সহকারী অধ্যাপক
১৯ জুন, ২০২৬ ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মহররম - মোঃ মুজিবুর রহমান
মহররম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হিজরির নব প্রভাত,
সময়ের নদী বয়ে আনে
নতুন দিনের বারতা।
পুরোনো দিনের ভুল-ত্রুটি,
হতাশা, ব্যথা, ক্ষয়,
সবকিছুরই হিসাব নিয়ে
মানুষ ভবিষ্যৎ গড়তে চায়।
কেউ খোঁজে সুখ, কেউ খোঁজে শান্তি,
কেউ খোঁজে মুক্তির পথ,
কেউ বা নিজের অন্তর মাঝে
জাগায় অনুতাপের রথ।
ঠিক তখনই বছর শুরু
এক মহিমান্বিত মাসে,
যার নাম শুনলে ঈমান জাগে
আল্লাহর রহমত হাসে।
সেই মাস মহররম,
সম্মানের উজ্জ্বল নাম,
বরকত, তাওবা, ইবাদতে ভরা
আল্লাহর অশেষ ইনআম।
মহররম মানে পবিত্রতা,
মহররম মানে মান,
মহররম মানে শ্রদ্ধার সাথে
রক্ষা করা সম্মান।
আসমান-জমিন সৃষ্টির কাল থেকে
চলেছে মাসের ধারা,
বারো মাসের মাঝে চারটি
মর্যাদায় সবার সেরা।
সেই চার মাসের অন্যতম এই
মহররমের দিন,
যার সম্মানে মুমিন হৃদয়
হয় আলোকিত রঙিন।
আল্লাহ বলেন—
“নিজেদের প্রতি জুলুম করো না,
এই সম্মানিত কালে”—
এ বাণী যেন জাগিয়ে তোলে
মানবতার দীপ জ্বালে।
কত গভীর এই নির্দেশনা,
কত প্রজ্ঞার আলো,
পাপ থেকে দূরে সরিয়ে
সৎপথে ডাকে ভালো।
রাসুল যাকে বলেছেন
“আল্লাহর মাস” মহান,
ভাবলেই কেঁপে ওঠে হৃদয়,
জাগে নতুন জ্ঞান।
কত মাস আসে, কত মাস যায়,
সময়ের অবিরাম স্রোত,
তবু মহররমের মর্যাদা
অতুলনীয়, অক্ষয় জ্যোত।
যেন রহমতের দরিয়া খুলে
ডাকে সব বান্দাকে,
“ফিরে এসো তোমার রবের কাছে,
ভালোবাসার ছায়াতে।”
এই মাস যেন আত্মশুদ্ধির
অপূর্ব এক বিদ্যালয়,
যেখানে মানুষ শেখে আবার
কীভাবে পবিত্র হওয়া যায়।
হে মানুষ,
কতদিন তুমি নিজের ভুলকে
লুকিয়ে রেখেছ অন্তরে?
কতদিন অহংকারের দেয়াল তুলে
দূরে সরে গেছ সত্য থেকে?
কতদিন ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে
চিরস্থায়ী ভেবে
হারিয়েছ জীবনের লক্ষ্য?
মহররম আসে প্রশ্ন নিয়ে,
জাগিয়ে তোলে বিবেক,
“কোথায় তোমার আমলখাতা?
কেমন তোমার পথচলা একেক?”
