সহকারী অধ্যাপক
১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ
দাম্পত্যের দীপশিখা -মোঃ মুজিবুর রহমান
দাম্পত্যের দীপশিখা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া এক পবিত্রতার গান,
যে গানে জাগে ভালোবাসা, জাগে মানবপ্রাণ।
দুটি হৃদয় মিলনমেলায় গড়ে নতুন ভুবন,
স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন যেন স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ দান।
নয় কেবল সংসার গড়া ইট-পাথরের ঘর,
নয় কেবল স্বপ্ন সাজানো সুখের ক্ষণিক ডর।
দাম্পত্য হলো মানবতার প্রথম বিদ্যালয়,
যেখানে চরিত্র গঠনের বীজটি অঙ্কুরিত হয়।
একটি হৃদয় ক্লান্ত হলে অন্যটি দেয় সুর,
একটি চোখে জল এলে অন্যটি করে দূর।
একটি প্রাণে দুঃখ এলে অন্যটি হয় ঢাল,
এভাবেই ভালোবাসা জিতে নেয় কাল।
সহমর্মিতা নদীর মতো বয়ে চলে নীরবে,
তার স্রোতে মুছে যায় কত কষ্ট হৃদয়ের গভীরে।
যে ঘরে থাকে অনুভবের কোমল পরশধারা,
সেই ঘরে শান্তি নেমে আসে আশীর্বাদের ধারা।
দিনশেষে শ্রমে ক্লান্ত মানুষ ফিরে যখন ঘরে,
প্রিয়জনের মধুর হাসি প্রাণ জুড়ায় অন্তরে।
হাজার ব্যস্ততার মাঝেও যে রাখে খোঁজখবর,
তার হাতেই ফুটে ওঠে সম্পর্কের সুন্দর ঘর।
সুখের দিনে আনন্দ ভাগ, দুঃখে ভাগ করে ব্যথা,
এভাবেই গড়ে ওঠে জীবনের গভীর কথা।
মনের গোপন অনুভব যখন প্রকাশ পায়,
অবিশ্বাসের অন্ধকার তখন দূরে সরে যায়।
যে ঘরে কথা থেমে থাকে জমে অভিমানের মেঘ,
সেখানে সুখের সূর্যও হারায় নিজের রঙ।
আর যে ঘরে খোলা মনে হয় অনুভবের বিনিময়,
সেখানে সম্পর্কের বাগানে প্রস্ফুটিত হয় জয়।
সংসারের কাজ একার নয়, সবার আছে অংশ,
ভাগাভাগি পরিশ্রমে মুছে যায় ক্লান্তির রংশ।
রান্নাঘরের উনুন থেকে জীবনের প্রতিটি পথ,
সহযোগিতার স্পর্শ পেলে মুছে যায় সব ক্ষত।
সন্তানের লালন-পালন, শিক্ষার প্রথম ধাপ,
মা-বাবার আচরণ দেখে গড়ে তার স্বভাব।
শ্রদ্ধা, মায়া, দায়িত্ববোধ, সত্যের প্রতি টান,
দাম্পত্যের পরিবেশেই শেখে শিশুর প্রাণ।
আস্থা হলো সম্পর্কের অদৃশ্য এক স্তম্ভ,
যার উপর দাঁড়িয়ে থাকে ভালোবাসার গম্ভীর গম্বুজ।
বিশ্বাস যখন অটুট থাকে হৃদয়ের অন্তঃপুরে,
সন্দেহ তখন পথ হারিয়ে মিলায় দূর সীমানায়।
একজন অন্যজনকে যদি দেয় যথার্থ মান,
সম্মানের সে সেতুবন্ধে দৃঢ় হয় বন্ধন।
অবজ্ঞা নয়, অহংকার নয়, নয় কটু ভাষার তীর,
ভালোবাসা চায় বিনয়ী মন, স্নেহমাখা নীর।
প্রেম কেবল রূপের মোহ নয়, নয় ক্ষণিক আবেগ,
প্রেম হলো দায়িত্বের পথ, ত্যাগের অনুরাগ।
