Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুন, ২০২৬ ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

কষ্টের সাথে সুখের অঙ্গীকার - মোঃ মুজিবুর রহমান

কষ্টের সাথে সুখের অঙ্গীকার

(সূরা আশ-শারহের মহিমান্বিত বাণীর আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

রাত্রি যতই গভীর হোক,
ভোরের সূর্য আসে;
মেঘে ঢাকা আকাশ জুড়ে
আলো আবার হাসে।

ঝড়ের বুকে দুলে দুলে
গাছ দাঁড়িয়ে রয়,
ধৈর্যের শেকড় গভীর হলে
হার মানে না কেউ কভু আর কোনো ক্ষয়।

মানুষের এই জীবনপথ
সুখ-দুঃখে গাঁথা,
হাসির সাথে অশ্রুর ধারা,
আলোর সাথে ব্যথা।

তবু রবের বাণী শুনে
জাগে নব প্রত্যয়
কষ্ট যদি আসে জীবনে,
সুখও আসবে নিশ্চয়।

পৃথিবী পরীক্ষার স্থান,
চিরস্থায়ী নয়;
আজকে যার চোখে অশ্রু,
কালকে তার জয়।

কখনো অভাব, কখনো বেদনা,
কখনো বিচ্ছেদ ক্ষণ,
কখনো ব্যর্থ স্বপ্ন নিয়ে
জাগে দীর্ঘ ক্রন্দন।

কেউ হারায় প্রিয়জন,
কেউ হারায় ধন,
কেউ বা খুঁজে পথের দিশা
অস্থির প্রতিক্ষণ।

কেউ সংগ্রামে ক্লান্ত হয়ে
থেমে যেতে চায়,
কেউ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকে
আলোর খোঁজে ধায়।

তখন আকাশ ভেদ করে
আসে রবের বাণী
হে মানুষ, হতাশ হয়ো না,
আমিই তোমার প্রাণী।

কষ্ট কখনো শত্রু নয়,
শিক্ষক হয়ে আসে,
ধৈর্যের মশাল জ্বালিয়ে দেয়
জীবনের আকাশে।

আগুনে পুড়ে সোনা যেমন
খাঁটি রূপে জ্বলে,
সংগ্রামেরই কঠিন ছোঁয়ায়
মানুষ পরিপূর্ণ ফলে।

নদী যেমন পাথর ভেঙে
নিজের পথ বানায়,
অদম্য প্রাণের মানুষও তেমনি
বাধা জয় করে যায়।

বীজকে আগে মাটির নিচে
অন্ধকারে রইতে হয়,
তারপরই সে চারাগাছে
সবুজ জীবনময়।

তাই যে দুঃখ আজকে তোমার
চোখে আনে জল,
সেই দুঃখই আগামী দিনে
সাফল্যের সম্বল।

রবের বাণী গভীর কত,
চিন্তা করলে বুঝি,
একই কষ্ট ফিরে আসে,
স্বস্তি আসে বহু পুঁজি।

একটি দুঃখ ক্ষণিক মেঘ,
স্বস্তি সূর্যের আলো,
একটি কাঁটা পথের মাঝে,
ফুলের বাগান ভালো।

একটি রাতের অন্ধকারে
হাজার তারা রয়,
একটি পরীক্ষার পরেই
অসংখ্য সফল জয়।

যে কষ্ট আজ হৃদয় ভাঙে,
সেই কষ্টই কাল
জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সাহস, ধৈর্য,
দেবে অমূল্য মাল।

তাই তো জ্ঞানীরা বলেছেন
হতাশ হয়ো না ভাই,
একটি কষ্ট কখনোই
দুই স্বস্তিকে হারায় নাই।

