সহকারী অধ্যাপক
১৭ জুন, ২০২৬ ০৫:২৩ অপরাহ্ণ
চাহিদা যখন সামর্থ্যের বাইরে মোঃ মুজিবুর রহমান
চাহিদা যখন সামর্থ্যের বাইরে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
চাহিদা যখন ডানা মেলে আকাশ ছুঁতে চায়,
সামর্থ্য তখন মাটির বুকে ক্লান্ত হয়ে যায়।
স্বপ্নগুলো দূর দিগন্তে আলো হয়ে জ্বলে,
পৌঁছাতে চাই, তবু কেন পথ হারাই চলতে চলতে?
হৃদয় তখন দীর্ঘশ্বাসে ভরে ওঠে নীরব,
অপূর্ণতার ব্যথা যেন করে অন্তর ক্ষর।
চারপাশে সব মানুষ যেন এগিয়ে চলে দূর,
নিজের পথে কাঁটা দেখি, দেখি আঁধার ঘোর।
মনে হয় সব বন্ধ দুয়ার, নেই কোনো উপায়,
যতই চাই, ততই দেখি সীমাবদ্ধতা হায়।
তখন চোখে জমে আসে অশ্রুর নীরব বান,
তখন প্রাণে জেগে ওঠে এক গভীর আহ্বান—
"হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
আর পারছি না আমি, রাখো আমার মান।"
মানুষ জন্ম নেয় বুকে হাজার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে,
ভবিষ্যতের সোনার ছবি হৃদয়জুড়ে দিয়ে।
চায় সে শিক্ষা, চায় সে সুখ, চায় সম্মানের আলো,
চায় পরিবার নিরাপদ হোক, থাকুক ভালো ভালো।
চায় যে শিশু বই হাতে নিক জ্ঞানের অমৃতধারা,
চায় যে পিতা সন্তানের মুখে দেখুক সুখের তারা।
চায় যে মাতা সংসারভরা হাসির কলতান,
চায় যে তরুণ গড়বে একদিন নিজের পরিচয় মহান।
চাহিদা তাই দোষের কিছু নয় কোনো কালে,
চাহিদা মানুষকে এগোয় নতুন দিনের ডাকে।
কিন্তু যখন সীমার বাইরে বাড়ে তার বিস্তার,
তখন শুরু হয় হৃদয়ের গভীর অস্থিরতার।
সবাই চাইলেই সবকিছু কি পায় এ পৃথিবীতে?
সব ফুল কি ফোটে শেষে বসন্তেরই গীতে?
সব নদী কি সাগর পায় অবাধ গতিতে?
সব মানুষ কি সফল হয় নিজের ইচ্ছামতো রীতিতে?
কখনো অর্থ কম থাকে, কখনো সুযোগ কম,
কখনো পথে ঝড় আসে, কখনো থামে গতি একদম।
কখনো অসুখ, কখনো ক্ষতি, কখনো ব্যর্থতা,
কখনো জীবন শেখায় কঠিন বাস্তবতা।
তখন মানুষ বুঝতে শেখে সীমারেখার মানে,
কতটুকু তার সাধ্য আছে সময়ের বিধানে।
যে সীমা জেনে এগোয় ধীরে, সে-ই পায় জয়ের দিশা,
যে সীমা ভুলে ছুটতে থাকে, বাড়ে শুধু হতাশা।
চাহিদা যখন সামর্থ্য ছাড়ায় বহুদূর,
মনে নামে নীরব রাতে অশান্তির সুর।
ঘুমের ভেতর চিন্তার ঢেউ আঘাত হানে বারবার,
মনে হয় বুঝি শেষ হয়ে গেল সব পথের অধিকার।
নিজেকে তখন ছোট লাগে, ক্ষুদ্র লাগে প্রাণ,
ভবিষ্যতের আকাশজুড়ে জমে অন্ধ মেঘের গান।
মুখে হাসি থাকলেও অন্তর থাকে ভার,
কেউ বুঝে না বুকের মাঝে কত ঝড়ের ভার।
কিন্তু বন্ধু, এই সময়েই সবচেয়ে বড় ভুল,
নিজেকে হারিয়ে ফেলা, ভেঙে পড়া, হওয়া ব্যাকুল।
কারণ রাত যতই গভীর হোক, শেষ তো হবে একদিন,
আঁধারেরও শেষ আছে, আসবেই নতুন দিন।
ধৈর্য মানে বসে থাকা নয় হাত গুটিয়ে চুপ,
ধৈর্য মানে ঝড়ের মাঝেও রাখা দৃঢ় রূপ।
ধৈর্য মানে ভাঙা মনকে আবার গড়ে তোলা,
অশ্রু মুছে নতুন করে পথের দিকে চলা।
যে কৃষক বীজ বোনে মাঠে আশার প্রদীপ জ্বেলে,
সে কি জানে না খরা এসে ক্ষতি করতে পারে ফলে?
