Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২৬ ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সবর /ধৈর্য মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                              সবর /ধৈর্য

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ চলে জীবনের পথে
হাসি-কান্নার মেলা,
কখনো রৌদ্র দীপ্ত আকাশ,
কখনো মেঘের খেলা।

কখনো সুখের ফুল ফুটে যায়,
স্বপ্নে ভরে মন,
কখনো আবার ঝড়ের রাতে
জাগে বেদনার ক্ষণ।

কখনো আসে প্রাচুর্যের দিন,
সমৃদ্ধির রঙিন ডালি,
কখনো অভাবের দীর্ঘশ্বাসে
চোখের কোণে জ্বালি।

এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে
যে গুণ অমূল্য ধন,
সেই গুণটির নামই হলো
সবরধৈর্যের জীবন।

শুধু চুপচাপ কষ্ট সহ্য করা
সবরের অর্থ নয়,
সত্যের পথে দৃঢ় থাকা,
এও তার পরিচয়।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে
স্থির রাখা প্রাণ,
ঝড়ের মাঝেও হার না মানা
সবরের জ্ঞান।

সবর মানে অন্তর জুড়ে
আশার প্রদীপ জ্বালা,
অন্ধকারে পথ হারিয়ে
না বলা পরাজয়-বালা।

সবর মানে ভাঙা হৃদয়েও
বিশ্বাস রাখা অটুট,
কণ্টকাকীর্ণ পথের মাঝেও
না হওয়া ভীত-বিহ্বল।

সবর মানে তিক্ত সময়ে
মিষ্টি ভাষা বলা,
ক্রোধের আগুন নিভিয়ে ফেলে
ক্ষমার আলো জ্বালা।

সবর মানে অপেক্ষা করা
সঠিক সময়ের তরে,
বীজ বুনে যে কৃষক থাকে
ফসলের আশায় ঘরে।

সবর মানে স্রোতের বিপরীতে
সত্যের নৌকা বাওয়া,
অন্যায় দেখে নীরব না হয়ে
ন্যায়ের পতাকা দাওয়া।

সবর মানে অন্তরে রাখা
অটল ঈমানের দীপ,
ঝড় এলেও নিভতে না দেওয়া
আশার আলোকরশ্মি দীপ্ত।

ফজরের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়,
নরম বিছানার টান,
তবু যে উঠে সিজদায় নত,
সে ধৈর্যের সম্মান।

রোজার দিনে তৃষ্ণা পেলে
শুকিয়ে আসে কণ্ঠ,
তবু যে থাকে রবের ভয়ে,
তার হৃদয় হয় শান্ত।

শীতের রাতে অজুর জলে
শরীর কেঁপে ওঠে,
তবু যে দাঁড়ায় নামাজে,
সে বিজয়ী রথে।

কুরআনের বাণী শিখতে গিয়ে
কষ্ট যদি হয়,
সেই কষ্টও আলোর পথে
মানুষকে নিয়ে যায়।

ইবাদতের পথ সহজ নয়,
আছে অনেক বাধা,
সবর নিয়ে চলতে পারলেই
খুলে যায় রহমতের সাঁকো বাঁধা।

যে ধৈর্য ধরে নেক আমলে
অটল থাকে সদা,
তার জীবনে নেমে আসে
রহমতের মিষ্টি ধারা।

পৃথিবী জুড়ে কত প্রলোভন,
কত আহ্বান মিছে,
মিথ্যার পথে ডাকছে কত
রঙিন সাজের পিছে।

লোভের হাতছানি আসে,
অন্যায় ডাকে কাছে,
বিবেক তখন সতর্ক হয়ে
সত্যের বাতি নাচে।

যে যুবক পাপের সুযোগ পেয়ে
নিজেকে রাখে সংযত,
তার অন্তরে ফুটে ওঠে
সচ্চরিত্রের মহৎ

যে মানুষটি ক্রোধের বশে
অন্যায় করে না,
প্রতিশোধের আগুন পুড়িয়ে
ক্ষমার পথে যায় না

বরং ক্ষমা করে দেয়,
শান্ত করে অন্তর,
তার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয়
সবরের সুন্দর ঘর।

সবর মানে নিজের নফসকে
নিয়ন্ত্রণে রাখা,
অন্যায় সুখের ক্ষণিক মোহ
চিরতরে ফেলে রাখা।

হয়তো কোনো প্রিয়জন একদিন
চলে যাবে দূরে,
বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়বে
অশ্রুভেজা সুরে।

হয়তো কখনো অর্থকষ্টে
ভারী হবে প্রাণ,
স্বপ্নগুলো থমকে যাবে
দীর্ঘ দিনের টান।

হয়তো রোগের দীর্ঘ রাতে
হারাবে ঘুমের দেশ,
হয়তো জীবন প্রশ্ন ছুঁড়বে
অগণিত অবশেষ।

তবু মুমিন বলে
"
আমার রব আছেন,
এই পরীক্ষার অন্তরালে
অসংখ্য রহস্য রাখেন।"

দুঃখ এলেই ভেঙে পড়া
সবরের শিক্ষা নয়,
বরং ধৈর্যের শক্তি নিয়ে
নতুন সকালময়।

যে বিপদে ধৈর্য ধারণ করে
অভিযোগ না তোলে,
আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান
অদৃশ্য রহমত-ছলে।

নবীদের জীবন খুলে দেখো,
সবরের মহাগান,
পরীক্ষার আগুন পেরিয়ে তাঁরা
হয়েছেন সম্মান।

নবী নূহের দীর্ঘ দাওয়াত,
শত শত বছরের ডাক,
তবু মানুষ ফিরল না পথে,
তবু থামেনি তাঁর হাক।

নবী ইবরাহিম আগুনে গিয়েও
বিশ্বাস রাখলেন রবের,
অগ্নিশিখা ফুলের বাগান
হলো কুদরতে সবের।

নবী ইউসুফ কারাগারে থেকেও
হারাননি আশা,
ধৈর্যের আলোয় একদিন পেলেন
সম্মানের ভাষা।

নবী আইয়ূব রোগ-যন্ত্রণায়
করেননি অভিযোগ,
সবরের দীপ্ত উদাহরণ তিনি,
অমর তাঁর যোগ।

আর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)
সহ্য করেছেন কত,
তবু করুণার পথেই ছিলেন
চিরদিন অবিচল সত্য।

