Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

জমজম তাওহিদের স্মৃতিস্তম্ভ। - মোঃ মুজিবুর রহমান



জমজম তাওহিদের স্মৃতিস্তম্ভ।

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মরুর বুকে দিগন্তজোড়া বালুরাশি,
নেই কোনো নদী, নেই সবুজের আভাস;
প্রখর রৌদ্রের আগুনঝরা নিশ্বাসে
কাঁপে নিস্তব্ধ পৃথিবীর বুক।

সেই নির্জন ভূমি আজ
মানবতার হৃদয়ের কেন্দ্র,
কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনার দিশা,
তাওহিদের মহান স্মৃতিস্তম্ভ।

সেখানে আছে এক কূপ
ছোট্ট অথচ মহিমান্বিত,
নিঃশব্দ অথচ যুগান্তকারী,
যার নাম জমজম।

শুধু পানির উৎ নয়,
ইতিহাসের জীবন্ত দলিল;
শুধু কূপ নয়,
মহান আল্লাহর কুদরত রহমতের
চিরন্তন এক নিদর্শন।

হযরত ইবরাহিম (.),
আল্লাহর প্রিয় বন্ধু,
আনুগত্যের উজ্জ্বল প্রতীক,
সত্যের অবিচল পথিক।

একদিন এলো কঠিন নির্দেশ
স্ত্রী হাজেরা শিশু ইসমাইলকে
নিয়ে যেতে হবে এমন এক উপত্যকায়,
যেখানে নেই জনপদ,
নেই কৃষিক্ষেত,
নেই পানির ধারা।

চারদিকে শুধু বালু আর বালু,
নীরবতার দীর্ঘ বিস্তার,
মানুষের পদচিহ্নহীন এক প্রান্তর।

ইবরাহিম (.) থামলেন,
রেখে দিলেন স্ত্রী সন্তানকে,
সঙ্গে অল্প কিছু খাদ্য পানি।

হাজেরা (.) বিস্ময়ে জিজ্ঞাসিলেন,
আমাদের নির্জন স্থানে রেখে
আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”

উত্তর এল না।

আবার প্রশ্ন করলেন তিনি,
কি আল্লাহর নির্দেশ?”

ইবরাহিম (.) মাথা নত করে বললেন,
হ্যাঁ, এটি আমার রবের আদেশ।

তখন দৃঢ় ঈমানের ভাষায়
হাজেরা (.) বললেন,

তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ
আমাদের ধ্বংস করবেন না।

কী অপূর্ব বিশ্বাস!
কী অনন্য আত্মসমর্পণ!

দিন গড়াল,
খাদ্য ফুরাল,
পানি শেষ হলো।

তপ্ত মরুর বুকে
শিশু ইসমাইল (.) তৃষ্ণায় কাঁদছে,
শুকিয়ে যাচ্ছে কোমল অধর,
অস্থির হয়ে উঠছে ছোট্ট দেহ।

মায়ের হৃদয় তো
সন্তানের কান্না সহ্য করতে পারে না।

হাজেরা (.) ছুটলেন
সাফা পাহাড়ের দিকে।

দূর থেকে দেখলেন
কোথাও কি পানি আছে?

না,
শুধু মরীচিকার প্রতারণা।

তিনি আবার দৌড়ালেন
মারওয়া পাহাড়ের দিকে।

সেখানে গিয়েও
পেলেন না কোনো ঝর্ণা,
পেলেন না কোনো কাফেলা।

আবার সাফা,
আবার মারওয়া।

একবার নয়,
দুইবার নয়,
সাতবার ছুটলেন তিনি।

ছিল শুধু দৌড় নয়,
ছিল মায়ের ভালোবাসার মহাকাব্য;
ছিল বিশ্বাসের পরীক্ষা,
ধৈর্যের দীপ্ত উদাহরণ।

যখন মানবীয় সব চেষ্টা
শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়াল,
তখন নেমে এলো
রবের অসীম রহমত।

আল্লাহ পাঠালেন
ফেরেশতা জিবরাইল (.)-কে।

শিশু ইসমাইল (.)-এর নিকটে
আল্লাহর নির্দেশে
উদ্গত হলো এক বিস্ময়কর পানিধারা।

শুষ্ক মাটি ভেদ করে
ফুটে উঠল স্বচ্ছ জল।

হাজেরা (.) ছুটে এলেন,
আনন্দে অভিভূত হলেন।

তিনি বলতে লাগলেন,
জম! জম!
অর্থাৎ,
থামো! থামো!

