিন হবে না কোনো বংশের গৌরব,
হবে না ধনসম্পদের অহংকারের রব।
রাজা আর প্রজা সবাই দাঁড়াবে সমান,
ন্যায়ের পাল্লায় হবে প্রত্যেকের মূল্যায়ন।

যে ছিল দুনিয়াতে ক্ষমতার গর্বে মত্ত,
অসহায়ের আর্তনাদে ছিল যার চিত্ত রুদ্ধ,
সেদিন তার জিহ্বা হবে নীরব ও স্তব্ধ,
কর্মের সাক্ষ্যে খুলবে জীবনের সব শব্দ।

যে রোগীর কপালে রাখেনি স্নেহের হাত,
দেখেনি চোখের জলে দীর্ঘ বেদনাময় রাত,
যে ক্ষুধার্ত শিশুর মুখ ফিরিয়েছে তাচ্ছিল্যে,
সে কী উত্তর দেবে সেদিন বিচারের ময়দানে?

যে তৃষ্ণার্ত পথিক চেয়েছিল এক পেয়ালা জল,
আর সে ফিরিয়েছে তাকে করে হৃদয় বিকল,
সেদিন সেই ঘটনাগুলো জেগে উঠবে আবার,
প্রত্যেক অবহেলার হবে কঠিন বিচার।

আল্লাহ বলবেন— “কোথায় তোমার মানবতা?
কোথায় ছিল হৃদয়ের কোমল মমতা?
আমি তো দিয়েছিলাম ধন, দিয়েছিলাম সামর্থ্য,
তবু কেন বঞ্চিত হলো অভাবীর অধিকার?”

তখন কাঁদবে মানুষ, কাঁপবে অন্তর,
ফিরে পেতে চাইবে দুনিয়ার ক্ষণিক প্রহর।
কিন্তু সময়ের দুয়ার হবে চিরতরে বন্ধ,
অতীতের পথ হবে অনন্তকাল স্তব্ধ।

হায়! যদি একদিন রোগীর শিয়রে যেতাম,
হায়! যদি ক্ষুধার্তকে অন্নখানি দিতাম,
হায়! যদি তৃষ্ণার্তকে এক পেয়ালা জল,
দিতাম সানন্দে, মুছাতাম চোখের জল।

কিন্তু আফসোস তখন আর হবে না ফলপ্রদ,
শেষ হয়ে যাবে সুযোগ, বন্ধ হবে পথ।
তাই আজই জাগো মানুষ, জাগো বিবেকবান,
সেবার মাঝেই লুকিয়ে আছে রবের সন্তোষদান।

মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ইবাদত,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো শ্রেষ্ঠ সাধনা-রত।
ভাঙা হৃদয় জোড়া দেওয়া মহৎ আমল,
এতেই লুকিয়ে থাকে জান্নাতের সম্বল।

যে সেবায় ব্যথিত প্রাণ ফিরে পায় আলো,
যে দানে ক্ষুধার্ত মুখে ফুটে ওঠে ভালো,
যে পানিতে তৃষ্ণার্ত প্রাণ পায় শান্তির ছোঁয়া,
সেই কর্মে রবের রহমত নেমে আসে ধোয়া।

এসো তবে গড়ি সবাই মমতার সমাজ,
ভালোবাসার বন্ধনে হোক মানবতার সাজ।
ধনী-গরিব, ছোট-বড়, ভেদাভেদ ভুলে,
দাঁড়াই আমরা পরের পাশে হৃদয়খানি খুলে।

কারণ মানুষই মানুষের আপন আশ্রয়,
মানুষের সেবাতেই জীবনের জয়।
যেখানে দুঃখীর মুখে ফোটে আশার হাসি,
সেখানেই রবের রহমত নামে উদাসী।

