Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুন, ২০২৬ ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

হাতিওয়ালাদের পরিণতি --- মোঃ মুজিবুর রহমান


হাতিওয়ালাদের পরিণতি

(সূরা আল-ফীলের আলোকে  )

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

দেখনি কি ইতিহাসের পাতা,

দেখনি কি কালের ভাষা?

ক্ষমতার অহংকার যত,

ক্ষণে মুছে যায় তার আশা।

সৈন্য, অস্ত্র, রথ আর হাতি,

যতই হোক বলবান,

আল্লাহর ইচ্ছার সামনে

সবই হয় ক্ষণিক অবসান।

যেখানে মানুষ ভরসা করে

শক্তি, ধন আর বাহুবলে,

সেখানে রবের অদৃশ্য শক্তি

সত্যের পতাকা তোলে।

এই শিক্ষা চিরন্তন আজও,

এই শিক্ষা যুগে যুগে;

অত্যাচারের দুর্গ ভেঙে যায়

ন্যায়ের বিজয়রঙ্গে।

দূর দেশের এক শাসক ছিল,

অহংকারে অন্ধ মন,

ক্ষমতার নেশায় ভুলে গিয়েছিল

প্রভুর মহান বিধান।

বিরাট বাহিনী সাজাল সে,

সঙ্গে অসংখ্য হাতি,

ধূলি উড়িয়ে মরুপথ জুড়ে

এগিয়ে চলে রাতি-দিনভর মাতি।

 

তাদের চোখে ছিল গর্ব,

তাদের মুখে ছিল দাম্ভিকতা,

মনে মনে ভাবল তারা

"আমরাই শক্তির একমাত্র কথা।"

