সহকারী অধ্যাপক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:০০ পূর্বাহ্ণ
আল-কুরআন : চিরন্তন হিদায়াত - মোঃ মুজিবুর রহমান
আল-কুরআন : চিরন্তন হিদায়াত
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরু করি হৃদয়ছোঁয়া এক সত্যের মহাগান,
যে বাণীতে জেগে ওঠে মানবতার প্রাণ।
যে বাণী আলো হয়ে নামে অন্ধকারের মাঝে,
সত্যের দীপ জ্বালিয়ে দেয় যুগে যুগে, সাজে।
আল-কুরআন মহান রবের অমৃত বাণীধারা,
পথহারা সব মানবের জন্য দিশারা।
নয় এটি কেবল কোনো জাতি কিংবা দেশের তরে,
এর আহ্বান ধ্বনিত হয় বিশ্বমানব ঘরে ঘরে।
আকাশ, পৃথিবী, সাগর, পর্বত, নক্ষত্রলোক,
সবকিছুরই স্রষ্টা যিনি, তাঁরই পবিত্র শ্লোক।
করুণা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ন্যায়ে ভরপুর যার বাণী,
মানবহৃদয় আলোকিত করে অবিরাম দিবানিশি।
যখন মানুষ পথ হারিয়ে বিভ্রান্তির স্রোতে,
সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে পড়ে জীবনেরই রথে,
তখন নামে আলোর বার্তা রহমতেরই সুর,
জাগিয়ে তোলে মানবমনে হিদায়াতের নূর।
দীর্ঘ তেইশ বছরের সেই মহিমান্বিত কাল,
নবীর পবিত্র অন্তরে নেমেছে অবিরল।
কখনো রাতে, কখনো দিনে, কখনো কঠিন ক্ষণে,
ওহীর ধারা প্রবাহিত হয়েছে রবেরই নির্দেশে।
মক্কার বুকে শুরু হলো আলোর অভিযাত্রা,
মদিনাতে পূর্ণতা পায় সত্যের মহাপাত্র।
ধৈর্য, ত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে,
কুরআনের শিক্ষা জ্বলজ্বল করে মানবতার হাতে।
প্রথম বাণী উচ্চারিত—"পড়ো তোমার রবের নামে",
জ্ঞানচর্চার দ্বার খুলে দেয় পৃথিবীর প্রতিটি থামে।
অজ্ঞতার অন্ধকারে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে,
মানুষকে সে আহ্বান জানায় সত্যপথে মেলে।
এ গ্রন্থ শুধু উপাসনার নির্দেশিকা নয়,
জীবনের প্রতিটি পথে এর শিক্ষারই জয়।
ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক সম্পর্কের আচরণ,
সমাজগঠন, ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রচিন্তার প্রেরণ।
সততার শিক্ষা দেয়, নিষ্ঠার আহ্বান আনে,
সত্যভাষণ শোভা পায় এর প্রতিটি বাণীতে।
অন্যায়, জুলুম, প্রতারণা করে কঠোর বারণ,
ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠাতেই এর অবিরাম ধ্যান।
পিতামাতার সম্মান রাখতে শেখায় আপন করে,
প্রতিবেশীর হক আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে ঘরে ঘরে।
এতিম, অসহায়, গরিব, মিসকিন সবার তরে,
মমতা আর সহানুভূতির বাণী ঝরে পড়ে।
ক্ষমাশীলতা মহৎ গুণ—এ শিক্ষা দেয় বারবার,
ক্রোধ সংবরণে মানুষের মর্যাদা হয় অপার।
অহংকারে নয়, বিনয়ে মহান হওয়ার ডাক,
মানবতার সেবার মাঝেই সাফল্যেরই ফাঁক।