তাই শেষ করি এই কাব্য এক অমর বাণীতে—
মানবসেবার চেয়ে বড় নেই কিছু পৃথিবীতে।
যে ভালোবাসে মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি তরে,
সে-ই সফল হবে একদিন চিরশান্তির ঘরে।

***

রহমতের সোপান

শুনো হে মানুষ, ক্ষণিক জীবনের পথিক,
আজ যে শক্তিমান, কাল সে হবে অতীত।
আজ যে সুস্থ দেহে করে গর্ব অহরহ,
কাল সে-ই শয্যাশায়ী হতে পারে নিরুপায়।

আজ যে ভরা ঘরে অন্নের অফুরান ঢেউ,
কাল হয়তো তারই ঘরে নেমে আসবে ক্ষয়।
আজ যে তৃষ্ণা বোঝে না পরের শুকনো ওষ্ঠ,
কাল তারই হৃদয়ে জ্বলতে পারে সেই কষ্ট।

তাই দম্ভ নয়, চাই বিনয়ী হৃদয়,
চাই করুণার সুধা, চাই মানবতার জয়।
যে হৃদয় কাঁদে পরের ব্যথায় নীরবে,
রবের রহমত নেমে আসে তারই অন্তরে।

রোগীর কপালে স্নেহের পরশ রাখো,
দুঃখের অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালো।
একটি মমতার বাক্য, একটি আন্তরিক হাসি,
ভাঙা প্রাণে ফিরিয়ে আনে জীবনের উদাসী।

ক্ষুধার্তের সামনে যদি বাড়াও অন্নখানি,
তোমার হাতেই জ্বলে ওঠে দয়ার চিরবাণী।
তৃষ্ণার্তের হাতে যদি তুলে দাও জল,
তোমার আমলে যুক্ত হয় অমূল্য সম্বল।

কত মানুষ নিঃশব্দে বয়ে বেড়ায় বেদনা,
কত চোখে জমে থাকে অশ্রুর ঠিকানা।
কেউ বলে না মুখে, তবু অন্তরে কান্না,
মানবতার ছোঁয়াই পারে দিতে তারে সান্ত্বনা।

সেবা কেবল দান নয়, সেবা হৃদয়ের ভাষা,
সেবা মানে মুছে দেওয়া হতাশার নিরাশা।
সেবা মানে আলোর কিরণ অন্ধকারের মাঝে,
সেবা মানে ভালোবাসা মানবতার সাজে।

যে ঘরে থাকে মমতা, সে ঘর জান্নাতসম,
যে প্রাণে থাকে দয়া, সে প্রাণ মহামূল্যবান।
যে হাতে থাকে দান, সে হাত ধন্য হয়,
যে হৃদয়ে থাকে প্রেম, সে হৃদয় অমলময়।

হে মানব, স্মরণ রেখো জীবনের প্রতিক্ষণ,
সেবার মাঝেই লুকিয়ে আছে ইমানের স্পন্দন।
ইবাদতের সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় তখন,
যখন পরের কল্যাণে জাগে অন্তর-মন।

কিয়ামতের প্রান্তরে যখন উঠবে ডাক,
যখন খুলবে কর্মের সব অগণিত পাতা,
তখন যেন বলতে পারো নির্ভয়ে মাথা তুলে—
“
হে রব! ফিরাইনি কাউকে আমার দুয়ার খুলে।

রোগীর পাশে বসেছি, মুছিয়েছি আঁখিজল,
ক্ষুধার্তকে দিয়েছি অন্ন, তৃষ্ণার্তকে জল।
আপনারই সন্তুষ্টি ছিল আমার কামনা,
মানবসেবায় কেটেছে জীবনের দিনগণা।”

তখন রহমতের সাগর হবে উথাল-পাথাল,
দয়ার দরিয়া বইবে অনন্ত অবিরল।
আরশ হতে ভেসে আসবে স্নিগ্ধ আহ্বান—
“
এসো হে বান্দা, আজ পূর্ণ তোমার সম্মান।