প্রেম মানে ঝড়ের রাতে হাতটি ধরে রাখা,
প্রেম মানে অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালা।
প্রেম মানে ভুল হলে তা ক্ষমা করে দেওয়া,
প্রেম মানে পথ হারালে সঠিক পথে নেওয়া।
প্রেম মানে প্রতিদিনের অগণিত ছোট যত্ন,
যার আলোয় সম্পর্ক পায় অনন্তেরই রত্ন।
একটি সুখী পরিবার জাতির মূলভিত্তি,
সেখানে গড়ে ওঠে ভবিষ্যতের মহাশক্তি।
যে ঘরে নৈতিকতা থাকে, থাকে সত্যের জয়,
সেই ঘরের সন্তানরাই দেশকে এগিয়ে লয়।
পরিবার থেকে সমাজ গড়ে, সমাজ হতে দেশ,
এভাবেই সভ্যতার পথে এগিয়ে চলে পরিবেশ।
যদি ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে ভালোবাসার দীপ,
জাতির আকাশ আলোকিত হয় অপরূপ রূপে দীপ্ত।
কিন্তু যখন সম্পর্ক জুড়ে জমে তিক্ততার ছায়া,
অবিশ্বাসের বিষবাষ্পে ম্লান হয়ে যায় মায়া।
কঠোর বাক্য, অবহেলা আর অহংকারের দেয়াল,
ভেঙে দেয় হৃদয়ের সেতু, নিভিয়ে ফেলে জ্যোতিবল।
সন্দেহ যদি শেকড় গেড়ে বসে অন্তর-মাটিতে,
শান্তির ফুল শুকিয়ে যায় সম্পর্কের বাগিচাতে।
স্বার্থ যদি ভালোবাসার আসন দখল করে,
সুখের পাখি হারিয়ে যায় অজানা কোন ঘোরে।
যে ঘরে দ্বন্দ্ব, কলহ, হিংসা প্রতিদিনের সাথি,
সেই ঘরের শিশুমনে নামে বিষণ্নতার রাতি।
ভাঙা সম্পর্কের ধ্বনি গিয়ে সমাজজুড়ে বাজে,
একটি ক্ষুদ্র অশান্তি তখন জাতির বুকে সাজে।
তাই প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি, প্রয়োজন ধৈর্যধারণ,
প্রয়োজন ভুল স্বীকারের মহৎ আত্মসমর্পণ।
রাগের আগুন নিভিয়ে দিতে কোমল আচরণ,
ক্ষমার মাঝে খুঁজে নিতে মহত্ত্বেরই মন।
স্বামী-স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, নয় কোনো শত্রুপক্ষ,
দুজন মিলে পূরণ করে জীবনেরই লক্ষ্য।
একজন যদি ক্লান্ত হয়ে পড়ে জীবনের পথে,
অন্যজনের স্নেহের হাত শক্তি জোগায় তাতে।
তারা যেন দুটি ডানা এক পাখির উড়ান,
দুটি তীরের মিলনধারা এক নদীর গান।
দুটি প্রদীপ জ্বলে মিলে আলোকিত করে ঘর,
দুটি হৃদয় মিলে গড়ে মানবতার নগর।
যেখানে দাম্পত্য পবিত্র, স্নেহময় ও দৃঢ়,
সেখানে সমাজ হয় সুস্থ, সভ্যতা হয় সমৃদ্ধ।
যেখানে পরিবার জাগে সত্য, প্রেম আর ন্যায়,
সেখানে জাতির ভবিষ্যৎ আলোর পথেই যায়।
তাই আসুক প্রতিটি ঘরে মমতার সুবাস,
সহমর্মিতা, আস্থা, প্রেম হোক জীবনের শ্বাস।
স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধন হোক মানবতার দিশা,
সেই আলোয় উদ্ভাসিত হোক জাতির প্রতিটি নিশা।
পরিবারের ক্ষুদ্র প্রদীপ জ্বালায় সভ্যতার জ্যোতি,
দাম্পত্যের শুভ্র শক্তি জাতির মহাশক্তি।