মক্কার পথে অপমান আর
নির্যাতনের ঢেউ,
তবু সত্যের পতাকাটি
নামিয়ে দেননি কেউ।

প্রিয় নবী ধৈর্য নিয়ে
সয়েছেন কত ব্যথা,
তবু তাঁর মুখে ছিল
বিশ্বাসভরা কথা।

অন্ধকারের দিন পেরিয়ে
এসেছে শুভকাল,
সত্যের আলো ছড়িয়ে গেছে
পৃথিবীময় জাল।

আজও তাঁর সেই জীবনী
মানবতার দিশা,
কষ্ট পেরিয়ে জয় আসে
এটাই চিরনিশা।

পরীক্ষাতে ব্যর্থ হলে
ভেঙে পড়ো না আর,
অধ্যবসায় নতুন করে
খুলে দেবে দ্বার।

কঠিন অঙ্ক, জটিল পাঠ,
অসহজ যে জ্ঞান,
চেষ্টা করলে একদিন তা
হবে সহজ প্রাণ।

যে ছাত্র আজ সংগ্রাম করে
রাত্রি জেগে পড়ে,
আগামীর সে আলোকবর্তিকা
সমাজজুড়ে ঝরে।

ঘামের বিন্দু মাটিতে পড়ে
ফসল হয়ে ওঠে,
পরিশ্রমের প্রতিটি ক্ষণ
সাফল্যেরই পথে।

কারখানাতে, মাঠে-ঘাটে,
অফিস কিংবা দোকান,
শ্রমের মাঝে লুকিয়ে থাকে
উন্নতিরই গান।

আজকের কষ্ট আগামীতে
হাসির ফুল ফোটায়,
পরিশ্রমী মানুষেরই নাম
ইতিহাসে জ্বলে যায়।

ধৈর্য হলো শক্তির ভাণ্ডার,
বিশ্বাস তার ডানা,
ধৈর্য ধরে চলতে পারলে
দূর হয় সব মানা।

অস্থিরতা ঝড়ের মতো,
সবকিছু করে ক্ষয়,
ধৈর্য হলো পাহাড়সম,
অটল থাকে সদাই।

যে ধৈর্য শেখে জীবনে,
সে জয় করে ভয়,
তার হৃদয়ে আশার প্রদীপ
চিরদিনই রয়।

হতাশা নয়, আশা বেছে
চলতে হবে পথ,
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে
জাগুক নতুন রথ।

আজকে যদি দুঃখ আসে,
কালকে সুখের দিন,
অন্ধকারের শেষে জাগে
উজ্জ্বল রঙিন ঋণ।

প্রতিটি কান্না শেখায় কিছু,
প্রতিটি ক্ষত দান,
প্রতিটি সংগ্রাম রচনা করে
নতুন সম্ভাবন।

তাই হে মানুষ, মনে রেখো
রবের অমর বাণী,
ঝড়ের পরে রংধনু আসে,
শেষ হয় না কাহিনি।

কষ্ট যখন দ্বারে আসে,
ভয় পেও না তাই,
তারই সাথে সুখের বারতা
আসছে কাছে ভাই।

ধৈর্য ধরো, আশা রাখো,
ভরসা রাখো রবের,
দুঃখ পেরিয়ে আলো ফুটবে
জীবনেরই ভোরে।

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

এই বাণীই শক্তি আমাদের,
এই বাণীই সুখ
একটি কষ্ট হার মানে শেষত
অসংখ্য আশার মুখ।

ধৈর্যের বুকে জয়ের ফুল,
বিশ্বাসে আলোর দিশা;
কষ্টের মাঝে লুকিয়ে থাকে
রহমতেরই নিশা।

***

হে ক্লান্ত পথিক!
যদি পথের ধুলায় মলিন হয় তোমার পদ,
যদি দুঃখের ভারে নত হয় তোমার শির,
যদি অশ্রুর স্রোতে ভেসে যায়
স্বপ্নের নির্মিত নীড়
তবে শুনো,
আসমানের ওপার থেকে ধ্বনিত হচ্ছে
রহমতের অমর আহ্বান

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

কেবল সান্ত্বনার বাণী নয়,
মহাপ্রতিশ্রুতি;
কেবল আশা নয়,
চিরসত্য ঘোষণা।

একই কষ্ট
হ্যাঁ, সেই একই কষ্ট,
যে কষ্ট বুকের ভেতর আগুন জ্বালায়,
যে কষ্ট নিদ্রাহীন রাতের সাথী হয়,
যে কষ্ট মানুষকে নিঃসঙ্গ মরুভূমিতে
একাকী দাঁড় করিয়ে দেয়
সেই এক কষ্টকে ঘিরেই
আসে অগণিত স্বস্তির বাহার।

একটি মেঘ
যেমন ঢাকতে পারে না
অসীম আকাশ,
একটি রাত্রি
যেমন গ্রাস করতে পারে না
সহস্র সূর্যের আলো,
তেমনি একটি কষ্ট
পরাভূত করতে পারে না
রবের পাঠানো বহু স্বস্তিকে।

বীজ যখন মাটির গভীরে
অন্ধকারে চাপা পড়ে,
সে কি জানে না
তার জন্য অপেক্ষা করছে বসন্ত?