সবর শুধু ব্যক্তিজীবনের
একটি গুণ নয়,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে
এর ভূমিকা অসীমময়।

শিক্ষক যদি ধৈর্য হারান,
শিক্ষা হয় ক্ষতিগ্রস্ত,
অভিভাবকের ধৈর্যহীনতায়
সন্তান হয় বিপর্যস্ত।

নেতা যদি উত্তেজনায়
ভুল সিদ্ধান্ত নেন,
সমাজজুড়ে অশান্তির আগুন
জ্বলে ওঠে ক্ষণে।

ধৈর্যশীল মানুষ পারে
সম্পর্ক বাঁচাতে,
ঘৃণার দেয়াল ভেঙে দিয়ে
ভালোবাসা গড়তে।

সবর মানুষকে শেখায়
শুনতে অন্যের কথা,
সহমর্মিতার আলো জ্বালায়
মুছে দেয় ব্যথা।

ধৈর্যের বৃক্ষ ধীরে ধীরে
বড় হয়ে যায় একদিন,
তারই শাখায় ফলে পরে
সফলতার রঙিন ঋণ।

আজ যে কষ্ট, কাল তা হবে
অভিজ্ঞতার আলো,
আজ যে অশ্রু, কাল তা হবে
হাসির মুক্তোমালা ভালো।

সবর মানুষকে শেখায়
আত্মবিশ্বাসের গান,
অস্থিরতাকে দূরে সরিয়ে
দেয় শান্তির দান।

যে ধৈর্য ধরে লক্ষ্যে চলে
পায় সে সাফল্য শেষে,
যেমন নদী পৌঁছে যায়
সমুদ্রেরই দেশে।

পবিত্র বাণী শিক্ষা দেয়
ধৈর্য আর সালাত,
মানুষকে দেয় শক্তি, সাহস,
জীবনের প্রভাত।

ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন
পরম দয়াময় রব,
তাঁর রহমতে কঠিন পথও
হয়ে যায় সহজ সব।

যখন মানুষ একাকী হয়,
চারিদিকে অন্ধকার,
সবর তখন হৃদয়ে জ্বালে
বিশ্বাসের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অপার।

আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে
যে এগিয়ে যায় ধীর,
তার পথচলা বৃথা হয় না,
হয় না জীবন ক্ষীণ।

এসো আমরা শিখি সবাই
সবরের মহান পাঠ,
ঝড়ের মাঝে দৃঢ় থাকি,
না হারাই জীবনের ঠাঁট।

সুখে যেন না হই গর্বিত,
দুঃখে না হই ক্ষুব্ধ,
প্রতিটি অবস্থায় রবের প্রতি
থাকি বিনম্র, সুবুদ্ধ।

ইবাদতে থাকি অবিচল,
পাপ থেকে দূরে,
বিপদ এলেও রাখি বিশ্বাস
প্রভুর রহমতের সুরে।

কারণ সবর হলো মুমিনের
অমূল্য রতনখানি,
যে রতনের আলোয় জ্বলে
মানবতার বাণী।

ধৈর্যের শেষে আসে প্রভাত,
শেষে ফুটে ফুল,
সবর শেখায়অন্ধকার পেরিয়ে
আলোই চূড়ান্ত কূল।

তাই হৃদয়ে গড়ি আমরা
সবরের অমর ঘর,
আল্লাহর প্রেমে, সত্যের পথে
চলুক জীবন ভর।

ধৈর্যের দীপ জ্বলুক সদা,
জ্বলুক অন্তর-মাঝে,
সবরের আলোয় মানুষ হোক
সফল দুই জগতে।

***

যেদিন হতে মানুষের যাত্রা
পৃথিবীর বুকে শুরু,
সেদিন হতে সুখ-দুঃখ মিলে
রচনা করেছে গুরু।

কখনো জীবন ফুলের বাগান,
সুবাসে ভরা পথ,
কখনো আবার কণ্টকাকীর্ণ
বেদনা-বিধুর রথ।

কখনো আকাশ নীলের হাসি,
সূর্যের সোনার রঙ,
কখনো কালো মেঘের নিচে
বিষণ্নতার ঢঙ।

এই যে জীবন, এই যে সময়,
এই যে চলার ধারা,
পরীক্ষার মাঝে মানুষ খোঁজে
আশার নতুন তারা।

কেউ বা হারে বিপদে পড়ে,
কেউ বা ভাঙে মন,
কেউ বা ক্লান্ত পথিক হয়ে
হারায় জীবনের পণ।

আবার কেউ ঝড়ের মাঝেও
অটল থাকে স্থির,
তাদের বুকে জ্বলে নিরন্তর
বিশ্বাসের আলোকনীর।

তাদের শক্তি বাহুর বল নয়,
অস্ত্রের ঝনঝন নয়,
তাদের শক্তি ধৈর্যের আলো,
যা কখনো ম্লান হয় না কভু য়।

সেই ধৈর্যের নামই সবর’—
ঈমানের অমূল্য রতন,
যার মাঝে লুকিয়ে আছে
মুক্তি, শান্তি জীবন।

সবর শুধু নীরব থাকা নয়,
নয় কেবল সহ্য করা,
সবর মানে সত্যের পথে
অবিচল হয়ে দাঁড়ানো সারা।

সবর মানে অন্ধকার রাতে
ভোরের আশায় থাকা,
সবর মানে মরুভূমিতেও
সবুজ স্বপ্ন আঁকা।

সবর মানে দুঃখের মাঝেও
আল্লাহর প্রতি ভরসা,
সবর মানে অন্তরে রাখা
অমলিন আশার ভাষা।

যে হৃদয়ে সবরের আলো,
সে হৃদয় অমর হয়,
দুনিয়ার শত ঝড়ের মাঝেও
তার বিশ্বাস ক্ষয় না হয়।

তাই এসো আজ শুনি সবাই
সবরের মহাগান,
যে গানে জাগে মানবাত্মার
চিরউজ্জ্বল সম্মান।

শেষ হয় আজ কাব্যের বাণী,
শেষ নয় তার আলো,
ধৈর্যের শিক্ষা যুগে যুগে
মানবজীবনে ভালো।