হৃদয় হতে হৃদয়ে ছড়াক ভালোবাসার বাণী,
এই হোক মানবসমাজের চিরন্তন কল্যাণগাঁথা খানি।
***
দাম্পত্যের দীপশিখা
যুগে যুগে সভ্যতার যত গৌরবগাঁথা লেখা,
তারও পেছনে জ্বলেছে কত দাম্পত্যের দীপশিখা।
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় যত উন্নতির আয়োজন,
শেকড় খুঁজলে দেখা যায় সুখী পরিবারের মন।
একটি ঘরে জন্ম নেয় আগামীর সম্ভাবনা,
সেখানেই শেখে মানুষ প্রথম ভালোবাসার ভাষা।
মায়ের মমতা, পিতার ত্যাগ, স্নেহের অবিরাম স্রোত,
সেই ধারাতেই গড়ে ওঠে জীবনের মূল সূত্র।
যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী চলে পরস্পরের হাত ধরে,
ঝড় এলেও নৌকা ভাসে দৃঢ় আশার তীরে।
একজন যখন ক্লান্ত হয়ে হারাতে চায় দিশা,
অন্যজন তখন জ্বালায় নতুন প্রত্যয়ের নিশা।
কথার মাঝে শ্রদ্ধা থাকে, আচরণে মমতা,
পরস্পরের সুখে খুঁজে নেয় নিজের সফলতা।
স্বার্থ নয়, কর্তব্য নয় কেবল হিসাবের খাতা,
ভালোবাসার সমীকরণে জুড়ে যায় জীবনের কথা।
দাম্পত্য যদি হয় নির্মল পাহাড়ি ঝরনার মতো,
তার কলতানে জেগে ওঠে আনন্দের শত শত।
অভিমান এলেও সেখানে ক্ষমা থাকে জাগ্রত,
তাই তো সম্পর্ক থাকে দীর্ঘদিন সুসংহত।
যে ঘরে শ্রমের মূল্য আছে, আছে দায়িত্ববোধ,
সেখানে আলস্য হার মানে, জাগে কর্মের রোদ।
স্বামী-স্ত্রী ভাগ করে নেয় সংসারের প্রতিটি ভার,
তাই তো জীবন হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ আর।
কৃষকের ঘামে যেমন ফলে সোনালি শস্যধান,
তেমনি যৌথ পরিশ্রমে সমৃদ্ধ হয় পরিবারপ্রাণ।
একজনের শ্রমে নয়, দুজনের সম্মিলিত চেষ্টায়,
সুখের বৃক্ষ ডালপালা মেলে জীবন-অঙ্গনায়।
সন্তান দেখে প্রতিদিন তাদের ব্যবহার,
সেখানেই শেখে সততা, মানবতা আর আদর্শের ধার।
বইয়ের পাতায় যতই থাকুক জ্ঞানের বিস্তার,
ঘরের শিক্ষা গড়ে তোলে চরিত্রের ভিত্তিভার।
যদি দেখে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস,
তার হৃদয়ে জন্ম নেয় সৌন্দর্যের আভাস।
যদি দেখে কলহ, হিংসা, তিক্ততার ছায়া,
তবে শিশুমনে অশান্তির কালো মেঘই ছায়া।
একটি পরিবার মানে যেন ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্র,
সেখানে নীতি ভেঙে গেলে দুর্বল হয় ভিত্তি।
আর যদি থাকে ন্যায়নীতি, সহযোগিতা, প্রেম,
তবে সেই পরিবারই হয়ে ওঠে জাতির শ্রেষ্ঠ হেম।
সমাজ গড়ে পরিবারে, রাষ্ট্র গড়ে সমাজ,
এই সত্য যুগে যুগে করেছে বিশ্বে রাজ।
যে জাতির পরিবারগুলো থাকে সুশৃঙ্খল,
সেই জাতির অগ্রযাত্রা হয় অধিক সফল।
দাম্পত্যের পবিত্র বন্ধন যখন থাকে দৃঢ়,