কুরআন ডাকে চিন্তা করতে প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যে,
সূর্যের আলো, চাঁদের হাসি, নক্ষত্রভরা নিশিতে।
পর্বতমালা, নদীর স্রোত, পাখির গানের তান,
সবকিছুতেই স্রষ্টার নিদর্শন করে অবিরাম জ্ঞান।
জিজ্ঞাসু মনকে উৎসাহ দেয় অনুসন্ধানের পথে,
জ্ঞান আর প্রজ্ঞার আলো ছড়াক পৃথিবীর রথে।
অন্ধ অনুসরণ নয়, সত্যের অনুসন্ধান,
মানবসভ্যতার উন্নতির এ এক মহাগান।
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এনেছে নব দিশা,
সম্মান, অধিকার, নিরাপত্তা—সবই দিয়েছে আশা।
শিশুর প্রতি স্নেহ-মমতা, দুর্বলের প্রতি দায়,
সাম্যের আলো ছড়িয়ে দিয়ে বৈষম্য দূরে ঠাঁই।
এ গ্রন্থ শিখায় শ্রমের মর্যাদা, কর্মের মহত্ত্ব,
আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের অপূর্ব এক শক্তি।
লোভের আগুন নিভিয়ে দেয় ত্যাগের শীতল জলে,
মানুষকে সে মহৎ করে নৈতিকতার ফলে।
পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের সত্যেরই সাক্ষী,
তাওরাত, যাবুর, ইনজিলের মূল বাণীর রক্ষী।
সকল নবীর আহ্বান ছিল এক রবের পথে,
কুরআন এসে স্মরণ করায় সে সত্য মানবমতে।
কালের প্রবাহ বয়ে গেছে শতাব্দির পর শতাব্দি,
তবু এর বাণী অমলিন, নেই কোনো ক্ষয়বৃদ্ধি।
অগণিত হৃদয়ে মুখস্থ থাকে এর প্রতিটি আয়াত,
এ এক বিস্ময়, ইতিহাসে যার নেই কোনো সমতুল্য প্রমাণ।
আল্লাহ নিজেই সংরক্ষক—এ ঘোষণা চিরন্তন,
তাই এর বাণী অবিকৃত আজও সমুজ্জ্বল অনুক্ষণ।
যুগ বদলেছে, সভ্যতা বদলেছে, পাল্টেছে পরিবেশ,
কুরআনের সত্য তবু অটুট, অপরিবর্তনীয় শেষ।
এ গ্রন্থে আছে সুসংবাদ, আছে সতর্কবাণী,
আছে মুক্তির পথনির্দেশ, আছে করুণাখানি।
সৎকর্মশীল মানুষের তরে জান্নাতের আহ্বান,
অন্যায়কারীর জন্য আছে জবাবদিহির জ্ঞান।
কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,
মানুষ যেন কর্মফলের হিসাব ভুলে না যায়।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আচরণ,
একদিন হবে বিচার তার—এ শিক্ষা অনুক্ষণ।
কুরআন ডাকে শান্তির পথে, সম্প্রীতির বন্ধনে,
বিদ্বেষ নয়, ভ্রাতৃত্ব গড়ুক মানবতার সনে।
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণে গড়ুক সুন্দর ভুবন,
হোক পৃথিবী মমতায় ভরা এক শান্তির কানন।
শুধু পাঠ নয়, এর শিক্ষা জীবনে করতে হবে,
চরিত্রগঠনের প্রতিটি ধাপে হৃদয়ে রাখতে হবে।
বাণী যদি কাজে না আসে, জ্ঞান থাকে অপূর্ণ,
আচরণে ফুটলে তবেই হয় তার মহিমা পূর্ণ।
শিক্ষার্থী খুঁজে পায় এতে জ্ঞানের অফুরান ভাণ্ডার,
গবেষক পায় চিন্তার খোরাক, সত্যের অমৃতধার।
কবি পায় অনুপ্রেরণা, চিন্তক পায় আলো,
মানবতার উন্নতির তরে এর আহ্বান নির্ভালো।
ঝড়ের রাতে বাতিঘরের মতো যার দিকনির্দেশ,