তবু সে বপন করে যায় বিশ্বাস নিয়ে প্রাণে,
ফসল একদিন আসবেই তার শ্রমেরই সম্মানে।
তেমনি মানুষ ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে শেষে,
হতাশার মেঘ সরে গিয়ে সূর্য ওঠে হেসে।
যে ধৈর্য রাখে প্রতিকূলে, সাহস ধরে রাখে,
সাফল্য এসে তারই কপাল আলোকময় আঁকে।
যখন কোনো পথ না দেখি চারপাশের ভিড়ে,
যখন মনে হয় ডুবে যাব দুঃখের গভীর নীড়ে,
তখন দু’হাত তুলে বলি অশ্রুসজল প্রাণে—
"হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
তোমার দয়ার বাইরে নেই কোনো স্থান।"
তুমি জানো আমার দুঃখ, জানো মনের কথা,
তুমি জানো কোন পরীক্ষায় জর্জরিত এ ব্যথা।
যা পারি না আমি বইতে, তুমি দাও সে বল,
তোমার করুণাধারায় ধুয়ে যাক সব ছল।
প্রার্থনা শুধু শব্দ নয়, আশার এক আলো,
যা মানুষকে দাঁড় করায় আবার ভালো ভালো।
যে হৃদয় রবের দিকে ফিরে আসে বারবার,
সে হৃদয় কখনো হয় না সম্পূর্ণ পরাজয়ভার।
সাহায্য চাই আল্লাহর কাছে, তবু করব কাজ,
শুধু চাওয়া নয়, প্রয়াসেও গড়ব নিজের আজ।
যা আছে হাতে, তাই দিয়ে শুরু হবে পথ,
ছোট পদক্ষেপও একদিন গড়ে দেয় মহারথ।
আজ যদি না পারি আমি স্বপ্নের সবটুকু,
আজকের সাধ্য অনুযায়ী করব যতটুকু।
একটি ধাপ, আরেকটি ধাপ, এগোব ধীরে ধীরে,
অসীম পথও শেষ হয় একদিন চলতে ফিরতে।
যে নিজের শক্তি খুঁজে পায় প্রতিকূলতার মাঝে,
সে-ই পারে ইতিহাস গড়তে সময়েরই সাজে।
আত্মবিশ্বাস দীপের মতো জ্বালাও অন্তরে,
অন্ধকারও হার মানিবে আলোরই সমরে।
সব বোঝা একা বহন করা সহজ নয় কখনো,
কষ্ট হলে বলো কথা আপনজনের সনে।
বন্ধুর কাছে, পরিবারের কাছে, শুভাকাঙ্ক্ষীর দ্বারে,
সহমর্মিতার হাত বাড়াও বিশ্বাসভরা সুরে।
মানুষ মানুষের জন্য—এ চিরন্তন বাণী,
ভালোবাসা ভাগ করলে কমে হৃদয়ের হানি।
একটি কথা, একটি সান্ত্বনা, একটি মমতা ভরা হাত,
ফিরিয়ে দিতে পারে মানুষকে নতুন জীবনের প্রভাত।
জীবনের সব চাওয়া কি পূর্ণ হবে ঠিক?