শামুক যখন লুকিয়ে রাখে
বুকভরা বেদনা,
সে কি জানে না
তার অন্তরে জন্ম নিচ্ছে মুক্তা?

নদী যখন আঘাত হানে
পাথরের বুকে,
সে কি জানে না
একদিন সেই আঘাতেই
তৈরি হবে নতুন পথ?

তেমনি মানুষের জীবনেও
প্রতিটি দুঃখ,
প্রতিটি বেদনা,
প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস
অদৃশ্য হাতে নির্মাণ করে
নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

মক্কার প্রখর রৌদ্রে
যখন সত্যের পথিকেরা
অত্যাচারের শৃঙ্খলে আবদ্ধ,
যখন অপমানের ঝড়
আঘাত হানত প্রতিক্ষণ,
তখনও আসমান থেকে নেমে এলো
এই মহান বাণী

হে প্রিয় নবী!
হতাশ হয়ো না,
এই কষ্ট চিরস্থায়ী নয়;
এর সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
এর সাথেই রয়েছে বিজয়।

অতঃপর ইতিহাস দেখল
বদরের প্রভাত,
মক্কা বিজয়ের দিন,
মানবতার মুক্তির সূর্যোদয়।

যেখানে ছিল নির্যাতন,
সেখানে এল সম্মান;
যেখানে ছিল অশ্রু,
সেখানে এল হাসি;
যেখানে ছিল কষ্ট,
সেখানে এল অসংখ্য স্বস্তির ধারা।

আজও পৃথিবীর পথে পথে
এই সত্য অম্লান।

শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা
সফলতার সোপান হয়,
কৃষকের ঘামের ফোঁটা
সোনালি ধানে রূপ নেয়,
মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ
সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে,
সৎ মানুষের ধৈর্য
একদিন সম্মানের মুকুট পরে।

তাই হে মানুষ!
বিপদের অন্ধকারে
আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিও না।

যে রব
রাত্রির পরে ভোর আনেন,
শীতের পরে বসন্ত আনেন,
খরার পরে বৃষ্টি আনেন,
তিনি কষ্টের পরেও
স্বস্তির দ্বার খুলে দেন।

মনে রেখো
একটি কষ্ট এসেছে পরীক্ষার জন্য,
কিন্তু তার চারপাশে
রয়েছে রহমতের অসংখ্য জানালা।

মনে রেখো
একটি ঝড় এসেছে,
কিন্তু তার পেছনেই
অপেক্ষা করছে নির্মল আকাশ।

মনে রেখো
একটি অশ্রুবিন্দু ঝরেছে,
কিন্তু তার বিনিময়ে
আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন
হাসির সমুদ্র।

তাই দৃঢ় হও,
ধৈর্য ধরো,
সৎপথে অবিচল থাকো।

কারণ রবের বাণী চিরসত্য

এক কষ্ট কখনোই
দুই স্বস্তিকে পরাজিত করতে পারে না।

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

এই বাণী যুগের পর যুগ
মানুষকে জাগাবে,
অন্ধকারে আলো দেখাবে,
হতাশ হৃদয়ে আশা জ্বালাবে,
আর ঘোষণা করবে

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না;
কষ্টের অন্তরালেই
লুকিয়ে থাকে অগণিত সুখের সূর্যোদয়।

***

পরম করুণাময়ের নামে শুরু করি গান,
যিনি দুঃখের অন্তরালে লুকিয়ে রাখেন প্রাণ।
যিনি রাতের গভীর বুকে ভোরের আলো জ্বালেন,
শুষ্ক মরুর বালুকায়ও সুধার ঝর্ণা ঢালেন।

তাঁরই বাণী চির অমল,
তাঁরই বাণী সত্য
কষ্ট যখন ঘিরে ধরে,
স্বস্তি আসে নিত্য।

তাঁরই ঘোষণা আসমানে,
তাঁরই বাণী সুখ
একটি কষ্টের চারিধারে
হাসে শত শত মুখ।

মানুষ এলো পৃথিবীতে
পরীক্ষারই তরে,
হাসির সাথে কান্না মেশে
দিনের পরে পরে।

কখনো অভাব দরজায় এসে
কড়া নাড়ে ধীরে,
কখনো বেদনা ঝড়ের মতো
আঘাত হানে নীরে।

কখনো স্বপ্ন ভেঙে পড়ে
চোখের জলের স্রোতে,
কখনো আশা হারিয়ে যায়
অজানা অন্ধকার পথে।

