সহকারী শিক্ষক
১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
এক বিকেলের গল্প ও চিনিকে না
এক বিকেলের গল্প ও চিনিকে না
সেদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি, ভিজে যাচ্ছি, ভ্যানের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পর একটা ভ্যান এলো। আমি উঠে পড়লাম। ভ্যানে আমি একাই যাত্রী।
কিছুদূর যাওয়ার পর একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক উঠলেন। পরিপাটি পোশাক, শান্ত চেহারা,দেখে মনে হলো খুবই সুশৃঙ্খল মানুষ। তিনি আমার পাশে বসলেন।
আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, “কেমন আছেন কাকু?”
তিনি হাসলেন, “ভালো বাবা, তুমি কেমন আছো?”
“আমি ভালো আছি,” আমি উত্তর দিলাম।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর তিনি নিজেই কথা শুরু করলেন। বললেন, “সব ঠিকঠাক তো?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, সব ঠিক আছে।”
তারপর হঠাৎ তিনি নিজের অভ্যাসের কথা বলতে শুরু করলেন। বললেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,আর কখনো চিনি খাবেন না, মিষ্টি খাবেন না। তাঁর মতে চিনি শরীরের অনেক ক্ষতি করে।
তিনি আরও বললেন, প্রতিদিন সকালে উঠে তিনি চা খান, আর সেই চায়ে একটা এলাচ দিয়ে দেন। এরপর সারাদিন মিষ্টিজাতীয় কিছুই খান না।
তার কথায় আত্মবিশ্বাস ছিল। তিনি বললেন, আগে তাঁর অনেক শারীরিক সমস্যা ছিল, প্রচুর ওষুধ খেতে হতো। কিন্তু চিনি-মিষ্টি বাদ দেওয়ার পর এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় একশো টাকার ওষুধ লাগতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় বারো টাকায়।
ভ্যান থামার আগে তিনি আবার বললেন, “তুমিও চিনি আর মিষ্টি পরিহার করে দেখো, ভালো থাকবে। আমাকে মনে রেখো এই কথা।”
আমি চুপচাপ শুনছিলাম। তাঁর কথাগুলো ভ্যানের শব্দের ভেতরেও যেন অনেকক্ষণ কানে বাজছিল।
৪
৪ মন্তব্য