Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২৬ ০৩:১২ অপরাহ্ণ

ছেলেদের মুখের ব্রণ দূর করার উপায় - যা কেউ সহজ করে বলে না

আচ্ছা একটা সত্যি কথা বলুন তো- শেষ কবে সিরিয়াসলি মুখ ধুয়েছেন? মানে শুধু পানি দিয়ে না, ঠিকঠাক ফেসওয়াশ দিয়ে? মনে নেই তাই তো? কারণ ক্যারিয়ারের চাপ, পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের দায়িত্ব, এসব সামলাতে গিয়ে নিজের মুখের দিকে তাকানোর সময় কই?

কিন্তু সমস্যা হলো, ব্রণ কিন্তু আপনার ব্যস্ততার কথা বোঝে না। সে নিজের মতো করে বেড়েই চলে।

ছেলেদের ব্রণ হয় না - এই মিথটা ভেঙে ফেলুন আগে

ব্রণ মেয়েদের সমস্যা -এটা একটা বহু পুরনো ভুল ধারণা। বাস্তবে ছেলেদের ত্বকে মেয়েদের তুলনায় বেশি সিবাম (তেল) তৈরি হয়, কারণ টেস্টোস্টেরন হরমোন ত্বকের তেলগ্রন্থিকে বেশি সক্রিয় রাখে। এর মানে হলো ছেলেদের লোমকূপ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর সেখান থেকেই ব্রণের জন্ম।

তাহলে ছেলেদের ব্রণ নিয়ে কথা কম কেন? কারণ আমাদের সমাজে ছেলেরা এসব নিয়ে কথা বলে না। কিন্তু না বললেই সমস্যা চলে যায় না।

ব্রণের আসল কারণগুলো কী?

সমাধানে যাওয়ার আগে কারণটা বুঝতে হবে।

অতিরিক্ত তেল আর বন্ধ রোমকূপ 

মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে ত্বকের মরা কোষ, ধুলো আর তেল একসাথে জমে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এখান থেকেই ব্রণের শুরু।

ব্যাকটেরিয়া 

Cutibacterium acnes নামের একটা ব্যাকটেরিয়া বন্ধ লোমকূপে বংশবৃদ্ধি করে, যার ফলে লাল, ফোলা ব্রণ তৈরি হয়।

হরমোনের ওঠানামা 

বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে স্ট্রেস পর্যন্ত -হরমোনের পরিবর্তন ব্রণের অন্যতম বড় কারণ।

জীবনযাপনের অভ্যাস 

এটা নিয়ে একটু পরে বিস্তারিত বলছি।

স্কিনকেয়ার রুটিন - মাত্র ৩টা জিনিস, পাঁচ মিনিটেই হবে

আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়াতে বলছি না। মাত্র তিনটা জিনিস নিয়মিত করলেই ব্রণের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

ফেসওয়াশ - দিনে দুইবার, সকাল আর রাতে

সাবান দিয়ে মুখ ধোয়া বন্ধ করুন। সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়, ফলে ত্বক আরও বেশি তেল তৈরি করে - মানে সমস্যা আরও বাড়ে।  

ব্রণের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজোয়েল পারঅক্সাইড যুক্ত ফেসওয়াশ খুঁজুন। এগুলো লোমকূপের ভেতরে গিয়ে পরিষ্কার করে। Garnier Men, Himalaya Men, বা CeraVe-র ফেসওয়াশ ভালো অপশন।

মুখ ধোয়ার সময় আস্তে আস্তে ঘষুন, জোরে ঘষলে ত্বক আরও বেশি জ্বালা করে।

ময়েশ্চারাইজার  "তেলতেলে মুখে আবার ময়েশ্চারাইজার কেন?"

এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে তো? অনেকেরই আসে। কিন্তু সত্যি হলো, ময়েশ্চারাইজার না দিলে ত্বক শুকিয়ে যায় আর সেই শুকনো ভাব পূরণ করতে ত্বক আরও বেশি তেল বানায়। ফলাফল? আরও বেশি ব্রণ।

অয়েল-ফ্রি আর নন-কমেডোজেনিক লেখা ময়েশ্চারাইজার নাও। এগুলো লোমকূপ বন্ধ করে না।

সানস্ক্রিন - এটা মেয়েদের জিনিস না, এটা সবার জন্য

রোদ ত্বকের ক্ষতি করে, ব্রণের দাগ আরও গাঢ় করে দেয়। SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন বাইরে যাওয়ার আগে মাখুন। Neutrogena বা La Shield-এর জেল সানস্ক্রিন ছেলেদের জন্য বেশ মানানসই - ভারী লাগে না। এছাড়াও, কিছু ক্রিম আছে যা ছেলেদের মুখের ব্রণ ও কালোদাগ দূর করতে সাহায্য করে। 

জীবনযাপন না বদলালে স্কিনকেয়ার একা কিছু করতে পারবে না

এখানে একটু কঠিন কথা বলব। ফেসওয়াশ আর ময়েশ্চারাইজার দিয়ে কিছুটা উপকার হবে ঠিকই, কিন্তু জীবনযাপনের অভ্যাস না বদলালে ব্রণ বারবার ফিরে আসবেই।

ঘুমের রুটিন ঠিক করুন

রাত জেগে সারাদিন ঘুমানো - এটা শরীরের জন্য ততটাই ক্ষতিকর যতটা শোনাচ্ছে। ঘুম কম হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বাড়ে, আর কর্টিসল সরাসরি ব্রণ বাড়ায়। রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার। রাত ১২টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

খাবার-দাবার

সময়মতো না খেলে, বা বেশি তেলচিটচিটে-ভাজা খাবার খেলে ব্রণের সমস্যা বাড়ে। পানি বেশি খান — দিনে অন্তত ৮ গ্লাস। সবজি আর ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সিগারেট

ধূমপান ত্বকের রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, অক্সিজেন কম পৌঁছায়, আর ত্বক দ্রুত নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ব্রণ সারতেও দেরি হয়। ছেড়ে দেওয়া সম্ভব না হলেও কমানোর চেষ্টা করুন।

গেমিং আর স্ক্রিন টাইম

গেম খেলতে সমস্যা নেই, কিন্তু রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত খেলে ঘুম নষ্ট করলে সমস্যা। স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনকে বাধা দেয়। ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট স্ক্রিন বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন।

যেকোনো জিনিসেই অতিরিক্ততা ক্ষতিকর - এটা গেমিং হোক, সোশ্যাল মিডিয়া হোক, বা রাত জাগা হোক। সীমার মধ্যে থাকলে শরীর আর মন দুটোই ভালো থাকে।

ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম করলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়, স্ট্রেস কমে, ঘুম ভালো হয় - এই তিনটাই ব্রণের বিরুদ্ধে কাজ করে। জিমে যেতে না পারলে সমস্যা নেই, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা বা ঘরে ব্যায়ামেই উপকার পাবে।

যা একদম করবেন না

  • ব্রণ খোঁটা বা ফাটানো - এতে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, দাগ থাকে বেশিদিন।

  • বারবার মুখে হাত দেওয়া - হাতে থাকা তেল আর ব্যাকটেরিয়া সরাসরি মুখে যায়।

  • বালিশের কভার না বদলানো - সপ্তাহে একবার বদলান।

  • ঘামের পরে মুখ না ধোয়া - ব্যায়ামের পরে বা গরমে ঘামলে দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবে?

সাধারণ স্কিনকেয়ার রুটিন আর জীবনযাপনের পরিবর্তনে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু যদি ব্রণ অনেক বড়, গভীর, বা পুঁজভর্তি হয়, বা কোনো চেষ্টাতেই না কমে, তাহলে একজন ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যান। তারা প্রয়োজনে ক্রিম বা ওষুধ দিতে পারবেন।

শেষ কথা

নিজের যত্ন নেওয়াটা দুর্বলতা না। বরং যে নিজেকে ঠিকঠাক রাখতে পারে, সে বাকি দায়িত্বগুলোও ভালোমতো সামলাতে পারে। ক্যারিয়ার, পরিবার, সবকিছুর জন্যই দরকার একটা সুস্থ শরীর আর সুস্থ মন।

মাত্র পাঁচ মিনিট। সকালে একবার, রাতে একবার। এটুকুই যথেষ্ট শুরু করার জন্য।


মন্তব্য করুন

ব্লগ