স্মাইলী প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত
(ভালো কাজের স্বীকৃতি, শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা)
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোহাম্মদপুর এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মেধা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন “স্মাইলী প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স-২০২৬” অদ্য ২৩ মে ২০২৬, শনিবার বিদ্যালয়ের মো: নুরুল ইসলাম স্মার্ট মাল্টি পারপাস হলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনের শুরুতে বৃষ্টি থাকলেও অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: ফখরুল ইসলাম সাইস্তা, চেয়ারম্যান, ৮নং মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ। সভাপতিত্ব করেন জনাব মো: নুরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটি, অত্র বিদ্যালয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দিপ্তা ঘোষ, সহকারী শিক্ষক, অত্র বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব ফাতেমা জহুরা খানম। তিনি বলেন, স্মাইলী প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বহুগুণে বৃদ্ধি করছে। প্রতিদিনের মূল্যায়নভিত্তিক এই কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও নৈতিক আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্মাইলী প্রোগ্রামের উদ্যোক্তা অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মো: কয়েছ আহমদ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর পরিচালিত হয়ে আসছে এবং ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের আচরণ, দায়িত্ববোধ, পরিচ্ছন্নতা, অংশগ্রহণ ও মানবিক গুণাবলির ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকেই “স্মাইলী প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স”-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি স্মাইলী প্রোগ্রামের অর্থদাতা জনাব মো: নুরুল ইসলামকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য যে, স্মাইলী প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স এর অনুষ্ঠান বাবদ সম্পূর্ণ ব্যয় স্থানীয় অনুদানে পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক শিলা রানী দাস। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অনুকূল চন্দ্র দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোছা: সেবিন বেগম, নার্গিস বেগম, মো: আব্দুল কাদির, মো: এমাজ উদ্দিন, মো: শহিদুল ইসলাম এবং ছয়দুল ইসলাম প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম সাদী ও লামিয়া জান্নাত।
স্মাইলী প্রোগ্রামে প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঁচটি সূচকে মূল্যায়ন করা হয়। সূচকগুলো হলো— ইউনিফর্মসহ উপস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাংলা/ইংরেজি পঠন, সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। প্রতিটি সূচকের জন্য ১ নম্বর নির্ধারিত থাকে। সর্বোচ্চ নম্বরধারী শিক্ষার্থীকে প্রতি ১৫ দিন পরপর একটি করে স্মাইলী কার্ড প্রদান করা হয়। তিন মাস শেষে যে শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ কার্ড অর্জন করে, তাকে ঐ শ্রেণির শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত করে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।
বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী একবার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হলে তার পূর্বের কার্ডের হিসাব বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় শ্রেষ্ঠ হতে হলে নতুন করে কার্ড অর্জন করতে হয়। এছাড়াও কোনো শিক্ষার্থী টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পায় না। তবে যে শিক্ষার্থী এখনো শ্রেষ্ঠ হয়নি, তার পূর্বের অর্জিত কার্ডগুলো হিসাবের মধ্যে থাকে এবং কার্ডগুলো তার কাছেই সংরক্ষিত থাকে।
অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। এগুলো হলো— শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে কি না, প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী সঙ্গে রাখে কি না, বিদ্যালয়ের সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ, বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান এবং সর্বশেষ তিন মাসে শিক্ষার্থী কোনো স্মাইলী কার্ড পেয়েছে কি না।
অনুষ্ঠানে ১২ জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও ২ জন শ্রেষ্ঠ অভিভাবককে সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রধান অতিথি ও স্মাইলী প্রোগ্রামের অর্থদাতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্পূর্ণ স্থানীয় অনুদানের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করা হয়।
প্রধান অতিথি মো: ফখরুল ইসলাম সাইস্তা তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন, তবে “স্মাইলী প্রোগ্রাম পারফরম্যান্স”-এর মতো এত সুন্দর, ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্ন মাত্রার আয়োজন আর কোথাও দেখেননি। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম শুধু পুরস্কার প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দিনের শুরুতে বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সফলতা ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা হিসেবে তিনি দেড় লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যতদিন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন স্মাইলী প্রোগ্রাম চালিয়ে নিতে প্রতি তিন মাস অন্তর ২০০০ টাকা করে অনুদান প্রদান করবেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিজওয়ানা ছিদ্দিকা রাফা কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। এছাড়াও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া রানী দাস দেবশ্রী মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সভাপতির অনুমতি নিয়ে সঞ্চালক উপস্থিত সকল অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
৫৩
৯২ মন্তব্য