নিজেকে দেখো,
নিজেকে যাচাই করো,
অন্তরের ধুলো মুছে ফেলো,
পাপের অন্ধকার ভেঙে
আলোর পথে ফিরে চলো।
রোজা শুধু ক্ষুধা নয়,
তৃষ্ণা নয় কেবল,
রোজা হলো আত্মার মাঝে
সংযমের শুভ ফল।
রোজা শেখায় ধৈর্য ধরতে,
রোজা শেখায় ত্যাগ,
রোজা শেখায় রবের ভয়ে
পাপের পথ থেকে ভাগ।
রমজানের পরে শ্রেষ্ঠ রোজা—
রাসুল দিলেন বাণী,
মহররমের রোজার মাঝে
লুকিয়ে কত কল্যাণখানি।
যে বান্দা এই মাস জুড়ে
ইবাদতে থাকে মগ্ন,
তার হৃদয়ে নেমে আসে
রহমতের আলো অগণন।
মহররমের দশম দিন,
আশুরার সেই ক্ষণ,
ইতিহাস জুড়ে বহন করে
ঈমানের স্পন্দন।
সকালের আলো ফোটে যেন
বিশেষ এক আহ্বানে,
বান্দাকে ডাকে রবের পথে
ক্ষমার অমৃত গানে।
নবীজি ছিলেন উদগ্রীব
এই দিনের রোজায়,
কারণ এতে রয়েছে কত
রহমতের সুবাস ছড়ায়।
এক দিনের এই সাধনাতে
কত অশেষ দান,
বিগত বছরের গুনাহ মুছে
মেলে ক্ষমার সম্মান।
তাই তো মুমিন হৃদয় জাগে
ভালোবাসার সুরে,
আশুরার রোজা রাখে তারা
রবের সন্তুষ্টির তরে।
ইবাদত শুধু নামাজ নয়,
শুধু রোজা নয়,
পাপ থেকে নিজেকে বাঁচানোও
বড় ইবাদত হয়।
মিথ্যা কথা, হিংসা, গীবত,
প্রতারণার পথ,
এসব ছেড়ে সত্যের ডাকে
সাজাও জীবনের রথ।
ক্রোধ যখন আগুন হয়ে
জ্বালায় অন্তরখানি,
ক্ষমার জলে নিভিয়ে দাও
সুন্দর হোক প্রাণী।
লোভ যখন টানে মানুষকে
অন্যায়ের অন্ধ গহ্বরে,
স্মরণ করো রবের কথা,
ফিরে এসো নূরের ঘরে।
মহররম শেখায়—
শক্তি নয়, সত্য বড়,
সম্পদ নয়, তাকওয়া বড়,
ক্ষমতা নয়, চরিত্র বড়।
মানুষের আসল মর্যাদা
তার পোশাকে নয়,
তার অন্তরের পবিত্রতায়
সফলতার পরিচয়।
যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয়,
যে প্রাণে সত্য বাস,
সেই মানুষই পৃথিবীতে
সফলতার সুবাস।
ধর্মের নামে কত আয়োজন,
কত রঙিন বাহার,
সবকিছুই কি সত্যি তবে
ইসলামের উপহার?
না, প্রতিটি কাজের আগে
জানতে হবে প্রমাণ,
কুরআন-সুন্নাহর আলোতেই
গড়তে হবে জ্ঞান।
যে আমল নেই শরিয়তে,
নেই যার কোনো দলিল,
তাকে ধর্ম ভাবা কখনো নয়
মুমিনের সঠিক কৌশল।
সত্যকে ভালোবাসতে হবে,
ছাড়তে হবে ভ্রান্তি,
রাসুলের পথেই রয়েছে
দুনিয়া-আখিরাতের শান্তি।
ইতিহাসের বুকে জ্বলজ্বল করে
কারবালার স্মৃতি,
সত্যের জন্য ত্যাগের মাঝে
অমরতার গীতি।
ইমাম হুসাইন (রা.) ছিলেন
সাহসের উজ্জ্বল নাম,
ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার
অতুলনীয় প্রেরণাধাম।
তাঁর জীবন শেখায় শুধু
সত্যের পক্ষে থাকা,
অন্যায় দেখে নীরব না থেকে
ন্যায়ের পতাকা বহা।
কিন্তু শিক্ষা নিতে হবে
সংযম ও প্রজ্ঞায়,
শোক নয়, সত্যের চর্চাই
মুমিনকে সাফল্য দেয়।