কিন্তু আকাশ নীরব ছিল,

নীরব ছিল মরুর বালু,

কারণ সৃষ্টিকর্তার ফয়সালা

ছিল তাদের অজানা কালু।

কাবা শুধু ইট-পাথর নয়,

ঈমানের পবিত্র ঠিকানা,

তাওহীদের আলো যেখানে

জ্বলে যুগে যুগে সুললিত গাঁথা।

নবীদের স্মৃতি মিশে আছে

তার প্রতিটি প্রাচীরে,

লক্ষ হৃদয়ের ভালোবাসা

প্রবাহিত হয় ধীরে ধীরে।

যে ঘরকে রক্ষা করেন স্বয়ং

সকল জগতের রব,

তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী

পায় না কখনো সফলতার সব।

মানুষ তখন ছিল অক্ষম,

সামর্থ্য ছিল অল্প,

কিন্তু তাদের আশা ছিল

রবের করুণায় অনল্প।

অন্যায় যখন শক্তি পায়,

অহংকার যখন বাড়ে,

মানুষ ভাবে নিজের হাতে

ভাগ্যের রথটি ছাড়ে।

চক্রান্ত বুনে দম্ভিত মন,

অবজ্ঞা করে সত্যকে,

ভাবতে থাকে কেউ পারবে না

থামাতে তার গতি কে।

কিন্তু কত পরিকল্পনা

ধুলায় মিশে যায় শেষে,

যখন প্রভুর ইচ্ছা নামে

অদৃশ্য শক্তির বেশে।

যে মনে করে সে- বড়,

তারই পতন ঘনায়,

অহংকারের অট্টালিকা

মুহূর্তে ভেঙে যায়।

হঠাৎ একদিন আকাশ জুড়ে

দেখা দিল অদ্ভুত দৃশ্য,

দিগন্তজোড়া পাখির ঝাঁক

উড়ে আসে অপরূপ নিঃশব্দে।

না ছিল তাদের রথের চাকা,

না ছিল তলোয়ার হাতে,

তবু তারা চলল যেন

প্রভুর নির্দেশপথে।

ছোট্ট ডানায় বহন করে

অদৃশ্য শক্তির বারতা,

আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে

নেমে এল তারা যথা।

মানুষ দেখে বিস্মিত হলো,

কাঁপল দম্ভিত প্রাণ,

কারণ স্রষ্টার সৈন্যদলকে

চিনতে পারেনি অবিজ্ঞান।

পাখিগুলো নিক্ষেপ করে

পোড়ামাটির ক্ষুদ্র কঙ্কর,

কিন্তু সেই ক্ষুদ্র কণাতেই

লুকিয়ে ছিল মহাশক্তির প্রহর।

যা মানুষ ভাবেনি কখনো,

ঘটল তাই অকস্মাৎ,

অহংকারের বিশাল বাহিনী

হলো পরাজয়ে আঘাতপ্রাপ্ত।

হাতি, সৈন্য, অস্ত্রশস্ত্র

রক্ষা দিতে পারল না,

প্রভুর বিধান এসে গেলে

কোনো শক্তি টিকল না।

সত্য তখন মাথা তুলে

ঘোষণা করল জয়,

অন্যায় যত প্রবল হোক

স্থায়ী তার স্থান নয়।

যে বাহিনী ছিল প্রবল শক্তির,

যার ছিল গর্বের ভাষা,

অল্প সময়ে তাদের অবস্থা

হলো করুণ নিরাশা।

ভক্ষিত শস্যপাতার মতো

হয়ে গেল ছিন্নভিন্ন,

অহংকারের রঙিন স্বপ্ন

মুহূর্তে হলো বিলীন।

যে শক্তি ছিল পাহাড়সম,

হয়ে গেল ধূলিকণা,

আল্লাহর সামনে সকল ক্ষমতা

অতি ক্ষুদ্র, অতি বামনা।

ইতিহাস আজও সাক্ষ্য দেয়

সেই বিস্ময়কর দিন,

সত্যের আলো চির উজ্জ্বল,

মিথ্যা থাকে না ঋণ।

এই কাহিনি শুধু অতীত নয়,

আজও তার আছে বাণী,

অন্যায়, জুলুম, অবিচারের

শেষে আসে পরাজয়খানি।

ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী

কখনো ছিল না কারো,

ধন-সম্পদ, বাহুবল সব

মুছে যায় সময়ের ধারো।

যে নত হয় প্রভুর কাছে,

সে- পায় প্রকৃত মান,

যে বড়াই করে অহংকারে,

হারায় নিজের সম্মান।

মানবতার পথে চলা,

ন্যায়ের পথে থাকা,

এই শিক্ষাই দেয় আমাদের

সূরা আল-ফীলের রাখা।

হে মানুষ, শক্তির গর্বে

কখনো হয়ো না অন্ধ,

সত্যের আলো হৃদয়ে জ্বালো,

রাখো বিবেক সুগন্ধ।

রবের ইচ্ছা ছাড়া কখনো

নড়ে না কোনো প্রাণ,

তাঁরই হাতে বিশ্বজগত,

তাঁরই হাতে বিধান।

কষ্টে, সুখে, বিপদে, শোকে

তাঁরই উপর ভরসা রাখি,

তিনি যখন সহায় হন,

ভয়কে তখন দূরে রাখি।

হাতিওয়ালাদের সেই ঘটনা

চিরকাল বলে যায়

অন্যায় যত শক্তিশালী হোক,

সত্যেরই শেষ বিজয়।

আকাশ, বাতাস, মরুর বালু

আজও যেন গেয়ে যায়,

রবের শক্তির সামনে সকল

অহংকার মুছে যায়।

রবের শক্তির সামনে সকল

অহংকার মুছে যায়।

***

হাতিওয়ালাদের পরিণতি

(সূরা আল-ফীলের আলোকে এক মহাকাব্যিক কাব্য)

