Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুন, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ছুটির দিনের সফর ( ভারত ভায়ানা)

ছুটির দিনের সফর!

আজ ছুটির দিন। তবে একে ঠিক ছুটি বলা যায় না। ছুটি বিষয়টা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। তাই সাত সকালে বেরিয়ে পড়লাম। কোথায় এলাম? বাসা থেকে একটু দূরে। কতটা দূরে? খুব বেশি নয়, আবার একেবারে কাছেও নয়,মাঝামাঝি দূরত্বে।

আজ আমার সঙ্গী হয়েছে আমাদের বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির চার ছাত্র,রাসেল, রানা, মুজাহিদ ও আজমাইল। সকালবেলায় তাদের সঙ্গে দেখা হতেই বললাম, “চলো, আজ একটু ঘুরে আসি।” তারা তো মহাখুশি। মুহূর্তেই রাজি হয়ে গেল।

আমরা সবাই মিলে চলে এলাম ভারতের দেউল। চুকনগর থেকে খুব কাছেই এর অবস্থান। পথ চলতে চলতে নানা গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর প্রশ্নে জমে উঠল সকালটা। রাসেল জানতে চাইল, “স্যার, এই জায়গাটা কত পুরোনো?” রানা চারপাশের গাছপালা দেখে মুগ্ধ। মুজাহিদ বারবার ছবি তুলতে ব্যস্ত, আর আজমাইল সবকিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছে।

ভারতের দেউলে পৌঁছে আমরা কিছুক্ষণ চারপাশ ঘুরে দেখলাম। প্রাচীন স্থাপনার দিকে তাকিয়ে ছেলেদের কৌতূহলের শেষ নেই। আমি তাদের ইতিহাসের কিছু কথা বললাম। তারা মন দিয়ে শুনল। বইয়ের পাতায় পড়া ইতিহাস যখন বাস্তবে চোখের সামনে দেখা যায়, তখন শেখার আনন্দও যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এরপর আমরা দেবলের পাশে একটি ছায়াঘেরা স্থানে বসলাম। সকালের মৃদু বাতাস বইছে, পাখিরা ডাকছে। ছেলেরা তাদের স্কুল, পড়াশোনা, খেলাধুলা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে গল্প করতে লাগল। তাদের সরল কথাগুলো শুনে মনে হলো, শিশুমনই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস।

কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে ছবি তুললাম। তারপর ধীরে ধীরে বাড়ির পথে রওনা দিলাম। ফেরার পথে মনে হলো, ছুটির দিন মানেই শুধু বিশ্রাম নয়; কখনো কখনো এমন ছোট্ট ভ্রমণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু আনন্দময় সময় আর নতুন কিছু জানার সুযোগই একটি দিনকে স্মরণীয় করে তোলে।

সত্যি বলতে, আজকের সকালটি ছিল অন্যরকম। রাসেল, রানা, মুজাহিদ ও আজমাইলকে সঙ্গী করে ইতিহাস, প্রকৃতি আর আনন্দে ভরা কয়েকটি ঘণ্টা আমার মনকে বেশ ভালো করে দিয়েছে। এই দিনের স্মৃতি অনেক দিন মনে থাকবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