Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ জুন, ২০২৬ ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ইলমের দীপশিখা (জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও আলোর কাব্য) - মোঃ মুজিবুর রহমান


ইলমের দীপশিখা

(জ্ঞান, প্রজ্ঞা আলোর কাব্য)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি নাম নিয়ে পরম দয়াময় রবের,
যাঁর আলোয় জাগে প্রাণ অন্ধকারের অবসরে।
যিনি দিলেন জ্ঞানের দান মানবজাতির তরে,
সত্যের দীপ জ্বালিয়ে দিলেন বিশ্বচরাচরে।

ইলম শুধু কিছু কথা, কিছু তথ্য নয়,
ইলম মানুষ গড়ার শক্তি, জীবন জয়ের পরিচয়।
ইলম হলো আলোকধারা হৃদয়-আকাশ ভরে,
যা মানুষকে পৌঁছে দেয় মহাসত্যের দ্বারে।

যখন ছিল পৃথিবীজুড়ে অজ্ঞতারই রাত,
অন্যায়-অবিচার ভরেছিল মানুষের প্রভাত,
তখন জ্ঞানের সূর্য হয়ে উঠল মহান বাণী,
"
পড়ো" বলে জাগিয়ে দিল বিশ্বমানব প্রাণী।

হেরা গুহার নীরব বুকে জেগে উঠল আলো,
নবুয়তের প্রথম বাণী ভাঙল আঁধার কালো।
পড়ো তোমার প্রভুর নামেএলো সেই আহ্বান,
মানবতার ইতিহাসে শুরু হলো জ্ঞান।

কলমের শপথ করলেন যিনি সৃষ্টিকর্তা মহান,
জানিয়ে দিলেনইলম ছাড়া অসম্পূর্ণ মানবজীবন।
অক্ষরের মাঝে লুকিয়ে আছে সভ্যতার ইতিহাস,
জ্ঞান ছাড়া মানুষ যেন দিশেহারা নিশ্বাস।

ইলম মানুষকে শেখায় নিজের পরিচয়,
কেন সে এলো পৃথিবীতে, কোথায় তার আশ্রয়।
কে তার রব, কী তার লক্ষ্য, কোথায় চূড়ান্ত গন্তব্য,
জ্ঞানের আলোয় স্পষ্ট হয় জীবনের মহাসত্য।

সবার উপরে মর্যাদা কি ধন-সম্পদের হয়?
নাকি ক্ষমতার প্রাসাদে মানুষ শ্রেষ্ঠ রয়?
কুরআনের বাণী জানায় স্পষ্ট ভাষার তানে,
জ্ঞানী আর অজ্ঞান কি কখনো সমান মানে?

জ্ঞানীরা আলোর বাহক, প্রজ্ঞার দীপশিখা,
তাদের চিন্তা জাগায় যুগে নতুন পথের দিশা।
তারা দেখে সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার নিদর্শন,
তাদের চোখে ফুটে ওঠে মহাজ্ঞানের চিহ্ন।

আল্লাহ যাদের জ্ঞান দিয়েছেন, দিয়েছেন অনুগ্রহ,
তাদের হৃদয় বিনম্র থাকে, থাকে না কোনো অহংকার।
যত বাড়ে সত্য জ্ঞান, তত বাড়ে নম্রতা,
ইলম শেখায় মানবতাকে, শেখায় সহমর্মিতা।

যে চলে জ্ঞান অর্জনের পবিত্র উদ্দেশ্যে,
রব তার পথ সহজ করেন জান্নাতেরই দেশে।
একটি পদক্ষেপ এগিয়ে গেলে সত্যের সন্ধানে,
অসংখ্য রহমত নামে তার জীবনের গানে।

পথটি দীর্ঘ হতে পারে, হতে পারে কঠিন,
তবু জ্ঞানের অভিযাত্রা কখনো নয় ক্ষীণ।
কারণ সে পথ আল্লাহরই সন্তুষ্টির পথ,
যেখানে আছে মুক্তির আশা, প্রশান্তির রথ।

শিক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সমান,
যদি থাকে অন্তরে শুধু আল্লাহরই সম্মান।
কলম, বই আর চিন্তাশক্তি হয় তখন সাথী,
জ্ঞানপিপাসু হৃদয় পায় আলোর মহাগাঁথি।