দুঃসময়ে আশার বাণী, সুসময়ে কল্যাণের রেশ।
হৃদয়ের মরুভূমিতে রহমতের শীতল জল,
ক্লান্ত প্রাণে জাগিয়ে তোলে নবজাগরণের বল।
যে ঘরে কুরআনের বাণী শ্রদ্ধাভরে পাঠ হয়,
সেই ঘরে নৈতিকতার সুবাস ধীরে ধীরে রয়।
যে সমাজে এর শিক্ষা থাকে কর্মে প্রতিফলিত,
সেই সমাজে ন্যায় ও শান্তি হয় সুপ্রতিষ্ঠিত।
তাই এসো আমরা শিখি এর জ্ঞানের গভীর মর্ম,
সত্যের পথে চলি সদা, করি মানবধর্ম।
কল্যাণ, ন্যায়, সহমর্মিতায় গড়ি জীবনখানি,
হৃদয়ে ধারণ করি রবের পবিত্র বাণী।
আল-কুরআন চিরদিনের আলোকবর্তিকা মহান,
সত্যের পথে চলার তরে অনন্ত প্রেরণাদান।
যতদিন সূর্য উদিত হবে, চাঁদ দেবে আলো,
মানবহৃদয় জাগিয়ে রাখবে এর আহ্বান ভালো।
হিদায়াতের এ মহাগ্রন্থ বিশ্বমানবের তরে,
সত্য, ন্যায় ও মুক্তির বাণী ছড়ায় ঘরে ঘরে।
রবের করুণার নিদর্শন, অনন্ত জ্ঞানের দান,
আল-কুরআন চিরজাগ্রত মানবতার প্রাণ।
***
আল-কুরআন : চিরন্তন হিদায়াত
শুরু করি শ্রদ্ধাভরে সত্যের মহাগান,
যে বাণীতে জাগ্রত হয় নিদ্রিত মানবপ্রাণ।
যে বাণী নেমে এসেছিল আরশের মহান দ্বার হতে,
করুণাময় রবের পক্ষ থেকে মানবজাতির তরে।
যিনি আসমান-জমিনের মহান অধিপতি,
যাঁর আদেশে ঘোরে বিশ্ব, চলে সৃষ্টি-গতি।
যিনি সূর্যকে দেন আলো, চন্দ্রকে দেন জ্যোতি,
যাঁর ইচ্ছাতেই সৃষ্টিজগৎ পায় জীবনপ্রভাতি।
তাঁরই অমর বাণী এই পবিত্র আল-কুরআন,
মানবতার মুক্তির তরে অনন্ত আহ্বান।
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণের মহিমান্বিত পথ,
যে পথে চললে দূর হয় বিভ্রান্তির সব রথ।
নয় এটি মানুষের লেখা কোনো কাব্যখানি,
নয় কোনো চিন্তাবিদের কল্পনার বাণী।
এ যে রবের পক্ষ হতে অবতীর্ণ আলো,
যার স্পর্শে মৃত হৃদয় জেগে ওঠে ভালো।
যতদিন সূর্য উদিত হবে পূর্বাকাশের বুকে,
যতদিন চাঁদের হাসি ঝরবে নিশির সুখে,
ততদিন কুরআনের ডাক বেজে যাবে প্রাণে,
সত্যের পতাকা উড়বে বিশ্বমানবগানে।
একদা পৃথিবী ডুবে ছিল অজ্ঞতার ঘোরে,
অন্যায়-অবিচারের ছায়া ছিল ঘরে ঘরে।
ক্ষমতাই ছিল ন্যায় তখন, দুর্বল ছিল হারা,
মানবতা কাঁদত নীরব বেদনারই ধারা।
মূর্তির সামনে নত হতো অসংখ্য মানবশির,
ভুলে যেত এক স্রষ্টার মহিমাময় তাসবির।
কুসংস্কারের শৃঙ্খলে বন্দী ছিল প্রাণ,
অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল সত্যের পরিচয়জ্ঞান।
কন্যাশিশুর কান্নাধ্বনি থামত বালুর তলে,
নিষ্ঠুরতার ইতিহাস লিখিত হতো ছলে।
ধনী-গরিব বিভাজনে ছিল সমাজ ভরা,
দুর্বলের রক্তে রঞ্জিত ছিল পৃথিবী সারা।
ব্যভিচার, প্রতারণা, লুণ্ঠন আর হিংসা,
মানুষ ভুলে গিয়েছিল বিবেকেরই দিশা।
ভ্রাতৃত্বের পরিবর্তে বিদ্বেষেরই জয়,
সত্য যেন পরাজিত, মিথ্যাই পেত পরিচয়।
তখনই করুণাময় রবের মহান রহমতে,
