Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে -(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩২২, ইসলামিক সেন্টার ৬৩৭১) সহিহ মুসলিমের হাদিসে - মোঃ মুজিবুর রহমান



ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে

-(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩২২, ইসলামিক সেন্টার ৬৩৭১) সহিহ মুসলিমের হাদিসে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি মানবতার এক অমর মহাগান,
যে বাণীতে জাগে করুণা, জাগে বিবেক-প্রাণ।
ধন-সম্পদ নয় যে মহৎ, নয় যে খ্যাতির শিখর,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে হওয়াই শ্রেষ্ঠ গৌরবের ঘর।

একদিন হবে মহাসমাবেশ বিচার দিনের প্রান্তে,
দাঁড়াবে সব মানুষ তখন আপন কর্মের কান্তে।
সেদিন রবে না কোনো শক্তি, রবে না কোনো বল,
সত্যের সামনে উন্মোচিত হবে জীবনের সকল ফল।

আরশের মালিক ডাকবেন তখন স্নেহমিশ্রিত স্বরে,
"
হে আদম সন্তান! বলো দেখি, চিনেছিলে কি মোরে?
আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, খোঁজ নিলে না তুমি,
দুঃখের দিনে পাশে এসে দিলে না সান্ত্বনাভূমি।"

অবাক হয়ে বান্দা বলবে, কাঁপবে অন্তর-তরী,
"
হে আমার রব! আপনি তো মহান, সবার উপরি।
আপনি কেমন করে অসুস্থ হন, কেমন করে ব্যথা পান?
আপনি তো সকল জগতের প্রভু, সকল সৃষ্টির প্রাণ।"

তখন বলবেন দয়াময় রব করুণার আবেশে,
"
আমার এক বান্দা কাতর ছিল রোগশয্যার দেশে।
তুমি জানতে, তবু যাওনি তার শিয়রের পাশে,
যেতে যদি, আমাকেই পেতে তারই অশ্রুভেজা নিশ্বাসে।"

আবার ডাকবে মহান প্রভু ন্যায়বিচারের তরে,
"
হে আদম সন্তান! আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম একদা ধরণীভরে।
তোমার দুয়ারে আহার চেয়েও পেলাম না অন্ন,
তুমি ফিরিয়ে দিয়েছিলে তাকে, ছিলে না করুণাপূর্ণ।"

বান্দা কেঁদে বলবে তখন, "হে সকল রিজিকদাতা!
আপনি কীভাবে ক্ষুধার্ত হন, হে মহান স্রষ্টা?
যার ভাণ্ডারে আকাশ-জমিন, নদী-সাগরের ধারা,
তাঁকে কি কেউ আহার দেয়? কেমন বিস্ময় সারা!"

রব বলবেন, "আমার এক বান্দা এসেছিল ক্ষুধার জ্বালায়,
ভাঙা হৃদয়, ক্লান্ত শরীর, অন্নের আশায়।
তুমি দেখেও ফিরিয়ে দিলে, করোনি দয়ার হাত,
এক মুঠো ভাত দিলে সেদিন পেতে আমায় সাথে সাথে।"

আবার ধ্বনিত হবে বাণী কিয়ামতের সেই ক্ষণে,
"
হে আদম সন্তান! তৃষ্ণার্ত ছিলাম আমি একদিন জীবনে।
এক পেয়ালা পানি চেয়েও পাইনি তোমার দ্বারে,
শুষ্ক কণ্ঠে ফিরে গিয়েছিল সে নিরাশার অন্ধকারে।"

বান্দা বলবে, "হে আমার রব! আপনি তো সাগরসম দাতা,
আপনাকে কি পান করাবে এই ক্ষুদ্র মানবজাতি?"
রব বলবেন, "আমার এক বান্দা তৃষ্ণায় ছিল কাতর,
তুমি যদি পানি দিতে, পেতে আমায় তার অন্তর।"

