সহকারী অধ্যাপক
১৯ জুন, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অকৃত্রিমতার আহ্বান - মোঃ মুজিবুর রহমান
অকৃত্রিমতার আহ্বান
(সততা, আন্তরিকতা ও সৎগুণের প্রতিযোগিতা)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ মানুষকে খোঁজে আজও,
খোঁজে একটি সত্য মন,
খোঁজে এমন একটি হৃদয়,
যেখানে নেই কোনো গোপন ক্ষণ।
খোঁজে এমন দুটি চোখ,
যেখানে প্রতারণার ছায়া নাই,
খোঁজে এমন একটি হাসি,
যার অন্তরে মিথ্যার ঠাঁই নাই।
কিন্তু আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে
কেমন যেন বদলে গেছে সব,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ,
বাড়ছে শুধু স্বার্থের রব।
কৃত্রিমতার রঙিন মেলায়
হারিয়ে যায় সত্যের গান,
চকচকে মুখোশের ভিড়ে
হারায় মানবতার সম্মান।
মানুষ এখন অনেক কাছে,
তবু কত দূরে অবস্থান,
হাজার যোগাযোগের ভেতরেও
শুকিয়ে যায় হৃদয়ের টান।
কৃত্রিমতার পথটি সহজ,
সত্যের পথটি বড় কঠিন,
তাই তো অনেকে বেছে নেয়
মিথ্যার সাজে জীবন রঙিন।
কথায় কথায় অভিনয় চলে,
হাসির আড়ালে লুকায় ক্ষত,
সুবিধা পেলেই সম্পর্ক গড়ে,
স্বার্থ ফুরালেই করে অবসান তৎক্ষণাৎ।
বিশ্বাস এখন ভঙ্গুর কাঁচ,
সন্দেহ যেন স্থায়ী অতিথি,
বন্ধুত্বেও হিসাব নিকাশ,
ভালোবাসাতেও স্বার্থের গীতি।
সত্যের চেয়ে সাজানো গল্প
বেশি পায় আজ করতালি,
বিবেক কাঁদে নীরব হয়ে,
অসত্য পায় জয়মাল্যখানি।
মানুষ যেন মানুষ নয়,
হয়ে যায় কখনো পণ্যের মতো,
বাহ্যিক চাকচিক্যের কাছে
হৃদয় পড়ে থাকে অবহেলিত যত।
যে মানুষটি সারাদিন ধরে
নিজেকে সাজায় মিথ্যার রঙে,
সে কি কখনো শান্তি পায়
নিজের অন্তরাত্মার সঙ্গ?
যে মুখে বলে এক কথা,
মনে রাখে আরেক চিন্তা,
তার ভেতরে জন্ম নেয়
অস্থিরতার কালো দিগন্ত।
কপটতার বোঝা ভারী,
বহন করা সহজ নয়,
নিজের কাছেই নিজে হারে,
আত্মসম্মান ক্ষয়ে যায়।
সত্যের আলো নিভে গেলে
হৃদয় হয় অন্ধকার,
হাজার সম্পদ থাকলেও
থাকে না সুখের অধিকার।
রাত্রির নীরব গভীরতায়
বিবেক তখন প্রশ্ন তোলে,
"কোথায় গেলে হারালে তুমি
সত্যের নির্মল পথের দলে?"
পরিবার একটি উদ্যান,
ভালোবাসা তার সুধা,
সততা তার মূল ভিত্তি,
বিশ্বাস তার মহৌষধ।
যখন সেখানে প্রবেশ করে
স্বার্থপরতার কালো ছায়া,
তখন সুখের নীড়টি ধীরে
বেদনার ঘরে রূপ পায়।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি
সত্যের প্রদীপ নিভে যায়,
তবে সেই সংসারের আকাশে
অশান্তির মেঘ ঘনিয়ে ধায়।
পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা,
সন্তানের প্রতি মমতা,
এসব যদি হারিয়ে ফেলে
মানুষ তার মানবতা।
ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের বিরোধ,
সম্পদের জন্য দ্বন্দ্ব,
আত্মীয়তার সোনার বন্ধন
হয়ে পড়ে ছিন্নভিন্ন।
যে ঘরে নেই আন্তরিকতা,
সেখানে সুখ বেশিক্ষণ রয় না,
দালান যত উঁচু হোক,
শান্তির পাখি বাসা গড়ে না।
সমাজ গড়ে মানুষের হাতে,
মানুষ গড়ে চরিত্র দিয়ে,
চরিত্র যখন ভেঙে পড়ে,
সমাজ যায় অন্ধকারে হারিয়ে।
যেখানে নেই পারস্পরিক বিশ্বাস,
সেখানে জন্ম নেয় ভয়,
যেখানে নেই সত্যের মর্যাদা,
সেখানে ন্যায়ও টিকে না কভু নিশ্চয়।
প্রতারণা যখন নিয়ম হয়,
সততা হয় উপহাস,
যোগ্যতার চেয়ে কৌশল পায়
সফলতার বিশেষ আভাস।
সহানুভূতির নদী শুকিয়ে যায়,
মানবতা হয় ক্ষীণ,
নিজের স্বার্থের বাইরে মানুষ
ভাবতে শেখে না আর দিনদিন।
সমাজ তখন ক্লান্ত হয়ে
খোঁজে নতুন প্রভাত,
কোথায় পাবে সত্য মানুষ,
কোথায় সততার বারাত?