হয়তো না, তবু চলতে হবে আশার দিশা দিক।
যা পাইনি, তা নিয়ে নয় অনন্ত হাহাকার,
যা পেয়েছি, তার জন্যও থাক কৃতজ্ঞতার হার।
প্রতিটি দিন নতুন সুযোগ, নতুন সম্ভাবনা,
প্রতিটি ভোর মনে আনে আলোরই ঘোষণা।
চাহিদা থাকবে, সীমাও থাকবে জীবনেরই সাথে,
জ্ঞানী সে-ই, যে ভারসাম্য রাখে প্রতিটি প্রাতে।
চাহিদা যখন সামর্থ্যের বাইরে দূরে যায়,
হতাশার কালো মেঘে ঢেকে আসে হায়।
তবু আমি হার মানব না দুঃখের অন্ধকারে,
আশার প্রদীপ জ্বালব আমি বিশ্বাসেরই দ্বারে।
ধৈর্য হবে পথের সাথি, সাহস হবে ঢাল,
প্রচেষ্টা হবে প্রতিদিনের অমূল্য পাথেয়কাল।
প্রার্থনায় রাখব হৃদয়, কর্মে রাখব প্রাণ,
এভাবেই মিলবে একদিন কাঙ্ক্ষিত সমাধান।
তাই আজও ডাকি বিনয়ের সুরে, অশ্রুভেজা টানে—
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
যেখানে থামে মানুষের শক্তি,
সেখানে শুরু তোমার দান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
ভেঙে যাওয়া হৃদয় জুড়ে
জাগাও নতুন প্রাণ।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
চাহিদা আর সামর্থ্যের মাঝে
দাও প্রজ্ঞার সেতুবন্ধন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
ধৈর্য, সাহস, কৃতজ্ঞতায়
করো জীবন মহীয়ান।
***
চাহিদা সব পূরণ হবে—এ নয় জীবনের রীতি,
অপূর্ণতার মাঝেও লুকায় জ্ঞানের মহাগীতি।
যা পাইনি তার আক্ষেপে যদি কাটে সারাক্ষণ,
তবে হারায় বর্তমানের আশীর্বাদের স্পন্দন।
যে দেখে শুধু অভাবখানি, দুঃখ তারই বাড়ে,
যে দেখে প্রাপ্তির সৌন্দর্য, সুখ আসে তার দ্বারে।
এক ফোঁটা জলের মূল্য বোঝে মরুর পথিক প্রাণ,
একটি ছায়ার শীতলতা জানে রৌদ্রদগ্ধ প্রাণ।
প্রজ্ঞা শেখায়—সবকিছুই নয় মানুষের হাতে,
কিছু বিষয় সময় গড়ে অদৃশ্য বিধানমতে।
যা আজ কঠিন, কাল তা হয় সহজ পথের দিশা,
যা আজ বেদনা, কাল তা হয় জীবনের শিক্ষা।
তাই চাওয়ার সাথে শেখো বন্ধু কৃতজ্ঞ হতে সদা,
কৃতজ্ঞতার দীপ জ্বালালে দূর হয় মনের ব্যথা।
যে হৃদয়ে সন্তোষ থাকে, সে-ই প্রকৃত ধনী,
সামান্যের মাঝেও খুঁজে পায় অফুরন্ত রত্নখনি।
ঝড় যখন আসে জীবনে, কাঁপে চারিধার,
মনে হয় বুঝি শেষ হয়ে গেল সকল অধিকার।
নৌকা তখন দুলতে থাকে উত্তাল ঢেউয়ের বুকে,
আশার প্রদীপ টিমটিম করে অন্ধকারের মুখে।
কিন্তু ঝড় কি চিরদিন রয় আকাশ জুড়ে ভাসি?