মঙ্গলাচরণ : পরাক্রমের প্রকৃত মালিক

সকল প্রশংসা সেই মহান প্রভুর,

যাঁর হাতে নভোমণ্ডল-ধরা,

যাঁর ইচ্ছায় সূর্য ওঠে,

যাঁর হুকুমে নামে সাঁঝতারা।

যাঁর আদেশে সমুদ্র গর্জে,

পাহাড় থাকে অটল হয়ে,

যাঁর মহিমায় বিশ্বজগৎ

নতশিরে রয় ভয়ে।

রাজ্য, ক্ষমতা, ধন বাহিনী

সবই তাঁর দানের ফল,

তিনি চাইলে মরুভূমিতেও

ফুটে ওঠে জীবনের দল।

তিনি চাইলে ক্ষুদ্র কণাও

হয়ে ওঠে বজ্রসম,

তিনি চাইলে পরাক্রমশালী

হারায় শক্তি এক নিমেষে ক্ষণ।

ইয়েমেন দেশের রাজ্যপথে

উঠল একদিন দাম্ভিক ধ্বনি,

অহংকারে উন্মত্ত হয়ে

জাগল ক্ষমতার অগ্নিবাণী।

আবরাহা নামে এক শাসক

বুকে নিয়ে গর্বের জ্বালা,

ভাবল সে আজ পৃথিবীতে

নেই তার সমকক্ষ বালা।

সাজাল সে এক বিরাট বাহিনী,

অগণিত সৈন্য, অগণিত হাতি,

ধূলিঝড় তুলে মরুর বুকে

এগোয় তারা দিন আর রাতি।

তলোয়ারের ঝলকানিতে

কেঁপে ওঠে মরুর পথ,

অশ্বের ক্ষুরে ধ্বনিত হয়

বিজয়-অহংকারের রথ।

তারা ভাবে—“আমরাই শক্তি,

আমরাই বিশ্বের বিধান,

আমাদের সামনে দাঁড়াবার

নেই কারো সামান্য জ্ঞান।

কিন্তু আকাশ নীরব ছিল,

নীরব ছিল বালুকারাশি,

কারণ তখন লিখিত হচ্ছিল

আরেক ইতিহাসের ভাষি।

মক্কার বুকে দাঁড়িয়ে আছে

এক পবিত্র ঘর মহান,

ইবরাহিমের স্মৃতিবিজড়িত

তাওহীদের অমর নিদর্শন।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে

যেথায় ঝরে ঈমানের আলো,

মানবতার মুক্তির বাণী

যেথায় জ্বালে সত্যের ভালো।

সে ঘর শুধু পাথর নয়,

সে ঘর কেবল দেয়াল নয়,

অসংখ্য প্রাণের প্রার্থনারাশি,

অগণিত প্রেমের পরিচয়।

সেই ঘরের দিকে ধেয়ে আসে

অহংকারের অন্ধ ঝড়,

কিন্তু ঘরের মালিক তখন

করছেন নিজেই পাহারার ঘোর।

মানুষ দেখে বাহ্যিক শক্তি,

দেখে সৈন্য, দেখে বল,

কিন্তু দেখে না অদৃশ্য হাতে

লেখা ভবিষ্যতের ফল।

কত সাম্রাজ্য ভেঙে গেছে,

কত সিংহাসন ধূলি,

কত পরাক্রম হারিয়ে গেছে

সময়ের ঝঞ্ঝাবাতাসে দুলি।

অন্যায় যখন সীমা ছাড়ায়,

অত্যাচার যখন বাড়ে,

আল্লাহ তখন ন্যায়ের তরী

সত্যের স্রোতে ভাসিয়ে আনে।

অহংকারের দুর্গ যতই

উঁচু হয়ে উঠুক ধরা,

একটি আদেশ যথেষ্ট তাঁর

মুছে দিতে সব গর্বভরা।

হঠাৎ একদিন আকাশ জুড়ে

দেখা দিল বিস্ময়কর দৃশ্য,

দিগন্ত হতে দিগন্তময়