সামাজিক বন্ধনও তখন হয় অধিক সমৃদ্ধ।
বিশ্বাসের আলো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে ধীরে,
মানবতার ফুল ফোটে প্রতিটি জনপদ জুড়ে।
কিন্তু যখন অবিশ্বাস গ্রাস করে হৃদয়,
সন্দেহের কালো ছায়া তখন নেমে রয়।
অহংকারের প্রাচীর উঠে ভালোবাসার মাঝে,
শান্তির নদী শুকিয়ে যায় নীরবতার সাজে।
কঠোর বাক্য তীরের মতো বিদ্ধ করে প্রাণ,
অবহেলার ক্ষত হয়ে থাকে দীর্ঘদিন অজান।
স্বার্থ যখন বড় হয়ে যায় মানবিকতার চেয়ে,
সম্পর্ক তখন হারিয়ে ফেলে আপন আলো নিয়ে।
তাই প্রয়োজন প্রতিদিন আত্মসমীক্ষার আলো,
নিজের ভুলকে দেখে নেওয়া সাহসেরই ভালো।
ক্ষমা, ধৈর্য, নম্রতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা,
এসব গুণেই দাম্পত্য পায় স্থায়ী মহিমা।
যে ঘরে কৃতজ্ঞতা আছে, আছে সেবার মন,
সেই ঘরে নেমে আসে প্রশান্তিরই ক্ষণ।
একটি ধন্যবাদ, একটি হাসি, একটি মধুর বাণী,
অনেক বড় সম্পদের চেয়েও মূল্যবান জানি।
স্বামী-স্ত্রী দুটি ফুল এক ডালে ফোটা,
দুটি সুরের মিলন যেন এক সংগীতগাথা।
দুটি নদী মিশে যেমন সাগরেরই পানে,
তেমনি তারা এগিয়ে চলে জীবনের অভিযানে।
তাদের ভালোবাসা শুধু নিজেদের মাঝে নয়,
তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বত্রময়।
সুখী পরিবার গড়ে দেয় সুস্থ নাগরিকের দল,
যাদের হাতে সমৃদ্ধ হয় দেশের ভবিষ্যৎ সফল।
তাই আসুক প্রতিটি ঘরে সৌহার্দ্যের আলো,
প্রতিটি মনে জাগুক প্রেম, মানবিকতার ভালো।
স্বামী-স্ত্রীর আন্তরিকতা হোক উন্নতির সোপান,
সেই শক্তিতে আলোকিত হোক বিশ্বমানবপ্রাণ।
পরিবার হোক শান্তির নীড়, সমাজ হোক মহান,
মানবতার জয়গানে মুখরিত হোক প্রাণ।
দাম্পত্যের দীপশিখা জ্বালুক যুগে যুগে আলো,
সেই আলোয় গড়ে উঠুক সুন্দর পৃথিবী ভালো।
***
দাম্পত্যের দীপশিখা
শুরু করি হৃদয়ছোঁয়া শুভ্র আলোর গান,
যে আলোয় জাগে প্রেম, জাগে মানবপ্রাণ।
দুটি হৃদয় মিলেমিশে গড়ে জীবনের পথ,
সেখানে ভালোবাসাই হয় সকল শক্তির রথ।
দাম্পত্য কেবল নয় দুটি মানুষের মিল,
এরই মাঝে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের শীল।
একটি ঘরেই জন্ম নেয় আগামী দিনের দেশ,
সেখানে রচিত হয় সভ্যতার পরিবেশ।
স্বামী যদি স্ত্রীর মাঝে খুঁজে পায় বন্ধু,
স্ত্রী যদি স্বামীর পাশে থাকে অটল বন্ধনসূত্র,
তবে জীবনের প্রতিকূলতা যতই আসুক ধেয়ে,
তারা এগোয় বিজয়পথে হাত দুটিকে নিয়ে।
একজন যখন ক্লান্ত হয়ে থেমে যেতে চায়,
অন্যজনের উৎসাহ তাকে নতুন শক্তি দেয়।
একজন যখন অশ্রু ঝরায় নীরব ব্যথাভারে,