ধন-সম্পদ একদিন যাবে পৃথিবী ছেড়ে দূর,
ক্ষমতার মুকুট পড়ে যাবে সময়েরই সুর।
কিন্তু যে জ্ঞান উপকারে আসে মানবকুলে,
তার সওয়াব প্রবাহিত হয় অনন্তকালের কূলে।

শিক্ষক যখন শেখান সত্য নৈতিকতার বাণী,
শিষ্যের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে আলোর অম্লান খানি।
সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে পরিবার সমাজে,
মানবতার কল্যাণগাথা লিখে নতুন সাজে।

একটি উপকারী জ্ঞান যদি বদলে দেয় প্রাণ,
তবে তার প্রতিদান বহে যুগ থেকে যুগান্তর।
মৃত্যুর পরও যার ফল থাকে মানুষের মাঝে,
সে ইলম অমর হয়ে থাকে ইতিহাসের সাজে।

যেখানে বসে মানুষ সত্য জ্ঞানের তরে,
সেখানে রহমতের মেঘ নেমে আসে ধীরে।
ফেরেশতারা ডানা মেলে ঘিরে রাখে স্থান,
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে ভরে ওঠে প্রাণ।

জ্ঞানচর্চার সভাগুলো কেবল আলোচনা নয়,
সেখানে জাগে হৃদয়ের শক্তি, নৈতিকতার পরিচয়।
সেখানে মানুষ শেখে কেমন করে হতে হয় মহান,
কেমন করে সেবা করতে হয় বিশ্বমানব প্রাণ।

জ্ঞানীজনের সাহচর্যে প্রসারিত হয় মন,
সীমাবদ্ধতার দেয়াল ভেঙে বাড়ে চিন্তাগণ।
ইলম শেখায় প্রশ্ন করতে, খুঁজতে সত্য পথ,
মিথ্যার ঘোর অন্ধকারে জ্বালাতে আলোর রথ।

ইলম গড়েছে সভ্যতাকে যুগে যুগে ধীরে,
আবিষ্কারের প্রদীপ জ্বেলে বিজ্ঞান এনেছে নীড়ে।
চিকিৎসা, গণিত, সাহিত্য, দর্শন প্রযুক্তি,
জ্ঞানই দিয়েছে মানবতাকে উন্নতির শক্তি।

নক্ষত্র দেখে পথ খুঁজেছে সমুদ্রযাত্রী দল,
জ্ঞান দিয়েছে আকাশপানে উড়ার অবিচল বল।
মাটির গভীর রহস্য খুঁজে শস্য ফলিয়েছে,
মানুষের জীবন সহজতর করে তুলিয়েছে।

সত্যিকার জ্ঞান কখনো বিভেদ শেখায় না,
মানুষকে মানুষ ভাবতে ভুলতে দেয় না।
ধর্ম, ভাষা, বর্ণ পেরিয়ে শেখায় ভালোবাসা,
মানবকল্যাণে নিবেদিত হয় তার প্রত্যাশা।

ইলম যদি চরিত্রহীন হৃদয়ে আশ্রয় পায়,
তবে সে জ্ঞান কখনো প্রকৃত কল্যাণ আনতে চায় না।
জ্ঞান আর নৈতিকতা যেন একই বৃক্ষের ফল,
একটি ছাড়া অন্যটি হয় অসম্পূর্ণ বিকল।

সত্যবাদিতা, আমানত, ন্যায় দয়া,
এসব গুণে উজ্জ্বল হয় জ্ঞানের মহিমা।
যে জ্ঞান মানুষকে ভালো হতে শেখায়,
সেই জ্ঞানই পৃথিবীতে শান্তির বীজ বোনায়।

শিক্ষিত হওয়া যথেষ্ট নয়, হতে হবে মহৎ,
মানবসেবার আদর্শে হতে হবে রত।
জ্ঞান তখনই পূর্ণতা পায় কর্মের মাধ্যমে,
যখন তা কল্যাণ ছড়ায় মানুষে মানুষে।

এসো আমরা জ্ঞানের পথে এগিয়ে যাই সবাই,
অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে সত্যের আলো পাই।
বই হোক বন্ধু, কলম হোক স্বপ্নের দিশারী,
ইলম হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকারী।

শিশুর হাতে তুলে দিই শিক্ষার নির্মল ফুল,
তরুণদের হৃদয়ে জাগাই প্রজ্ঞার অনুকূল।
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র হোক জ্ঞানের আলয়,
সততা আর ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাক পরিচয়।