যত পাপই হয়ে থাকুক,
যত ভুলই হোক,
আল্লাহর রহমতের সামনে
সবই ক্ষুদ্র লোক।
তিনি ডাকেন—
“ফিরে এসো আমার কাছে,
হতাশ হয়ো না কখনো,”
তাঁর ক্ষমার সাগর তো
অসীম, অফুরন্ত যেন।
মহররম তাই নতুন করে
ফেরার এক আহ্বান,
নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি,
নতুন আলোর গান।
ধনী-গরিব, বড়-ছোট,
সবাই একই পথে,
মৃত্যুর পরে দাঁড়াতে হবে
রবের বিচারের রথে।
তাই অহংকার ত্যাগ করো,
ভালোবাসো মানুষ,
দুঃখীর মুখে হাসি ফোটাও,
করো কল্যাণের অনুশীলন।
যে হৃদয়ে দয়া থাকে,
সেখানে রহমত নামে,
যে হাতে সেবা জাগে,
সফলতা আসে তারই থামে।
এসো তবে নতুন বছরে
নতুন শপথ করি,
পাপের পথ থেকে ফিরে এসে
সত্যের পথে চলি।
মহররমের পবিত্রতায়
ধুই হৃদয়ের কালিমা,
তাওবার অশ্রুতে ভিজুক প্রাণ,
মুছে যাক সব সীমা।
আশুরার রোজা রাখি,
বাড়াই নেক আমল,
আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়
সাজাই জীবন সফল।
সম্মানের এই পবিত্র মাস
হোক পরিবর্তনের কাল,
হৃদয় জুড়ে জ্বালুক আবার
ঈমানের অমল আলো।
নতুন বছর, নতুন প্রভাত,
নতুন আশার বাণী—
আল্লাহর পথে অবিচল থেকে
গড়ি জীবনখানি।
মহররম হোক আত্মশুদ্ধির,
তাকওয়ার দীপ্তি-ধারা,
রবের প্রেমে আলোকিত হোক
মানবতার ভবিষ্যৎ সারা।
আমিন।
***
সময় বয়ে যায় নীরব স্রোতে,
ফিরে আসে না আর,
গতকালের প্রতিটি মুহূর্ত
আজ ইতিহাসের ভার।
কত মানুষ ছিল পৃথিবীতে,
আজ তারা কোথায়?
কালের সাগরে হারিয়ে গেছে,
নামটুকুও আর নাহি রয়।
রাজা গেছে, প্রজা গেছে,
গেছে কত মহাবীর,
শুধু রয়ে গেছে কর্মের গাথা,
সত্যের অমর নকশীর।
মহররম এসে স্মরণ করায়—
জীবন ক্ষণিক পথ,
এখানে কেউ চিরদিনের নয়,
সবাই যাত্রার রথ।
তাই যে সময় হাতে আছে,
করো তার সম্মান,
নেক আমলে ভরিয়ে তোলো
জীবনের প্রতিক্ষণ।
আজ যে সুযোগ সামনে আছে,
কাল নাও থাকতে পারে,
তাই তো মুমিন জেগে ওঠে
প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে।
তাকওয়া হলো অন্তর-মাঝে
জ্বলা পবিত্র আলো,
যে আলো মানুষকে শেখায়
সত্যকে বাসতে ভালো।
নিঃসঙ্গ রাতে কেউ না দেখুক,
আল্লাহ দেখেন সব,
এই বিশ্বাসে যে পথ চলে,
সে-ই তো সফল রব।
তাকওয়া নেই যে হৃদয় মাঝে,
জ্ঞানও হয় নিরর্থক,
ক্ষমতা, ধন, প্রভাব, প্রতিপত্তি—
সবই হয়ে যায় ক্ষণস্থায়ী শোক।
তাই মহররম শেখায় মানুষ,
তাকওয়ার পথে চলো,
বাহ্যিক চাকচিক্য ভুলে
অন্তরটাকে গড়ো।
যে হৃদয়ে তাকওয়ার বাগান,
সেখানে ফুটে ফুল,
সেই মানুষ ভুল করলেও
ফিরে আসে ছেড়ে ভুল।
এক কিবলা, এক কোরআন,
এক নবীর উম্মত,
তবু কেন বিভেদ-বিষে
ক্ষতবিক্ষত মানবসমাজ?