হায়! কত মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় ঘুমায় রাতের শেষে,
কত শিশু কাঁদে নিরবে অন্ধকারের আবেশে।
কত বৃদ্ধ পথের ধারে চেয়ে থাকে কারো পানে,
কত অসহায় হারিয়ে যায় নীরব কান্নার টানে।

কত রোগী শয্যায় পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায়,
একটুখানি সান্ত্বনার বাণীও কাছে কেউ না পায়।
কত তৃষ্ণার্ত শুকনো ঠোঁট আকাশপানে চায়,
মানবতার হাত বাড়ালে কত জীবন বাঁচে হায়!

মসজিদ গড়ো, মাদরাসা গড়ো, করো সৎকর্ম হাজার,
তবু ভুলে যেয়ো না কখনো অভাবীর অধিকার।
যে দান গিয়ে পৌঁছে যায় ক্ষুধার্তের মুখপানে,
সে দান লিখে রাখেন আল্লাহ অনন্ত মহিমাখানে।

যে হাত মুছে অশ্রুবিন্দু, সে হাত পবিত্র হয়,
যে হৃদয়ে দয়ার স্রোত বয়, সেখানে আল্লাহ রয়।
যে মানুষটি মানুষের তরে বিলিয়ে দেয় আপন প্রাণ,
তারই জন্য রচিত হয় রহমতের অফুরান দান।

ধর্ম কেবল কথায় নয়, ধর্ম কেবল বচন নয়,
ধর্ম মানে মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়াবার পরিচয়।
ধর্ম মানে ভাঙা হৃদয়ে আশার প্রদীপ জ্বালা,
ধর্ম মানে নিঃস্বজনের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া।

প্রতিবেশী যদি থাকে ক্ষুধায়, আর তুমি থাকো তৃপ্ত,
তবে কেমন সেই মানবতা, কেমন ঈমান দীপ্ত?
পথের ধারে কেউ যদি পড়ে অসহায়ের বেশে,
তবে ছুটে যাও, আল্লাহকে পাবে তারই চোখের শেষে।

মানুষ সেবার প্রতিটি ক্ষণ ইবাদতেরই রূপ,
দয়ার মাঝে লুকিয়ে থাকে জান্নাতের অপরূপ।
এক গ্লাস পানি, একটুকু ভাত, একফোঁটা মমতার ছায়া,
হতে পারে কিয়ামতের দিনে মুক্তির মহামায়া।

তাই এসো সবাই হাত বাড়াই মানুষের কল্যাণে,
ভালোবাসার বীজ বুনি এই পৃথিবীর প্রাণে।
রোগীর পাশে, ক্ষুধার্তের তরে, তৃষ্ণার্তের আহ্বানে,
ছুটে যাই আমরা করুণার মহিমান্বিত টানে।

যেদিন হবে শেষ বিচার আর খুলবে কর্মখাতা,
সেদিন যেন বলতে পারি "হে পরম করুণাদাতা!
আপনার বান্দার সেবায় আমি রেখেছিলাম মন,
মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল আমার সাধন।"

তখন হয়তো রহমতের দ্বার খুলবে অনন্ত ভোরে,
শোনা যাবে স্নেহের বাণী
"
তুমি মানুষকে ভালোবেসেছ, তাই পেয়েছ আমায় মোরে।
ক্ষুধার্তকে আহার দিয়েছ, তৃষ্ণার্তকে দিয়েছ জল,
আজ তোমার জন্য প্রস্তুত আমার জান্নাতের অনন্ত ফল।"

***

ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে

(হাদিসে কুদসির আলোকে মানবতার মহাকাব্য)

শুরু করি করুণার সেই অনন্ত মহাগান,
যে বাণীতে জেগে ওঠে সুপ্ত বিবেক-প্রাণ।
যে আহ্বানে মানুষ শেখে মানুষেরই তরে,
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালতে দুঃখী মানুষের ঘরে।

ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, যশ, ক্ষণিক মরীচিকা,
চোখের পলকেই মিলিয়ে যাবে পৃথিবীর সব দ্যুতি-রেখা।
রয়ে যাবে শুধু সেসব কর্ম, সেসব মহৎ দান,
যা দিয়েছিলে আল্লাহর তরে মানবকল্যাণ।

একদিন হবে মহাবিচার, থামবে সময়চাকা,
সেদিন কারো থাকবে না আর গর্বের কোনো ফাঁকা।
রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, সবাই একই সারি,
নিজের কর্ম নিয়েই হবে হিসাব-নিকাশ ভারী।

খুলবে যখন আমলনামা, কাঁপবে অন্তর-মন,
স্মরণ হবে হারিয়ে ফেলা কত সুযোগের ক্ষণ।
কত ক্ষুধার্ত ফিরেছিল যে দুয়ার হতে ফিরে,
কত অসহায় কেঁদেছিল নীরব আঁধার ঘিরে।

তখন মহান রব বলবেন বিচার দিনের ভোরে,
হে আদম সন্তান! ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে।
তৃষ্ণার্ত ছিলাম, পানি দাওনি, অসুস্থ ছিলাম আমি,
তবু কেন দূরে রইলে তুমি, কোথায় ছিলে তখন তুমি?”

অবাক হয়ে বান্দা বলবে, কাঁদবে অপরাধে,
হে পরওয়ারদিগার! আপনি তো সকল জগতের সাধে।
আপনাকে কি আহার দেব, কীভাবে দেব জল?
আপনি তো সকল নিয়ামতের অফুরন্ত সম্বল!

তখন রবের বাণী আসবে করুণারই সুরে,
আমার বান্দা এসেছিল তোমারই দ্বারে ঘুরে।
তুমি যদি তার মুখে দিতে এক মুঠো অন্নদান,
আমার কাছেই পেতে তার অমল প্রতিদান।

আমার বান্দা রোগে কাতর শুয়েছিল নিরাশায়,
তুমি যদি যেতে তার কাছে ভালোবাসার আশায়,
আমাকেই পেতে তার পাশে রহমতেরই ঘোরে,
তুমি কেন ফিরে গেলে অবহেলার ডোরে?”

হায়! কত এতিম শিশু আজ চেয়ে থাকে পথে,
মায়ের স্নেহ হারিয়ে তারা বাঁচে অশ্রুর রথে।
কত অনাথ রাত কাটায় নিঃসঙ্গতার ছায়ায়,
কেউ কি দেখে তাদের ব্যথা, কেউ কি কাছে যায়?

কত বিধবা নীরব মুখে জীবনযুদ্ধ করে,
অভাব এসে বারবারই আঘাত হানে ঘরে।
কত বৃদ্ধ সন্তানের তরে করেছে ত্যাগ অশেষ,
আজ সে বসে একাকী হয়ে, নেই খোঁজখবরের রেশ।

প্রতিবেশী ক্ষুধায় কাতর, তুমি ভোজে মত্ত,
কেমন মানবতা তবে, কেমন ধর্মপথ?
রাসূল শিখিয়েছেন সদা প্রতিবেশীর হক,
তার দুঃখে পাশে দাঁড়ানো ঈমানেরই লক্ষ।

যে ঘরে জ্বলে সুখের বাতি, পাশেই যদি ক্ষুধা,
তবে কেমন সে শান্তি বলো, কেমন সে আনন্দসুধা?
মানুষ যদি মানুষের তরে না বাড়ায় হাত,
তবে কেন তার গর্ব এত, কেন অহংকারের মাত?