ইলম হলো আলোর নদী, প্রবাহমান ধারা,
যা মানুষকে পৌঁছে দেয় সত্যের সীমানা পারা।
ইলম হলো রবের দান, অমূল্য মহাধন,
যার আলোয় জাগ্রত হয় মানবতার মন।

অন্ধকার থেকে আলোয়, বিভ্রান্তি থেকে জ্ঞান,
অন্যায় থেকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলে প্রাণ।
জ্ঞান, প্রজ্ঞা সৎকর্মে গড়ি সুন্দর ভুবন,
ইলমের মহাগান হোক মানবজাতির জীবন।

যতদিন সূর্য উঠবে এই পৃথিবীর বুকে,
ততদিন জ্ঞানের আলো জ্বলুক হৃদয় সুখে।
মানুষ হোক আলোকিত, মহৎ কল্যাণময়,
ইলমের পথে চলুক সবাই হোক চির পরিচয়।

***

কলম কেবল কাঠি নয়, ইতিহাসের প্রাণ,
সভ্যতার মহাস্রোতে তার অমর অবদান।
যে কলমে লেখা হয় সত্যের জয়গান,
সেই কলমে জেগে থাকে যুগযুগান্তের জ্ঞান।

কলম দিয়ে মানুষ গড়ে ন্যায়ের অট্টালিকা,
কলম দিয়ে ভেঙে যায় অজ্ঞানতার শৃঙ্খলা।
যেখানে জ্ঞানের অক্ষর ঝলমল করে দীপ,
সেখানে অন্ধকার হারায় নিজের সকল রূপ।

শিক্ষকের হাতে কলম যেন আলোর দিশারী,
ছাত্রের মনে জাগায় স্বপ্ন, সম্ভাবনার তরী।
একটি অক্ষর শেখানোও মহৎ সদকাহ হয়,
যার ফলধারা বয়ে চলে, কখনো শেষ না হয়।

জ্ঞানীর কলম তরবারির চেয়েও শক্তিমান,
কারণ সে গড়ে তোলে বিবেকবান প্রাণ।
শক্তি দিয়ে জয় করা যায় কেবল কিছু দেশ,
জ্ঞান দিয়ে জয় করা যায় মানবহৃদয় শেষ।

আকাশ ভরা নক্ষত্ররাজি শেখায় বিস্ময়বোধ,
চন্দ্র-সূর্য ঘুরে ঘুরে দেয় নিয়মেরই প্রমাণস্বরূপ।
নদী শেখায় চলতে সদা সাগরেরই পানে,
বৃক্ষ শেখায় দান করতে নীরব অবদানে।

পাহাড় শেখায় দৃঢ় হতে দুর্যোগের মাঝেও,
ফুল শেখায় সৌরভ ছড়াতে প্রতিকূল পরিবেশেও।
পাখিরা শেখায় স্বাধীনতার নির্মল মহাগান,
মৌমাছি শেখায় শ্রমের মূল্য, কর্মের সম্মান।

প্রকৃতির প্রতিটি কণা জ্ঞানের উন্মুক্ত বই,
যে পড়তে জানে, তার কাছে রহস্য কিছু নয়।
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার কত অগণিত নিদর্শন,
জ্ঞানের চোখে সেগুলোই জাগায় গভীর অনুধ্যান।

যে জ্ঞান মানুষকে শেখায় নিজের ভুল চিনিতে,
সেই জ্ঞানই সাহায্য করে সত্যপথে ফিরিতে।
ইলম শুধু বাহির নয়, অন্তরেরও আলো,
যা হৃদয়ের কলুষতা করে নির্মল ভালো।

অহংকারের প্রাচীর ভেঙে বিনয় শেখায় জ্ঞান,
ক্ষমাশীলতা, ধৈর্য, প্রেমে ভরে মানবপ্রাণ।
যতই বাড়ে সত্য ইলম, ততই বাড়ে ভয়,
রবের সামনে দাঁড়াবার মহাসচেতন পরিচয়।

নিজেকে জানা, নিজেকে গড়া, নিজেকে করা শুদ্ধ,
ইলমের এই মহাশিক্ষা চিরদিন অম্লান-বুদ্ধ।
যে হৃদয়ে জ্ঞানের সাথে তাকওয়ার দীপ জ্বলে,
সে হৃদয়ই আলোকিত হয় দুনিয়া পরকালে।