নদী যেমন বহে নিরন্তর
সাগরেরই পানে,
সবর তেমনি মানুষকে নেয়
সাফল্যের ঠিকানায় টানে।

বীজ যেমন মাটির নিচে
অন্ধকারে রয়,
সময় পেলে অঙ্কুর হয়ে
সবুজ পাতায় সয়।

তেমনি মানুষের প্রতিটি সবর
অদৃশ্যে থাকে গাঁথা,
একদিন তা প্রস্ফুটিত হয়
সফলতার মহাকাব্য-গাথা।

যে ধৈর্য ধরে ইবাদতে,
সে পায় রবের নূর,
যে ধৈর্য ধরে পাপ বর্জনে,
তার অন্তর হয় সুরভিত সুর।

যে ধৈর্য ধরে দুঃখের কালে,
অশ্রু লুকায় বুকে,
আল্লাহ তার মর্যাদা লেখেন
অনন্ত সুখের মুখে।

সবর শেখায় ক্ষমার ভাষা,
সবর শেখায় প্রেম,
সবর শেখায় সত্যের পথে
অটল থাকার নিয়ম।

সবর শেখায় ক্রোধের আগুন
শান্ত জলে নেভাতে,
ভাঙা হৃদয় জুড়ে আবার
আশার প্রদীপ জ্বালাতে।

আজও যারা বিপদে আছে,
হারিয়েছে পথের দিশা,
সবর তাদের বলে নীরবে
শেষ হয়নি এখনও আশা।

রাত্রি শেষে সূর্য ওঠে,
বর্ষা শেষে হাসে ফুল,
সবর শেখায়অন্ধকার পেরিয়ে
আলোই চূড়ান্ত কূল।

তাই চল সবাই হাতে হাত রেখে
সত্যের পথে চলি,
ধৈর্যের বীজ হৃদয়ে বুনি,
সদ্গুণের ফসল তুলি।

আল্লাহর প্রেম, করুণা, রহমত
হোক জীবনের বর,
দুই জাহানের মুক্তির তরে
অলংকার হোক সবর।

ধৈর্যের দীপ জ্বলুক চিরকাল
মানবহৃদয় মাঝে,
সবরের আলোয় জাগুক বিশ্ব
সত্য, শান্তি সাজে।

যতদিন সূর্য উঠবে আকাশে,
যতদিন বইবে সমীর,
ততদিন ধ্বনিত হবে পৃথিবীতে
সবরই মুমিনের মহাশক্তি,
সবরই সফলতার সমীর।

***

মানুষ শুধু দেহ নয় কভু,
মানুষ আত্মার নাম,
সত্য-সুন্দরের সন্ধানেতে
চলে অবিরাম।

অন্তর মাঝে কত যে ঝড়,
কত অশান্ত ঢেউ,
কত আকাঙ্ক্ষা, কত বাসনা,
কত অজানা ঢেউ।

কখনো ক্রোধ জ্বলে ওঠে,
কখনো লোভের ডাক,
কখনো অহংকারের মুকুট
করতে চায় মনকে ফাঁক।

কখনো হিংসা বিষের মতো
ঢুকে হৃদয়-ঘরে,
কখনো মোহের জাল বিছিয়ে
বাঁধে মানুষকে ডরে।

সবর তখন অন্তর-মাঝে
জাগায় শুভবোধ,
সত্যের আলো দেখিয়ে দেয়
মুছে দেয় সব ক্রোধ।

যে ধৈর্য ধরে নিজেকে গড়ে,
নিজেকে করে জয়,
সেই তো সত্য বীরের মতো
মানবগৌরবময়।

নিজের নফস জয় করা যে
সবচেয়ে কঠিন কাজ,
সবর ছাড়া সে সংগ্রামে
মেলে না বিজয়ের সাজ।

ধৈর্য শেখায় বিনয় হতে,
অহংকার ত্যাগ,
ধৈর্য শেখায় সত্যের পথে
করতে অনুরাগ।

যে হৃদয়ে সবরের চর্চা,
সেখানে নূরের বাস,
সেখানে থাকে শান্তির নদী,
প্রশান্তির সুবাস।

সবর মানুষকে শেখায় ধীরে
নিজেকে দেখতে,
ভুলের মাঝে শিক্ষা খুঁজে
আলোয় ফিরে যেতে।

আত্মশুদ্ধির দীর্ঘ পথে
সবর শ্রেষ্ঠ সাথী,
এই গুণেতে জীবন পায়
মর্যাদারই গাঁথি।

আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন,
তাদের দেন পরীক্ষা,
পরীক্ষারই প্রতিটি ধাপে
লুকায় নতুন শিক্ষা।

সোনা যেমন আগুন পেরিয়ে
খাঁটি হয়ে যায়,
তেমনি মুমিন সবর করে
মর্যাদা ফিরে পায়।

দুঃখ যদি আসে জীবনে,
ভাবো না তা শেষ,
মেঘের পরে সূর্য যেমন
আসে নতুন বেশ।

যে ধৈর্য ধরে রবের তরে
ত্যাগ করে সুখ-স্বাদ,
তারই জন্য প্রস্তুত থাকে
অশেষ পুরস্কার।

যে চোখ অশ্রু লুকিয়ে রাখে
আল্লাহরই ভয়ে,
সে চোখ একদিন হাসবে গিয়ে
অনন্ত সুখের লয়ে।

যে হৃদয় কষ্ট সহ্য করে
রবের উপর ভরসায়,
সেই হৃদয়ের নাম লেখা হয়
রহমতেরই আশ্রয়ায়।

সবর কোনো দুর্বলতা নয়,
শক্তিরই নাম,
যার বলে মানুষ জয় করে
জীবনের অবসানহীন ঘাম।

সবর হলো বিশ্বাসের বৃক্ষ,
আশার সবুজ পাতা,
যার ছায়াতে খুঁজে পায় মন
শান্তির মধুর কথা।

একদিন সব দুঃখ ফুরাবে,
মুছে যাবে ক্ষত,
সবরের ফল ফুটে উঠবে
অমলিন জ্যোতির্মত।

এসো তবে করি অঙ্গীকার,
ধৈর্যের পথে চলি,
সত্য, ন্যায় আর সৎকর্ম দিয়ে
জীবনখানি গড়ি।