আসতে থাকে মুক্তির বার্তা মানবতার তরে।
মক্কার বুকে হেরা গুহা নীরব রাতের মাঝে,
একজন মহান মানব ধ্যানে মগ্ন সাজে।
তিনি বিশ্বনবী, সত্যবাদী, বিশ্বস্ত মহাপ্রাণ,
মানবতার কল্যাণ ছিল যার হৃদয়জ্ঞান।
চারিদিকে অন্যায় দেখে কাঁদত তাঁর মন,
সত্যের সন্ধানে করতেন নির্জনে অনুধ্যান।
রজনীর গভীর নীরবতায় এক মহামুহূর্ত এলো,
বিশ্ব ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
আসমানের দূত এলেন আলোর পাখা মেলে,
রবের আদেশ পৌঁছে দিলেন নবীর অন্তরে।
ধ্বনিত হলো প্রথম বাণী—“পড়ো তোমার রবের নামে”,
জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সূর্য উঠল পৃথিবীর আঙিনাতে।
কলমের মর্যাদা বাড়ল, জ্ঞানের খুলল দ্বার,
অজ্ঞতার রাত্রি ভেঙে এলো আলোর সমাহার।
মানবসভ্যতা পেল তখন নতুন অভিযাত্রা,
ওহীর আলোয় শুরু হলো মুক্তির মহাযাত্রা।
এক দিনে নয়, এক রাতে নয়, ধীরে ধীরে বাণী,
তেইশ বছরের ধারায় নেমেছে ওহীখানি।
ঘটনা, প্রশ্ন, শিক্ষা, উপদেশ, সংগ্রামের ইতিহাস,
সবকিছুরই প্রেক্ষাপটে নেমেছে আলোর সুবাস।
মক্কার বুকে ধৈর্যের শিক্ষা, তাওহীদের আহ্বান,
মদিনাতে সমাজগঠনের পূর্ণ বিধান।
কখনো এসেছে সুসংবাদ, কখনো সতর্কবাণী,
কখনো দুঃখে সান্ত্বনা, কখনো বিজয়ের কাহিনি।
নবীর হৃদয় ছিল তার প্রথম পবিত্র স্থান,
সেখান হতে ছড়িয়ে পড়ে মানবতার জ্ঞান।
সাহাবিগণ মুখস্থ রাখেন প্রতিটি আয়াত,
হৃদয়ে ধারণ করেন আল্লাহর পবিত্র নিদর্শনসাথ।
সত্যের পথে ডাক দিয়েছেন নবী অবিরাম,
শুনিয়েছেন এক আল্লাহর মহিমান্বিত নাম।
কিন্তু মিথ্যার প্রাসাদ যারা গড়েছিল অহংকারে,
তারা বাধা দিয়েছে তাঁকে বারংবার অন্ধকারে।
উপহাস, নির্যাতন, বয়কট, কষ্টের দীর্ঘ রাত,
তবুও থামেনি হিদায়াতের মহিমান্বিত প্রভাত।
ধৈর্যের দীপ জ্বালিয়ে নবী এগিয়ে গেছেন পথ,
সত্যের জন্য সহ্য করেছেন অসংখ্য আঘাত-রথ।
অবশেষে মদিনার পথে হিজরতেরই ডাক,
নতুন সমাজ গঠনে শুরু হলো আলোর ফাঁক।
ভ্রাতৃত্ব, ন্যায় ও করুণায় নির্মিত হলো দেশ,
মানবতার ইতিহাসে যার নেই কোনো শেষ।
কালের প্রবাহ বয়ে গেছে শতাব্দির পর শতাব্দি,
তবুও কুরআনের বাণী অমলিন, অক্ষয়বৃদ্ধি।
অগণিত কণ্ঠে মুখস্থ থাকে প্রতিটি আয়াত,
হৃদয়ে হৃদয়ে বেঁচে থাকে তার মহিমার প্রভাত।
রাজ্য গেছে, সাম্রাজ্য গেছে, বদলেছে সময়ধারা,
কিন্তু কুরআনের মূল বাণী হারায়নি একধারা।
আল্লাহ নিজেই রক্ষা করেন তাঁর প্রেরিত কিতাব,
তাই আজও অবিকৃত আছে তার পবিত্র জবাব।
আরবের মরু থেকে আজ বিশ্বময় তার স্থান,
একই বাণী উচ্চারিত কোটি কোটি প্রাণ।
এ এক অনন্য বিস্ময় ইতিহাসের পাতায়,
যার তুলনা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর পৃথিবীর মাটায়।
আল-কুরআন কেবল নয় ইবাদতেরই বাণী,