যেন পানি চারদিকে
ছড়িয়ে না পড়ে।

সেই আহ্বানের স্মৃতি বুকে নিয়ে
চিরকালের জন্য
এর নাম হলো
জমজম।

এক ফোঁটা পানি
কখনও কখনও
একটি সভ্যতার সূচনা করে।

জমজমের পানি ঘিরে
ধীরে ধীরে মানুষের বসতি গড়ে উঠল।

আসতে লাগল কাফেলা,
স্থাপিত হলো জনপদ,
জন্ম নিল ইতিহাসের
এক মহান নগরী

যেখানে পরবর্তীতে নির্মিত হলো
পৃথিবীর প্রাচীনতম ইবাদতগৃহ।

জমজম হয়ে উঠল
তাওহিদের ইতিহাসের
এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শতাব্দী পেরিয়ে গেল,
সহস্রাব্দ অতিক্রম করল।

রাজা বদলেছে,
সাম্রাজ্য বদলেছে,
সভ্যতা বদলেছে,
মানুষের জীবনধারা বদলেছে।

কিন্তু জমজম রয়ে গেছে
তার আপন মহিমায়।

প্রখর গ্রীষ্ম এসেছে,
প্রবল খরা এসেছে,
অসংখ্য পরিবর্তনের ঢেউ এসেছে।

তবুও সে থামেনি।

সে যেন নীরবে বলে,
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন,
তিনিই আমার রক্ষণাবেক্ষণকারী।

আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ
তার পানি পান করে,
তবুও সে ফুরিয়ে যায় না।

জমজম কেবল পানির গল্প নয়,
বিশ্বাসের গল্প।

শেখায়
আল্লাহর উপর ভরসা কখনও বৃথা যায় না।

শেখায়
চেষ্টা করতে হয়,
তারপর ফলাফলের জন্য
রবের দিকে তাকাতে হয়।

হাজেরা (.) যদি বসে থাকতেন,
তবে সাফা-মারওয়ার দৌড়
মানবজাতির জন্য
চিরন্তন শিক্ষা হয়ে উঠত না।

চেষ্টা মানুষের কর্তব্য,
সাফল্য আল্লাহর দান।

এই সত্যই
জমজমের সবচেয়ে বড় বার্তা।

প্রতি বছর পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে
মানুষ আসে হজে।

বর্ণ, ভাষা, দেশ,
সংস্কৃতি পরিচয়ের ভিন্নতা ভুলে
এক কাতারে দাঁড়ায় সবাই।

কেউ আফ্রিকা থেকে,
কেউ এশিয়া থেকে,
কেউ ইউরোপ,
কেউ আমেরিকা থেকে।

সকলের হাতে
একই পাত্র,
সকলের চোখে
একই ভালোবাসা।

তারা পান করে জমজম,
স্মরণ করে হাজেরার ধৈর্য,
ইসমাইলের নিষ্পাপতা,
ইবরাহিমের আনুগত্য,
এবং আল্লাহর অসীম রহমত।

জমজম বলে

হতাশ হয়ো না,
যখন চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়।

নিরাশ হয়ো না,
যখন পথ বন্ধ মনে হয়।

কারণ আল্লাহর রহমত
মানব কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

যেখানে মানুষ
অসম্ভব দেখে,
সেখানে আল্লাহ
সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেন।