ইবাদতে থাকি অবিচল,
পাপ থেকে দূরে,
বিপদ এলে রাখি বিশ্বাস
রবের রহমত-সুরে।

সবর হোক হৃদয়ের শক্তি,
সবর হোক ঢাল,
সবর হোক প্রতিটি প্রাণে
আশার দীপ্ত জ্যোতিপ্রবাল।

যতদিন মানবসভ্যতা
পৃথিবীজুড়ে রয়,
ততদিন ধ্বনিত হোক বাণী

সবরই ঈমানের সৌন্দর্য,
সবরই জীবনের জয়।

সবরই অন্ধকার শেষে প্রভাত,
সবরই শান্তির পরিচয়।

***

যুগে যুগে যত মহৎ গাঁথা
লিখেছে মানবজাতি,
সবর ছিল তার অন্তরালে
অমর প্রেরণাসাথী।

যে সভ্যতা জ্ঞান গড়েছে,
যে জাতি উঠেছে জেগে,
ধৈর্যের ঘামে সিঞ্চিত হয়ে
উঠেছে উন্নতির বেগে।

একদিনে কি গড়ে ওঠে
বিজ্ঞান কিংবা শিল্প?
শত ব্যর্থতার সোপান বেয়ে
ফোটে সফলতার নীলপদ্ম।

যে গবেষক রাত জেগেছে
অজানাকে জানতে,
সবর ছিল তার পথের প্রদীপ
অন্ধকারে জ্বলতে।

যে শিক্ষক গড়ে মানুষ,
যে কৃষক বোনে ধান,
যে শ্রমিক ঘামে ভিজিয়ে গড়ে
সমৃদ্ধির সম্মান

তাদের সবার অন্তরজুড়ে
সবরের নীরব গান,
যা শেখায় ধীরে এগিয়ে যেতে,
না হতে পথভ্রষ্ট প্রাণ।

পর্বতও ক্ষয় হয় একদিন
নদীর অবিরাম স্রোতে,
ধৈর্যের শক্তি এমনই মহান
জয় করে বাধা শতেতে।

সবর শেখায় ক্ষুদ্র পদক্ষেপ
অবহেলা না করতে,
কারণ বিন্দু বিন্দু জল মিলেই
সমুদ্র যায় গড়তে।

যে জাতির মাঝে ধৈর্য থাকে,
থাকে জ্ঞান শৃঙ্খলা,
সে জাতি একদিন ছুঁয়ে ফেলে
মহিমার স্বর্ণশিখলা।

অস্থিরতা আনে পতন,
বিভ্রান্তি আনে ক্ষয়,
সবর শেখায় সুদূর লক্ষ্য,
সবর শেখায় জয়।

তাই সভ্যতার প্রতিটি ইটে
ধৈর্যের লেখা নাম,
সবর ছাড়া স্থায়ী হয় না
কোনো উন্নতির ধাম।

যখন চারিদিকে ঘন অন্ধকার,
দিগন্ত থাকে ঢাকা,
তখনও সবর বলে নীরবে
হতাশ হয়ো না, থাকো।

যখন প্রার্থনা দীর্ঘ হয়েও
উত্তর আসে না ত্বরায়,
সবর তখন হৃদয়ে বলে
রব জানেন সময়।

বীজ কি সঙ্গে সঙ্গে ফোটে?
ফোটে না তো কোনোদিন,
মাটির তলে নীরব সাধনায়
জাগে তার নবজীবন।

শিশির জমে রাতের বুকে,
ভোরে হয় মুক্তা,
সবরও তেমনি কষ্টকে গড়ে
সৌন্দর্যের যুক্তা।

যে অপেক্ষা করতে জানে,
সে- ফল পায় শেষে,
অধৈর্য মন হারায় পথ
ক্ষণিক মোহের বেশে।

আশা আর সবরদুই সহোদর,
দুই আলোর সাথি,
একজন বলে চলতে থাকো,
আরেকজন বলে থাকো স্থিরগতি

যতদিন আশা বেঁচে থাকে,
ততদিন জীবন জাগে,
সবর সেই আশার প্রদীপ
ঝড়ের মাঝেও রাখে।

তাই যে হৃদয়ে সবর থাকে,
সেখানে নেমে আলো,
সেখানে দুঃখ দীর্ঘ হলেও
শেষপরিণতি ভালো।

গাও আজ ধৈর্যের জয়গান,
গাও বিশ্বাসের সুর,
গাও সেই শক্তির মহিমা
যা করে অন্তর নূর।

সবর কোনো নীরব বেদনা
নয় কেবল সহিষ্ণুতা,
সবর হলো জীবনের মাঝে
ঈমানের মহিমাময়তা।

সবর হলো ঝড়ের বুকে
দৃঢ় নোঙরখানি,
সবর হলো ক্লান্ত প্রাণে
আশার সুধাবাণী।

সবর হলো প্রার্থনাতে
অবিচল থাকার নাম,
সবর হলো সত্যের তরে
ত্যাগের মহাসংগ্রাম।

সবর হলো চোখের জলে
লুকানো বিজয়গাথা,
সবর হলো ভাঙা হৃদয়ে
পুনর্জাগরণের কথা।

সবর হলো আল্লাহপ্রেমে
অবনত থাকার রীতি,
সবর হলো মানবমনে
শান্তির চিরপ্রতীতি।

যতদিন রবে আকাশভরা
সূর্য, চাঁদ আর তারা,
ততদিন ধ্বনিত হবে ধরণীতে
এই মহামন্ত্র সারা

ধৈর্য যার হৃদয়মাঝে,
সে হারায় না পথ,
সবর যার জীবনের সাথি,
সে পায় মর্যাদার রথ।

সবর যার অন্তর-আলো,
সে জয় করে ভয়,
সবর যার ঈমানের শোভা,
তারই চূড়ান্ত জয়।

আল্লাহর প্রতি অটল ভরসা,
সত্যের প্রতি প্রণয়
সবরই মুমিনের মহাশক্তি,
সবরই জীবনের জয়।

সবরই অন্ধকার শেষে প্রভাত,
সবরই শান্তির পরিচয়;
সবরই জান্নাতের পথে দীপ,
সবরই চিরসফলতার বিজয়।

***

Top of Form

 

মানুষ চলে জীবনের পথে

হাসি-কান্নার মেলা,

কখনো রৌদ্র দীপ্ত আকাশ,

কখনো মেঘের খেলা।

 