তুমি মানুষে খুঁজেছ আমারই পরিচয়,
তাই আজ তোমার জন্য শান্তির অপরিমেয় জয়।
তুমি ভালোবেসেছ সৃষ্টি আমার সন্তুষ্টি তরে,
এসো চিরসুখের নীড়ে, জান্নাতের ঘরে।”

তখন সব ক্লান্তি যাবে, মুছে যাবে ভয়,
রবের সন্তোষই হবে চূড়ান্ত পরিচয়।
আর ধ্বনিত হবে যুগে যুগে অমর সেই গান—
মানবসেবাই শ্রেষ্ঠ পথ, মানবতার জয়গান।

***

করুণার কাফেলা

শুনো হে মানুষ, দুনিয়া কেবল পথেরই সরাই,
এখানে কেউ চিরদিনের বাসিন্দা হয়ে নাই।
যে আজ হাসে সুখের ছায়ায়, কাল সে কাঁদতে পারে,
সময় চক্র ঘুরে ফিরে সবার দুয়ারে।

আজ যে ধনী, ভরা ঘরে যার অগণিত ভাণ্ডার,
কাল সে-ও হতে পারে নিঃস্ব, হারিয়ে সব অধিকার।
আজ যে সুস্থ, বলের গর্বে চলে বুক উঁচু করে,
কাল রোগ এসে শুইয়ে দিতে পারে শয্যার ‘পরে।

তাই তো রবের শিক্ষা এই—ভুলো না মানবধর্ম,
অসহায়ের মুখের হাসি ইবাদতেরই মর্ম।
ক্ষুধার্তের আহার যদি জোগাও স্নেহভরে,
রহমতের ফুল ফুটে ওঠে তোমার অন্তরে।

কত শিশু পথের ধারে চেয়ে থাকে নীরব চোখে,
কত মায়ের বুকের ভেতর ক্ষুধার আগুন শোকে।
কত বৃদ্ধ নিঃসঙ্গ হয়ে কাটায় দীর্ঘ রাত,
কেউ রাখে না খোঁজ, কেউ বাড়ায় না স্নেহমাখা হাত।

কত রোগী হাসপাতালের শয্যায় নীরব কাঁদে,
কত ব্যথা জমে থাকে বুকের গোপন খাদে।
কত মানুষ ওষুধহীন দিন গোনে নিরাশায়,
কত প্রাণ বাঁচতে চেয়ে মৃত্যুর দ্বারে যায়।

হে মানব! যদি পারো আজ তাদের পাশে দাঁড়াও,
সান্ত্বনার দুটি বাক্য অন্তর খুলে শোনাও।
কারণ মমতার পরশ পেলে ব্যথা অনেক সরে,
অন্ধকারের বুক চিরে আলো নেমে পড়ে।

সেবা কেবল অর্থদানে সীমাবদ্ধ নয়,
সেবা মানে হৃদয় দেওয়া, মানুষেরই জয়।
একটি হাসি, একটি কথা, একটি আন্তরিক হাত,
অনেক সময় বদলে দেয় দুঃখভরা রাত।

যে তরুণ পথ হারিয়েছে হতাশারই ঘোরে,
তাকে যদি সাহস দাও, নতুন ভোর সে গড়ে।
যে মানুষটি ভেঙে গেছে জীবনের আঘাতে,
তার পাশে দাঁড়ানোও মহৎ ইবাদতে।

যে শিক্ষক জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দেন প্রাণে,
যে চিকিৎসক সেবা দেন রোগীর কল্যাণে,
যে কৃষক অন্ন ফলায় মানুষেরই তরে,
যে শ্রমিক ঘাম ঝরায় সভ্যতারই ঘরে—

সবার শ্রমে গড়ে ওঠে পৃথিবীর আয়োজন,
মানুষে মানুষে মিলে গড়ে জীবনের বন্ধন।
তাই কাউকে তুচ্ছ ভেবে করো না অবহেলা,
প্রত্যেক প্রাণেই লুকিয়ে আছে রবের দানের মেলা।