যেখানে মানুষ
শেষ দেখে,
সেখানে আল্লাহ
শুরু সৃষ্টি করেন।

আজও মরুর বুকে
স্বচ্ছ জলের ধারা বয়ে চলে।

আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে
আশার প্রদীপ জ্বালায়।

আজও সে সাক্ষ্য দেয়

মহান আল্লাহ
পরাক্রমশালী,
মহাপ্রজ্ঞাময়,
অসীম দয়ালু।

জমজম কূপ তাই
শুধু ইতিহাস নয়,
শুধু একটি পানির উৎ নয়,
শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন নয়।

বিশ্বাসের নদী,
ধৈর্যের প্রতীক,
রহমতের ঝর্ণা,
তাওহিদের আলোকস্তম্ভ।

যতদিন পৃথিবীতে
মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করবে,
ততদিন জমজমের নাম
শ্রদ্ধা ভালোবাসার সাথে
উচ্চারিত হবে।

আর মরুর বুক থেকে
অবিরাম ধ্বনিত হবে

আল্লাহই সর্বশক্তিমান,
আল্লাহই সর্বদয়,
আল্লাহই সকল রহমতের উৎস।

***

জমজম শুধু পানির ধারা নয়,
এক জীবন্ত ইতিহাস;
যুগে যুগে বহমান এক আহ্বান,
বিশ্বাসের অবিনাশী সুবাস।

মরুর বুকে যেখানে ছিল
নিঃসঙ্গতার দীর্ঘশ্বাস,
সেখানেই আজ ধ্বনিত হয়
আল্লাহু আকবারের উচ্ছ্বাস।

এক ফোঁটা জল থেকে শুরু,
এক মহাকাব্যের উন্মোচন;
এক শিশুর তৃষ্ণা মিটাতে
এসেছিল রহমতের স্পন্দন।

আজ সেই জল বহন করে
সহস্র বছরের স্মৃতি,
ইবরাহিমের আনুগত্য,
হাজেরার ধৈর্য,
ইসমাইলের পবিত্র গীতি।

পাহাড়, মরু, আকাশ, বাতাস,
সব যেন দেয় সাক্ষ্য,
এই বিশ্বজগতের প্রতিটি কণা
রবের কুদরতের লক্ষণ।

জমজম যেন নীরব ভাষায়
মানবতাকে বলে যায়
"
যে রব শূন্য মরুতে
জীবনের স্রোত বইয়ে দেন,
তিনি চাইলে অন্ধকার রাতেও
আলোর সূর্য উদয় করেন।"

বিজ্ঞান দেখে পানির ধারা,
ঈমান দেখে রহমত;
বিজ্ঞান খোঁজে উৎসের পথ,
ঈমান খুঁজে মহিমার সত্য।

যুগের পর যুগ উত্তোলিত হয়,
তবুও ফুরায় না এর প্রাণ;
অসংখ্য তৃষ্ণার্তের হাতে
পৌঁছে দেয় শীতল দান।

কত গবেষণা, কত বিস্ময়,
কত অনুসন্ধানের পালা;
তবুও জমজমের মহিমা ঘিরে
রয়ে গেছে রহস্যের জ্বালা।

কিন্তু মুমিন জানে
সকল রহস্যের অন্তরে রয়
এক মহাসত্যের দীপ্তি;
আল্লাহ যখন বলেন হও,
অসম্ভব তখন পায় সৃষ্টি।

জমজমের পাত্র হাতে
দাঁড়ায় ধনী দরিদ্র,
রাজা সাধারণ মানুষ,
বিদ্বান অশিক্ষিত।

এখানে নেই ভেদাভেদ,
নেই বংশের অহংকার;
একই জলের পেয়ালাতে
মিলে যায় মানবতার ধার।

কালো-সাদা, পূর্ব-পশ্চিম,
উত্তর কিংবা দক্ষিণ;
সবাই যেন একই পরিবারের
একই ভালোবাসার বন্ধন।

জমজম শেখায়
মানুষ মানুষের ভাই,
সকল মর্যাদার উৎ কেবল
আল্লাহভীতি আর সৎকর্মই।

যখন জীবন মরুভূমি হয়ে যায়,
চারপাশে ঘন অন্ধকার;
যখন সব পথ বন্ধ মনে হয়,
আর ভেঙে পড়ে মন-দুয়ার

