বাংলাদেশে কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কুটির শিল্পের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এটি স্বল্প মূলধনে গড়ে তোলা যায় এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তা:
-
কর্মসংস্থান সৃষ্টি
কুটির শিল্প গ্রামাঞ্চলে বেকার ও অর্ধ-বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করে।
-
স্বল্প মূলধনে শিল্প স্থাপন
বড় শিল্পের তুলনায় কুটির শিল্পে কম পুঁজি লাগে, ফলে সাধারণ মানুষও সহজে এ ধরনের শিল্প গড়ে তুলতে পারে।
-
গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন
গ্রামে শিল্পায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায় এবং শহরমুখী জনসংখ্যার চাপ কমে।
-
নারীর ক্ষমতায়ন
কুটির শিল্পে নারীরা ঘরে বসেই উৎপাদনমূলক কাজে অংশ নিতে পারে, যা তাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করে।
-
স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার
বাঁশ, বেত, পাট, মাটি, কাঠ ইত্যাদি স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
-
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ
তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, নকশিকাঁথা, বেতশিল্প ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি টিকে থাকে এবং বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।
-
রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পজাত পণ্যের বিদেশে চাহিদা রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক।
উপসংহার:
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে কুটির শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই কুটির শিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
৫৩
৯২ মন্তব্য