জীবনের প্রতিটি পথে রয়েছে দিকনির্দেশখানি।
ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক, সামাজিক আচরণ,
সব ক্ষেত্রেই দিয়েছে সে কল্যাণেরই দর্শন।
সততা যার মূল শিক্ষা, সত্য যার পরিচয়,
ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা যার মহিমাময়।
প্রতারণা, সুদ আর জুলুম করেছে নিষেধ,
মানবমুক্তির পথ দেখিয়েছে সুস্পষ্ট অবিরত।
পিতামাতার সেবা করতে দিয়েছে মহা স্থান,
তাঁদের সন্তুষ্টির মাঝে রবের সন্তুষ্টি জ্ঞান।
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, প্রতিবেশীর হক,
মানবতার সৌন্দর্য এতে পায় নতুন আলোক।
এতিমের অশ্রু মোছার শিক্ষা দেয় সে সদা,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে করে অবিরাম ধ্বজা।
দান ও সদকার মাধ্যমে হৃদয় করে পবিত্র,
লোভের শৃঙ্খল ভেঙে দেয় আলোর শক্তি অমিত্র।
নারীর মর্যাদা রক্ষায় দিয়েছে উচ্চ আসন,
অধিকার ও সম্মানের করেছে প্রতিষ্ঠাপন।
শিশুর মুখে ফুটুক হাসি, থাকুক নিরাপদ প্রাণ,
এ শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয় মানবতার জ্ঞান।
কুরআন ডাকে চিন্তা করতে বিশ্বজগত দেখে,
প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শন গভীরভাবে শেখে।
আকাশপানে দৃষ্টি মেলো, দেখো নক্ষত্রলোক,
সাগরের ঢেউ, পর্বতশ্রেণি, সৃষ্টির বিস্ময় শ্লোক।
সূর্যের আলো কীভাবে আসে প্রতিদিনের তরে,
বৃষ্টিধারা ঝরে কেন শুকনো মাটির 'পরে?
বীজের ভেতর লুকিয়ে থাকে কেমন জীবনের গান,
চিন্তা করো, উপলব্ধি করো—এটাই কুরআনের জ্ঞান।
অন্ধ অনুকরণ নয়, অনুসন্ধানের ডাক,
জ্ঞানের পথে এগিয়ে যাও, ভাঙো অজ্ঞতার ফাঁক।
কলমের মর্যাদা বাড়ায়, শিক্ষার দেয় মান,
গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করে অবিরাম।
যেখানে জ্ঞান ও ঈমান হাতে হাত রেখে চলে,
সেখানে সভ্যতা বিকশিত হয় আলোরই ফলে।
প্রজ্ঞা, বিজ্ঞান, নৈতিকতা একসূত্রে গাঁথা,
কুরআনের এই শিক্ষা যুগে যুগে অম্লান কথা।
মানবপথের দিশা দিতে যুগে যুগে মহান রব,
প্রেরণ করেছেন নবী-রাসূল, দিয়েছেন সত্যসব।
তাওরাত, যাবুর, ইনজিল নেমেছিল পূর্বে,
হিদায়াতের আলো নিয়ে মানবজাতির তরে।
সকল নবীর আহ্বান ছিল এক আল্লাহর পানে,
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মহিমান্বিত গানে।
কালের স্রোতে মানুষের হাতে এসেছে বহু বদল,
তবু মূল সত্য ছিল এক, অটুট অবিচল।
আল-কুরআন এসে দিল সে সত্যেরই সাক্ষ্য,
একই উৎস হতে এসেছে ওহীর মহালক্ষ্য।
সকল নবীর প্রতি শ্রদ্ধা, সকল সত্যের মান,
এই শিক্ষা দেয় মানবতাকে আল-কুরআনের জ্ঞান।
শতাব্দির পর শতাব্দি পেরিয়ে গেছে কালে,
তবু কুরআনের বাণী রয়ে গেছে আগের ছলে।
একটি অক্ষর হারায়নি, বদলায়নি তার রূপ,