রাষ্ট্র কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়,
রাষ্ট্র মানে কোটি প্রাণ,
রাষ্ট্র মানে মানুষের আশা,
রাষ্ট্র মানে ভবিষ্যৎ জ্ঞান।
যখন দুর্নীতি শেকড় গাঁড়ে,
অন্যায় পায় প্রশ্রয়,
তখন উন্নয়নের স্বপ্নগুলো
ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়।
ক্ষমতা যদি সেবার বদলে
হয়ে যায় ভোগের হাতিয়ার,
তবে জনগণের অধিকারগুলো
হারায় তাদের সত্যিকার।
আইনের চোখে সমতা চাই,
চাই ন্যায়ের দৃঢ় শাসন,
সততা ছাড়া কোনো জাতি
পায় না স্থায়ী উন্নয়ন।
ইতিহাস তার সাক্ষী হয়ে
বারবার বলে যায়,
সৎ চরিত্রের ভিত্তি ছাড়া
মহান সভ্যতা টেকে না হায়।
আজকে মানুষ পর্দার ভেতর
গড়ে তোলে নতুন পরিচয়,
কখনো সত্য, কখনো অভিনয়,
কখনো বিভ্রান্তির আশ্রয়।
ছবির হাসি বাস্তব নয়,
লেখার ভাষা হৃদয় নয়,
দেখতে যত নিখুঁত লাগে,
ভেতরে তত শান্তি নয়।
অনুসারীর সংখ্যা দেখে
মানুষ বিচার করে মান,
চরিত্রের চেয়ে জনপ্রিয়তা
পায় অধিক সম্মান।
তবুও প্রযুক্তি দোষী নয়,
দোষী ব্যবহারের ভুল,
জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো ছাড়া
প্রযুক্তিও হয়ে যায় শূল।
তাই প্রয়োজন বিবেক জাগ্রত,
প্রয়োজন সত্যের চর্চা,
মানবিকতার মূল হারালে
বৃথা সব উন্নতির আলোচনা।
এসো আমরা নতুন করে
একটি শপথ গ্রহণ করি,
অসত্যের সাথে নয়,
সত্যের পথে জীবন গড়ি।
প্রতিযোগিতা হোক দানে,
প্রতিযোগিতা হোক সেবায়,
প্রতিযোগিতা হোক জ্ঞানে,
প্রতিযোগিতা হোক মায়ায়।
কে বেশি ক্ষমা করতে পারে,
কে বেশি ভালোবাসে,
কে বেশি মানুষের উপকার করে,
প্রতিযোগিতা হোক সে আশে।
কে বেশি সত্য কথা বলে,
কে রাখে অঙ্গীকার,
কে অধিক বিশ্বস্ত থাকে,
সে হোক গৌরবের অধিকার।
হিংসা নয়, বিদ্বেষ নয়,
অহংকার নয় সঙ্গী,
সৎগুণের ফুলে ফুলে ভরে উঠুক
মানবতার অমল অঙ্গনভূমি।
বিপ্লব শুধু রাস্তায় নয়,
বিপ্লব ঘটে অন্তরে,
একটি সত্য সিদ্ধান্ত বদলে দেয়
জীবনের গতিপথ ঘরে ঘরে।
নিজেকে বদলানোই প্রথম কাজ,
তারপর পরিবার,
পরিবার থেকে সমাজ জাগে,
সমাজ থেকে জাগে দেশ আবার।
একটি সত্য কথা,
একটি বিশ্বস্ত আচরণ,
একটি নিঃস্বার্থ সাহায্য
আনে আশার নতুন স্পন্দন।
একটি আন্তরিক হাসি পারে
ভাঙা হৃদয় জোড়া দিতে,
একটি ভালোবাসার বাক্য পারে
নতুন জীবন গড়ে দিতে।
হে আল্লাহ!