কেউ হারায় আপনজন,
কেউ হারায় ধন,
কেউ বা খুঁজে ফেরে শুধু
শান্তির আলাপন।

কেউ বা থাকে নির্যাতনে,
কেউ অপমানে ক্ষত,
কেউ সংগ্রামে পথ হারিয়ে
হয়ে পড়ে ক্লান্ত।

তখন যেন আকাশ ভেদি
ধ্বনি আসে দূর
হে বান্দা! হতাশ হয়ো না,
আমি আছি সুরক্ষার নূর।

রবের বাণী গভীর কত,
ভাবলে খুলে দ্বার
একটি কষ্ট একই থাকে,
স্বস্তি আসে অপার।

একই কষ্ট দুইবার এল
একই নামে চিহ্নিত,
স্বস্তিগুলো এল বহু রূপে
অসীম রহমতে সিঞ্চিত।

একটি রাত কি পারে বলো
সহস্র ভোরকে ঢাকতে?
একটি মেঘ কি পারে বলো
অসীম আকাশ মাখতে?

একটি কাঁটা পথের মাঝে,
ফুলের বন অসংখ্য;
একটি শীতের পরেই আসে
বসন্ত রঙিন অক্ষয়।

তাই তো জ্ঞানীরা বলেছিলেন
আশার বাণী ছড়ায়
একটি কষ্ট কখনোই
দুই স্বস্তিকে হারায় না।

মক্কার পথে নির্যাতনের
উত্তপ্ত বালুকা,
অপমানের কালো মেঘে
ঢেকেছিল দিগন্তরেখা।

সত্যবাণী উচ্চারণে
শত্রুরা ছিল ক্ষুব্ধ,
তবু নবী অটল ছিলেন,
ধৈর্যে ছিলেন দৃঢ়।

তাই তো এলো সান্ত্বনার বাণী
হে প্রিয় রাসূল আমার,
দুঃখের পরে সুখ আসিবে,
অপমান শেষে সম্মান অপার।

অতঃপর ইতিহাস দেখল
বদরের রক্তিম ভোর,
দেখল মক্কা বিজয়ের দিন,
জয়ধ্বনিতে ভরল ঘোর।

যেখানে ছিল অশ্রুধারা,
সেখানে এলো হাসি;
যেখানে ছিল কষ্টের ছায়া,
সেখানে সুখের বাতাসি।

বীজকে আগে মাটির নিচে
অন্ধকারে রইতে হয়,
তারপর সে সবুজ ডালে
নতুন জীবনের জয়।

নদী আগে পাথর ভাঙে
কঠিন আঘাত হেনে,
তারপর গেয়ে চলে গান
সমুদ্রেরই পানে।

মুক্তা আগে জন্ম নেয়
ঝিনুকের বেদনায়,
সোনা আগে আগুন সয়
উজ্জ্বল রূপ পায়।

তেমনি মানুষের দুঃখও
ব্যর্থ নয় কখনো,
তারই মাঝে লুকিয়ে থাকে
সফলতার স্বর্ণধন।

হে শিক্ষার্থী, ভয় কোরো না
ব্যর্থতার আঘাতে,
জ্ঞানফুল ফোটে অনেক সময়
দীর্ঘ সাধনার রাতে।

হে কৃষক, ঘাম ঝরালে
শস্য হবে সোনা,
হে শ্রমিক, তোমার শ্রমে
গড়ে ওঠে দেশখানা।

হে পথিক, ঝড়ের ভয়ে
ফিরে যেও না ঘরে,
সাহসীরা ইতিহাস লেখে
সংগ্রামেরই তরে।

তাই মনে রেখো
দুঃখ চিরকাল থাকে না,
রাত্রি চিরকাল নয়;
আল্লাহর রহমতের সূর্য
অবশেষে উদয় হয়।

যখন হৃদয় ভেঙে যায়,
যখন চোখে জল,
তখনও রবের প্রতিশ্রুতি
অটল, অমল।

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

এই বাণী যুগে যুগে
মানুষকে দেবে বল,
একটি কষ্টের অন্তরালে
লুকিয়ে থাকে সুখের দল।

ধৈর্যের বুকে ফুটবে ফুল,
বিশ্বাস হবে সাথি,
রহমতের নূরে আলোকিত হবে
জীবনের প্রতিটি রাতি।