বর্ষণ শেষে ফুটে ওঠে রঙিন রোদের হাসি।
রাত্রি শেষে যেমন আসে প্রভাতেরই গান,
দুঃখ শেষে তেমনি আসে স্বস্তির অবদান।
যে হার মানে না প্রতিকূলে, ধরে রাখে হাল,
ভাগ্য তারই খুলে যায় একদিন অবিচল।
শত ব্যর্থতা পেরিয়ে যারা এগোয় দৃঢ় পায়ে,
সফলতার ইতিহাসই লেখা থাকে তায়।
মানুষ চেষ্টা করে শুধু, ফলের মালিক নন,
ফল নির্ধারণ করেন যিনি, তিনি মহান স্রষ্টাগণ।
তাঁরই হাতে জীবনের সব অদৃশ্য আয়োজন,
তাঁরই ইচ্ছায় প্রসারিত হয় আশার আকাশপথ।
তাই যখন পথ হারিয়ে যায় ক্লান্ত মন-প্রাণ,
তখন বলি বিনম্র সুরে আকুল আবেদন—
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
দাও না শুধু চাহিদাপূরণ,
দাও প্রজ্ঞার জ্ঞান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
দাও না শুধু সম্পদের ভাণ্ডার,
দাও সন্তুষ্ট প্রাণ।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
দুঃখের মাঝেও দেখতে শিখাও
তোমার অশেষ দান।
তুমি জানো কোনটি মঙ্গল, কোনটি অমঙ্গল,
তোমার সিদ্ধান্তেই লুকায় কল্যাণেরই ফল।
আমি শুধু চেষ্টা করব সততা আর সাধনায়,
তুমি রেখো পথ দেখিয়ে তোমার রহমতায়।
চাহিদা থাকবে মানুষের, থাকবে সীমারেখা,
থাকবে কিছু অপূর্ণতা, কিছু অশ্রুর লেখা।
তবু জীবন থেমে থাকে না ব্যর্থতার ভারে,
নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয় আবার অন্তরদ্বারে।
ধৈর্য হবে নক্ষত্র আমার অন্ধকারের রাতে,
সাহস হবে অটল সাথি প্রতিকূল প্রভাতে।
কর্ম হবে জীবনের পথ, প্রার্থনা হবে প্রাণ,
মানবতার কল্যাণে হবে প্রতিটি অভিযান।
যদি কখনো ভেঙে পড়ে মন ক্লান্ত অবসাদে,
মনে রেখো—আশার আলো নিভে না কোনো বাধে।
যেখানে মানুষ থেমে যায় সীমাবদ্ধ শক্তিহীন,
সেখানেও রহমতের দুয়ার রাখেন রবুল আলামিন।
তাই আজও, আগামীকালও, জীবনের অন্তিম ক্ষণ,
হৃদয়ভরা বিশ্বাস নিয়ে করি এই নিবেদন—
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
চাহিদা ও সামর্থ্যের মাঝে
দাও প্রজ্ঞার সেতুবন্ধন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
হতাশাকে রূপ দাও তুমি
নতুন দিনের আহ্বান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, সাহস, কর্মে
করো জীবন মহীয়ান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
গড়তে পারে সুন্দর ভুবন।**
***
সন্তুষ্টির সোনালি তীর
চাহিদার নেই কোনো শেষ, নেই কোনো সীমানা,
একটি পূরণ হতেই জাগে আরেক নতুন বাসনা।
সাগরের জল যতই বাড়ে নদীর প্রবাহ পেয়ে,
তৃষ্ণার মতো চাহিদাও বাড়ে নতুন রূপ নিয়ে।
ধন চাই, মান চাই, চাই সুখের আয়োজন,
চাই নিরাপদ আগামী, চাই সাফল্যের সম্ভাবন।
চাওয়া মানবজীবনের স্বাভাবিক এক সুর,
তবু অতৃপ্ত বাসনা হলে বাড়ে অশান্তি ভরপুর।
যে মানুষ সন্তোষ শেখে সামান্যের মাঝখানে,
সে খুঁজে পায় স্বর্গীয় সুখ জীবনের প্রতিটা টানে।
যে দেখে শুধু অভাবখানি, সে কাঁদে দিনরাত,
যে দেখে প্রাপ্তির সৌন্দর্য, তার জীবন জুড়ে প্রভাত।
এক মুঠো ভাতের মূল্য জানে ক্ষুধার্ত মানুষের প্রাণ,
এক ফোঁটা জলের মর্যাদা বোঝে মরুর পথিক মহান।
একটি ছাদের শান্তি জানে ঝড়ে ভাঙা ঘর,
একটি হাসির দীপ্তি জানে অশ্রুভেজা অন্তর।
সন্তুষ্টি মানে থেমে যাওয়া নয় কোনোদিন,