আপনি হৃদয়ের খবর জানেন,
আপনি অন্তরের গোপন কথা জানেন,
আপনি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য জানেন।
আমাদের হৃদয়কে
কপটতার কালিমা থেকে রক্ষা করুন,
প্রতারণার অন্ধকার থেকে
সত্যের আলোয় ফিরিয়ে আনুন।
আমাদের মুখ ও মনকে
এক ও অভিন্ন করুন,
আমাদের সম্পর্কগুলোকে
অকৃত্রিম ভালোবাসায় পূর্ণ করুন।
আমাদের পরিবারে দিন শান্তি,
সমাজে দিন সৌহার্দ্য,
রাষ্ট্রে দিন ন্যায় ও সততা,
মানবতার মাঝে দিন ঐক্য।
আমাদেরকে সৎকর্মে অগ্রগামী করুন,
কল্যাণের পথে প্রতিযোগী করুন,
মানুষের উপকারে নিবেদিত করুন,
সত্য ও ন্যায়ের পতাকাবাহী করুন।
হে দয়াময়!
আমাদের অন্তরে এমন আলো দিন,
যে আলো কখনো নিভে না;
এমন সততা দিন,
যা কোনো প্রলোভনে বিকায় না।
এমন ভালোবাসা দিন,
যা স্বার্থের সীমা মানে না;
এমন চরিত্র দিন,
যা বিপদের মুখেও হার মানে না।
শেষ পর্যন্ত সত্যই জেতে,
মিথ্যার আয়ু ক্ষণিক মাত্র,
সততার বৃক্ষ ধীরে বাড়ে,
তবু তার ফল হয় অমৃতপাত্র।
অকৃত্রিম হৃদয়ের মানুষ
যুগে যুগে থাকে অমর,
তাদের স্মৃতি আলো হয়ে
জ্বলে মানবতার অন্তর।
তাই এসো সবাই হাতে হাত রেখে
সত্যের পথে চলি,
কৃত্রিমতার অন্ধকার ভেঙে
আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ি।
মানুষ হোক মানুষের আপন,
বিশ্বাস হোক সম্পর্কের সেতু,
সৎগুণের প্রতিযোগিতায় ভরে উঠুক
পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষেত্র।
আর ধ্বনিত হোক আকাশ-বাতাসে—
সততা হোক শক্তি আমাদের,
আন্তরিকতা হোক পরিচয়;
অকৃত্রিম ভালোবাসার বন্ধনে
গড়ে উঠুক শান্তিময় মানবময় বিশ্বময়।
***
যেদিন মানুষ মানুষকে দেখে
স্বার্থের চোখে নয়, হৃদয় দিয়ে,
যেদিন করুণা প্রবাহিত হবে
নদীর জলের মতো বয়ে গিয়ে,
যেদিন সত্যের মূল্য হবে
স্বর্ণের চেয়েও অধিক দামি,
যেদিন সততার দীপ জ্বলবে
প্রতিটি ঘরে অবিরামই,
সেদিন পৃথিবী বদলে যাবে,
বদলে যাবে মানুষের মন,
ঘৃণার স্থানে ফুটবে আবার
ভালোবাসার সহস্র কুসুম।
ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে
মানুষ হবে মানুষের আপন,
দুঃখীর মুখে হাসি ফোটানো
হবে জীবনের শ্রেষ্ঠ সাধন।
ক্ষমা তখন প্রতিশোধের চেয়ে
পাবে অধিক সম্মান,
ত্যাগ তখন ভোগের চেয়ে
হবে মহত্ত্বের পরিচয়দান।
যে সমাজে সত্যের কদর,
যে সমাজে ন্যায়ের জয়,
সেই সমাজেই শান্তির পাখি
নির্ভয়ে তার নীড় রয়।
এসো আজ আমরা গড়ে তুলি
সৎগুণের এক মহামেলা,
যেখানে নেই হিংসার আগুন,
নেই প্রতারণার কালো খেলা।
একজন হবে দয়ার সাগর,
একজন হবে জ্ঞানের দীপ,
একজন হবে সেবার প্রতীক,
একজন সত্যে অটল নীপ।