অন্যজন তখন ছায়া হয়ে দাঁড়ায় তারই দ্বারে।
সহমর্মিতা শুধু নয় কোনো মধুর বাণী,
এটি হৃদয় বোঝার এক মহৎ জীবনী।
অন্যের সুখে সুখী হওয়া, দুঃখে হওয়া সাথি,
এই গুণেই প্রস্ফুটিত হয় সম্পর্কেরই গাঁথি।
যে ঘরে সবাই শুনতে শেখে পরের মনের কথা,
সেখানে জমে না কখনো অবিশ্বাসের ব্যথা।
স্বচ্ছ নদীর জলের মতো প্রবাহিত সংলাপ,
মুছে দেয় ভুল বোঝাবুঝির যত অন্ধ অভিশাপ।
দিনভর শ্রম শেষে যখন মানুষ ফিরে ঘরে,
একটি হাসি স্নিগ্ধ বাতাস হয়ে নামে অন্তরে।
একটি মধুর সম্ভাষণ, একটি আন্তরিক ডাক,
মুছে দিতে পারে কত ক্লান্তি, কত অদৃশ্য ফাঁক।
সংসারের কাজ একার নয়, দুজনারই দায়,
ভাগাভাগি দায়িত্বে সুখের অঙ্কুর গজায়।
রান্নাঘর থেকে কর্মক্ষেত্র, সন্তানের পরিচর্যা,
সহযোগিতার ছোঁয়ায় সেথা ফুটে ওঠে সৌরভধারা।
পরিশ্রমের মর্যাদা যার সংসারে রয়েছে,
সেখানে সুখের শস্যক্ষেত্র সবুজ হয়ে বয়ে যায়।
একজনের ঘামে নয়, দুজনার শ্রমে গড়ে,
সমৃদ্ধির সুবর্ণ ফসল জীবনেরই তরে।
আস্থা হলো সম্পর্কের অদৃশ্য মহাশক্তি,
যার উপর দাঁড়িয়ে থাকে বন্ধনের ভিত্তি।
বিশ্বাস যদি দৃঢ় থাকে হৃদয়ের অন্তরে,
সন্দেহের সব কালোমেঘ মিলায় দূর প্রান্তরে।
শ্রদ্ধা হলো প্রেমের মুকুট, মর্যাদার অলংকার,
এটি ছাড়া ভালোবাসাও হয় অনেক সময় ভার।
ব্যক্তিত্বের মূল্য দিয়ে, মতের প্রতি মান,
দাম্পত্য পায় তখন সত্য সৌন্দর্যের জ্ঞান।
প্রেম মানে কেবল নয় রূপের মোহময়তা,
প্রেম মানে দায়িত্ববোধ, সেবার আন্তরিকতা।
প্রেম মানে ঝড়ের রাতে সাহস হয়ে থাকা,
প্রেম মানে আঁধার পথে আশার প্রদীপ আঁকা।
প্রেম মানে ক্ষমা করা ভুলের পর ভুল,
প্রেম মানে শুকনো ডালে ফুটিয়ে তোলা ফুল।
প্রেম মানে প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন,
যা সম্পর্ককে করে তোলে অমলিন ও অনন্ত।
একটি শিশুর প্রথম পাঠশালা তার আপন ঘর,
সেখানে দেখে মানুষ কেমন গড়ে সম্পর্কের ডোর।
মায়ের ভাষা, বাবার আচরণ, দায়িত্বের পরিচয়,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে তার ভবিষ্যতের জয়।
যে ঘরে থাকে সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা আর মায়া,
সেই ঘরের শিশুরা পায় আলোকিত ছায়া।
তারা শেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রীতি,
মানবতার পথে চলার মহৎ প্রজ্ঞাগীতি।
একটি পরিবার সুখী হলে জাগে আশপাশ,
পাড়ায় ছড়ায় সহযোগিতার সুন্দর সুবাস।
পাড়া থেকে সমাজ গড়ে, সমাজ হতে দেশ,
এই ধারাতেই বিকশিত হয় সভ্যতার পরিবেশ।