দান কেবল সম্পদ দেওয়া নয় যে কোনোদিন,
মিষ্টি কথা, হাসিমুখও সদকার অন্তর্গত ঋণ।
এক গ্লাস জল, একটুখানি সান্ত্বনার বাণী,
আল্লাহর কাছে হয়ে যায় মহামূল্য দানখানি।

যে হাত মুছে অশ্রুবিন্দু, সে হাত ধন্য হয়,
যে হৃদয়ে করুণা জাগে, সেখানে আল্লাহ রয়।
যে মানুষটি অন্যের তরে ত্যাগ স্বীকার করে,
রহমতের দরিয়া নামে তারই জীবনের ঘরে।

এসো তবে গড়ি আমরা মানবতার দেশ,
যেখানে ঘৃণা হার মানে ভালোবাসার রেশ।
যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষ পায় অন্নের অধিকার,
যেখানে অসুস্থ মানুষ পায় সেবার উপহার।

যেখানে এতিম শিশুরা পায় মমতার ছায়া,
যেখানে বৃদ্ধের মুখে ফুটে সম্মানের মায়া।
যেখানে তৃষ্ণার্ত প্রাণ পায় এক পেয়ালা জল,
যেখানে মানুষ মানুষের সুখে হয় উজ্জ্বল।

সেদিন যখন শিঙ্গা ফুঁকে ডাকবে নতুন ভোর,
উঠবে সবাই কবর হতে মহাবিচারের ঘোর।
কেউ হাসবে সৎকর্ম নিয়ে, কেউ কাঁদিবে হায়,
হারানো সেই সুযোগগুলোর স্মৃতি মনে পায়।

যার হাতে ছিল দানের আলো, সেবার পুণ্যধন,
তার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে পূর্ণিমারই চাঁদসম।
যে মানুষটি ভালোবেসেছে আল্লাহর সন্তুষ্টির তরে,
জান্নাতের সুসংবাদ পাবে সে- সবার আগে।

আর তখন রব বলবেন দয়ার স্নিগ্ধ স্বরে
তুমি এসেছিলে মানুষের দুঃখ মোচনের তরে।
ক্ষুধার্তকে আহার দিয়েছ, তৃষ্ণার্তকে দিয়েছ জল,
অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে করেছ জীবন সফল।

আজ তোমার জন্য উন্মুক্ত জান্নাতের দুয়ার,
এখানে নেই কোনো দুঃখ, নেই কষ্টের ভার।
চিরশান্তির এই নিবাস তোমারই প্রতিদান,
মানুষ সেবার মধ্য দিয়ে পেয়েছ আমার সন্তোষদান।

তাই এসো আজ শপথ করি সবার হাত ধরি,
মানবতার পতাকা তুলে এগিয়ে চলি নিরন্তরই।
রোগীর সেবা, ক্ষুধার্তের তরে অন্নের আয়োজন,
এতিম-মিসকিনের মুখে ফোটাই আশার হাসিবরণ।

এই হোক মোদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সাধনা,
মানুষ সেবার মাঝেই খুঁজি রবের সন্তুষ্টি-চিহ্ননা।
কারণ সৃষ্টির সেবাতেই লুকিয়ে আছে যে,
স্রষ্টার প্রেম, রহমত আর জান্নাতের পথ বেয়ে।

ভূখা ছিলামআহার দাওনি মোরে,
এই বাণী যেন না শোনা যায় বিচার দিনের ঘোরে।
বরং শুনি করুণাময়ের সন্তুষ্টিরই বাণী
মানুষকে ভালোবেসেছিলে, তাই তুমি মোর প্রাণপ্রিয় বান্দা জানি।

***

এতিমের কান্না

হায়! কত শিশু পৃথিবীতে হারিয়েছে স্নেহছায়া,
মায়ের কোলে ঘুম না এসে বুক ভরে শুধু হায়।
পিতার হাতের আশ্রয়হীন কত কোমল প্রাণ,
নীরব রাতে জেগে শোনে বেদনারই গান।

ঈদের চাঁদ আকাশে ওঠে, হাসে সারা গ্রাম,
তবু কারো চোখে জমে অশ্রুর অবিরাম।
নতুন পোশাক পায় না তারা, পায় না সুখের রেশ,
অভাব যেন ছায়ার মতো থাকে তাদের বেশ।