সন্তুষ্টি মানে কৃতজ্ঞ থাকা প্রতিটি প্রাপ্তিদিন।
চেষ্টা থাকবে, স্বপ্ন থাকবে, থাকবে উন্নতির গান,
তবু হৃদয়ে থাকবে সদা শুকরিয়ার সম্মান।
তাই হে মানুষ, চাওয়ার সাথে শেখো কৃতজ্ঞতা,
এই শিক্ষা দূর করবে বহু দুঃখ-বিপদ-ব্যথা।
সামর্থ্যের মাঝে সুখ খুঁজে যে করে জীবনযাপন,
তার হৃদয়ে নেমে আসে প্রশান্তিরই স্পন্দন।
রাত্রি যত দীর্ঘ হোক, শেষ তো হবে একদিন,
আঁধারের বুক চিরে আসে সূর্যের রঙিন দিন।
শীতের পরে বসন্ত আসে ফুলের সুবাস নিয়ে,
ঝড়ের পরে নৌকা ভেড়ে নিরাপদের তীরে গিয়ে।
জীবনও তেমনি চলমান এক আশ্চর্য অভিযান,
কখনো বেদনা, কখনো হাসি, কখনো অশ্রুদান।
কখনো পথ হারিয়ে যায় কুয়াশারই ঘোরে,
কখনো আবার দিশা মেলে আলোর মধুর ভোরে।
যে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ায়, সেই প্রকৃত বীর,
যে অন্ধকারে আলো জ্বালে, সেই সত্য ধীর।
যে হতাশার দেয়াল ভেঙে এগোয় সাহস নিয়ে,
সাফল্যের ইতিহাস তারই লেখা থাকে দিয়ে।
তাই যদি আজ ক্লান্ত হও, ভেঙে যেও না বন্ধু,
দুঃখের রাত পেরিয়ে আসবে নতুন প্রভাত সুন্দর।
হৃদয় ভরে ডাকো তখন সৃষ্টিকর্তার নাম,
তাঁরই দয়ায় প্রশান্ত হবে ব্যথাভরা অবসান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
যেখানে হারায় পথের দিশা,
সেখানে দাও জ্ঞানের দান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
যেখানে জমে দুঃখের মেঘ,
সেখানে দাও আশার গান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
চাহিদা ও সামর্থ্যের মাঝে
দাও ভারসাম্যের জ্ঞান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, কর্ম ও প্রেমে
করো মানবজীবন মহান।
চাহিদা থাকবে, থাকবে সীমা, থাকবে কিছু ব্যথা,
তবু সেখানেই লুকিয়ে থাকে জীবনের মহাকথা।
অপূর্ণতার মাঝেই মানুষ শেখে নতুন করে,
কীভাবে আলো জ্বালতে হয় অন্ধকারের ঘরে।
ধৈর্য হবে জীবনপথের অবিচল সহচর,
সাহস হবে অন্তরজুড়ে দীপ্ত সূর্যকর।
কর্ম হবে শ্রেষ্ঠ উপাসনা, প্রার্থনা হবে প্রাণ,
মানবতার সেবায় গড়ব জীবনের সম্মান।
যতদিন প্রাণ, ততদিন স্বপ্ন, ততদিন অভিযান,
ততদিন রবের রহমতে জাগবে আশার গান।
তাই শেষেও উচ্চারিত হোক সেই চিরন্তন বাণী—
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
পারি না যখন নিজের শক্তিতে,
তুমি হও অবলম্বন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
হতাশাকে রূপ দাও তুমি
আলোকিত সম্ভাবনায়।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
চাহিদা আর সামর্থ্যের মাঝে
দাও সন্তুষ্টির জ্ঞান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
গড়ে তোলে শান্তির ভুবন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
এই জীবন হোক কল্যাণময়,
এই পৃথিবী হোক মানবতার উদ্যান।
***
জীবন মানেই সবসময় নয় হাসির রঙিন দিন,
জীবন মানেই কখনো কখনো দীর্ঘ বেদনার ঋণ।
কখনো আশা ভেঙে যায় অকাল ঝড়ের ঘাতে,
কখনো স্বপ্ন হারিয়ে যায় বাস্তবতার রাতে।
যে পথ ভেবেছিলাম ফুলে ফুলে ভরা,
সেই পথে দেখি হঠাৎ কাঁটারই পাহারা।
যে দ্বার খুলবে ভেবে দাঁড়িয়েছি কতকাল,
সেই দ্বারই রয়ে গেছে বন্ধ অবিচল।
তখন মনে প্রশ্ন জাগে—কেন এ প্রতীক্ষা?