তখন স্মরণ করো হাজেরাকে,
স্মরণ করো তাঁর ধৈর্য;
সাতবার দৌড়ের প্রতিটি পদক্ষেপ
ছিল আশার মহাবৈরাগ্য।

তিনি হার মানেননি,
তিনি থেমে যাননি;
তাঁর চেষ্টা আর প্রার্থনার মাঝে
রহমতের দুয়ার খুলেছিল তখনই।

জমজম তাই বলে
"
চেষ্টা করো, প্রার্থনা করো,
হতাশ হয়ো না কখনো;
রবের রহমত এমন স্থান থেকেও আসে,
যেখানে মানুষ কল্পনাও করে না।"

আজও জমজম বহমান,
আজও তার সুর অমলিন;
আজও সে গেয়ে চলে
রবের কুদরতের সংগীত।

সে বলে
বিশ্বাস হারিয়ো না,
ধৈর্য হারিয়ো না,
আল্লাহর রহমত থেকে
কখনো নিরাশ হয়ো না।

মরুর বুকে যে রব
এক শিশুর জন্য ঝর্ণা সৃষ্টি করেন,
তিনি আজও তাঁর বান্দাদের
দুঃখ মোচনের পথ দেখান।

জমজম তাই কেবল একটি কূপ নয়,
এক চিরন্তন শিক্ষা;
এক অমর সাক্ষ্য,
এক মহিমান্বিত দিশা।

যতদিন কাবা থাকবে,
যতদিন তাওহিদের ধ্বনি
পৃথিবীর বুকে প্রতিধ্বনিত হবে,
ততদিন জমজমের জলধারা
মানবতার হৃদয়ে বয়ে যাবে।

***

জমজম শুধু জলের ধারা নয়,
এক আসমানি বারতা;
যুগে যুগে বয়ে আনে
তাওহিদের পবিত্র বারিধারা।

এর প্রতিটি ফোঁটায় যেন
ঈমানের দীপ্ত আহ্বান,
প্রতিটি তরঙ্গে প্রতিফলিত
রবের অসীম অনুগ্রহের গান।

যখন মরুর উত্তপ্ত বুকে
জীবন হয়েছিল বিপন্ন,
তখনই আল্লাহ দেখালেন
রহমতের দ্বার অগণন।

শুষ্ক মাটির অন্তর হতে
উৎসারিত হলো যে স্রোত,
আজও সে বহন করে
আল্লাহর কুদরতের জ্যোতি।

হে মানুষ!
দেখো জমজমের ইতিহাস,
দেখো ধৈর্যের ফল;
দেখো বিশ্বাসের বিজয়,
দেখো রহমতের উজ্জ্বল জল।

হাজেরার দৌড় আজও শেখায়
কর্মহীন আশা নয়,
প্রচেষ্টা আর প্রার্থনার মিলনে
রহমতের দুয়ার খোলে নিশ্চয়।

যদি কথা বলতে পারত
জমজমের স্বচ্ছ ধারা,
তবে সে বলত

আমি দেখেছি ইবরাহিমকে,
আল্লাহর আদেশে অবিচল;
আমি দেখেছি হাজেরাকে,
ধৈর্যের দীপ্তিময় সম্বল।

আমি দেখেছি ইসমাইলকে,
তৃষ্ণার্ত শিশুর কান্না;
আমি দেখেছি আসমান হতে
নেমে আসা রহমতের সুধাধারা।

আমি দেখেছি যুগের পর যুগ
হাজিদের অশ্রুসিক্ত নয়ন,
আমি শুনেছি লক্ষ কণ্ঠে
লাব্বাইক ধ্বনির কম্পন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
আল্লাহ সত্য,
তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য;
তাঁর রহমত সীমাহীন,
তাঁর কুদরত অনন্ত।

যতদিন সূর্য উঠবে,
যতদিন চাঁদ আলো ছড়াবে,
যতদিন মানুষ আল্লাহর নাম নেবে,
ততদিন জমজম বয়ে যাবে।

কাবার পানে ধাবিত হৃদয়,
তাওয়াফরত অগণিত প্রাণ,
সাফা-মারওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে
জাগবে সেই পুরোনো গান।