কখনো সুখের ফুল ফুটে যায়,

স্বপ্নে ভরে মন,

কখনো আবার ঝড়ের রাতে

জাগে বেদনার ক্ষণ।

 

কখনো আসে প্রাচুর্যের দিন,

সমৃদ্ধির রঙিন ডালি,

কখনো অভাবের দীর্ঘশ্বাসে

চোখের কোণে জ্বালি।

 

এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে

যে গুণ অমূল্য ধন,

সেই গুণটির নামই হলো

সবরধৈর্যের জীবন।

 

শুধু চুপচাপ কষ্ট সহ্য করা

সবরের অর্থ নয়,

সত্যের পথে দৃঢ় থাকা,

এও তার পরিচয়।

 

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে

স্থির রাখা প্রাণ,

ঝড়ের মাঝেও হার না মানা

সবরের জ্ঞান।

 

সবর মানে অন্তর জুড়ে

আশার প্রদীপ জ্বালা,

অন্ধকারে পথ হারিয়ে

না বলা পরাজয়-বালা।

 

সবর মানে ভাঙা হৃদয়েও

বিশ্বাস রাখা অটুট,

কণ্টকাকীর্ণ পথের মাঝেও

না হওয়া ভীত-বিহ্বল।

 

সবর মানে তিক্ত সময়ে

মিষ্টি ভাষা বলা,

ক্রোধের আগুন নিভিয়ে ফেলে

ক্ষমার আলো জ্বালা।

 

সবর মানে অপেক্ষা করা

সঠিক সময়ের তরে,

বীজ বুনে যে কৃষক থাকে

ফসলের আশায় ঘরে।

 

সবর মানে স্রোতের বিপরীতে

সত্যের নৌকা বাওয়া,

অন্যায় দেখে নীরব না হয়ে

ন্যায়ের পতাকা দাওয়া।

 

সবর মানে অন্তরে রাখা

অটল ঈমানের দীপ,

ঝড় এলেও নিভতে না দেওয়া

আশার আলোকরশ্মি দীপ্ত।

 

ফজরের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়,

নরম বিছানার টান,

তবু যে উঠে সিজদায় নত,

সে ধৈর্যের সম্মান।

 

রোজার দিনে তৃষ্ণা পেলে

শুকিয়ে আসে কণ্ঠ,

তবু যে থাকে রবের ভয়ে,

তার হৃদয় হয় শান্ত।

 

শীতের রাতে অজুর জলে

শরীর কেঁপে ওঠে,

তবু যে দাঁড়ায় নামাজে,

সে বিজয়ী রথে।

 

কুরআনের বাণী শিখতে গিয়ে

কষ্ট যদি হয়,

সেই কষ্টও আলোর পথে

মানুষকে নিয়ে যায়।

 

ইবাদতের পথ সহজ নয়,

আছে অনেক বাধা,

সবর নিয়ে চলতে পারলেই

খুলে যায় রহমতের সাঁকো বাঁধা।

 

যে ধৈর্য ধরে নেক আমলে

অটল থাকে সদা,

তার জীবনে নেমে আসে

রহমতের মিষ্টি ধারা।

 

পৃথিবী জুড়ে কত প্রলোভন,

কত আহ্বান মিছে,

মিথ্যার পথে ডাকছে কত

রঙিন সাজের পিছে।

 

লোভের হাতছানি আসে,

অন্যায় ডাকে কাছে,

বিবেক তখন সতর্ক হয়ে

সত্যের বাতি নাচে।

 

যে যুবক পাপের সুযোগ পেয়ে

নিজেকে রাখে সংযত,

তার অন্তরে ফুটে ওঠে

সচ্চরিত্রের মহৎ

 

যে মানুষটি ক্রোধের বশে

অন্যায় করে না,

প্রতিশোধের আগুন পুড়িয়ে

ক্ষমার পথে যায় না

 

বরং ক্ষমা করে দেয়,

শান্ত করে অন্তর,

তার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয়

সবরের সুন্দর ঘর।

 

সবর মানে নিজের নফসকে

নিয়ন্ত্রণে রাখা,

অন্যায় সুখের ক্ষণিক মোহ

চিরতরে ফেলে রাখা।

 

হয়তো কোনো প্রিয়জন একদিন

চলে যাবে দূরে,

বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়বে

অশ্রুভেজা সুরে।

 

হয়তো কখনো অর্থকষ্টে

ভারী হবে প্রাণ,

স্বপ্নগুলো থমকে যাবে

দীর্ঘ দিনের টান।

 

হয়তো রোগের দীর্ঘ রাতে

হারাবে ঘুমের দেশ,

হয়তো জীবন প্রশ্ন ছুঁড়বে

অগণিত অবশেষ।

 

তবু মুমিন বলে

"আমার রব আছেন,

এই পরীক্ষার অন্তরালে

অসংখ্য রহস্য রাখেন।"

 

দুঃখ এলেই ভেঙে পড়া

সবরের শিক্ষা নয়,

বরং ধৈর্যের শক্তি নিয়ে

নতুন সকালময়।

 

যে বিপদে ধৈর্য ধারণ করে

অভিযোগ না তোলে,

আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান

অদৃশ্য রহমত-ছলে।

নবীদের জীবন খুলে দেখো,

সবরের মহাগান,

পরীক্ষার আগুন পেরিয়ে তাঁরা

হয়েছেন সম্মান।

নবী নূহের দীর্ঘ দাওয়াত,

শত শত বছরের ডাক,

তবু মানুষ ফিরল না পথে,

তবু থামেনি তাঁর হাক।

নবী ইবরাহিম আগুনে গিয়েও

বিশ্বাস রাখলেন রবের,

অগ্নিশিখা ফুলের বাগান

হলো কুদরতে সবের।

নবী ইউসুফ কারাগারে থেকেও

হারাননি আশা,

ধৈর্যের আলোয় একদিন পেলেন

সম্মানের ভাষা।

নবী আইয়ূব রোগ-যন্ত্রণায়

করেননি অভিযোগ,

সবরের দীপ্ত উদাহরণ তিনি,

অমর তাঁর যোগ।

আর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)