কে কত বেশি ধন অর্জন করল—
সে হিসাব নয় বড় কথা,
কে কত বেশি উপকার করল—
সেই হোক জীবনের ব্যাখ্যা।
কে কাঁদন মুছে হাসি দিল,
কে বিপদে হলো সহায়,
কে ভাঙা হৃদয় জুড়ে দিল,
সফল মানুষ সে-ই তো ভাই।
প্রতিযোগিতা হোক উত্তম কাজে,
প্রতিযোগিতা হোক কল্যাণে,
প্রতিযোগিতা হোক মানবসেবায়,
প্রতিযোগিতা হোক জ্ঞান-বিজ্ঞানে।
যে যত বেশি নম্র হতে পারে,
যে যত বেশি ক্ষমা করে,
যে যত বেশি সত্য আঁকড়ে ধরে,
সে তত উঁচু মর্যাদা ধরে।
আমি দেখি এক নতুন ভোর,
আলোকময় এক পৃথিবী,
যেখানে মানুষ সত্যের পথে
চলে হয়ে আলোর পথিক নিরবধি।
আমি দেখি শিশুরা শিখছে
সততা, ন্যায় আর মানবতা,
শিক্ষার সাথে গড়ে উঠছে
চরিত্রের মহান সভ্যতা।
আমি দেখি পরিবারগুলো
ভালোবাসায় ভরা নীড়,
যেখানে বিশ্বাসের বৃক্ষতলে
শান্তি গড়ে আপন ঘর।
আমি দেখি সমাজজুড়ে
সৌহার্দ্যের মধুর গান,
একজনের সুখে অন্যজন
পায় আপন সুখের সন্ধান।
আমি দেখি রাষ্ট্রের পথে
দুর্নীতির নেই আর স্থান,
সততা ও জবাবদিহিতায়
উজ্জ্বল হয় শাসনপ্রাণ।
হে আল্লাহ!
আপনি রহমান, আপনি রহিম,
আপনি দয়ার অফুরন্ত সাগর,
আপনি সকল কল্যাণের উৎস,
আপনি সকল অন্ধকারের অবসানকারী।
আমাদের অন্তরকে করুন নির্মল,
আমাদের চিন্তাকে করুন পবিত্র,
আমাদের চরিত্রকে করুন সুন্দর,
আমাদের কর্মকে করুন কল্যাণময়।
আমাদের মাঝে সৃষ্টি করুন
সত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা,
অসত্যের প্রতি ঘৃণা,
ন্যায়ের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার।
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে এমন মানুষ বানান,
যাদের কথা ও কাজ এক হয়,
যাদের অন্তর ও বাহির এক হয়,
যাদের জীবন হয় সততার পরিচয়।
আমাদের সন্তানদের দিন
উন্নত চরিত্রের অলংকার,
আমাদের পরিবারগুলোকে দিন
ভালোবাসা ও শান্তির উপহার।
আমাদের সমাজকে দিন
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
আমাদের রাষ্ট্রকে দিন
ন্যায় ও কল্যাণের শাসন।
আর আমাদের সবাইকে
সৎগুণাবলীর প্রতিযোগিতায়
অগ্রগামী ও সফল করুন।
যতদিন সূর্য উদিত হবে,
যতদিন চাঁদ ছড়াবে আলো,
ততদিন সত্যের মহিমা রবে,
মিথ্যার প্রাসাদ হবে কালো।
কৃত্রিমতার মুখোশ একদিন
ধুলোর সাথে মিশে যাবে,
অকৃত্রিম হৃদয়ের সুবাস
যুগে যুগে বেঁচে রবে।
সততা হবে জীবনের শক্তি,
বিশ্বাস হবে সম্পর্কের সেতু,
আন্তরিকতা হবে মানবতার ভাষা,
কল্যাণ হবে জীবনের কেতু।
এসো তবে হাতে হাত রেখে
গড়ি নতুন মানবসমাজ,
যেখানে সত্য হবে পথপ্রদর্শক,
ন্যায় হবে সকল কাজের সাজ।
ধ্বনিত হোক দিগন্তজোড়া—
মানুষ হোক মানুষের আপন,