কারণ আল্লাহর বাণী সত্য,
চিরকাল অম্লান
এক কষ্টের বিপরীতে থাকে
অগণিত সুখের দান।

***

পরম দয়ালু আল্লাহর নামে
শুরু করি গান,
যাঁর রহমতে সৃষ্টি জগত,
যাঁর কৃপায় প্রাণ।

যিনি রাতের অন্ধকারে
ভোরের আভা দেন,
মরুর বুকে তৃষ্ণার্তকে
শীতল সুধা দেন।

যিনি দুঃখের অন্তরালে
সুখের বীজ বোনেন,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগিয়ে
নতুন স্বপ্ন শোনেন।

যিনি বলেন—“হতাশ হয়ো না,
আমি আছি সাথে,
তাঁরই বাণী জ্বলে নিত্য
মানবতার প্রাতে।

এই পৃথিবী ক্ষণিক সফর,
স্থায়ী নয় কভু,
হাসির মাঝে কান্না মেশে,
সুখের মাঝে দুঃখ।

কখনো আসে অভাব-অনটন,
কখনো রোগ-শোক,
কখনো বুকে জমে ওঠে
দীর্ঘশ্বাসের লোক।

কখনো স্বপ্ন ভেঙে যায়,
কখনো আশা ক্ষয়,
কখনো পথে দাঁড়ায় এসে
ব্যর্থতারই ভয়।

কেউ হারায় আপনজন,
কেউ হারায় ধন,
কেউ বা খুঁজে ফেরে শুধু
শান্তির আলাপন।

কেউ অপমানে নতশির,
কেউ নির্যাতনে ক্ষত,
কেউ সংগ্রামে পথ হারিয়ে
হয়ে পড়ে অবসন্ন।

তখন যেন আকাশময়
শোনা যায় আহ্বান
হে মানুষ! ধৈর্য ধরো,
আমি করি জ্ঞানদান।

কষ্ট শুধু বেদনা নয়,
নয় কেবল ক্ষয়,
কষ্ট হলো গড়ার হাতুড়ি,
মানুষ গড়ার সময়।

আগুনেতে না পুড়িলে
সোনা খাঁটি হয় না,
ঝড়ের মুখে না দাঁড়ালে
বৃক্ষ শক্তি পায় না।

নদী যদি থেমে যেত
পাথরেরই ভয়ে,
সমুদ্র পানে পৌঁছাত না
জীবনধারার নেয়ে।

বীজ যদি না চাপা পড়ত
অন্ধকার মাটিতে,
সবুজ অঙ্কুর ফুটত কি আর
বসন্তেরই গীতিতে?

তাই যে দুঃখ আজকে তোমার
চোখে আনে জল,
কাল সে- হবে জয়ের পথে
অমূল্য সম্বল।

রবের বাণী গভীর কত,
চিন্তা করো ভাই
একটি কষ্ট একই থাকে,
স্বস্তি আসে তাই।

একই শব্দকষ্টআবার
এসেছে পুনরায়,
স্বস্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন
রূপে ধরা পায়।

একটি মেঘ কি ঢাকতে পারে
অসীম নীল গগন?
একটি রাত কি থামাতে পারে
সূর্যোদয়ের রথগমন?

একটি কাঁটা পথের মাঝে,
ফুলের বাগান শত,
একটি শীতের পেছন পেছন
বসন্ত আসে রত।

একটি দুঃখ হৃদয় ভাঙে,
স্বস্তি গড়ে মন,
একটি ক্ষত শেখায় মানুষ
সহমর্মিতার ধন।

একটি ব্যর্থতা শেখায় তাকে
সফলতার পথ,
একটি অশ্রু ধুয়ে দেয় বহু
অহংকারের রথ।

তাই তো জ্ঞানীরা বলেছিলেন
আশার বাণী ছড়ায়
একটি কষ্ট কখনোই
দুই স্বস্তিকে হারায় না।