রাসূলের বাণী স্মরণ করো, এতিম যেন নয় পর,
তার মাথায় স্নেহের হাত রাখো নিরন্তর।
যে হৃদয়ে এতিমের তরে মমতার আলো জ্বলে,
রহমতের ফুল ফুটে ওঠে সেই হৃদয়ের তলে।

: প্রতিবেশীর অধিকার

তোমার ঘরের পাশের ঘরে যদি জ্বলে দীর্ঘশ্বাস,
তবে কেমন সে সুখের জীবন, কেমন আনন্দ-আবাস?
তোমার হাঁড়ি ভরা খাদ্যে, পাশের ঘর শূন্য,
তবে কি সত্য পূর্ণ হবে মানবতার পুণ্য?

প্রতিবেশী প্রথম আপন, বিপদে-আপদে সাথি,
তার অধিকার রক্ষা করা ঈমানেরই গাঁথি।
তার অসুখে খোঁজ নাও গিয়ে, তার সুখে হও হাসি,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে ভালোবাসার বাঁশি।

মানুষ মানুষে দূরত্ব যত কমে আসে ধীরে,
পৃথিবী তত জান্নাতেরই সুবাস পায় নীরে।
বিদ্বেষের দেয়াল ভেঙে দাও, ভাঙো অহংকার,
ভালোবাসাই মানবজীবন গড়ার মূল উপহার।

দান-সদকার নূর

দান মানে শুধু সম্পদ দেওয়া ভাবনা নয় ঠিক,
দান মানে হৃদয় খোলা, সৎপথে থাকা দৃঢ় দীক্ষা ঠিক।
একটি হাসি, একটি সান্ত্বনা, একটি মধুর বাণী,
সদকার রূপে লিপিবদ্ধ হয় প্রতিটি দানখানি।

যে দেয় গোপনে দান, কেবল রবের তরে,
তার প্রতিদান সংরক্ষিত থাকে রহমতেরই ঘরে।
বীজ যেমন মাটির বুকে বহুগুণে ফল দেয়,
সৎকর্মও তেমনি বাড়ে রবের অনুগ্রহে।

এক ফোঁটা জল তৃষ্ণার্তকে, এক টুকরো রুটি ক্ষুধার্তে,
একটি কম্বল শীতার্তকেমূল্য কত অপরিমিতে!
সামান্য যাকে ভাবছ তুমি, তা- মহামূল্যবান,
যখন থাকে আল্লাহভীতি আর কল্যাণের টান।

জবাবদিহির দিন

আসবে একদিন সেই সময়, নিস্তব্ধ হবে ধরা,
শেষ হবে সব অজুহাত, শেষ হবে পথচলা।
যা করেছি জীবনের পথে, সামনে আসবে সব,
ন্যায়ের পাল্লায় ওজন হবে প্রতিটি কথা-কর্ম।

সেদিন কেউ কারো বোঝা বহন করতে পারবে না,
নিজের কর্ম ছাড়া আর কোনো আশ্রয় রবে না।
যে করেছে মানুষের সেবা, দুঃখীর অশ্রু মোচন,
সেই পাবে প্রশান্তির আশা, কল্যাণেরই স্পন্দন।

আর যে দেখেও ফিরেছে মুখ অসহায়ের কান্না থেকে,
স্বার্থের নেশায় ডুবে ছিল নিজের সুখের রেখেতে
সে ভাববে হায়! আরেকবার যদি ফিরে পেতাম কাল,
তবে দয়ার হাত বাড়িয়ে দিতাম শত সহস্র বার।

মানবতার জয়গান

এসো গড়ি এমন সমাজ, যেখানে ঘৃণা হারায়,
যেখানে মানুষ মানুষের তরে ভালোবাসা বিলায়।
যেখানে ধর্ম শেখায় সবাইকে মর্যাদা দিতে,
সত্য ন্যায়ের পথে থেকে মানবকল্যাণে নেমে যেতে।