সহ্য করেছেন কত,

তবু করুণার পথেই ছিলেন

চিরদিন অবিচল সত্য।

সবর শুধু ব্যক্তিজীবনের

একটি গুণ নয়,

পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে

এর ভূমিকা অসীমময়।

শিক্ষক যদি ধৈর্য হারান,

শিক্ষা হয় ক্ষতিগ্রস্ত,

অভিভাবকের ধৈর্যহীনতায়

সন্তান হয় বিপর্যস্ত।

নেতা যদি উত্তেজনায়

ভুল সিদ্ধান্ত নেন,

সমাজজুড়ে অশান্তির আগুন

জ্বলে ওঠে ক্ষণে।

ধৈর্যশীল মানুষ পারে

সম্পর্ক বাঁচাতে,

ঘৃণার দেয়াল ভেঙে দিয়ে

ভালোবাসা গড়তে।

সবর মানুষকে শেখায়

শুনতে অন্যের কথা,

সহমর্মিতার আলো জ্বালায়

মুছে দেয় ব্যথা।

ধৈর্যের বৃক্ষ ধীরে ধীরে

বড় হয়ে যায় একদিন,

তারই শাখায় ফলে পরে

সফলতার রঙিন ঋণ।

আজ যে কষ্ট, কাল তা হবে

অভিজ্ঞতার আলো,

আজ যে অশ্রু, কাল তা হবে

হাসির মুক্তোমালা ভালো।

সবর মানুষকে শেখায়

আত্মবিশ্বাসের গান,

অস্থিরতাকে দূরে সরিয়ে

দেয় শান্তির দান।

যে ধৈর্য ধরে লক্ষ্যে চলে

পায় সে সাফল্য শেষে,

যেমন নদী পৌঁছে যায়

সমুদ্রেরই দেশে।

পবিত্র বাণী শিক্ষা দেয়

ধৈর্য আর সালাত,

মানুষকে দেয় শক্তি, সাহস,

জীবনের প্রভাত।

ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন

পরম দয়াময় রব,

তাঁর রহমতে কঠিন পথও

হয়ে যায় সহজ সব।

যখন মানুষ একাকী হয়,

চারিদিকে অন্ধকার,

সবর তখন হৃদয়ে জ্বালে

বিশ্বাসের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অপার।

আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে

যে এগিয়ে যায় ধীর,

তার পথচলা বৃথা হয় না,

হয় না জীবন ক্ষীণ।

এসো আমরা শিখি সবাই

সবরের মহান পাঠ,

ঝড়ের মাঝে দৃঢ় থাকি,

না হারাই জীবনের ঠাঁট।

সুখে যেন না হই গর্বিত,

দুঃখে না হই ক্ষুব্ধ,

প্রতিটি অবস্থায় রবের প্রতি

থাকি বিনম্র, সুবুদ্ধ।

ইবাদতে থাকি অবিচল,

পাপ থেকে দূরে,

বিপদ এলেও রাখি বিশ্বাস

প্রভুর রহমতের সুরে।

কারণ সবর হলো মুমিনের

অমূল্য রতনখানি,

যে রতনের আলোয় জ্বলে

মানবতার বাণী।

ধৈর্যের শেষে আসে প্রভাত,

শেষে ফুটে ফুল,

সবর শেখায়অন্ধকার পেরিয়ে

আলোই চূড়ান্ত কূল।

তাই হৃদয়ে গড়ি আমরা

সবরের অমর ঘর,

আল্লাহর প্রেমে, সত্যের পথে

চলুক জীবন ভর।

ধৈর্যের দীপ জ্বলুক সদা,

জ্বলুক অন্তর-মাঝে,

সবরের আলোয় মানুষ হোক

সফল দুই জগতে।

***

 

 