উড়ে আসে পাখির মিছিল।

ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবীল পাখি,

ডানায় রহস্যময় তেজ,

মহান রবের আদেশ পেয়ে

চলে তারা নির্ভীক বেগে।

না ছিল হাতে কোনো অস্ত্র,

না ছিল লৌহবর্ম,

তবু তাদের প্রতিটি উড্ডয়ন

বহন করে প্রভুর ধর্ম।

আকাশ যেন ঘোষণা করে

ক্ষমতার নয় শেষ কথা,

সত্যের পক্ষে রয় সর্বদা

প্রভুর অসীম ক্ষমতা।

প্রতিটি পাখির ক্ষুদ্র ঠোঁটে

পোড়ামাটির কঙ্কর ধরা,

দেখতে ক্ষুদ্র, অথচ তাতে

ছিল বিধাতার শক্তি ভরা।

ঝরে পড়ে সেই কঙ্করধারা

অত্যাচারী বাহিনীর ওপর,

মুহূর্তে ভেঙে পড়ে তাদের

অহংকারের স্বর্ণপ্রাসাদ ঘর।

হাতি, অশ্ব, বর্ম, তলোয়ার,

কোনো কিছুই রক্ষা দিল না,

প্রভুর ফয়সালা নেমে এলে

কোনো শক্তি টিকে রইল না।

চোখের পলকে বদলে গেল

গর্বিত বাহিনীর পরিচয়,

বিশ্ববাসী দেখল সেদিন

সত্যেরই হয় চূড়ান্ত জয়।

যারা এসেছিল বিজয়গর্বে,

ফিরল না তারা সম্মান নিয়ে,

ভগ্ন, বিধ্বস্ত, ছিন্নভিন্ন

হারাল শক্তি এক নিমিষে।

যেন পশুর চর্বিত ক্ষেতে

পড়ে থাকা শুকনো পাতা,

তেমনি হলো তাদের পরিণতি

নিভে গেল গর্বের বারতা।

যে বাহিনী ছিল পাহাড়সম,

হয়ে গেল তৃণের মতো ক্ষয়,

আল্লাহর সামনে সকল শক্তি

অবশেষে হার মানে নিশ্চয়।

মহাউপসংহার : চিরন্তন শিক্ষা

আজও সেই কাহিনি জাগায়

মানবমনে গভীর বোধ,

অহংকারের শেষ পরিণাম

পরাজয়, লাঞ্ছনা রোধ।

ক্ষমতা ক্ষণিক, ধনও ক্ষণিক,

ক্ষণিক পৃথিবীর মান,

স্থায়ী কেবল সত্য ন্যায়,

স্থায়ী প্রভুর বিধান।

তাই হে মানব, সত্যের পথে

রাখো তোমার জীবন গড়ে,

কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়

অহংকার টেকে না শেষতরে।

আকাশ, বাতাস, মরুর বালু,

যুগে যুগে বলে যায়

আল্লাহর শক্তির সামনে সকল

অহংকার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

আল্লাহর শক্তির সামনে সকল

অহংকার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

***

হাতিওয়ালাদের পরিণতি

(সূরা আল-ফীলের আলোকে এক মহাকাব্যিক কাব্য)

প্রস্তাবনা : চিরন্তন সত্যের আহ্বান

দেখনি কি হে মানবজাতি,

ইতিহাসের সেই ভাষা?

অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে

ধূলি হয়েছে কত আশা।

দেখনি কি সেই মহান শক্তি,

যিনি আকাশ-ধরার রব?