সেখানে ক্ষুধার্ত পায় অন্ন, তৃষ্ণার্ত পায় জল,
অসহায়ের মুখে ফোটে আশার উজ্জ্বল ফল।
এতিম পায় স্নেহের ছায়া, বৃদ্ধ পায় সম্মান,
মানুষ হয়ে মানুষ গড়ার জাগে নতুন গান।

ভাষা, বর্ণ, দেশ বা ধর্মভিন্ন হোক পরিচয়,
মানবতার বন্ধন সবার হৃদয় মাঝে রয়।
দয়ার স্রোতে ধুয়ে যাক সব হিংসা-বিদ্বেষ-ভয়,
পৃথিবী হোক শান্তিময়, কল্যাণময় জয়।

শেষে শুধু এই প্রার্থনা করি নতশিরে
রব! রেখো আমাদের সদা সৎকর্মেরই তীরে।
যেন না শুনি বিচারদিনে তিরস্কারের স্বর,
"
ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে"এই বেদনাঘোর।

বরং শুনি সন্তুষ্টির সেই মহিমান্বিত বাণী
"
মানুষকে ভালোবেসেছ তুমি, হে আমার প্রিয় বান্দা জানি।
সৃষ্টির সেবায় কাটিয়েছ জীবন, করেছ হৃদয় উজাড়,
এসো আজ রহমতের ছায়ায়, তোমার জন্য জান্নাত প্রস্তুত অপার।"

***

ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে

হাদিসে কুদসির আলোকে মানবতার মহাকাব্য

শুরু করি হৃদয়-ছোঁয়া এক সতর্কতার গান,
রবের বাণী শুনে জেগে উঠুক নিদ্রিত মানবপ্রাণ।
জাগুক প্রাণে সহমর্মিতা, জাগুক দয়ার আলো,
স্বার্থপরতার অন্ধকারে আর না হোক পথচলো।

ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, যশ, সবই ক্ষণস্থায়ী,
মানবসেবার মহৎ কীর্তি চিরকালই স্থায়ী।
প্রাসাদ, অট্টালিকা, খ্যাতি যত বিরাট,
মৃত্যুর পরে থাকে না তার কোনো মহিমাপাট।

রয়ে যায় শুধু কর্মফল, রয়ে যায় সুকর্ম,
রয়ে যায় মানুষের তরে নিবেদিত যে ধর্ম।
রয়ে যায় অশ্রু মোছার স্মৃতি, সান্ত্বনার বাণী,
রয়ে যায় অভাবীর তরে দেওয়া দানখানি।

পৃথিবী যেন ক্ষণিক কালের পরীক্ষাগারখানি,
এখানে মানুষ শিখে নেয় জীবনের অর্থবাণী।
কেউ আসে ধন নিয়ে, কেউ আসে শূন্য হাতে,
কেউ বা হাসে সুখের মাঝে, কেউ কাঁদে নীরব রাতে।

কেউ পায় অন্নের প্রাচুর্য, কেউ পায় না ভাত,
কেউ বিছানায় ঘুমায় সুখে, কেউ কাটায় ক্ষুধার রাত।
কেউ চিকিৎসার সুযোগ পায়, কেউ পায় না সেবা,
কেউ ভালোবাসা খুঁজে ফেরে, পায় না তার দেখা।

তবু সবাই একদিন হবে সমান এক সারি,
মুছে যাবে পদ-পদবি, রাজদণ্ডের ভারী।
সেদিন শুধু মূল্য পাবে মানবতার দান,
মানুষ হয়ে কতটুকু ছিলে মানুষের প্রাণ।

অসুস্থের আর্তনাদ

নগর কিংবা গ্রামের কোণে রোগশয্যায় কেউ,
দীর্ঘশ্বাসে কাটায় জীবন, খোঁজ রাখে না কেউ।
জ্বরের তাপে কাঁপে শরীর, কাঁদে ব্যথার মনে,
নীরব রাতে তাকিয়ে থাকে জানালারই কোণে।

কেউ কি এসে বলবে তাকে, “কেমন আছ ভাই?”
কেউ কি এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে তাই?
কেউ কি তার নিঃসঙ্গতার দেয়াল ভাঙবে এসে?
কেউ কি পাশে বসবে গিয়ে ভালোবাসার বেশে?