ইলম কখনো সীমাবদ্ধ নয় কোনো জাতি-পাতে,
তার আলো ছড়িয়ে পড়ে মানবতার প্রভাতে।
যেখানে মানুষ কাঁদে দুঃখে, সেখানে জ্ঞান যায়,
উন্নতির নতুন পথের স্বপ্ন দেখিয়ে চায়।

চিকিৎসকের জ্ঞান বাঁচায় অসংখ্য জীবন,
প্রকৌশলীর প্রজ্ঞা গড়ে উন্নতির ভবন।
শিক্ষকের ইলম জাগায় জাতির ভবিষ্যৎ,
গবেষকের চিন্তা আনে সম্ভাবনার সূর্যোদয় অদৃষ্ট।

মানুষের কল্যাণে যে জ্ঞান নিবেদিত হয়,
সে জ্ঞান রবের নিকটেও সম্মানের পরিচয়।
স্বার্থহীন সেবার মাঝে জ্ঞানের সার্থকতা,
সেখানে ফুটে ওঠে মানবতার মহত্ত্বতা।

আদম থেকে মুহাম্মদআলোর এক প্রবাহ,
নবীদের জীবনজুড়ে জ্ঞানেরই উজ্জ্বল চাহ।
আদম পেলেন নামের জ্ঞান মহান রবের দান,
সেই থেকেই মানবজাতির শুরু জ্ঞানযাত্রার গান।

ইবরাহিম খুঁজলেন সত্য নক্ষত্র-পুঞ্জ পেরিয়ে,
মূসা দাঁড়ালেন ন্যায়ের পক্ষে জুলুমের বিরুদ্ধে গিয়ে।
ঈসা দিলেন করুণা, প্রেম পবিত্রতার ডাক,
মানবহৃদয় জাগিয়ে তুলল তাঁর আলোকমাখা বাক্য।

আর সর্বশেষ নবী এলেন রহমতের বারতা নিয়ে,
অজ্ঞতার মরুভূমিতে জ্ঞানের সাগর ঢেলে দিয়ে।
তাঁর শিক্ষা আজও জাগায় বিশ্বমানব প্রাণ,
ইলমের মহাগ্রন্থ কুরআন তাঁরই অমর দান।

এসো তরুণ, এসো শিশু, এসো জ্ঞানপিপাসু জন,
খুলি দিই শিক্ষার দ্বার, প্রসারিত করি মন।
বইয়ের পাতায় খুঁজি আমরা আলোর দিগন্তরেখা,
সত্য, ন্যায় প্রজ্ঞার পথে গড়ি নতুন দেখা।

অজ্ঞতা, কুসংস্কার, বিভেদের যত দেয়াল,
জ্ঞানের শক্তিতে ভেঙে যাক তাদের সকল জাল।
পরিশ্রম আর অধ্যবসায় হোক আমাদের সাথী,
তবেই গড়ব আলোকিত ভবিষ্যতের গাঁথি।

যতদিন আকাশে জ্বলবে সূর্য-চন্দ্র-তারা,
ততদিন ইলমের আলো করবে পথহারা।
যতদিন মানুষ খুঁজবে সত্য, ন্যায় আর কল্যাণ,
ততদিন জ্ঞানের মহিমা গাইবে বিশ্বমানব প্রাণ।

ইলম হলো রবের রহমত, শ্রেষ্ঠতম উপহার,
যা মানুষকে উন্নত করে বারবার, অপরিসীম বার।
ইলম হলো মুক্তির সোপান, প্রজ্ঞার মহাসেতু,
যার আলোয় আলোকিত হয় মানবজীবনের ক্ষেত্র।

এসো তাই শপথ করি হৃদয় তুলে ধরি,
জ্ঞানের পথে জীবনভর অবিচল থাকি চলি।
সত্য, প্রজ্ঞা, সৎকর্মে হোক আমাদের পরিচয়,
ইলমের মহাগান গেয়ে উঠুক বিশ্বময়।

জ্ঞান হোক হৃদয়ের সূর্য, প্রজ্ঞা হোক তার কিরণ,
মানবতার সেবায় নিবেদিত হোক প্রতিটি জীবন।
অন্ধকার থেকে আলোয়, বিভ্রান্তি থেকে জয়,
ইলমের মহাগান হোক মানবসভ্যতার চিরপরিচয়।

জ্ঞানীর মৃত্যু হয় বটে, মরে না তার জ্ঞান,
শত বছর পেরিয়েও বেঁচে থাকে অবদান।
দেহটি মিশে যায় ধুলায়, থেমে যায় নিশ্বাস,
তবু তার শিক্ষার আলো করে না কখনো নাশ।