মহররম ডাকে—
এসো সবাই হাতে হাত রাখি,
ঘৃণার প্রাচীর ভেঙে,
ভ্রাতৃত্বের প্রদীপ জ্বালি।
মতপার্থক্য থাকবে অবশ্য,
থাকবে চিন্তার ভিন্নতা,
কিন্তু ঈমানের বন্ধন যেন
না হারায় তার পবিত্রতা।
হৃদয় যখন ভালোবাসায়
একত্রিত হয় আবার,
তখনই শক্তি পায় উম্মাহ,
জাগে গৌরব অপরিসীম আর।
হে তরুণ,
তোমাদের হাতে আগামী দিনের
সভ্যতার মানচিত্র,
তোমাদের চিন্তা, তোমাদের কর্ম
গড়বে ভবিষ্যৎ চরিত্র।
অলসতার অন্ধকার ছেড়ে
জ্ঞানার্জনের পথে চলো,
সত্য, সততা, পরিশ্রমে
নিজেকে উজ্জ্বল করো।
মহররমের শিক্ষা নিয়ে
গড়ো চরিত্র মহান,
মানবসেবায় উৎসর্গ করো
জীবনের প্রতিটি প্রাণ।
যে যুবক সত্যকে ভালোবাসে,
ন্যায়কে করে ধারণ,
তার হাতেই একদিন গড়ে
সমৃদ্ধির নতুন ভুবন।
মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ
বাহিরে নয় কখনো,
নিজের নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
চলেই নিরন্তর যেন।
কখনো লোভ, কখনো ক্রোধ,
কখনো অহংকার,
কখনো হিংসা, কখনো মোহ
করতে চায় অধিকার।
মহররম আসে সাহস নিয়ে,
জাগায় অন্তরশক্তি,
নিজেকে জয় করাই যে
সর্বোচ্চ বীরত্বের ভক্তি।
যে নিজের হৃদয়কে পারে
সত্যের পথে আনতে,
সে-ই পারে পৃথিবীর বুকে
আলোর ইতিহাস গাঁথতে।
মহররম শুধু মাসের নাম নয়,
এ এক জীবন্ত শিক্ষা,
এ এক আত্মার পুনর্জাগরণ,
এ এক আলোর দীক্ষা।
এ মাস বলে—
অন্যায় ছাড়ো, সত্য ধরো,
তাওবার পথে চলো,
নেক আমলের বীজ বুনে
মানবজীবন গড়ো।
এ মাস বলে—
রোজার মাধ্যমে আত্মাকে
করো পবিত্র ও নির্মল,
আশুরার মহিমান্বিত দিনে
খোঁজো ক্ষমার সম্বল।
এ মাস বলে—
বিদআত নয়, সুন্নাহ ধরো,
কুসংস্কার নয়, জ্ঞান,
কোরআন-সুন্নাহর আলোতেই
গড়ো জীবনের মান।
এ মাস বলে—
শোক নয় শুধু, শিক্ষা নাও,
ত্যাগের অমর গান,
হুসাইনের সত্যনিষ্ঠা হোক
চরিত্রের প্রেরণাদান।
এসো তবে নতুন হিজরি বছরে
তুলি ঈমানের পতাকা,
আল্লাহর প্রেমে আলোকিত হোক
জীবনের প্রতিটি শাখা।
তাওবার অশ্রু, সৎকর্মের ফুল,
তাকওয়ার সুবাস ভরা,
মহররম হোক প্রতিটি প্রাণে
রহমতের স্রোতধারা।
আসমান জুড়ে উঠুক ধ্বনি—
সত্যের জয়গান,
আল্লাহর পথে অবিচল থাকুক
সমস্ত মুসলিম প্রাণ।
নতুন বছর, নতুন প্রতিজ্ঞা,
নতুন আলোর দিশা—
মহররম হোক মানবতার
পবিত্র আত্মদীক্ষা।
***
আশুরা শুধু একটি দিন নয়,