যেদিন হতে মানুষের যাত্রা

পৃথিবীর বুকে শুরু,

সেদিন হতে সুখ-দুঃখ মিলে

রচনা করেছে গুরু।

কখনো জীবন ফুলের বাগান,

সুবাসে ভরা পথ,

কখনো আবার কণ্টকাকীর্ণ

বেদনা-বিধুর রথ।

কখনো আকাশ নীলের হাসি,

সূর্যের সোনার রঙ,

কখনো কালো মেঘের নিচে

বিষণ্নতার ঢঙ।

এই যে জীবন, এই যে সময়,

এই যে চলার ধারা,

পরীক্ষার মাঝে মানুষ খোঁজে

আশার নতুন তারা।

কেউ বা হারে বিপদে পড়ে,

কেউ বা ভাঙে মন,

কেউ বা ক্লান্ত পথিক হয়ে

হারায় জীবনের পণ।

আবার কেউ ঝড়ের মাঝেও

অটল থাকে স্থির,

তাদের বুকে জ্বলে নিরন্তর

বিশ্বাসের আলোকনীর।

তাদের শক্তি বাহুর বল নয়,

অস্ত্রের ঝনঝন নয়,

তাদের শক্তি ধৈর্যের আলো,

যা কখনো ম্লান হয় না কভু য়।

সেই ধৈর্যের নামই সবর’—

ঈমানের অমূল্য রতন,

যার মাঝে লুকিয়ে আছে

মুক্তি, শান্তি জীবন।

সবর শুধু নীরব থাকা নয়,

নয় কেবল সহ্য করা,

সবর মানে সত্যের পথে

অবিচল হয়ে দাঁড়ানো সারা।

সবর মানে অন্ধকার রাতে

ভোরের আশায় থাকা,

সবর মানে মরুভূমিতেও

সবুজ স্বপ্ন আঁকা।

সবর মানে দুঃখের মাঝেও

আল্লাহর প্রতি ভরসা,

সবর মানে অন্তরে রাখা

অমলিন আশার ভাষা।

যে হৃদয়ে সবরের আলো,

সে হৃদয় অমর হয়,

দুনিয়ার শত ঝড়ের মাঝেও

তার বিশ্বাস ক্ষয় না হয়।

তাই এসো আজ শুনি সবাই

সবরের মহাগান,

যে গানে জাগে মানবাত্মার

চিরউজ্জ্বল সম্মান।

শেষ হয় আজ কাব্যের বাণী,

শেষ নয় তার আলো,

ধৈর্যের শিক্ষা যুগে যুগে

মানবজীবনে ভালো।

নদী যেমন বহে নিরন্তর

সাগরেরই পানে,

সবর তেমনি মানুষকে নেয়

সাফল্যের ঠিকানায় টানে।

বীজ যেমন মাটির নিচে

অন্ধকারে রয়,

সময় পেলে অঙ্কুর হয়ে

সবুজ পাতায় সয়।

তেমনি মানুষের প্রতিটি সবর

অদৃশ্যে থাকে গাঁথা,

একদিন তা প্রস্ফুটিত হয়

সফলতার মহাকাব্য-গাথা।

যে ধৈর্য ধরে ইবাদতে,

সে পায় রবের নূর,

যে ধৈর্য ধরে পাপ বর্জনে,

তার অন্তর হয় সুরভিত সুর।

যে ধৈর্য ধরে দুঃখের কালে,

অশ্রু লুকায় বুকে,

আল্লাহ তার মর্যাদা লেখেন

অনন্ত সুখের মুখে।

সবর শেখায় ক্ষমার ভাষা,

সবর শেখায় প্রেম,

সবর শেখায় সত্যের পথে

অটল থাকার নিয়ম।

সবর শেখায় ক্রোধের আগুন

শান্ত জলে নেভাতে,

ভাঙা হৃদয় জুড়ে আবার

আশার প্রদীপ জ্বালাতে।

আজও যারা বিপদে আছে,

হারিয়েছে পথের দিশা,

সবর তাদের বলে নীরবে

শেষ হয়নি এখনও আশা।

রাত্রি শেষে সূর্য ওঠে,

বর্ষা শেষে হাসে ফুল,

সবর শেখায়অন্ধকার পেরিয়ে

আলোই চূড়ান্ত কূল।

তাই চল সবাই হাতে হাত রেখে

সত্যের পথে চলি,

ধৈর্যের বীজ হৃদয়ে বুনি,

সদ্গুণের ফসল তুলি।

আল্লাহর প্রেম, করুণা, রহমত

হোক জীবনের বর,

দুই জাহানের মুক্তির তরে

অলংকার হোক সবর।

ধৈর্যের দীপ জ্বলুক চিরকাল

মানবহৃদয় মাঝে,

সবরের আলোয় জাগুক বিশ্ব

সত্য, শান্তি সাজে।

যতদিন সূর্য উঠবে আকাশে,

যতদিন বইবে সমীর,

ততদিন ধ্বনিত হবে পৃথিবীতে

সবরই মুমিনের মহাশক্তি,

সবরই সফলতার সমীর।

***

মানুষ চলে জীবনের পথে

হাসি-কান্নার মেলা,

কখনো রৌদ্র দীপ্ত আকাশ,

কখনো মেঘের খেলা।

কখনো সুখের ফুল ফুটে যায়,

স্বপ্নে ভরে মন,

কখনো আবার ঝড়ের রাতে

জাগে বেদনার ক্ষণ।

কখনো আসে প্রাচুর্যের দিন,

সমৃদ্ধির রঙিন ডালি,

কখনো অভাবের দীর্ঘশ্বাসে

চোখের কোণে জ্বালি।

এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে

যে গুণ অমূল্য ধন,

সেই গুণটির নামই হলো

সবরধৈর্যের জীবন।

শুধু চুপচাপ কষ্ট সহ্য করা

সবরের অর্থ নয়,

সত্যের পথে দৃঢ় থাকা,

এও তার পরিচয়।

আল্লাহর উপর ভরসা রেখে

স্থির রাখা প্রাণ,

ঝড়ের মাঝেও হার না মানা

সবরের জ্ঞান।

সবর মানে অন্তর জুড়ে

আশার প্রদীপ জ্বালা,

অন্ধকারে পথ হারিয়ে

না বলা পরাজয়-বালা।

সবর মানে ভাঙা হৃদয়েও

বিশ্বাস রাখা অটুট,

কণ্টকাকীর্ণ পথের মাঝেও

না হওয়া ভীত-বিহ্বল।

সবর মানে তিক্ত সময়ে

মিষ্টি ভাষা বলা,

ক্রোধের আগুন নিভিয়ে ফেলে

ক্ষমার আলো জ্বালা।

সবর মানে অপেক্ষা করা

সঠিক সময়ের তরে,

বীজ বুনে যে কৃষক থাকে

ফসলের আশায় ঘরে।

সবর মানে স্রোতের বিপরীতে

সত্যের নৌকা বাওয়া,

অন্যায় দেখে নীরব না হয়ে

ন্যায়ের পতাকা দাওয়া।

সবর মানে অন্তরে রাখা

অটল ঈমানের দীপ,

ঝড় এলেও নিভতে না দেওয়া

আশার আলোকরশ্মি দীপ্ত

ফজরের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়,

নরম বিছানার টান,

তবু যে উঠে সিজদায় নত,

সে ধৈর্যের সম্মান।

রোজার দিনে তৃষ্ণা পেলে

শুকিয়ে আসে কণ্ঠ,

তবু যে থাকে রবের ভয়ে,

তার হৃদয় হয় শান্ত।

শীতের রাতে অজুর জলে

শরীর কেঁপে ওঠে,

তবু যে দাঁড়ায় নামাজে,

সে বিজয়ী রথে।

কুরআনের বাণী শিখতে গিয়ে