যে জাতির পরিবারগুলো থাকে সুসংহত,
সেই জাতির অগ্রযাত্রা হয় অধিক সমৃদ্ধ।
যে জাতির ঘরে ঘরে জ্বলে ভালোবাসার দীপ,
সেই জাতির আকাশ ভরে উন্নয়নের রূপ।
কিন্তু যদি সম্পর্কজুড়ে বাড়ে তিক্ততা,
হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে হৃদয়ের পবিত্রতা।
কঠোর বাক্য, অবহেলা, অহংকারের দেয়াল,
নিভিয়ে ফেলে ভালোবাসার উজ্জ্বল দীপজ্বাল।
সন্দেহ যদি বিষবীজ হয়ে হৃদয়ে যায় বোনা,
শান্তির সবুজ বাগান তখন থাকে না আর সোনা।
স্বার্থ যদি সিংহাসনে বসে রাজা হয়ে,
সম্পর্ক তখন ভেঙে পড়ে নিঃসঙ্গতা বয়ে।
কলহ যদি প্রতিদিনের ভাষা হয়ে যায়,
শিশুমনে অশান্তিরই ছায়া নেমে রয়।
ভাঙা পরিবারের প্রতিধ্বনি সমাজময় বাজে,
ক্ষুদ্র ক্ষতও একদিন জাতির বুকে সাজে।
তাই প্রয়োজন আত্মসমীক্ষা প্রতিটি দিনের শেষে,
নিজের ভুলকে দেখার সাহস অন্তরেরই দেশে।
ধৈর্য, নম্রতা, কৃতজ্ঞতা, ক্ষমাশীল মন,
এসব গুণেই মহিমান্বিত হয় দাম্পত্য-বন্ধন।
একটি ধন্যবাদ, একটি হাসি, একটি মধুর বাক্য,
অনেক বড় সম্পদের চেয়েও অধিক মূল্যবান সত্য।
যে ঘরে কৃতজ্ঞতার সুর প্রতিদিনই বাজে,
সেই ঘরে সুখের পাখি আপন নীড় সাজে।
স্বামী-স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, নয় কোনো পক্ষ,
দুজন মিলে পূর্ণ করে জীবনেরই লক্ষ্য।
তারা যেন দুটি ডানা এক পাখির উড়ান,
দুটি সুরের মিলনধ্বনি এক অনন্ত গান।
দুটি নদী মিলেমিশে যেমন সাগরে যায়,
তেমনি দুটি জীবন মিলে মহত্ত্বের পথ পায়।
দুটি প্রদীপ একসাথে আলোকিত করে ঘর,
দুটি হৃদয় মিলেই গড়ে মানবতার নগর।
যেখানে দাম্পত্য জাগে সত্য, প্রেম আর ন্যায়,
সেখানে সমাজ শান্তির পথে এগিয়ে যেতে চায়।
যেখানে পরিবার গড়ে দায়িত্বের ভিত,
সেখানে জাতির ভবিষ্যৎ হয় আলোকদীপ্ত।
তাই আসুক প্রতিটি ঘরে সহমর্মিতার আলো,
প্রতিটি মনে জাগুক প্রেম, শ্রদ্ধা, সত্য ভালো।
আস্থা হোক ভিত্তিপ্রস্তর, সেবা হোক প্রাণ,
ত্যাগের সুধায় পূর্ণ হোক জীবনেরই গান।
পরিবারের ক্ষুদ্র বীজে লুকায় মহাবন,
দাম্পত্যের স্নেহধারায় বিকশিত হয় জীবন।
ঘরে ঘরে জ্বলুক তাই মানবতার দীপ,
ভালোবাসার শক্তিতেই ফুটুক শুভ্র রূপ।
শান্ত সংসার, সুন্দর সমাজ, সমৃদ্ধ হোক দেশ,
নৈতিকতার সৌরভে ভরে উঠুক পরিবেশ।
হৃদয় থেকে হৃদয়ে যাক শুভ্রতার আহ্বান,
দাম্পত্যের দীপশিখায় আলোকিত হোক বিশ্বমানবপ্রাণ।
যতদিন সূর্য উদিত হবে পূর্ব আকাশপানে,
যতদিন নদী ছুটে যাবে সাগরেরই টানে,
ততদিন মানবসভ্যতা স্মরণ করে যাবে,
সুখী দাম্পত্যের শক্তিতেই জাতি সমৃদ্ধ হবে।
৫৩
৯২ মন্তব্য