যাঁর আদেশে ক্ষুদ্র কণাও

হয়ে ওঠে মহাশক্তির সব।

পৃথিবীর যত রাজ্য-সিংহাসন,

যত বাহুবলের মান,

সবই ক্ষণিক ছায়ার মতো,

স্থায়ী শুধু তাঁর বিধান।

সৈন্য, অস্ত্র, রথ আর হাতি

যতই হোক শক্তিমান,

স্রষ্টার ইচ্ছার সামনে সবই

হয়ে যায় ক্ষুদ্র অজ্ঞান।

যেখানে জুলুম মাথা তোলে,

যেখানে বাড়ে অবিচার,

সেখানেই আসে ন্যায়ের ডাক

ভেঙে যায় মিথ্যার দেয়াল-দ্বার।

দূর মরুর এক রাজপথ ধরে

এলো এক বাহিনী বিশাল,

চোখে তাদের বিজয়ের স্বপ্ন,

মনে ছিল গর্বের জাল।

সঙ্গে ছিল অসংখ্য সৈন্য,

সঙ্গে ছিল হাতির দল,

তাদের দেখে মানুষ ভাবল

শক্তির নেই কোনো সম্বল।

ধূলি উড়িয়ে মরুর পথে

চলল তারা দম্ভভরে,

ভুলে গেলসব ক্ষমতার মালিক

আছেন একজন সবার উপরে।

তলোয়ারের ঝলকানিতে

চমকাল দিনের আলো,

কিন্তু সত্যের সূর্য তখনও

ছিল আড়ালে ভালো।

তারা বলল—“আমরাই শক্তি,

আমরাই জয়ের অধিকারী।

কিন্তু ভাগ্যের পাতায় লেখা ছিল

অন্য এক ইতিহাস ভারী।

মক্কার বুকে দাঁড়িয়ে আছে

এক পবিত্র ঘর মহান,

যেথায় যুগে যুগে ধ্বনিত হয়েছে

একত্ববাদের আহ্বান।

সে ঘর শুধু পাথর নয়,

সে ঘর শুধু স্থাপনা নয়,

অসংখ্য হৃদয়ের ভালোবাসা,

অগণিত প্রার্থনার পরিচয়।

নবীদের স্মৃতিতে পবিত্র

তার প্রতিটি পথ-প্রান্তর,

সত্যের আলো ছড়িয়ে দেয়

তার প্রতিটি ক্ষণ-প্রহর।

যে ঘরের রক্ষক মহান রব,

যাঁর ক্ষমতা অপরিসীম,

তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী

হয় না কখনো সফল স্থির।

মানুষের শক্তি সীমিত ছিল,

ছিল না কোনো বড় বাহন,

কিন্তু তাদের বিশ্বাস ছিল

আছেন মহান দয়াময় রব মহান।

অন্যায় যখন সীমা ছাড়ায়,

অহংকার যখন হয় প্রবল,

মানুষ তখন ভুলে যায় যে

সব কিছুরই আছেন নিয়ন্ত্রক এক অমল।

কত পরিকল্পনা ধূলি হয়েছে,

কত স্বপ্ন গেছে হারিয়ে,

যখন রবের সিদ্ধান্ত এসেছে

অদৃশ্য শক্তি নিয়ে।

মানুষ ভাবে—“আমি করব,”

ভুলে যায় দয়ার অধিপতি,

এক মুহূর্তে বদলে দিতে পারেন

সময়ের সকল গতি।

যে পাহাড়সম গর্ব করে,

তার পতনও হয় ভারী,

অহংকারের মুকুট শেষে

হয়ে যায় ধুলিরই সারি।

হঠাৎ একদিন আকাশ জুড়ে

দেখা দিল বিস্ময়ময়,

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এলো

নিয়ে রবের আদেশময়।

ক্ষুদ্র ডানা, ক্ষুদ্র দেহ,

তবু তারা ভয়হীন,

কারণ মহান প্রভুর হুকুমে

তাদের পথ ছিল নির্ধারিত দিন।

তাদের হাতে ছিল না তলোয়ার,

ছিল না কোনো বর্ম,

তবু তাদের আগমন ছিল

স্রষ্টার শক্তির মর্ম।

পাখির ঝাঁক যেন বলল এসে

শোনো পৃথিবীর মানুষ,

অন্যায় যত বড়ই হোক না কেন,

সত্যের কাছে সে পরাজিত হতেই হবে একদিন।

পোড়ামাটির ক্ষুদ্র কঙ্কর

নেমে এলো আকাশ হতে,

সেই ক্ষুদ্র কণার মধ্যেও

ছিল বিধানের শক্তি লুকাতে।

যা ক্ষুদ্র, তা তুচ্ছ নয়,

যদি থাকে রবের হুকুম,

একটি কণাও বদলে দিতে পারে

অহংকারের বিশাল ভূমি।

হাতি, সৈন্য, অস্ত্র, শক্তি

কিছুই রক্ষা দিতে পারল না,

সত্যের ফয়সালা এসে গেলে

কোনো মিথ্যা টিকে রইল না।

যে বাহিনী এসেছিল গর্বে,

হয়ে গেল পরাজয়ের চিহ্ন,

ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেল

এক শিক্ষা চির অম্লান।

হে মানুষ, শক্তির গর্বে

কখনো হয়ো না অন্ধ,

সত্য ন্যায়ের পথে রাখো

তোমার হৃদয় নির্মল সুগন্ধ।

ধন যাবে, মান যাবে,

যাবে ক্ষমতার অহংকার,

থেকে যাবে শুধু কর্মের ফল

আর প্রভুর ন্যায়বিচার।

হাতিওয়ালাদের সেই কাহিনি

আজও বিশ্বকে বলে যায়

অন্যায় যত শক্তিশালী হোক,

সত্যেরই শেষ বিজয় হয়।

আকাশ, বাতাস, মরুর বালু

আজও নীরবে গেয়ে যায়

পরম শক্তিমান রবের সামনে

কোনো অহংকার টিকে না যায়।

***

হাতিওয়ালাদের পরিণতি

(সূরা আল-ফীলের আলোকে এক মহাকাব্যিক কাব্য)

মঙ্গলাচরণ : পরম শক্তির অধিপতি

সকল প্রশংসা সেই মহান রবের,

যাঁর হাতে বিশ্বধারা,

যাঁর ইশারায় সূর্য ওঠে,

আলোকিত হয় ধরণী সারা।

যাঁর আদেশে নক্ষত্র জ্বলে,

ঘোরে গ্রহের রথ,

যাঁর কুদরতে ক্ষুদ্র কণাও

পায় শক্তির মহারথ।

রাজ্য, ধন আর ক্ষমতার গর্ব

সবই ক্ষণিক ছায়া,

স্থায়ী কেবল সত্যের আলো,

ন্যায়ের অমর মায়া।

পাহাড় যতই উঁচু হোক না,

আকাশ ছুঁতে চায়,

রবের হুকুম এলে শেষে

ধূলির মাঝে যায়।

সৈন্য, অস্ত্র, বাহুবল যত

হোক না প্রবল মহান,

স্রষ্টার ইচ্ছার সামনে সবই

হয়ে যায় ক্ষুদ্র জ্ঞান।

দেখনি কি হে মানবজাতি,

কালের লেখা বাণী?