জমজম বলবে
হে মানবজাতি!
তোমার রবকে ভুলে যেয়ো না;
দুঃখে, কষ্টে, সংকটে কখনো
তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

যে রব মরুভূমিতে
জীবনের ঝর্ণা প্রবাহিত করেন,
তিনি তোমার হৃদয়ের শুষ্কতাতেও
আশার ফুল ফুটিয়ে দেন।

জমজম
বিশ্বাসের দীপশিখা,
ধৈর্যের মহাকাব্য,
আনুগত্যের অমর প্রতীক,
রহমতের অফুরন্ত ঝর্ণা।

জমজম
হাজেরার অশ্রু,
ইসমাইলের তৃষ্ণা,
ইবরাহিমের আনুগত্য,
এবং আল্লাহর অসীম দয়ার
একত্রিত মহিমান্বিত ইতিহাস।

আজও সে প্রবাহিত,
আজও সে শিক্ষা দেয়,
আজও সে মানবতার কানে কানে বলে

রবের উপর ভরসা রাখো,
চেষ্টা করো, ধৈর্য ধরো,
কারণ আল্লাহর রহমত
মরুভূমিতেও ঝর্ণা সৃষ্টি করে।

সুবহানাল্লাহ!
আলহামদুলিল্লাহ!
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!
আল্লাহু আকবার!

***

হে জমজম!
তুমি মরুর বুকে ফুটে ওঠা
রহমতের অমলিন প্রস্রবণ,
তুমি তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর বুকে
আসমানি অনুগ্রহের স্পন্দন।

তুমি শুধু জল নও,
তুমি ইতিহাসের ভাষা;
তুমি শুধু কূপ নও,
তুমি বিশ্বাসের মহাকাব্য রচনা।

তোমার উৎসে জড়িয়ে আছে
হাজেরার অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা,
ইসমাইলের নিষ্পাপ কান্না,
ইবরাহিমের অবিচল আনুগত্য,
আর মহান রবের অসীম করুণা।

তুমি দেখেছো যুগের পর যুগ
মানুষের আগমন প্রস্থান,
রাজ্য সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন,
সভ্যতার পরিবর্তনের গান।

তবু তুমি বহমান,
তবু তুমি অক্ষয়,
তবু তুমি ঘোষণা করো
রহমতের ভাণ্ডার কখনো নিঃশেষ নয়।

তোমার প্রতিটি ফোঁটা যেন
তাওহিদের দীপ্ত শপথ,
তোমার প্রতিটি ঢেউ যেন
আল্লাহর মহিমার রথ।

হে জমজম!
তুমি শেখাও
সংকটের অন্ধকারে আশা হারাতে নেই,
প্রচেষ্টার পথ থেকে সরে যেতে নেই,
রবের রহমত থেকে নিরাশ হতে নেই।

কারণ যে রব
নির্জন মরুভূমিতে
জীবনের ঝর্ণা প্রবাহিত করেন,
তিনি মানুষের হৃদয়ের মরুতেও
ঈমানের ফুল ফুটিয়ে দেন।

তাই যুগে যুগে,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে,
বিশ্বাসী হৃদয়ের কণ্ঠে কণ্ঠে
ধ্বনিত হবে তোমার মহিমা

তুমি কুদরতের নিদর্শন,
তুমি রহমতের ঝর্ণাধারা,
তুমি তাওহিদের আলোকবর্তিকা,
তুমি ঈমানের চিরন্তন ধারা।

যতদিন কাবা থাকবে,
যতদিন হজের কাফেলা চলবে,
যতদিন মানুষ আল্লাহকে ডাকবে,
ততদিন তোমার নাম
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা বিস্ময়ে
উচ্চারিত হবে।

আর মানবতার ইতিহাসে
স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে

জমজম
মরুর বুকে মহান আল্লাহর
কুদরত, রহমত হিদায়াতের
চিরজাগ্রত, চিরপ্রবাহমান,
চিরন্তন অলৌকিক নিদর্শন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