হাদিসের সেই অমর বাণী ধ্বনিত হবে ঘিরে,
আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, এলে না দেখতে মোরে।
অবাক হয়ে বান্দা বলবে, “হে জগতের রব!
আপনাকে কি দেখতে যাই? আপনি মহান সব।

রব তখন বলবেন হেসে করুণারই স্বরে,
আমার এক বান্দা কাতর ছিল ব্যথারই ঘরে।
যেতে যদি তার শিয়রে ভালোবাসা নিয়ে,
আমাকেই পেতে সেখানে রহমতের ছায়া দিয়ে।

ভূখা ছিলাম

হায়! কত শিশু ক্ষুধার জ্বালায় ঘুমায় অশ্রু নিয়ে,
কত বৃদ্ধ বসে থাকে পথের ধারে চেয়ে।
কত শ্রমিক দিনভর খেটে ফেরে ক্লান্ত প্রাণ,
তবু তার ঘরে জোটে না দুই মুঠো অন্নদান।

কত মা যে সন্তানের মুখ চেয়ে থাকে রাতে,
নিজে না খেয়ে রাখে খাদ্য সন্তানটির পাতে।
কত মানুষের বুকের মাঝে অভাবেরই ক্ষত,
অভাব যেন ঝড়ের মতো আঘাত হানে শত।

তখন রবের আহ্বান ভাসে বিচার দিনের ঘোরে,
ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে।
আমার বান্দা এসেছিল তোমারই দুয়ারে,
তুমি ফিরিয়ে দিয়েছিলে তাকে অবহেলার ভারে।

এক মুঠো ভাত, এক টুকরো রুটি, এক পেয়ালা ডাল,
কত মানুষের জীবন বদলায়, মুছে দুঃখজাল।
অন্নদান যে শুধু নয় ক্ষুধা নিবারণ,
যে মানবতার মাঝে ঈমানেরই চরণ।

তৃষ্ণার্তের আবেদন

রৌদ্রদগ্ধ পথের শেষে তৃষ্ণায় কাতর প্রাণ,
একটু জলের আশায় খোঁজে করুণার সন্ধান।
শুকনো ঠোঁট, ক্লান্ত চোখে তাকায় মানুষের পানে,
কেউ বা দেখে, কেউ না দেখে, যায় নিজ নিজ টানে।

এক ফোঁটা জল বাঁচাতে পারে একটি জীবনখানি,
এক পেয়ালা পানি হতে পারে অমূল্য দানখানি।
রব বলবেন, “তৃষ্ণার্ত ছিল আমারই বান্দা,
তাকে যদি পানি দিতে, পেতে আমার ছায়া।

এতিমের কান্না

ঈদের চাঁদ উঠেছে আজি আকাশভরা আলো,
তবু কত এতিম শিশুর মুখে নেই সুখের ভালো।
নতুন জামা পায় না তারা, পায় না স্নেহকোল,
অভাব যেন আঁকড়ে ধরে তাদের জীবনভোল।

মায়ের মুখের স্নেহমাখা গল্প শোনার সাধ,
পিতার কাঁধে বসে দেখার রঙিন পৃথিবী বাদ।
তাদের চোখে জমে থাকে অগণিত প্রশ্ন,
কেন তাদের জীবনজুড়ে দুঃখেরই অবশেষ?