কষ্ট যদি হয়,

সেই কষ্টও আলোর পথে

মানুষকে নিয়ে যায়।

ইবাদতের পথ সহজ নয়,

আছে অনেক বাধা,

সবর নিয়ে চলতে পারলেই

খুলে যায় রহমতের সাঁকো বাঁধা।

যে ধৈর্য ধরে নেক আমলে

অটল থাকে সদা,

তার জীবনে নেমে আসে

রহমতের মিষ্টি ধারা।

পৃথিবী জুড়ে কত প্রলোভন,

কত আহ্বান মিছে,

মিথ্যার পথে ডাকছে কত

রঙিন সাজের পিছে।

লোভের হাতছানি আসে,

অন্যায় ডাকে কাছে,

বিবেক তখন সতর্ক হয়ে

সত্যের বাতি নাচে।

যে যুবক পাপের সুযোগ পেয়ে

নিজেকে রাখে সংযত,

তার অন্তরে ফুটে ওঠে

সচ্চরিত্রের মহৎ

যে মানুষটি ক্রোধের বশে

অন্যায় করে না,

প্রতিশোধের আগুন পুড়িয়ে

ক্ষমার পথে যায় না

বরং ক্ষমা করে দেয়,

শান্ত করে অন্তর,

তার হৃদয়ে প্রস্ফুটিত হয়

সবরের সুন্দর ঘর।

সবর মানে নিজের নফসকে

নিয়ন্ত্রণে রাখা,

অন্যায় সুখের ক্ষণিক মোহ

চিরতরে ফেলে রাখা।

চতুর্থ সর্গ : বিপদে মুসিবতে সবর

হয়তো কোনো প্রিয়জন একদিন

চলে যাবে দূরে,

বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়বে

অশ্রুভেজা সুরে।

হয়তো কখনো অর্থকষ্টে

ভারী হবে প্রাণ,

স্বপ্নগুলো থমকে যাবে

দীর্ঘ দিনের টান।

হয়তো রোগের দীর্ঘ রাতে

হারাবে ঘুমের দেশ,

হয়তো জীবন প্রশ্ন ছুঁড়বে

অগণিত অবশেষ।

তবু মুমিন বলে

"আমার রব আছেন,

এই পরীক্ষার অন্তরালে

অসংখ্য রহস্য রাখেন।"

দুঃখ এলেই ভেঙে পড়া

সবরের শিক্ষা নয়,

বরং ধৈর্যের শক্তি নিয়ে

নতুন সকালময়।

যে বিপদে ধৈর্য ধারণ করে

অভিযোগ না তোলে,

আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান

অদৃশ্য রহমত-ছলে।

নবীদের জীবন খুলে দেখো,

সবরের মহাগান,

পরীক্ষার আগুন পেরিয়ে তাঁরা

হয়েছেন সম্মান।

নবী নূহের দীর্ঘ দাওয়াত,

শত শত বছরের ডাক,

তবু মানুষ ফিরল না পথে,

তবু থামেনি তাঁর হাক।

নবী ইবরাহিম আগুনে গিয়েও

বিশ্বাস রাখলেন রবের,

অগ্নিশিখা ফুলের বাগান

হলো কুদরতে সবের।

নবী ইউসুফ কারাগারে থেকেও

হারাননি আশা,

ধৈর্যের আলোয় একদিন পেলেন

সম্মানের ভাষা।

নবী আইয়ূব রোগ-যন্ত্রণায়

করেননি অভিযোগ,

সবরের দীপ্ত উদাহরণ তিনি,

অমর তাঁর যোগ।

আর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)

সহ্য করেছেন কত,

তবু করুণার পথেই ছিলেন

চিরদিন অবিচল সত্য।

সবর শুধু ব্যক্তিজীবনের

একটি গুণ নয়,

পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে

এর ভূমিকা অসীমময়।

শিক্ষক যদি ধৈর্য হারান,

শিক্ষা হয় ক্ষতিগ্রস্ত,

অভিভাবকের ধৈর্যহীনতায়

সন্তান হয় বিপর্যস্ত।

নেতা যদি উত্তেজনায়

ভুল সিদ্ধান্ত নেন,

সমাজজুড়ে অশান্তির আগুন

জ্বলে ওঠে ক্ষণে।

ধৈর্যশীল মানুষ পারে

সম্পর্ক বাঁচাতে,

ঘৃণার দেয়াল ভেঙে দিয়ে

ভালোবাসা গড়তে।

সবর মানুষকে শেখায়

শুনতে অন্যের কথা,

সহমর্মিতার আলো জ্বালায়

মুছে দেয় ব্যথা।

ধৈর্যের বৃক্ষ ধীরে ধীরে

বড় হয়ে যায় একদিন,

তারই শাখায় ফলে পরে

সফলতার রঙিন ঋণ।

আজ যে কষ্ট, কাল তা হবে

অভিজ্ঞতার আলো,

আজ যে অশ্রু, কাল তা হবে

হাসির মুক্তোমালা ভালো।

সবর মানুষকে শেখায়

আত্মবিশ্বাসের গান,

অস্থিরতাকে দূরে সরিয়ে

দেয় শান্তির দান।

যে ধৈর্য ধরে লক্ষ্যে চলে

পায় সে সাফল্য শেষে,

যেমন নদী পৌঁছে যায়

সমুদ্রেরই দেশে।

পবিত্র বাণী শিক্ষা দেয়

ধৈর্য আর সালাত,

মানুষকে দেয় শক্তি, সাহস,

জীবনের প্রভাত।

ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন

পরম দয়াময় রব,

তাঁর রহমতে কঠিন পথও

হয়ে যায় সহজ সব।

যখন মানুষ একাকী হয়,

চারিদিকে অন্ধকার,

সবর তখন হৃদয়ে জ্বালে

বিশ্বাসের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অপার।

আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে

যে এগিয়ে যায় ধীর,

তার পথচলা বৃথা হয় না,

হয় না জীবন ক্ষীণ।

মহাউপসংহার : ধৈর্যের জয়গান

এসো আমরা শিখি সবাই

সবরের মহান পাঠ,

ঝড়ের মাঝে দৃঢ় থাকি,

না হারাই জীবনের ঠাঁট।

সুখে যেন না হই গর্বিত,

দুঃখে না হই ক্ষুব্ধ,

প্রতিটি অবস্থায় রবের প্রতি

থাকি বিনম্র, সুবুদ্ধ।

ইবাদতে থাকি অবিচল,

পাপ থেকে দূরে,

বিপদ এলেও রাখি বিশ্বাস

প্রভুর রহমতের সুরে।

কারণ সবর হলো মুমিনের

অমূল্য রতনখানি,

যে রতনের আলোয় জ্বলে

মানবতার বাণী।

ধৈর্যের শেষে আসে প্রভাত,

শেষে ফুটে ফুল,

সবর শেখায়অন্ধকার পেরিয়ে

আলোই চূড়ান্ত কূল।

তাই হৃদয়ে গড়ি আমরা

সবরের অমর ঘর,

আল্লাহর প্রেমে, সত্যের পথে

চলুক জীবন ভর।

ধৈর্যের দীপ জ্বলুক সদা,

জ্বলুক অন্তর-মাঝে,

সবরের আলোয় মানুষ হোক

সফল দুই জগতে।

***

মন্তব্য করুন

ব্লগ