সততা হোক জীবনের প্রাণ;
অকৃত্রিম ভালোবাসার বন্ধনে
গড়ে উঠুক শান্তিময় বিশ্বভুবন।
কপটতা নয়, করুণা চাই;
প্রতারণা নয়, বিশ্বাস চাই;
স্বার্থ নয়, মানবতা চাই;
অন্ধকার নয়, আলোরই জয় চাই।
হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয়ে
সৎগুণের বসন্ত বইয়ে দিন,
এবং কল্যাণের প্রতিযোগিতায়
আমাদের সবাইকে অগ্রণী করে দিন। আমীন।
***
নিদ্রিত বিবেক জেগে উঠুক,
জেগে উঠুক মানবপ্রাণ,
সত্যের ডাকে সাড়া দিয়ে
ফিরে পাক হারানো জ্ঞান।
যুগে যুগে যত মহামানব
এসেছেন ধরার বুকে,
সত্য ও ন্যায়ের প্রদীপ জ্বেলে
দাঁড়িয়েছেন দুঃখ-সুখে।
তাঁদের জীবন শেখায় মোদের—
মানুষ হওয়াই বড়,
সম্পদ, ক্ষমতা, যশের চেয়ে
চরিত্রের মূল্যই খাঁটি সোনা ঘরো।
বিবেক যখন কথা বলে,
নীরব থাকে না অন্তর,
অন্যায়ের পথে পা বাড়ালে
জাগে তখন সতর্ক স্বর।
লোভের মোহে অন্ধ হয়ে
মানুষ যখন পথ হারায়,
বিবেক তখন বাতিঘরের মতো
সঠিক পথের দিশা দেখায়।
কত সাম্রাজ্য বিলীন হয়েছে,
কত শক্তি হয়েছে ক্ষয়,
কিন্তু সত্যের দীপ্ত শিখা
আজও অম্লান, আজও অক্ষয়।
সুতরাং এসো শুনি অন্তরের ডাক,
শুনি বিবেকের আহ্বান,
নিজেকে গড়ে তুলি এমন,
যাতে জাগে মানবতার গান।
ত্রয়োদশ সর্গ : আলোর উত্তরাধিকার
আমরা সবাই ক্ষণিক পথিক
সময়ের বিশাল স্রোতে,
আজকে যারা চলছি পথে,
কাল হারাবো অজানাতে।
থেকে যাবে শুধু কর্মগাঁথা,
থেকে যাবে চরিত্র,
থেকে যাবে ভালোবাসার
অমলিন মহাচিত্র।
সন্তানদের দিয়ে যাই
সততার শ্রেষ্ঠ ধন,
সত্যের পথে চলার শিক্ষা,
মানবতার পবিত্র মন।
দিয়ে যাই না শুধু সম্পদ,
দিয়ে যাই না শুধু ভূমি,
দিয়ে যাই আদর্শের আলো,
যা আলোকিত করবে ভুবনভূমি।
একটি প্রজন্ম সৎ হলে
জাগে নতুন ইতিহাস,
একটি জাতি সত্য ধরলে
মুছে যায় অন্ধকারের সর্বনাশ।
তাই এসো আজ শপথ করি,
নিজে হব আলোর বাহক,
সত্য, ন্যায় ও আন্তরিকতার
চিরসবুজ মহাপথিক।
সততার দীপ জ্বলুক প্রাণে,
আন্তরিকতার ফুল ফুটুক মনে,
বিশ্বাসের সেতু গড়ে উঠুক
মানুষে মানুষে ক্ষণে ক্ষণে।
কপটতার কালো মেঘ
সরে যাক দিগন্তপারে,
অকৃত্রিম ভালোবাসার সূর্য
উদিত হোক সংসারে।
ব্যক্তি জাগুক, পরিবার জাগুক,
জাগুক সমাজ ও রাষ্ট্র,
মানবতার পতাকা উড়ুক
সত্যের অমর আকাশপথ।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর করুন নির্মল,
আমাদের কর্ম করুন সুন্দর,
আমাদের জীবন করুন কল্যাণময়,
আমাদের পরিণতি করুন সমুজ্জ্বল।
সৎগুণের প্রতিযোগিতায়
হোক আমাদের অগ্রযাত্রা,
আর আপনার সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ও পাথেয়।
অকৃত্রিম হৃদয়, সত্যের আলো,