যে শিক্ষক গড়ে তোলে শত শত মনীষী,
তার শ্রমের ফল ছড়িয়ে পড়ে দিগন্তব্যাপী।
একটি সত্য বাক্য যদি জাগায় নতুন প্রাণ,
সেই বাক্যের স্রোত বয়ে চলে যুগের পর যুগমান।

ইমাম, আলেম, গবেষক, সাধক কিংবা কবি,
ইলমের দীপ জ্বালিয়ে গেছেন জ্ঞানের মহারবি।
তাদের লেখা, চিন্তা, ত্যাগ, অধ্যবসায়-গাথা,
সভ্যতার পথরেখায় এঁকেছে আলোর কথা।

যে জ্ঞান মানুষকে দেয় ন্যায়ের অনুশাসন,
যে জ্ঞান জাগায় হৃদয়জুড়ে সত্যের স্পন্দন,
সেই জ্ঞানীর উত্তরাধিকার অমূল্য সম্পদ হয়,
যা পৃথিবীর বুকে চিরকাল অম্লান পরিচয়।

আল-কুরআন জ্ঞানের সাগর, প্রজ্ঞার মহাধন,
যার প্রতিটি আয়াতে জাগে সত্যের স্পন্দন।
মানুষকে সে ডাকে বারবার চিন্তা করতে,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার নিদর্শন খুঁজতে।

আকাশ কেন ঊর্ধ্বে থাকে, কেন নদী বহে,
কেন ফুলে রঙের মেলা, কেন পাখি গাহে?
প্রশ্ন করে কুরআন যেন জাগিয়ে তোলে মন,
জ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে দেয় অনুপ্রেরণ।

কুরআনের আলো যার অন্তরে জ্বলে রয়,
তার জীবনের প্রতিটি পথে কল্যাণের পরিচয়।
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সে স্পষ্ট করে জানে,
রবের সন্তুষ্টি খোঁজে জীবনের প্রতিক্ষণে।

যে জাতি জ্ঞানকে ভালোবাসে, উন্নতি তার সাথী,
যে জাতি ইলমকে অবহেলা করে, হারায় শক্তিগাঁথি।
বিদ্যালয় হোক প্রজ্ঞার ক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় দীপ,
গবেষণার আলোয় ভরে উঠুক দেশের প্রতিটি নীড়।

শিশুর হাতে বইয়ের ঘ্রাণ, তরুণের হাতে স্বপ্ন,
জ্ঞানের শক্তি নিয়ে তারা গড়ুক নতুন যাত্রাপথ।
নারী-পুরুষ সমানভাবে শিক্ষার আলো পাক,
মানবতার মহামঞ্চে উন্নতির পতাকা থাক।

দুর্নীতি, কুসংস্কার, হিংসা, বিভেদের অন্ধকার,
জ্ঞানের সূর্য উঠলে হবে একদিন ছারখার।
ন্যায়, সততা, কর্মনিষ্ঠা হবে জাতির বল,
ইলমের শক্তিতে প্রস্ফুটিত হবে সোনার ফসল।

হে প্রভু, দাও সে জ্ঞান যা বাড়ায় নম্রতা,
যা শেখায় সত্য, ন্যায়, প্রেম আর মানবতা।
দাও সে প্রজ্ঞা, যা মানুষকে কল্যাণপথে আনে,
দাও সে হৃদয়, যা সত্যকে ভালোবাসে প্রাণে।

আমাদের কলম হোক আলোরই বাহন,
আমাদের কর্ম হোক সৎকাজের সাধন।
আমাদের জীবন হোক ইলমের উদাহরণ,
আমাদের মৃত্যু হোক সৎকর্মের সমাপন।

যতদিন পৃথিবীতে মানবতার গান,
ততদিন ধ্বনিত হোক ইলমের জয়গান।
জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হোক ধরণী গগন,
ইলমের মহাগান হোক চিরন্তন অনুপ্রেরণার জীবন।

জ্ঞানপথের পথিক যারা, থামে না কোনোদিন,
ঝড়-বৃষ্টি, বাধা-বিপদ করেও না তাদের ক্ষীণ।
সত্যের খোঁজে পাড়ি জমায় দূর অজানা দেশ,
ইলমের তৃষ্ণা মেটাতে ভুলে যায় ক্লান্তি শেষ।