অহংকারের সিংহাসন ভেঙে

হারায় কত কাহিনি।

যারা ভেবেছিল—“আমরাই বড়,

আমরাই শক্তিমান,”

সময়ের স্রোতে মুছে গেছে

তাদের সকল অভিমান।

যে হাতে ছিল বিজয়ের পতাকা,

সে হাত হলো শূন্য,

অন্যায়ের প্রাসাদ শেষে

হয়ে গেল ধূলিময় ভূমি।

তাই ইতিহাস আজও বলে

শোনো মানব সমাজ,

অহংকারে নয়, সত্যের পথে

লুকিয়ে আছে আজ।

প্রথম সর্গ : অহংকারের অভিযাত্রা

দূর মরুর এক রাজ্যপথে

উঠল গর্বের রথ,

ক্ষমতার নেশায় অন্ধ হয়ে

চলল এক বাহিনী যত।

সামনে ছিল বিশাল হাতি,

পেছনে সৈন্যের সারি,

তাদের মনে বিজয়ের স্বপ্ন,

চোখে অহংকার ভারী।

ধূলি উড়িয়ে মরুর পথে

চলল তারা দুর্বার,

ভাবল তারা—“থামাবে কে

আমাদের বিজয়ধার?”

বর্মের ঝলক, অস্ত্রের শব্দ,

কাঁপাল পথ-প্রান্তর,

কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল

আছেন সর্বশক্তিমান অন্তর।

আবরাহা নামের সেই শাসক

গর্বে হলো অন্ধ,

ক্ষমতার মোহে হারিয়ে ফেলল

সত্যের পবিত্র গন্ধ।

সে ভাবল—“আমার শক্তির কাছে

সবই হবে পরাজিত,”

কিন্তু ভাগ্যের পাতায় লেখা ছিল

অন্য এক নতুন ইতিহাস-লিখিত।

 

মক্কার বুকে দাঁড়িয়ে আছে

এক ঘর পবিত্র মহান,

যেথায় যুগে যুগে ধ্বনিত হয়েছে

একত্বের আহ্বান।

সে ঘর শুধু পাথর নয়,

নয় কেবল স্থাপনা,

অসংখ্য হৃদয়ের ভালোবাসার

চিরন্তন ঠিকানা।

নবীদের স্মৃতি মিশে আছে

তার প্রতিটি প্রান্তরে,

প্রার্থনার অশ্রু ঝরে সেখানে

বিশ্বাসী মানুষের অন্তরে।

যে ঘরের মালিক মহান রব,

যাঁর ক্ষমতা অপরিসীম,

তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে

কে হতে পারে সফল স্থির?

মানুষের শক্তি সীমিত ছিল,

ছিল না কোনো বড় বল,

কিন্তু বিশ্বাসের আলোয় ছিল

তাদের হৃদয় উজ্জ্বল।

তারা জানতসত্যের রক্ষক

আছেন মহান প্রভু,

যাঁর সিদ্ধান্তের সামনে নত

সকল শক্তির গৌরব

অন্যায় যখন সীমা ছাড়ায়,

বাড়ে যখন জুলুম,

অহংকারীর হৃদয় তখন

ভুলে যায় সত্যের কূল।

মানুষ ভাবে নিজের শক্তিতে

সে করবে সব জয়,

কিন্তু রবের এক ইশারাতে

বদলে যায় সময়।

কত রাজা গেল, কত সাম্রাজ্য

হলো ধূলির সমান,

রয়ে গেল শুধু সত্যের কথা,

রয়ে গেল ন্যায়ের গান।

পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক,

যদি থাকে অন্যায়,

শেষ বিচারে তার পতন ঘটে

এটাই ইতিহাসের পরিচয়।

অহংকারের অট্টালিকা

যতই হোক উঁচু,

একটি আদেশেই ভেঙে পড়ে

তার সব গর্বের পিছু।

 

 

মন্তব্য করুন