ইতিহাসের দীপ্ত অধ্যায়,
যেখানে সত্যের জ্যোতি জ্বলে
অন্যায়ের অন্ধকারে ছায়।
কত যুগ গেছে, কত কাল গেছে,
কত সভ্যতা হয়েছে বিলীন,
তবু আশুরার শিক্ষা আজও
রয়েছে অমলিন।
এই দিনে জাগে স্মৃতির প্রদীপ,
জাগে আত্মার ডাক,
মানুষকে ডেকে বলে নীরবে—
“সত্যের পথেই থাক।”
ক্ষমার আশায় যে বান্দা আসে,
নম্র হৃদয় নিয়ে,
রহমতের দরজা খুলে যায়
আল্লাহর অনুগ্রহে।
আশুরার রোজা যেন
আত্মার নির্মল স্নান,
অতীত ভুলের অন্ধকারে
জ্বালায় ক্ষমার প্রদীপদান।
যে হৃদয়ে তাওবার অশ্রু,
যে প্রাণে অনুতাপ,
সেই হৃদয়ে বর্ষিত হয়
রবের করুণার ছাপ।
মহররম এক মহাগান,
তাকওয়ার সুরেলা বাণী,
যেখানে ধ্বনিত হয় অবিরাম
আল্লাহর প্রেমের কাহিনি।
পাহাড় বলে—“তাঁর মহিমা মহান”,
সাগর বলে—“তিনি দয়াময়”,
আকাশ বলে—“তাঁরই আদেশে
তারকারা আলো ছড়ায়।”
বাতাস বয়ে আনে নীরব সুর,
নদী গায় প্রশংসাগীতি,
প্রকৃতির প্রতিটি কণায় কণায়
তাঁর কুদরতের স্মৃতি।
হে মানুষ,
তুমিও তবে যোগ দাও আজ
এই মহাসংগীতের দলে,
তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবিরে
হৃদয় ভরাও নির্ভয়ে।
মহররম ডাকে—
অহংকার ছাড়ো, বিনয় ধরো,
লোভ ছাড়ো, দান করো,
বিদ্বেষ ছাড়ো, ভালোবাসো,
অন্ধকার ছাড়ো, আলো ধরো।
জীবনের ক্ষণিক সফরে
এটাই হোক পাথেয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই
হোক সর্বোচ্চ প্রেয়।
যতদিন সূর্য উঠবে পূর্ব আকাশে,
যতদিন চাঁদ হাসবে রাতে,
ততদিন মহররমের শিক্ষা
জাগ্রত থাকবে মানবপ্রাতে।
এ শিক্ষা সত্যের,
এ শিক্ষা ত্যাগের,
এ শিক্ষা সংযমের,
এ শিক্ষা অনুতাপের।
এ শিক্ষা মানুষকে শেখায়—
ক্ষমতায় নয়, চরিত্রে বড় হও;
সম্পদে নয়, তাকওয়ায় বড় হও;
বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়,
অন্তরের সৌন্দর্যে বড় হও।
এসো তবে আমরা সবাই
নতুন বছরের শুরুতে,
আল্লাহর দিকে ফিরি আবার
সত্য ও ন্যায়ের সুরে।
মহররম হোক হৃদয়ের বিপ্লব,
চরিত্রের নবজাগরণ,
আশুরা হোক ক্ষমার বারতা,
তাওবার মহা-আহ্বান।
রবের প্রেমে আলোকিত হোক
প্রতিটি ঘর, প্রতিটি প্রাণ,
মানবতার বুকে প্রতিষ্ঠিত হোক
শান্তি, ন্যায় আর কল্যাণ।
আসমান ভরে উঠুক ধ্বনিতে—
“আল্লাহু আকবার” মহান,
মহররম হোক উম্মাহর মাঝে
ঈমানের নব উড্ডয়ান।
আমিন।
৫৩
৯২ মন্তব্য