মরুভূমির উত্তপ্ত বুকে, তুষারঢাকা শৃঙ্গে,
জ্ঞানসন্ধানী মানুষ চলে অদম্য প্রাণরঙ্গে।
গ্রন্থাগারের নীরব কোণে জ্বলে রাতের দীপ,
গবেষণার সাধনায় কাটে কত দীর্ঘ নীড়।

একটি সত্য জানার তরে কত যে সাধনা,
কত নিদ্রাহীন রজনী, কত আত্মনিবেদনা।
ইলম কখনো অলসতাকে দেয় না আশ্রয়,
পরিশ্রম আর ধৈর্যই তার প্রকৃত পরিচয়।

যে হৃদয়ে প্রশ্ন জাগে, যে মন খোঁজে জ্ঞান,
সেই হৃদয়েই জেগে ওঠে উন্নতির গান।
সন্ধানীরাই যুগে যুগে খুলেছে নতুন দ্বার,
তাদের হাতেই উঠেছে জ্ঞানের মিনার।

ইলম যদি ন্যায়ের সাথে যুক্ত হয়ে যায়,
সমাজ তখন শান্তি, শৃঙ্খলা, সমৃদ্ধি পায়।
অজ্ঞতা যখন বিচার করে, বাড়ে শুধু ক্ষতি,
জ্ঞানী বিচার প্রতিষ্ঠা করে সত্যের মহাগতি।

ন্যায়বিচার সূর্যের মতো আলোক ছড়ায় দূর,
অত্যাচারের অন্ধকারে আনে শুভ সুর।
জ্ঞান শেখায় সকল মানুষ সমমর্যাদার ধন,
সকল প্রাণের রয়েছে সমান সম্মান।

ক্ষমতাবান হোক বা হোক দুর্বল কোনো জন,
ন্যায়ের দৃষ্টিতে সবাই সমান মানবসন্তান।
ইলম শেখায় সত্য বলতে নির্ভয়ে সর্বদা,
অন্যায় দেখে নীরব থাকা নয় কোনো প্রজ্ঞা।

আসুক আবার নবজাগরণ জ্ঞানের আলো নিয়ে,
সত্য প্রজ্ঞার পতাকা উড়ুক বিশ্ব ছেয়ে।
বিদ্যালয়ে ফুটুক আবার চিন্তার নতুন ফুল,
গবেষণার সোপানে উঠুক তরুণ কূল।

বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব হোক প্রতিটি শিশুর প্রাণে,
সৃজনশীল স্বপ্ন জাগুক প্রতিটি শিক্ষার্থীর টানে।
প্রযুক্তি হোক মানবকল্যাণের শক্তিশালী হাত,
নৈতিকতার আলোয় হোক তার প্রতিটি প্রভাত।

শ্রম, সততা, অধ্যবসায়, প্রজ্ঞা আর জ্ঞান,
এই পাঁচ রত্নে সমৃদ্ধ হোক প্রতিটি মানবপ্রাণ।
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠুক দেশময়,
যেখানে আলোর অভিযাত্রা কখনো থেমে নয়।

যতদিন থাকবে মানুষ, থাকবে তার প্রশ্ন,
ততদিন জ্ঞানের আলো হবে জীবনের স্পর্শ।
যতদিন থাকবে আকাশ, নদী, পাহাড়, সাগর,
ততদিন ইলমের মহিমা করবে হৃদয় জাগর।

ইলম হলো মুক্তির আলো, মানবতার ডানা,
ইলম হলো ভবিষ্যতের নির্মল ঠিকানা।
ইলম হলো রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠতম উপহার,
যার তুলনায় ম্লান হয়ে যায় পৃথিবীর অহংকার।

এসো সবাই জ্ঞানের পথে গড়ি নতুন ভুবন,
সত্য, ন্যায় প্রজ্ঞায় হোক জীবনের চরণ।
কলম হোক দীপশিখা, বই হোক সাথি,
মানবতার কল্যাণে লিখি আলোর গাঁথি।

অন্ধকার থেকে আলোয়, বিভ্রান্তি থেকে জ্ঞান,
স্বার্থপরতা থেকে সেবায় জাগুক মানবপ্রাণ।
যুগে যুগে ধ্বনিত হোক এই মহিমান্বিত বাণী

ইলমই শক্তি, ইলমই মুক্তি,
ইলমেই মানবতার চিরন্তন প্রাণবাণী।

মন্তব্য করুন

ব্লগ