কেন এত ব্যর্থতার ভার, কেন এত পরীক্ষা?
কেন চাহিদার সাগর জাগে অন্তরের তীরে,
সামর্থ্যের নৌকা কেন হারায় মাঝপথ ঘিরে?
কিন্তু তখনই অন্তর বলে নীরব মধুর সুরে,
"পরীক্ষা ছাড়া মানুষ কি পৌঁছায় গন্তব্যপুরে?"
স্বর্ণ যেমন আগুন পেরিয়ে পায় নির্মল রূপ,
তেমনি মানুষ পরীক্ষাতে পায় মহত্ত্বের রূপ।
দুঃখ যদি না আসত কভু জীবনেরই দ্বারে,
ধৈর্যের শিক্ষা মিলত কি আর প্রতিকূলতার পারে?
ব্যর্থতা যদি না থাকত কোনো সংগ্রামের পথ,
সাফল্যের দীপ্তিমাখা মূল্য বুঝত কে বা তত?
তাই যে কাঁদে, সে-ই একদিন হাসির মানে জানে,
যে হারায়, সে-ই প্রাপ্তির মহিমা খুঁজে পায় প্রাণে।
যে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ায় শত প্রতিকূলতায়,
তারই নাম ইতিহাস লেখে সময়ের মহিমায়।
একাকী গভীর রাত্রিবেলা যখন ঘুমায় বিশ্ব,
জেগে থাকে মানুষের মনে প্রশ্নের অগণিত দৃশ্য।
নীরব ঘরে নিভু আলো, জানালায় চাঁদের হাসি,
তবু অন্তর জুড়ে কেন অশান্তির উদাস ভাসি?
তখন মানুষ নিজের সাথে করে নীরব কথা,
খুঁজে ফেরে জীবনের সব অজানা ব্যথা।
কোথায় ছিল ভুল আমার, কোথায় ছিল ত্রুটি?
কোন মোড়ে হারিয়ে ফেলেছি সম্ভাবনার স্মৃতি?
আত্মসমালোচনা যদি হয় সত্যের আলোকে,
মানুষ তখন নতুন শক্তি খুঁজে পায় নিজ বুকে।
নিজেকে জানা সবচেয়ে বড় জ্ঞানের প্রথম ধাপ,
এই জ্ঞানে মুছে যায় বহু হতাশার অভিশাপ।
যে নিজের সীমা জানে, জানে নিজের শক্তি,
সে-ই পারে জীবনের পথে গড়তে সঠিক ভক্তি।
সে জানে—সব কিছু পাওয়া জীবনের লক্ষ্য নয়,
মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় সাফলয়ের পরিচয়।
যা পাইনি তা নিয়েই যদি কাটে জীবনভর,
তবে অদেখাই থেকে যাবে আশীর্বাদের ঘর।
আকাশভরা সূর্য আলো, বাতাসভরা প্রাণ,
এসব কি কম পেয়েছি আমরা করুণাময়ের দান?