যে হৃদয়ে এতিমের তরে মমতার ফুল ফোটে,
সেই হৃদয়ের নাম লেখা থাকে রহমতের খাতে।
যে তাদের মুখে হাসি ফোটায় স্নেহের পরশ দিয়ে,
আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন দয়া বর্ষিয়ে।

প্রতিবেশীর অধিকার

তোমার ঘরের পাশের ঘরে যদি জ্বলে হাহাকার,
তবে কেমন শান্তি তোমার? কেমন সুখের ভার?
তোমার ঘরে ভোজের আয়োজন, পাশের ঘরে ক্ষুধা,
তবে কি পূর্ণ হয় মানবতার সুধা?

প্রতিবেশী প্রথম আপন বিপদেরই কালে,
তার পাশে দাঁড়াও সদা ভালোবাসার ডালে।
তার সুখে হও আনন্দিত, দুঃখে হও সাথি,
এটাই তো মানবধর্মের সবচেয়ে সুন্দর গাঁথি।

দান-সদকার আলো

দান মানে কেবল সম্পদ নয়, দান মানে হৃদয়,
দান মানে মমতা দিয়ে অন্যের পাশে রয়।
একটি হাসি, একটি সান্ত্বনা, একটি শুভকথা,
কখনো কখনো দূর করে দেয় শত ব্যথা।

গোপনে যে দান করে শুধু রবের তরে,
তার প্রতিদান সংরক্ষিত রহমতেরই ঘরে।
বীজ যেমন বৃক্ষে হয়ে ফল দেয় বারবার,
সৎকর্ম তেমনি বাড়তে থাকে অফুরন্ত ধার।

জবাবদিহির দিন

আসবে একদিন সেই মহান ন্যায়বিচারের ক্ষণ,
প্রকাশ পাবে মানুষের সব কর্মের বিবরণ।
কেউ পাবে আনন্দসুধা সেবার মহাফল,
কেউ দেখবে অবহেলার কারণে শূন্য সম্বল।

যে মানুষটি দুঃখীর মুখে ফুটিয়েছে হাসি,
তার পথ হবে আলোকিত, হবে না নিরাশী।
যে ফিরিয়েছে অসহায়কে নিজের দ্বার হতে,
সে ভাববেহায়! কেন পারিনি পাশে গিয়ে দাঁড়াতে?

মানবতার জয়

এসো গড়ি এমন সমাজ, দয়ার যেখানে বাস,
মানুষ মানুষকে দেখবে না ঘৃণার কোনো চোখে আর।
ভালোবাসার সেতু গড়ে যুক্ত হবে প্রাণ,
মানবতার জয়ধ্বনিতে মুখর হবে ধরণীখান।

সেখানে ক্ষুধার্ত পাবে অন্ন, তৃষ্ণার্ত পাবে জল,
অসুস্থ মানুষ পাবে সেবা, মুছবে অশ্রুজল।
এতিম পাবে স্নেহের ছায়া, বৃদ্ধ পাবে মান,
মানুষ হবে মানুষেরই আশ্রয় সম্মান।

শেষ করি করুণার সেইঅমর মহাগান,
যে বাণীতে জাগ্রত হয় সুপ্ত বিবেক-প্রাণ।
যেন না শুনি বিচারদিনে তিরস্কারের স্বর,
ভূখা ছিলাম, আহার দাওনি মোরে”—সে বেদনাঘোর।

বরং শুনি দয়াময়ের সন্তুষ্টির আহ্বান,
মানুষকে ভালোবেসেছ, করেছ কল্যাণ।
ক্ষুধার্তকে আহার দিয়েছ, তৃষ্ণার্তকে দিয়েছ জল,
আজ তোমার জন্য প্রস্তুত শান্তির অফুরন্ত ফল।

মানুষ সেবার মাঝেই লুকায় স্রষ্টার সন্তোষ,
মানুষ সেবার মাঝেই জাগে জান্নাতের পরিবেশ।
তাই এসো হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই সবে,
মানবতার এই মহাগান ধ্বনিত হোক ভবে।

মন্তব্য করুন