মানবতার জয়ধ্বনি—
এই হোক আগামী পৃথিবীর
চিরন্তন মহাগান।
আমীন।
***
ঝড় এসেছে যুগে যুগে,
অন্যায়ের কালো ডানায়,
সত্য তখন একাকী থেকেও
হার মানেনি কোনো হানায়।
মিথ্যার প্রাসাদ যতই হোক
পাথর গাঁথা দৃঢ় দেয়াল,
সময় এলেই ভেঙে পড়ে,
মুছে যায় তার মিথ্যা জাল।
প্রতারণার অলংকার যত,
ক্ষণিক তার জৌলুস-মেলা,
সত্যের দীপ্ত সূর্য উঠলে
নিভে যায় সে প্রদীপখেলা।
কপটতার হাসি ম্লান হয়,
স্বার্থের গর্ব ধূলি হয়,
মানবতার পবিত্র অশ্রু
শেষে বিজয়ের মালা গড়ায়।
যে মানুষ সত্য আঁকড়ে ধরে
বিপদের মুখে অবিচল,
তার জীবন হয় দীপশিখা,
তার আদর্শ চিরউজ্জ্বল।
যে মানুষ অন্যের তরে
ত্যাগের পথে চলে যায়,
তার কর্মফুলের সৌরভখানি
যুগের পর যুগ ভেসে রয়।
ক্ষমতার গর্ব ক্ষণস্থায়ী,
সম্পদের অহংকারও ক্ষয়,
কিন্তু সৎ চরিত্রের মহিমা
চিরকাল অক্ষয়ময়।
সত্য কখনো পথ হারায় না,
যদিও কখনো হয় নিঃসঙ্গ,
আকাশভরা অন্ধকারেও
থাকে তার আলোর অনুরঙ্গ।
মানুষ যদি সত্যকে ভালোবাসে,
ন্যায়কে করে আপন,
তবে পৃথিবী হয়ে উঠবে
শান্তি ও কল্যাণের ভুবন।
হৃদয়ে হৃদয়ে জ্বলে উঠবে
বিশ্বাসের নির্মল দীপ,
মানবতার সুরধ্বনিতে
মুখর হবে প্রতিটি নীপ।
আর তখন ধরণীজুড়ে
ধ্বনিত হবে মহাগান—
“সততাই শক্তি,
সত্যই মুক্তি,
মানবতাই শ্রেষ্ঠ পরিচয় মহান।”
মহা-প্রার্থনা
হে আল্লাহ!
আপনি সত্যের রব,
আপনি ন্যায়ের উৎস,
আপনি সকল কল্যাণের আধার।
আমাদের অন্তরকে
মিথ্যার অন্ধকার থেকে বাঁচান,
কপটতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে
সততার আলোয় ভরিয়ে দিন।
আমাদের জিহ্বাকে দিন সত্য,
আমাদের কর্মকে দিন বিশুদ্ধতা,
আমাদের হৃদয়কে দিন আন্তরিকতা,
আমাদের জীবনকে দিন বরকত।
আমাদের পরিবারে দিন শান্তি,
সমাজে দিন সৌহার্দ্য,
রাষ্ট্রে দিন ন্যায়,
বিশ্বমানবতায় দিন ঐক্য।
আমাদের মাঝে জাগিয়ে দিন
সৎগুণাবলীর মহাপ্রতিযোগিতা—
যেখানে মানুষ মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে
অহংকারে নয়,
দয়া, সততা ও কল্যাণে।
চিরন্তন সমাপন
যতদিন নদী বহমান থাকবে,
যতদিন আকাশে সূর্য উঠবে,
যতদিন মানবহৃদয়ে
কল্যাণের স্বপ্ন ফুটবে—
ততদিন সত্যের জয়ধ্বনি
ধ্বনিত হবে যুগে যুগে,
অকৃত্রিম ভালোবাসার আলো
ছড়িয়ে পড়বে দিগন্তজুড়ে।
মানুষ হোক মানুষের আপন,
বিশ্বাস হোক হৃদয়ের সেতু,
সৎগুণের প্রতিযোগিতায়
আলোকিত হোক বিশ্বক্ষেত্র।
হে আল্লাহ!
আমাদের জীবন করুন
সত্যের সাক্ষ্য,
সততার প্রতীক,
মানবতার সেবক,
এবং আপনার সন্তুষ্টির পথে
একনিষ্ঠ পথিক।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
১
১ মন্তব্য