এ যেন ইতিহাসজুড়ে বিস্ময়েরই ধূপ।
অসংখ্য হৃদয় মুখস্থ রাখে প্রতিটি আয়াতখানি,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহে সেই আলোর বাণী।
পৃথিবীর নানা ভাষাভাষী, নানা জাতির প্রাণ,
একই আরবি বাণী পাঠে খুঁজে পায় সম্মান।
সাম্রাজ্য গেছে, রাজ্য গেছে, পাল্টেছে পরিবেশ,
কুরআনের পবিত্র বাণী অম্লান অনন্ত রেশ।
এ এক মহাবিস্ময়, মানব ইতিহাসে যার,
সমতুল্য দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুর্বার।
কুরআন শুধু সুসংবাদ নয়, সতর্কতার ডাক,
মানুষ যেন না হারায় সত্যপথের ফাঁক।
একদিন এ পৃথিবীর সব আয়োজন হবে শেষ,
নতুন এক জগতের দিকে খুলবে অন্য দেশ।
পর্বত হবে ধূলিসম, সাগর হবে উত্তাল,
তারার আলো নিভে যাবে, কাঁপবে বিশ্বজাল।
মানুষ দাঁড়াবে সেদিন রবের দরবারে,
নিজ নিজ কর্মের হিসাব নিয়ে আপন ভারে।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, বংশ হবে না সহায়,
সৎকর্ম আর ন্যায়ের জীবন তখন পাশে দাঁড়ায়।
গোপন কথা, লুকানো কাজ, অন্তরেরই ভাব,
সবকিছুরই জবাব দিতে হবে সেদিন অবশ্যম্ভাব।
যারা সত্য গ্রহণ করে, চলে ন্যায়ের পথে,
ধৈর্য ধরে সৎকর্ম করে জীবনের প্রতিক্ষণে,
তাদের জন্য রয়েছে সুখ, শান্তি আর সম্মান,
করুণাময় রবের কাছে অফুরন্ত পুরস্কারদান।
নেই সেখানে দুঃখের ছায়া, নেই কোনো ভয়,
নেই বিচ্ছেদের বেদনা, নেই অনিশ্চয়তার ক্ষয়।
শান্তির সম্ভাষণ ধ্বনিত হবে চারিদিকে,
রহমতের আলো ঝরবে অনন্ত সুখের দিকে।
হে মানবজাতি! শোনো তবে কুরআনের আহ্বান,
সত্যের পথে ফিরে এসো, জাগাও বিবেকপ্রাণ।
বিদ্বেষ নয়, ভ্রাতৃত্ব হোক জীবনের পরিচয়,
অন্যায় নয়, ন্যায়ের পথে হোক মানবতার জয়।
শিক্ষায় হও সমৃদ্ধ, চরিত্রে হও মহান,
কল্যাণের পথে এগিয়ে চলো, গড়ো সুন্দর প্রাণ।
সহমর্মিতা, করুণা, প্রেম হোক জীবনের রথ,
মানবসেবার মধ্য দিয়েই খুঁজে নাও সত্যপথ।
যতদিন সূর্য উঠবে পূর্বদিগন্তপানে,
যতদিন চাঁদের আলো ঝরবে নিশির গানে,
ততদিন কুরআনের বাণী জাগাবে মানবপ্রাণ,
সত্য, ন্যায় আর মুক্তির পথে হবে মহাআহ্বান।
হে আল-কুরআন! তুমি নূরের অক্ষয় দীপশিখা,
অন্ধকারের বুক চিরে জ্বালাও আশার দিশা।
তুমি রবের মহা অনুগ্রহ, করুণার অবদান,
তুমি বিশ্বমানবের তরে চিরন্তন মহাগান।
তুমি হৃদয়ের প্রশান্তি, তুমি বিবেকের আলো,
তুমি সত্যের মহাসমুদ্র, অনন্ত কল্যাণ ভালো।
তুমি যুগে যুগে পথহারা মানুষের দিশারি,
তুমি হিদায়াতের সূর্য, মুক্তির অমৃতধারী।
আকাশ যত বিস্তৃত হবে, সাগর যত গভীর,
তোমার বাণী ততই জাগে হৃদয়ের অন্তস্থ নীর।
মানবতার কল্যাণে তুমি রবের শ্রেষ্ঠ দান,
আল-কুরআন, চিরজাগ্রত হিদায়াতের মহাগান।Top of
FormBottom of Form
৩
৩ মন্তব্য