মক্কার পথে জ্বলে উঠেছিল
নির্যাতনের আগুন,
সত্যবাণীর পথিকদের
করেছিল অস্থির গুণ।

অপমান, বয়কট, অত্যাচার,
তৃষ্ণা আর অভাব,
তবু নবীর দৃঢ় হৃদয়
হারায়নি স্বভাব।

তিনি জানতেন
রবের বাণী মিথ্যা নয়,
অন্ধকারের শেষেই আসে
উজ্জ্বল দিনের জয়।

হিজরতের সেই দীর্ঘ রাত,
বদরের প্রভাত,
খন্দকের সেই ধৈর্যগাঁথা,
মক্কা বিজয়ের মাত।

যেখানে ছিল অপমান,
সেখানে এলো মান,
যেখানে ছিল কষ্টের ধারা,
সেখানে সুখের গান।

ইতিহাস আজ সাক্ষ্য দেয়,
সত্যের পরিচয়
ধৈর্যের পরে আল্লাহ দেন
অতুলনীয় জয়।

হে শিক্ষার্থী! ভয় কোরো না
ব্যর্থতার আঘাতে,
জ্ঞানফুল ফোটে বহু সময়
নিদ্রাহীন রাতেতে।

কঠিন অঙ্ক, দুর্বোধ্য পাঠ,
জটিল বিজ্ঞানের দ্বার,
অধ্যবসায় খুলে দেয় একদিন
সফলতার দ্বার।

আজ যে ছাত্র সংগ্রাম করে
অদম্য প্রত্যয়ে,
আগামীর সে পথপ্রদর্শক
আলোর অভিযানে।

কৃষকের ঘামে জন্ম নেয়
সোনালি ধানের ঢেউ,
শ্রমিকের হাতে গড়ে ওঠে
সভ্যতারই নৌ।

কারখানা আর নির্মাণস্থল,
মাঠ, বন্দর, পথ,
পরিশ্রমের প্রতিটি ফোঁটা
লেখে উন্নতির রথ।

আজকের কষ্ট আগামীতে
সাফল্যেরই ফুল,
শ্রমের মাঝে লুকিয়ে থাকে
ভবিষ্যতের কূল।

ধৈর্য হলো পাহাড়সম
অটল দৃঢ় শক্তি,
ধৈর্য হলো মুমিন হৃদয়ের
সর্বোচ্চ সম্পদভক্তি।

অস্থিরতা ঝড়ের মতো
সবকিছু করে ক্ষয়,
ধৈর্যের ভিত শক্ত হলে
অবশেষে আসে জয়।

যে ধৈর্য শেখে জীবনে,
সে হারায় না পথ,
তার অন্তরে জ্বলে সদা
আশার দীপ্ত রথ।

মানুষ চেষ্টা করবে সদা,
ফল দেবেন রব,
বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলাই
সফলতার সব।

যে হৃদয়ে তাওয়াক্কুল থাকে,
ভয় তাকে ছুঁতে না পারে,
কারণ সে জানে
আল্লাহ আছেন তারই দ্বারে।

প্রতিটি দুঃখ শেখায় কিছু,
প্রতিটি ক্ষত জ্ঞান,
প্রতিটি সংগ্রাম রচনা করে
নতুন সম্ভাবন।

মায়ের ত্যাগে সন্তানেরা
পায় ভবিষ্যৎ আলো,
সৎ মানুষের ধৈর্য শেষে
সম্মান এনে ভালো।

মানবজীবন তাই তো শুধু
সুখের কাব্য নয়,
দুঃখ-সুখের সেতুবন্ধনে
গড়ে ওঠে মহাজয়।

তাই হে মানুষ! মনে রেখো
রবের অমর বাণী,
ঝড়ের পরে রংধনু আসে,
শেষ হয় না কাহিনি।

কষ্ট যখন দ্বারে আসে,
ভয় পেও না তাই,
তারই সাথে সুখের বারতা
আসছে কাছে ভাই।

ধৈর্য ধরো, আশা রাখো,
ভরসা রাখো রবের,
দুঃখ পেরিয়ে আলো ফুটবে
জীবনেরই ভোরে।

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।

একটি কষ্ট ক্ষণিক মেঘ,
স্বস্তি আকাশজোড়া;
একটি দুঃখ ক্ষণিক ছায়া,
সুখের সূর্য ঘোরা।

ধৈর্যের বুকে জয়ের ফুল,
বিশ্বাসে আলোর দিশা,
কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে থাকে
রহমতের পরশ-নিশা।

আল্লাহর বাণী চিরসত্য,
অম্লান তাঁর সুখবার্তা
এক কষ্টের বিপরীতে থাকে
অগণিত স্বস্তির অঙ্গীকার।

মন্তব্য করুন