সেদিন যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেবে মহান রবের হুকুমে,
ভেঙে যাবে সব অহংকার মুহূর্তেরই ঝড়ো ভূমে।
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব, সবাই হবে সমান,
কর্মের হিসাবেই হবে মানুষের পরিচয়দান।

যে মানুষটি দুনিয়াতে কেবল নিজের তরে বাঁচে,
পরের দুঃখ দেখে থেকেও ফিরিয়ে নেয় চোখ পাছে,
সেদিন তারই হৃদয় ভরে উঠবে হাহাকারে,
ফিরে পেতে চাইবে সুযোগ দুনিয়ারই দ্বারে।

বলবে সে—“হায়! যদি আমি ক্ষুধার্তকে দিতাম ভাত,
হায়! যদি আমি ধরতাম রোগীর কাঁপা হাত!
হায়! যদি তৃষ্ণার্ত জনে দিতাম এক পেয়ালা জল,
আজ আমার আমলনামা হতো কত উজ্জ্বল!”

কিন্তু তখন সময় হবে অতীতেরই গল্প,
ফিরে আসবে না আর কোনো হারানো সুযোগ।
তাই আজই জাগো, আজই গড়ো করুণার সমাজ,
মানবতার সৌন্দর্যে হোক জীবনের সাজ।

হৃদয় যদি দয়ার আলোয় আলোকিত হয়,
সেই হৃদয়েই সত্যিকারের ঈমানের পরিচয়।
প্রেম যেখানে স্বার্থহীন, সেবা যেখানে ধ্যান,
সেখানেই ফুটে ওঠে জান্নাতেরই জ্ঞান।

এসো তবে হাতে হাত রেখে করি অঙ্গীকার,
অসহায়ের মুখে ফোটাব আশার অমৃতধার।
রোগীর শিয়রে বসব গিয়ে, শুনব মনের ব্যথা,
ক্ষুধার্ত মুখে তুলে দেব স্নেহমাখা অন্নকণা।

তৃষ্ণার্তের হাতে দেব শীতল পানির পাত্র,
দুঃখীর পাশে দাঁড়িয়ে হব সহমর্মিতার মাত্র।
বিপদে যার কেউ নেই পাশে, হব তারই সাথি,
মানবতার এই পথেই জীবনের সার্থক গাঁথি।

কারণ দান কেবল সম্পদের নয়,
দান হতে পারে সময়েরও পরিচয়।
দান হতে পারে মমতার ভাষা,
দান হতে পারে হৃদয়ের আশা।

যেদিন হবে হিসাবের দিন, খুলবে আমলখাতা,
দেখবে মানুষ কর্মের ছবি, জীবনের সব কথা।
সেদিন যারা মানুষকে ভালোবেসেছে রবের তরে,
তারা থাকবে রহমতেরই সুবিশাল ছায়াঘরে।

আর করুণাময় ডাক দেবেন স্নেহভরা বাণী—
“
এসো হে বান্দা, পূর্ণ হলো তোমার জীবনের কাহিনি।
তুমি আমার সৃষ্টি ভালোবেসেছ আমারই সন্তোষে,
তাই আজ তুমি থাকবে চিরশান্তির পরশে।”

তখন দুঃখ থাকবে না আর, থাকবে না কোনো ভয়,
রবের সন্তুষ্টিই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়।
আর যুগে যুগে ধ্বনিত হবে অমর মহাগান—

মানুষের সেবাই শ্রেষ্ঠ ইবাদত,
মানবপ্রেমেই রবের সন্ধান।
ক্ষুধার্তের আহার, তৃষ্ণার্তের পান,
রোগীর সেবাতেই লুকায় জান্নাতের সম্মান।

মানবসেবায় রবের সন্ধান,
মানবসেবায় রবের সন্ধান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