চোখ আছে তাই দেখি আমি পৃথিবীর সৌন্দর্য,
কান আছে তাই শুনি সুর, পাই জীবনের ঐশ্বর্য।
হাঁটতে পারি, বলতে পারি, ভাবতে পারি মুক্ত,
এ-সবই তো অসংখ্য দানের অমূল্য সংযুক্ত।
কৃতজ্ঞ হৃদয় দুঃখেও খুঁজে পায় আশার আলো,
অভাবের মাঝেও সে দেখে কত কিছু ভালো।
যে বলে—"আলহামদুলিল্লাহ, যা আছে তাতেই সুখ",
প্রশান্তির ফুল ফোটে তার হৃদয়েরই মুখ।
কৃতজ্ঞতা কোনো দুর্বলতা নয়, নয় থেমে থাকা,
কৃতজ্ঞতা মানে প্রাপ্তির মর্যাদা বুঝে রাখা।
চেষ্টা থাকবে, উন্নতি থাকবে, থাকবে স্বপ্নগান,
তবু থাকবে কৃতজ্ঞতার বিনম্র সম্মান।
যখন নিজের কষ্ট দেখি, মনে হয় ভারী ভার,
কিন্তু চারপাশে তাকালে দেখি আরও কত হাহাকার।
কেউ হারিয়েছে আপনজন, কেউ হারিয়েছে ঘর,
কেউ লড়ছে রোগের সাথে দিনের পর দিন পর।
তখন বুঝি—আমার দুঃখ একা নয় পৃথিবীতে,
মানুষ বাঁচে মানুষেরই সহমর্মিতার নীতিতে।
একটি হাসি, একটি কথা, একটি সাহায্যের হাত,
অন্ধকারে জ্বালিয়ে দিতে পারে আশার প্রভাত।
যে নিজের বেদনা ভুলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়,
আল্লাহ তার অন্তরজুড়ে প্রশান্তির ফুল ফোটায়।
মানবসেবার পথ ধরেই মানুষ হয় মহান,
মানুষের কল্যাণে জাগে জীবনের সত্য জ্ঞান।
চাহিদা থাকবে মানুষের, থাকবে সীমারেখা,
থাকবে কিছু অপূর্ণতার অশ্রুভেজা লেখা।
তবু সেখানেই থেমে থাকা জীবনের ধর্ম নয়,
সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ পায় সত্য জয়।
ধৈর্য হবে জীবনপথের দীপ্ত আলোকস্তম্ভ,
সাহস হবে অন্তরজুড়ে অটল দৃঢ় গম্ভীর।
কর্ম হবে প্রতিদিনের শ্রেষ্ঠ উপাসনা,
প্রার্থনা হবে হৃদয়জোড়া শান্তির ঠিকানা।
যখন মনে হবে—"পারছি না আর",
চারিদিকে শুধু অন্ধকার,
তখনও যেন নিভে না যায়
বিশ্বাসের দীপধার।
কারণ—
যেখানে থামে মানুষের সাধ্য,
সেখানেই শুরু হয় রহমত।
যেখানে শেষ হয় হিসাবের পথ,
সেখানেই খুলে যায় করুণার জানালা।
তাই আজও বলি, আগামীকালও বলব,
জীবনের শেষ প্রহর পর্যন্ত বলব—
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
দাও না শুধু চাহিদাপূরণ,
দাও ধৈর্যের অফুরান জ্ঞান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
অশ্রুকে রূপ দাও প্রজ্ঞায়,
হতাশাকে রূপ দাও সম্ভাবনায়।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
চাহিদা আর সামর্থ্যের মাঝে
দাও ভারসাম্যের সেতুবন্ধন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
কৃতজ্ঞতা, সাহস, কর্ম ও প্রেমে
করো মানবজীবন মহীয়ান।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
গড়ে তোলে ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের ভুবন।
হে আল্লাহ! দাও তুমি সমাধান—
যাতে অপূর্ণতার মধ্যেও
আমরা খুঁজে পাই তোমার অশেষ অনুগ্রহের আলো।
৫৩
৯২ মন্তব্য